শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

শিব [ দুই ]


শিব [ দুই ]


আমরা ধরে নিই, শিবের কপালে একটি অতিরিক্ত চোখ আছে !
সব মিলিয়ে তাই শিবের চোখের সংখ্যা, আমাদের মতন দুই চোখ + কপালের চোখ ! সব শুদ্ধ তিনটি চোখ !
অর্থাৎ, শিবের  "ত্রিনয়ন" !
শিবের চোখ তিনটে কিন্তু আমাদের চোখের মতন নয় !
'চন্দ্র' 'সূর্য' এবং 'অগ্নি', শিবের এই তিনটে 'লোচন' !
সেইজন্য শিব 'ত্রিলোচন' !
শিবের একটি 'বহ্নি' নয়ন ! বলা হয় সেটি 'ললাটের' চোখ !
একটি চোখ 'চন্দ্রের' মতো 'শীতল' !
আরেকটি চোখ, সূর্যের মতন তাপিত ও আলোকিত !
চক্ষু কোটরের দুটি চোখের মধ্যে, কোনটা যে সূর্য সদৃশ, আর কোনটা চন্দ্র সদৃশ, তা অবিশ্যি বলা যাবে না !
শিবের চোখ তিনটি তিন রকম !
তাই 'শিব'  'বিরূপাক্ষ' !

বিরূপাক্ষ। বিরূপ অক্ষিযুক্ত। [ সং . বিরূপ + অক্ষি ]
বিরূপ। কুরূপ। শ্রীহীন। [ সং . বি ( = বিকৃত ) + রূপ ]
* সূত্র 'সংসদ বাংলা অভিধান'।
 


বিরূপাক্ষ। বিরূপ অক্ষি যাহার। বিকৃত লোচন। কুৎসিত নেত্র।
রবি চন্দ্র এবং অগ্নিরুপ নেত্রহেতু, বিরূপ নেত্রযুক্ত শিব !
** সূত্র 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'।




বিরূপাক্ষী কিন্তু শোভন চক্ষুযুক্ত ত্রিনয়না দুুর্গা ! 

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ষষ্ঠীপূজা


ষষ্ঠীপূজা


ষষ্ঠীপূজা ষষ্ঠীদেবীর পূজা !

জাতকের জন্মের ষষ্ঠ দিনে অনুষ্ঠেয়,  শিশুর জন্য,  পরিবারের সকলের মঙ্গলকর্ম !

ষষ্ঠীদেবী, সন্তানের রক্ষাকারিণী দেবী !

ষষ্ঠীতলা, বারোয়ারি ষষ্ঠীপূজার স্থান !

শিশুর জন্মের ষষ্ঠ দিনে, ষষ্ঠীপূজা করে, রাতে 'জাগরণরূপ' আচার/ব্রত পালন করা হয় !

প্রসিদ্ধি, ঐ দিন রাতে সূতিকাগারে বিধাতা স্বয়ং এসে, শিশুর কপালে,  শিশুর ভবিষ্যৎ ভাগ্যফল লিখে দেন !

সেইজন্য রূপক হিসাবে সূতিকাগারে কালি কলমও  রাখা হয় !

জাগরণ আচার/ব্রত থাকায়, নারীরা দেখতে চান, 'বিধাতা' সত্যিই এলেন কি না !

বিধাতা তো কপাল লিখন লিখলে, 'সংস্কৃত'তেই  লিখবেন !

অন্যদের তা বোঝবার ক্ষমতা চাই !

তা ছাড়া, বিধাতার হাতের লেখাও বুঝতে পারা চাই !

যেহেতু শিশুর জন্ম, তাই পুরো মাস ধরেই,  পুরো বছর ধরেই, ষষ্ঠীপূজা হয় !

ষষ্ঠীপূজায় 'বামুন' লাগে !

বামুন ঘন্টা নাড়িয়ে, মন্ত্র পড়ে, ষষ্ঠীপূজা সারেন ! 'শান্তিজল' ছিটিয়ে সকলকে 'শুদ্ধ' করেন !

বামুনের রোজগারপাতি হয় !

শিশুর মঙ্গলের জন্য, শিশুর জন্মের ষষ্ঠদিন ও একুশদিনের মাথায়, ষষ্ঠীপূজা করার বিধান আছে !

ষষ্ঠীর বাহন বিড়াল !

ষষ্ঠীপূজার দিন, ষষ্ঠীদেবীর বাহন বিড়ালকেও  দুধ-ভাত খেতে দেওয়া হয় !

ষষ্ঠীদেবীকে, অনেকে 'ষষ্ঠীবুড়ি'ও বলেন !

ষষ্ঠীর কৃপা, সন্তান লাভ !



*  সূত্র  'বঙ্গীয় শব্দকোষ', পৃষ্ঠা ২০৭২।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

শাস্ত্রের দৃষ্টিতে 'দ্রষ্টা'


শাস্ত্রের দৃষ্টিতে 'দ্রষ্টা'



সর্বপ্রথম দ্রষ্টা হল আমাদের দৃশ্যইন্দ্রিয়ের চোখদুটি।

দৃশ্য প্রকৃতির রূপ।

পরের দ্রষ্টা হল মন।

মনের দ্বারা অনেক কিছু দেখতে বুঝতে পারা যায় !

মন ইন্দ্রিয়গুলির সঠিক অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করতে পারে !

ইন্দ্রিয়গুলি ইন্দ্রিয় অনুভূতির গ্রাহক।

আবার বুদ্ধির সক্রিয় সহযোগে মনেরও অনেককিছু অবলোকিত হয় !

কাজেই বুদ্ধিও দ্রষ্টা হয়ে যায়।

বুদ্ধীন্দ্রিয় যথার্থই সর্বাত্মক জ্ঞানেন্দ্রিয়,  চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহ্বা ত্বক,  ও মনের সম্যক সমাহার !

বুদ্ধির বুদ্ধিসাধক ক্রিয়াকলাপ,  মনের অন্তর্নিহিত মর্মস্পর্শী মর্মকথা,  স্বয়ং  'নিজে' অনুভব করতে পারে !

সেক্ষেত্রে 'স্বয়ং'ও 'দ্রষ্টা' হয়ে যায় !





সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কার্য এবং করণ


কার্য এবং করণ


'কার্য' এবং 'করণ'-কে  উৎপন্ন করার হেতু প্রকৃতি.....

কার্য।
কাজ। কর্ম।

করণ।
সম্পাদন। কারণ।

হেতু।
কারণ।

হেতুবাদ।
যুক্তিসহ তর্কের অবতারণা।

হেতুশাস্ত্র।
তর্কশাস্ত্র।

প্রকৃতি।
বাহ্য জগৎ। জগতের অকৃত্রিম পদার্থের সাধারণ নাম । নিসর্গ।
প্রকৃতি। সৃষ্টির মূল বা আদি কারণ।
প্রকৃতি আদ্যাশক্তি !
প্রকৃতি,  সত্ত্ব রজঃ তমঃ, এই তিন গুণের সাম্য অবস্থা।
প্রকৃতি, সাংখ্যমতে, 'নির্গুণ' চৈতন্যময় পুরুষের বিপরীতে, ত্রিগুণাত্মক  'জড়'  তত্ত্ব।


আকাশ বায়ু অগ্নি জল ও পৃথিবী, এই পাঁচটি সূক্ষ্ম মহাভূত।
রূপ রস শব্দ গন্ধ এবং স্পর্শ, এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়াদির বিষয়।
এই দশটির বোধক কার্য।

বোধক। জ্ঞাপক। সূচক। বোধদানকারীল চেতনাদানকারী।

যা উৎপন্ন হয়, তা কার্য।



চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহ্বা ত্বক, এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়।
বাক্ পাণি পাদ উপস্থ পায়ু, এই পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়।
বুদ্ধি অহংকার মন, এই তিনটি অন্তঃকরণ।
এই তেরোটির বোধক করণ।

বোধক। জ্ঞাপক। সূচক। বোধদানকারী। চেতনাদানকারী।

যার দ্বারা কার্যসিদ্ধি হয়, তা করণ।


এই তেইশটি তত্ত্ব, প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন।

প্রকৃতিই এই  তত্ত্বগুলির উপাদান কারণ।

প্রকৃতিই এই তত্ত্বগুলির উৎপত্তির কারণ।



‌‌‌‌‌*   যোগসূত্র :  গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের বিশতম শ্লোকের প্রথম অংশ। "কার্যকরণকর্তৃত্বে হেতুঃ প্রকৃতিরুচ্যতে"। 'তত্ত্ব-বিবেচনী' পৃষ্ঠা ৪৮৫। 'সাধক সঞ্জীবনী' পৃষ্ঠা ৭৪৭।



চাঁদের আলো


চাঁদের আলো


চাঁদের আলো তো সূর্যের প্রতিফলিত আলোক !

সে আলোক তবে অত 'নরম' কেন ?

তাপপ্রদানকারী নয় কেন ?

চাঁদ কি সূর্যের চোখ ঝলসানো অতি উজ্জ্বলতা,  প্রখর তাপ,  অতি উষ্ণতা,  'নীলকণ্ঠের'  গরল পানের মতন,  শোষণ করে নেয় ?  আমাদের 'বিমুক্ত' করে ?
চাঁদ কি আমাদের মন ভুলোয় ?

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হংস [ দুই ]


হংস [ দুই ]


হংস মন্দগামী। হংসই রাজহাঁস। মরাল। সিতপক্ষ।

( এখানে  দেশিহাঁস বা স্থানীয় হাঁস বা পাতিহাঁস সম্বন্ধে বলা হচ্ছে না ! )

হংস সম্বন্ধে ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে ! ( ঋগ্বেদ ২.৩৪৫ )।

ঋগ্বেদের বর্ণনায়, 'হংস'  'পৌরাণিক' পাখি !
সেই পাখি 'মিশ্রিত' সোমজল থেকে বিশুদ্ধ 'সোমরস' পান করত !

হংস 'অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের' বাহন ! ( ঋগ্বেদ ৪.৪৫.৪ )।

হংসেরা বর্ষার আগমনে 'বিহারের' জন্য 'মানস সরোবরে' যেত !
মানস সরোবরের পরিষ্কার জল,  সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ,  হংস-হংসীদের  জলক্রীড়ায়,  রতিক্রীড়ায়  উদ্বুদ্ধ করত !

'হংস' 'ব্রহ্মা' 'সরস্বতী' এবং 'বরুণ' দেবতাদেরও বাহন ! ( বৃহৎ সংহিতা ৫৮.৫৭ )।

বরুণদেবতা।
সমুদ্র জল বৃষ্টি ও পশ্চিমদিকের অধিদেবতা, প্রচেতা !



*  সূত্র  'বঙ্গীয় শব্দকোষ', পৃষ্ঠা ২৩১৮-৯।

হংস [ এক ]


হংস [ এক ]


হংস ( হাঁস ) বাহন হিসাবে দুজনেই ভাগ করে নিয়েছেন !

ব্রহ্মা নিয়েছেন !
সে কারণে ব্রহ্মা হংসবাহন, হংসারূঢ়, হংসরথ, ইত্যাদি !

দেবী সরস্বতীও হংস বাহন হিসাবে বেছে নিয়েছেন !
তখন তিনি হংসবাহনা, হংসবাহিনী, হংসারূঢ়া প্রভৃতি !

আকাশে ভেসে বেড়ানো হাঁসের দলকে বলে 'হংসমালা' !

হাঁসেদের রাজা  'রাজহাঁস' !