বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

পুলস্ত্য ঋষি


পুলস্ত্য ঋষি








































প্রণব কুমার কুণ্ডু



পুলস্ত্য ঋষি, সপ্তর্ষি মণ্ডলের অন্তর্গত একজন স্বনাম বিখ্যাত ঋষি।

পুলস্ত্য ঋষি, ব্রহ্মার দশ মানসপুত্র তথা দশ প্রজাপতির অন্যতম।

পুলস্ত্য ঋষি, সুমেরু পর্বতের শিখরের পাশে, তৃণবিন্দু নামের জনৈক মুনির অশ্রমের কাছে, একমনে তপস্যা অভ্যাস করতেন।
সেখানে স্বর্গের অপ্সরাগণ আর মর্ত্যের ঋষিকন্যারা একসাথে মিলেমিশে, সময়ে সময়ে, এবং সময়ে-অসময়ে, নাচা-গানা-বাজনা ইত্যাদি করে, নানান ধরণের হৈচৈ হুল্লোড় করত।

তাতে পুলস্ত্য ঋষির তপস্যায় বিঘ্ন ঘটত। ঋষি বিরক্ত হতেন।

ঋষি তখন ঐসব অপ্সরাদের এবং ঋষিকন্যাদের এই বলে সতর্ক করে সাবধান করে দেন, যে,  এরপরে যাকে বা যাদের ঋষিজির সামনে দেখা যাবে, নাচ গান বাজনা ইত্যাদি করবে, হট্টগোল করবে, ঋষিজির মনঃসংযোগে বাধার সৃষ্টি করবে,  তারা এমনি এমনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়বে !
ফলে ঐসব অপ্সরারা এবং ঋষিকন্যারা ওখান থেকে পালিয়ে গেল।  ভয়ে ওরা আর আসত না। ওরা আসা বন্ধ করে দিল।

ঘটনাক্রমে আনাবধানবশত, বেড়াতে বেড়াতে, মনের অজান্তে,  তৃণবিন্দু মুনির এককন্যা, হবির্ভু যার নাম, একদিন ওখানে এসে হাজির হল, এবং পুলস্ত্য মুনির দৃষ্টিগোচরে পড়ে গেল।
ফলে হবির্ভূ গর্ভবতী হয়ে পড়ল !

সেটা কি এমনি এমনি হয়ে গেল, না পুলস্ত্য মুনি কামার্ত হয়ে হবির্ভূর সাথে সঙ্গম ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ! তা কিন্তু ঠিক বোঝা গেল না !

এরপরে তৃণবিন্দু মুনির বিশেয অনুরোধ ক্রমে, পুলস্ত্য মুনি ঐ কন্যাটিকে সাগ্রহে বিবাহ করেন।
ঐ গর্ভ থেকে, পুলস্ত্য মুনির বিশ্রবা নামক পুত্রের জন্ম হয়।
এই বিশ্রবা মুনি রাবণদের ( রাবণ, কুম্ভকর্ণ, বিভীষণ, শূর্পণখা, এবং কুবেরের ) পিতা।

দেখুন তৃণবিন্দু মুনির কন্যাকে, পুলস্ত্য মুনি,  প্রেম ছাড়া কিভাবে বিবাহ করেছিলেন !

[ প্রাচীন সিংঘল দ্বীপের ( বর্তমানে শ্রীলংকার )  পেলোনারুয়াতে পুলস্ত্য মুনির একটি গ্রানাইট  পাথর নির্মিত মূর্তি পাওয়া গেছে। ]

                                                                                                                                                             
পুলস্ত্য মুনির মূর্তি { উইকিপিডিয়া }

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

কার্তবীর্যার্জুন


কার্তবীর্যার্জুন




কার্তবীর্যার্জুন বা কার্তবীর্য।
পিতার নাম কৃতবীর্য। পিতা কৃতবীর্য থেকে পুত্রের নাম কার্তবীর্যার্জুন বা কার্তবীর্য।
দুজনেই রাজা।
মহীষ্মতী নামক নগরে তাদের বাস ছিল।

কার্তবীর্য কঠোর তপস্যা করে,  ভগবান মহাদেবকে তুষ্ট করে, মহাদেবের কাছ থেকে, অনেক ধরণের উৎকৃষ্ট বর ( দেবতার কাছ থেকে লব্ধ অনুগ্রহ ) পান।
কার্তবীর্যের হয়েছিল সহস্র বাহু।
পেয়েছিলেন ইচ্ছাগামী রথ।
পেয়েছিলেন যুদ্ধে শত্রু কর্তৃক অদৃশ্যতা অর্থাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা।
দুষ্টকে দমন করার দুর্মদ শক্তি।
ইত্যাদি ইত্যাদি।

কোনো এক সময়ে, লঙ্কেশ্বর রাবণ দিগ্বিজয়ে বের হয়ে কার্তবীর্যের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলেন।
কিন্তু রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে, কার্তবীর্য অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়ে,  রাবণকে পরাজিত করে, বন্ধন করে,  বন্দি করে রেখেছিলেন।

এর পরে সপ্তর্ষির অন্তর্ভুক্ত পুলস্ত্য ঋষি, যিনি আবার ব্রহ্মার মানসপুত্র এবং রাবণের ঠাকুরদাদা, কার্তবীর্ষের কাছে এসে, রাবণকে বন্ধনমুক্ত করে, মুক্ত করে দিতে অনুরোধ করেন।

কার্তবীর্য পুলস্ত্য ঋষির প্রার্থনায় সাগ্রহে রাজি হয়ে যান। রাবণের বন্ধন খুলে, রাবণকে মুক্ত করে দেন এবং অবশেষে রাবণের সাথে বন্ধুত্ব করেন।

এইসব দেখে দুর্ধর্ষ রাবণও একেবারে থ মেরে যান।

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

Proof of Ram Mandir at Ayodhya? Prof. B B Lal on Ramayana site archeolog...

পুত্রবধূসম রম্ভাকে নিয়ে জড়িত রাবণের গল্প।


পুত্রবধূসম রম্ভাকে নিয়ে জড়িত রাবণের গল্প।



পুত্রবধূসম রম্ভাকে নিয়ে জড়িত রাবণের গল্প।
কুবেরপুত্র নলকুবেরের অভিশাপ।
অলক্ষ্যে সীতা !
রম্ভা ছিল রাবণের পুত্রবধূ তুল্য।

রম্ভা অপ্সরাবিশেষ।
রামায়ণ মতে সমুদ্রমন্থন থেকে অপ্সরাদের উৎপত্তি।

রম্ভোরু।
কলাগাছের মতো সুপুষ্ট ও সুন্দর ঊরুবিশিষ্ঠা নারী।

রম্ভার ছিল ঐধরণের সুন্দর ঊরু।

রম্ভা, কুবেরপুত্র নলকুবেরের পত্নী ছিল।

এক দিন রাবণ, পুত্রবধূসম রম্ভাকে অন্যায় ভাবে সহযোগে প্রবৃত্ত হয়েছিল, সেই কারণে রাবণের প্রতি কুবেরের পুত্র নলকুবেরের অভিশাপ ছিল।

যদি রাবণ কামার্ত হয়ে কোন স্ত্রীলোকের অনিচ্ছায়, তার প্রতি বলপ্রয়োগ করে উপভোগের চেষ্টা করে, তবে রাবণের মাথা শত ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ এক এক মাথা দশ দশ ভাগে বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে।
নলকুবেরের জ্যাঠা রাবণের প্রতি, ভাইপো নলকুবেরের এই ছিল অভিশাপ।

নলকুবের ধর্মেকর্মে ছিলেন, ব্রাহ্মণ, বাহুবলে ছিলেন, ক্ষত্রিয়, ক্রোধে ছিলেন,  অগ্নি, আর ক্ষমায় ছিলেন পৃথিবী।

ঐ অভিশাপের জন্য সীতা বেঁচে গিয়েছিলেন।

তা না হলে, সীতা রাবণের দ্বারা ধর্ষিতা হতেন। এবং বলা তো যায় না, হয়তো,  সেক্ষেত্রে, ধর্ষণে ধর্ষণে,  রক্তক্ষরণে রক্তক্ষরণে,  সীতা মারাও পড়তে পারতেন।

তবে দণ্ডকারণ্যের পঞ্চবটী বনের কুটির থেকে, রাবণের সীতা হরণের সময়, রাবণ কিন্তু সীতাকে স্পর্শ করে, এবং রাবণের সঙ্গে যেতে অনিচ্ছুক সীতাকে,  'শারীরিক ভাবে' বলপ্রয়োগ করেছিল !

রাবণের পিতা বিশ্রবা মুনি। মাতা রাক্ষসী কৈকসী।
কুবেরের পিতাও বিশ্রবা মুনি, তবে মাতা দেববর্ণিনী।
রাবণ ও কুবের ছিলেন, বৈমাত্রেয় ভাই।


প্রণব কুমার কুণ্ডু

সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯

লঙ্কার রাবণরাজার যমদেব দর্শন


লঙ্কার রাবণরাজার যমদেব দর্শন

* সূত্র : বাল্মীকি রামায়ণ। পৃষ্ঠা ৮৯৩, হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য অনুদিত।

রাবণ রাজা সাক্ষাৎ 'মৃত্যু'র মুখোমুখি হয়ে, প্রেতরাজ যমকে দেখেছিলেন।

যমের হাতে পাশ।
চোখ লাল।
জিব বিদ্যুতের মতো লকলকে, তীক্ষ্ণ ও তেজি। দেখতে অতিমাত্রায় ভয়ানক।
চুলগুলো খাড়া খাড়া।
সাপ ও বিছে গায়ের লোম।
দাঁতগুলো অস্বাভাবিক এবং ভয়ানক।
সারা গা জ্বালা ধরায়।
যমের দিকে দৃষ্টিপাত করা যায় না।
 তবে যম যুদ্ধে পিছপা হন না।
যম পাপের দণ্ডদাতা।

রাবণরাজা সেই যমকে নাকি যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন !








প্রণব কুমার কুণ্ডু

প্রণব কুমার কুণ্ডু বৃদ্ধ বয়সে


প্রণব কুমার কুণ্ডু বৃদ্ধ বয়সে
তবে থাকেন আয়াসে এবং আয়েসে !



প্রণব কুমার কুণ্ডু

সুকুমার রায়


সুকুমার রায়




সুকুমার রায়।

কালাজ্বর ( Visceral Leishmaniasis ) নামক মারাত্মক আসুখে মারা গিয়ে ছিলেন।

কালাজ্বর, যা লিশম্যানিয়াসিস রোগের কয়েকটি প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর।
লিশম্যানিয়া ( Protozooan Parasites of the Genus Leishmania donovani ) গণভুক্ত একপ্রকার পরজীবী প্রোটোজোয়া ( Protozoa ) কালাজ্বর রোগটি ঘটায় এবং বেলেমাছির ( Sandfly ) কামড়ের দ্বারা রোগটি ছড়ায়।
পরজীবীগুলো মানুষের যকৃত-এ, প্লীহা-য়, অস্থিমজ্জা-য় সংক্রমণ ঘটায়।

কালাজ্বরের লক্ষণ :-
কালাজ্বরের লক্ষণ হোল জ্বর, তা ছাড়া, ছাড়া ছাড়া জ্বর, ক্ষুধা মন্দা, শরীরের ওজন কমা, শরীরে সৃষ্টি হওয়া ক্ষত-ঘা, দৈহিক অবসাদ, রক্তাপ্লতা, গায়ের চামড়া কালচে হওয়া এবং যকৃত ও প্লীহার আকার-আয়তন বৃদ্ধি প্রভৃতি।

প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক, ড: উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, যিনি তৎকালীন বৃটিশ সরকারের কাছ থেকে, রায়বাহাদুর এবং স্যার উপাধি পেয়েছিলেন, কালাজ্বরের চিকিৎসার ওষুধ, ইউরিয়া স্টিবামাইন আবিষ্কার করেন।

মৃত‍‍্যুর নয় দিন পরে,  সুকুমার রায়ের প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল।

কালাজ্বরে সুকুমার রায় ভুগেছিলেন, তাঁর ৩৪ বৎসর বয়স থেকে, ৩৬ বৎসর বয়স পর্যন্ত।

ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে ১৯২৩ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর তাঁর প্রথম বই, নমসেন্স ছড়ার সংকলন, 'আবোল তাবোল' প্রকাশিত হয়।

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন, সুকুমার রায়ের বাবা।



প্রণব কুমার কুণ্ডু