বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৬

শ্রীমদ্ভাগবত

শ্রীমদ্ভাগবত

শ্রীমদ্ভাগবত


শ্রীমদ্ভাগবতে


সর্গ
বিসর্গ
স্থান
পোষণ
কর্মবাসনা
মন্বন্তর
ঈশানুকথা
নিরোধ
মুক্তি
এবং আশ্রয়
এই দশটি বিষয়
লক্ষিত হয়।
আশ্রয়। অর্থাৎ ঈশ্বরে আশ্রয়। ঈশ্বরের কোলে অাশ্রয়। আশ্রয়। শ্রীকৃষ্ণে আশ্রয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণে আশ্রয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কোলে আশ্রয় !


দশম বিষয়
আশ্রয়-এর তত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য
বিশিষ্ট পুরাণকারেরা
অন্য নয়টি বিষয়ের বিষয়কে
কোথাও শ্রুতির প্রমাণের সাহায্যে
কোথাও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে  বৃত্তির সাহায্যে
বা কোথাও
সাক্ষাৎ রূপে
বর্ণনা করেছেন।

* সূত্র : 'শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত', পৃষ্ঠা ৩২। গীতা প্রেস।
* * আকর গ্রন্থ, শ্রীমদ্ভাগবত-মহাপুরাণ, গীতা প্রেস।




শাস্ত্রের ধারণায়, ঈশ্বর 'জন্মরহিত' ! ঈশ্বর যদি জন্মরহিত হন, তাহলে ঈশ্বর 'স্বয়ম্ভূ' হতে পারেন না ! তিনি 'স্বয়ংসৃষ্ট' হতে পারেন না ! কেননা সেটাও, অর্থাৎ স্বয়ংসৃষ্ট হওয়া, বা স্বয়ম্ভূ হওয়াও,  তো  জন্ম !
শাস্ত্রের ধারণায়, ঈশ্বরের শক্তি, 'মায়া' !
মায়াকে কে সৃষ্টি করল ?
মায়াকে কি ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন ?
কিন্তু তখনও তো সৃষ্টি প্রক্রিয়া শুরুই হয় নি !
তার আগেই মায়ার প্রাদুর্ভাব হল কি করে ?
তাহলে কি মায়া ঈশ্বরের প্রথম সৃষ্টি ?
আসলে,  হিন্দু শাস্ত্রে, অনেক জায়গায় দেখবেন, শাস্ত্রের বক্তব্য আছে, কিন্তু তার পে্ছনে প্রকৃত যুক্তি,  বিচার,  বিশ্লেষণ নেই !
ঈশ্বরের নিজের দ্বারা, সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে বলে 'সর্গ'। এটা কিন্তু 'স্বর্গ' নয় !
ঈশ্বরের নিজের দ্বারা, সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে বলে 'সর্গ'।
সুতরাং ঈশ্বর যে সৃষ্টি করেন না, একথা ঠিক নয় !
'সর্গ'  প্রক্রিয়া,  সেটা, চর-অচর সৃষ্টির আগে চলেছিল ! যুগ যুগ বছর আগে ! বহুযুগ আগে ! বহুযুগ ধরে !
প্রাণীগোষ্ঠী এবং উদ্ভিদগোষ্ঠী একসাথে চর-অচর।চর, অর্থাৎ,  যারা চলাচল করতে পারে। চর-এর movement আছে। কিন্তু, অচর-এর movement নেই । অচর থিতু।
যুক্তি-তর্কের খাতিরে, ধরে নিন, তখন শুধু এক ঈশ্বর আছেন !
'ব্রহ্মাণ্ড' বলে কিছু নেই !
ঈশ্বর, প্রথমে, 'সূক্ষ্ম কারণ ব্রহ্মাণ্ড'  তৈরি করবেন ! অর্থাৎ, 'তত্ত্বে', ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা, চালাবেন ! এটা , purely theoretical., অর্থাৎ,  পরিপূর্ণভাবে তত্ত্বীয়। বাদীয়। ধারণাগত !
'কারণ'-এর, ধারণার আগেও, 'কারণাতীত', একটা পর্যায় থাকে। 'কারণ', হচ্ছে, হেতু, মূল ! 'কারণাতীত', 'কারণ' পর্যায়েরও, আগের পর্যায় ! তখন বলা যেতে পারে, সেটা 'শূন্য' পর্যায় ! 'নিরঞ্জন' পর্যায় ! 'ঈশ্বর' পর্যায় ! 'পরব্রহ্ম' পর্যায় !
আমি কিছু ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করছি মাত্র !
ঈশ্বর বৈজ্ঞানিক ছিলেন ! বিরাট বড়, অতি বড়, বিজ্ঞানী !
পরে ঈশ্বর, 'সূক্ষ্ম করণ ব্রহ্মাণ্ড'  তৈরি করবেন !
করণ',   'কারণ'-এর সহায়ক কাজের প্রধান সহায়ক ! করণে, সূক্ষ্ম  material সৃষ্টি ! সেটা, বস্তুগত। পদার্থগত । বাস্তব ! প্রথমে পরমাণু সৃষ্টি। বিভিন্ন মৌল পদার্থের পরমাণু। পরে মৌলিক পদার্থের মৌলিক অণু । এরপরে যুগ্ম অণু। তারপরে,  chemical compound.  যৌগ পদার্থ। সংশ্লেষে সংশ্লেষে, বিভিন্ন পদার্থের অণুর সমবায় গড়ে উঠল ! যৌগ অণু। যৌগিক অণু। মিশ্র অণু্। জটিল অণু। ইত্যাদি।
এগুলো সবই রসায়নবিদ্যার ব্যাপার ! ঈশ্বর এক বিরাট বড় রসায়নবিদ ছিলেন !
এরপরে, 'সূক্ষ্ম ব্রহ্মাণ্ড'  তৈরি !
এগুলোর  সব এক-একটা পর্যায় ঘটতে, যুগ যুগ বছর কেটে যায় !
তারপর শুরু হয়, ব্রহ্মাণ্ড তৈরির কাজ ! ধীরে ধীরে স্থূল সৃষ্টি। ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি !
এগুলো সবই, যুগ যুগ বছরের ধাক্কা !
এখানে, ঈশ্বর আবার পদার্থবিদ !


সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

সাকার নিরাকার ব্রহ্ম




সাকার নিরাকার ব্রহ্ম


ব্রাহ্মধর্ম। ব্রাহ্মদের কাছে, 'নিরাকার পরমেশ্বর'-এর উপাসনা !

হিন্দুদের মধ্যেও, অনেকে, 'নিরাকার পরমেশ্বর'-এর উপাসনা করে থাকেন !

তবে তাঁরা হিন্দুই ছিলেন, হিন্দুই আছেন, আর হিন্দুই থেকে যাবেন !

তবে, 'ব্রাহ্ম,' কারা ?

যারা রাজা রামমোহন রায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, শিবনাথ শাস্ত্রী,  প্রমুখদের গোষ্ঠীভূক্ত হয়ে, 'পরমেশ্বর' সম্বন্ধে এক বিশেষ ধাবণার বশবর্তী হয়েছেন, এবং সেই 'পরমেশ্বর'কে, 'ব্রহ্ম' নাম দিয়ে, বিশেষ 'উপাসনা' পদ্ধতির মাধ্যমে, তাঁরা, তাঁদের ধর্মকর্ম এবং তাঁদের 'সমাজ' চালিয়েছেন, 'তাঁরা' !


ওঁনারা তো ! 'পরমেশ্বর'-এর 'নিরাকার' ভাগটা ( যদি কিছু থাকে ), 'ব্রহ্ম' নাম দিয়ে, নিলেন ! কিন্তু যদি পরমেশ্বর'-এর 'সাকার' রূপও থাকে, তবে সেই 'সাকার রূপটি', হয় ফেলে দিলেন, নয়তো তাঁরা নিলেনই না !

নিরাকার 'ব্রহ্ম' হচ্ছেন, 'ফক্কা', কিছুই না !  ওটা শূন্য । সংস্কৃতে শব্দটা হচ্ছে, 'ফক্কিকা' !

সাকার পরমেশ্বর হচ্ছেন' পরমেশ্বরের 'সাকার' form ! ফর্ম হচ্ছে, গঠন, আকার,  আকৃতি,  মূর্তি,  রূপ, এমন কি 'অনুভব'ও ! অনুভবটাই আসলে আসল !

সাকার পরমেশ্বর হচ্ছেন, পরমেশ্বরের সাকার form !

পরমাশ্বরকে যদি  'ব্রহ্ম' বলি, তবে 'নিরাকার ব্রহ্ম' বলে, আরেকটা কথা চালু আছে !

'নিরাকার ব্রহ্ম', কিছুই না ! ওটাও শূন্য !

ওটা, 'সাকারের মতন', অন্য  আরেকটা  'আকার' বিশিষ্ট নয় !

ব্রহ্মের স্থূল  form  থাকে কিনা, আমার জানা নেই !
ব্রহ্মের সূক্ষ্ম  form  থাকে কিনা, তা, আমার জানা নেই !
ব্রহ্মের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম  form  থাকে কিনা,  তাও আমার জানা নেই !
ব্রহ্মের 'করণ' form  আছে কিনা আমি জানি না !
ব্রহ্মের কারণ  form সম্বন্ধে আমি নিজে অজ্ঞ !
ব্রহ্মের কারণাতীত  form  সম্বন্ধেও কিছু বলতে পারব না !

এগুলো সব 'ধারণাগত' ভাবে ধারণা !

প্রেরণা, যার যার মানসিক প্রবৃত্তি ! কোন গুরুদেব বা কোন শাস্ত্র, কাকে কি ভাবে, কতটা  brainwashing ( মগজধোলাই ) করতে পারল, সেটা আমার দেখবার নয় !

মগজধোলাই হচ্ছে, অবাস্তব বিষয়গুলিতে বাস্তবতা আনা ! যথার্থ আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা না দিয়ে, ঠাকুর-দেবতা, পুরোহিত তন্ত্র, দান, দক্ষিণা,  ইত্যাদি মেনে  নেওয়ানো !

তবে একটা ব্যাপার বুঝি, 'সাকার ব্রহ্ম' আর 'ব্রহ্মাণ্ড' কথাদুটি, সাযুজ্যপূর্ণ ! দুটির মধ্যে যোগসূত্র আছে ! দেখুন :
ব্রহ্ম + অণ্ড = ব্রহ্মাণ্ড !

অণ্ড তো ডিম !

সাবেকি ইন্দুধর্মমতে, সূচনায়, ডিম ভেঙ্গে, ওপরের আকাশ আর নিচের মাটি, অর্থাৎ, পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল !

আর ডিমের ভেতরে, যে গ্যাস তৈরি হয়েছিল, যদি বলি, সেই গ্যাস থেকেই, বাতাস তৈরি হয়েছিল, তবে তো সেটা, আরেকটা 'তত্ত্ব' তৈরি হবে !

আর ডিমের খোলাগুলি কোথায় গেল ?

সেগুলো হয়তো, নীহারিকা  ( nebula )  হয়ে, দূরে, বহুদূরে,  মহাশূন্যে,  জটলা করতে লাগল !

কারণশরীর


কারণশরীর


কারণশরীর!

কারণরূপ শরীর !

মানুষের অহঙ্কার ইত্যাদির অদিকারণ অহঙ্কাররূপ উপাধি ! বা 'অজ্ঞান' শরীর !
 এটা বেদান্তসারের বক্তব্য !

একথা বলা হয় যে, 'অজ্ঞান' বা 'অজ্ঞানবিদ্যা' ( ? ),  এবং অথবা, অবিদ্যা, মানুষের স্থূল ও সূক্ষ্ম শরীরের,  'আদি'কারণ !

সবিশেষ তত্ত্বজ্ঞান লাভ লাভ করলে, সেই তত্ত্বজ্ঞান ঠিক মতো বুঝতে পারলে, অন্তর থেকে অনুভব করতে পারলে, সেই  অবিদ্যা অজ্ঞানতা বিদূরিত হয় ! অর্থাৎ,অবিদ্যা-অজ্ঞানতার 'নাশ' হয় !

যেহেতু, শরীরেরও নাশ হয়, বিনাশ হয়, অবিদ্যা-অজ্ঞানতারও নাশ হয়, তাই, অজ্ঞানতা অবিদ্যার আদিকারণের 'কারণ'কে, বিনাশশীল শরীরের সাথে, সভ্রমে তুলনা করা হয়েছে !

কারণশরীর, শরীরের স্থূল, সূক্ষ্ম, 'করণ', 'কারণ', 'কারণাতীত', শরীরের অন্তবর্তী, 'কারণ পর্যায়ের, শরীর' !

'অজ্ঞানতা', শাস্ত্রজ্ঞানহীনতা ! শাস্ত্রজ্ঞানের অভাব !  বা শাস্ত্রজ্ঞানে স্বচ্ছতার অভাব !

অবিদ্যা সর্বপ্রকার 'ভ্রম'-এর, মূল কারণ ! ওটা মিথ্যাজ্ঞান ! হতে পারে , so called, তথাকথিত, 'মায়া'-ও ! তবে,
আমার কাছে, মায়ার যাথার্থ্য বা সম্ভাব্যতা,  এক্ষেত্রে সন্দেহজনক !


* সূত্র  'বঙ্গীয় শব্দকোষ', পৃষ্ঠা ৬০৯।-

কারবালার যুদ্ধ

কারবালার যুদ্ধ


কারবালার যুদ্ধ, ১০ই অক্টোবর, ৬৮০ ক্রিস্টাব্দে, বর্তমান ইরাকের,  তৎকালীন  'কারবালার প্রান্তরে',  সংঘটিত হয়েছিল।

কারবালার যুদ্ধ, অসম শক্তিধরদের সঙ্গে, আলির পক্ষে, নিজেদের মধ্যে, নিজেদের,  যুদ্ধ !

একদিকে প্রচণ্ড শক্তিধর ও ক্ষমতাসীন উমাইয়া খলিফা ( calif, caliph, a successor of Mohammed, who is the civil and religious chief of the Islamic world.  caliphate- খলিফার পদ, অধিকার বা শাসন। Ar. khalifah ).।

অন্যদিকে মহম্মদ ( সা )-এর মেয়ের পক্ষের নাতি, হোসেইন ইবন আলি, নিজে, এবং তাঁর অল্প কিছু সংখ্যক সমর্থক ও আত্মীয়।

কারবালার অন্যতম শহীদ, হোসেইন এবং তাঁর ছয় মাসের শিশুপুত্র, অলি আল-আসগর ইবন হোসেইন সহ. সকল পুরুষ

সমর্থক !

কিছু নারী ও শিশু বন্দি হয় !

এই যুদ্ধটি থেকে,  পরবর্তিতে,  মুসলিম 'শিয়া' সম্প্রদায়ের উত্থান !

কারবালা যুদ্ধ,  শিয়া পন্থীদের পক্ষে, বিরাট বিপর্যয় ও শোকাবহ ঐতি্হ্য !

এটা বলা হয়,  কারবালা যুদ্ধে, হোসেইন পক্ষের বাহাত্তর জনের শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল !

 সেই জন্য  '৭২' সংখ্যাটিকে, শিয়াপন্থীরা বিশেষ ভাবে মান্যতা দেয় !

অন্যদের শিরোচ্ছেদ ছাড়াই মৃত্যু ঘটেছিল।

'সুন্নি' এবং 'শিয়া' দুদলই 'মুসলিম'। তবে আমার ধারণায়, যতদূর আমার এ বিষয়ে পড়াশোনা আছে, বিভিন্ন 'ইউটিউব'-এর কল্যাণে যতদূর 'দেখাশোনা' আছে, শিয়ারা অনেক বেশি modest, বিনয়ী, নম্র। আচার-ব‍্যবহারে  তাদের পরিমিত মাত্রা ! তারা শালীনতা বজায় রাখে ! কোনরূপ গর্বোদ্ধত ভাব আমি তাদের মধ্যে দেখি না !

কারবালার যুদ্ধে, মহম্মদ ( সা )-এর কন্যা পক্ষের নাতি , হোসেইন ইবন আলির, ছয় মাসের শিশুপুত্র, আলি আল-আসগর
ইবন  হোসেইন-এর কান্না, এখনো আমাদের অন্তরে অনুভুত হয় !

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ব্রাহ্মবিবাহ, ব্রা্‌হ্ম ধর্ম মতে


ব্রা্‌হ্মবিবাহ, ব্রাহ্ম ধর্ম মতে



ব্রাহ্মধর্মাবলম্বিদের, ব্রাহ্মধর্মের নিয়ম অনুসারে বিবাহ !
কিন্তু নানা কারণে, ব্রাহ্মধর্ম, ব্রাহ্মসমাজ, ব্রাহ্মবিবাহ, বিশেষ সফলতা পায়নি !
ব্রাহ্মধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, ব্রাহ্মবিবাহ, মূলত ভেস্তে গেছে !

রাজা রামমোহন রায়, সর্বপ্রথম,  ব্রা্‌হ্মধর্মের প্রচলন করেন ! সেটা ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দ। তখন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় !

ব্রাহ্মধর্মাবলম্বিরা, একেশ্বরবাদী !
শুধুমাত্র, 'নিরাকার' পরমেশ্বরের উপাসনা করেন !
সাকার 'পরমেশ্বর' বলে যদি কিছু থেকে থাকে, তাঁরা তাতে আগ্রহী নন !

নিরাকার পরমেশ্বরকে, তাঁরা 'ব্রহ্ম' বলেন !
ব্রাহ্মধর্মাবলম্বিদের মধ্যে, জাতিভেদ প্রথা নেই !
স্ত্রী-স্বাধীনতা স্বীকৃত !

হিন্দু সংস্কারের, কুসংস্কারঅংশ তাঁরা বাদ দিতে চেয়েছিলেন !
তাঁরা নিজেদের progressive অর্থাৎ,  অগ্র্গতিমূলক হিন্দু বলে ভাবতেন !

যদিও, রাজা রামমোহন রায়, তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্ষন্ত, তাঁর 'পৈতে' অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন !

দেবদেবী'র পূজা, ব্রাহ্মধর্মাবলম্বিদের ধাতে নেই !

তবে তাঁরা 'সরস্বতী', 'লক্ষ্মী', এইসব দেবীদের পূজা করেন কিনা, তা তাঁরাই বলতে পারবেন !

তবে তাঁরা মূর্তিপূজায় আগ্রহী নন !

অত্যধিক নারী স্বাধীনতার প্রচলন থাকার ফলে, হিন্দুদের তুলনায়, ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে, ডিভোর্সের
সংখ্যা বেশি ! কন্যা যদি অর্থ উপার্জন করেন, তবে সে প্রবণতা আরো বাড়ে !

রাজা রামমোহন রায় ছাড়া, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশব চন্দ্র সেন, এঁরা, ব্রাহ্মসমাজের ব্যাপারে ভালোভাবেই জড়িয়ে পড়েন !

এখন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আদি ব্রাহ্মসমাজ', জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বড়িতে তাঁদের অফিস; কেশবচন্দ্র সেনের 'নববিধানী সমাজ', কেশব সেন স্ট্রিটে, ব্রা্‌হ্মমন্দিরে তাদের আফিস; শিবনাথ শাস্ত্রীর, 'সাধারণ ব্রা্‌হ্মসমাজ', বিধান সরণিতে, ওদের নিজেদের সমাজ বাড়িতে, ওদের আফিস !

ব্রা্‌হ্মসমাজ, এখন মূলত, ঐ তিন ভাগে বিভক্ত !

ব্রাহ্মবিবাহ, হিন্দু ধর্ম মতে

ব্রাহ্মবিবাহ, হিন্দু ধর্ম মতে


বস্ত্র অলঙ্কার ইত্যাদি বর ও কন্যাকে দিয়ে, বিদ্যান বিচক্ষণ রোজগারে বরের হাতে, পূজা সহকারে,  যথাবিধি' কন্যা সম্প্রদান ! এটি, হিন্দু মতে 'ব্রাহ্মবিবাহ' !
এই বিবাহ, মূলত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান !
ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পাত্রের ! ধর্মীয় অনুষ্ঠান পাত্রীর ! ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কন্যা সম্প্রদান কর্তার ! যেহেতু,ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক ভাবে, পুরুত থাকা অত্যাবশ্যক !
হিন্দুদের 'ব্রাহ্মবিবাহ', সাধারণত অস্থায়ী মণ্ডপে, বা স্থায়ী বিবাহ-বাড়িতে, অস্থায়ী ব্যবস্থায়, সংঘটিত হয় ! যে অস্থায়ী ব্যবস্থাকে,  'ছাঁতনাতলা' বলে ! ওটা বিবাহের 'ছায়ামণ্ডপ' !
ওখানে সংস্কৃতে  বিবাহমন্ত্র, পূজার মন্ত্র উচ্চারিত হয় !
ওখানে, 'সংস্কৃত' বেদমন্ত্রও উচ্চারিত হয় !
এই বিবাহে, পাত্র-পাত্রীকে, কিছুটা অন্তত,শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন হতে হয় ! কিছুটা সংস্কৃত জানলে ভালো !
ব্রাহ্মবিবাহে, পণ দিয়ে কন্যার বিবাহ !
ব্রাহ্মবিবাহে, বরকে আহ্বান করতে হয় !
অনেকে ফুল দিয়ে গাড়ি সাজিয়ে, সেই গাড়ি, লোকসমেত পাঠিয়ে. বরকে নিয়ে আসে ! 
এটা হিন্দু বিবাহ !
ওটা পুরাণের যুগেও, সনাতন ধর্মের অঙ্গ হিসাবে, প্রচলন ছিল !
এখনও প্রচলন আছে !
তবে বর পক্ষের, পণের দাবী মানা হয় না !
কন্যা পক্ষ, স্বেচ্ছায়, যা দেবে, তাই নিয়ে, সন্টুষ্ট থাকতে হয় !
এখন ধর্মীয় বিবাহের অতিরিক্ত, আইন মাফিক, পাত্র-পাত্রীর বিবাহ রেজিসট্রেশন করা হয় !
ব্রাহ্মবিবাহে, মেয়েলি অআচার-আনুষ্ঠান থাকে !
আমন্ত্রিতরা, সবাই মিলে আনন্দে মাতে !
ভূড়ি-ভোজের ব্যবস্থা রাখা হয় !

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

মহর্ষি পতঞ্জলির নামে ব্যবসা হচ্ছে !

মহর্ষি পতঞ্জলির নামে ব্যবসা হচ্ছে !



মহর্ষি পতঞ্জলির নামে ব্যবসা হচ্ছে !

মহর্ষি পতঞ্জলি একজন যুগসিদ্ধ পুরুষ !
অনেকের কাছে তিনি ভগবান !
পতঞ্জলির অনেক ভক্ত বিদ্যমান !
তাঁরা এ ব্যাপারে অসন্টুষ্ট !

আমি রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !

মনে আছে, একসময়ে 'সুলেখা' কালির দোয়াতের বাক্সের মধ্যে, একটা কার্ডে, গান্ধিজির বুকজোড়া ছবি থাকত !
সরকারি হস্তক্ষেপে, সুলেখার মালিক পক্ষ, সেই ছবি তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল !

আমি চাইব,পতঞ্জলির নামে, ব্যবসা করা বন্ধ হক !

রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার, এই ব্যাপারে, এক হক !