সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কার্য এবং করণ


কার্য এবং করণ


'কার্য' এবং 'করণ'-কে  উৎপন্ন করার হেতু প্রকৃতি.....

কার্য।
কাজ। কর্ম।

করণ।
সম্পাদন। কারণ।

হেতু।
কারণ।

হেতুবাদ।
যুক্তিসহ তর্কের অবতারণা।

হেতুশাস্ত্র।
তর্কশাস্ত্র।

প্রকৃতি।
বাহ্য জগৎ। জগতের অকৃত্রিম পদার্থের সাধারণ নাম । নিসর্গ।
প্রকৃতি। সৃষ্টির মূল বা আদি কারণ।
প্রকৃতি আদ্যাশক্তি !
প্রকৃতি,  সত্ত্ব রজঃ তমঃ, এই তিন গুণের সাম্য অবস্থা।
প্রকৃতি, সাংখ্যমতে, 'নির্গুণ' চৈতন্যময় পুরুষের বিপরীতে, ত্রিগুণাত্মক  'জড়'  তত্ত্ব।


আকাশ বায়ু অগ্নি জল ও পৃথিবী, এই পাঁচটি সূক্ষ্ম মহাভূত।
রূপ রস শব্দ গন্ধ এবং স্পর্শ, এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়াদির বিষয়।
এই দশটির বোধক কার্য।

বোধক। জ্ঞাপক। সূচক। বোধদানকারীল চেতনাদানকারী।

যা উৎপন্ন হয়, তা কার্য।



চক্ষু কর্ণ নাসিকা জিহ্বা ত্বক, এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়।
বাক্ পাণি পাদ উপস্থ পায়ু, এই পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়।
বুদ্ধি অহংকার মন, এই তিনটি অন্তঃকরণ।
এই তেরোটির বোধক করণ।

বোধক। জ্ঞাপক। সূচক। বোধদানকারী। চেতনাদানকারী।

যার দ্বারা কার্যসিদ্ধি হয়, তা করণ।


এই তেইশটি তত্ত্ব, প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন।

প্রকৃতিই এই  তত্ত্বগুলির উপাদান কারণ।

প্রকৃতিই এই তত্ত্বগুলির উৎপত্তির কারণ।



‌‌‌‌‌*   যোগসূত্র :  গীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ের বিশতম শ্লোকের প্রথম অংশ। "কার্যকরণকর্তৃত্বে হেতুঃ প্রকৃতিরুচ্যতে"। 'তত্ত্ব-বিবেচনী' পৃষ্ঠা ৪৮৫। 'সাধক সঞ্জীবনী' পৃষ্ঠা ৭৪৭।



চাঁদের আলো


চাঁদের আলো


চাঁদের আলো তো সূর্যের প্রতিফলিত আলোক !

সে আলোক তবে অত 'নরম' কেন ?

তাপপ্রদানকারী নয় কেন ?

চাঁদ কি সূর্যের চোখ ঝলসানো অতি উজ্জ্বলতা,  প্রখর তাপ,  অতি উষ্ণতা,  'নীলকণ্ঠের'  গরল পানের মতন,  শোষণ করে নেয় ?  আমাদের 'বিমুক্ত' করে ?
চাঁদ কি আমাদের মন ভুলোয় ?

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হংস [ দুই ]


হংস [ দুই ]


হংস মন্দগামী। হংসই রাজহাঁস। মরাল। সিতপক্ষ।

( এখানে  দেশিহাঁস বা স্থানীয় হাঁস বা পাতিহাঁস সম্বন্ধে বলা হচ্ছে না ! )

হংস সম্বন্ধে ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে ! ( ঋগ্বেদ ২.৩৪৫ )।

ঋগ্বেদের বর্ণনায়, 'হংস'  'পৌরাণিক' পাখি !
সেই পাখি 'মিশ্রিত' সোমজল থেকে বিশুদ্ধ 'সোমরস' পান করত !

হংস 'অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের' বাহন ! ( ঋগ্বেদ ৪.৪৫.৪ )।

হংসেরা বর্ষার আগমনে 'বিহারের' জন্য 'মানস সরোবরে' যেত !
মানস সরোবরের পরিষ্কার জল,  সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ,  হংস-হংসীদের  জলক্রীড়ায়,  রতিক্রীড়ায়  উদ্বুদ্ধ করত !

'হংস' 'ব্রহ্মা' 'সরস্বতী' এবং 'বরুণ' দেবতাদেরও বাহন ! ( বৃহৎ সংহিতা ৫৮.৫৭ )।

বরুণদেবতা।
সমুদ্র জল বৃষ্টি ও পশ্চিমদিকের অধিদেবতা, প্রচেতা !



*  সূত্র  'বঙ্গীয় শব্দকোষ', পৃষ্ঠা ২৩১৮-৯।

হংস [ এক ]


হংস [ এক ]


হংস ( হাঁস ) বাহন হিসাবে দুজনেই ভাগ করে নিয়েছেন !

ব্রহ্মা নিয়েছেন !
সে কারণে ব্রহ্মা হংসবাহন, হংসারূঢ়, হংসরথ, ইত্যাদি !

দেবী সরস্বতীও হংস বাহন হিসাবে বেছে নিয়েছেন !
তখন তিনি হংসবাহনা, হংসবাহিনী, হংসারূঢ়া প্রভৃতি !

আকাশে ভেসে বেড়ানো হাঁসের দলকে বলে 'হংসমালা' !

হাঁসেদের রাজা  'রাজহাঁস' !

স্থূল শরীর সূক্ষ্ম শরীর কারণ শরীর


স্থূল শরীর সূক্ষ্ম শরীর কারণ শরীর


আমাদের স্থূলশরীর  সূক্ষ্মশরীর এবং  কারণশরীরও,  সময়ের সাথে সাথে,  প্রতি মুহূর্তে,  প্রতিক্ষণে,  পরিবর্তিত হচ্ছে !

 এক সময় আসে, যখন শেষ অবধি,  ঐ শরীর সমষ্টিরও নাশও  হয়ে যায়.....


জীবাত্মা, স্থূলশরীরে, সূক্ষ্মশরীরে এবং কারণশরীরে, প্রাণের সঙ্গে স্থিত থাকেন !

প্রাণ না থাকলেও,  সেখানে,  শাস্ত্রের ধারণা অনুযায়ী,  পরমাত্না সব সময়েই স্থিত থাকেন !


বাস্তবে, আমাদের স্থূল শরীর, কাজকর্ম করে।
সূক্ষ শরীর, চিন্তা করায়।
কারণশরীরে 'সমাধি' আসে।
* সূত্র  'গীতারসামৃত' পৃষ্ঠা ৪০৬।



*  সূত্র  'সাধক সঞ্জীবনী', গীতা প্রেস।

আমাদের স্বপ্ন অবস্থা


আমাদের স্বপ্ন অবস্থা


আমাদের স্বপ্ন অবস্থায়, আমাদের সূক্ষ্ম শরীরের প্রাধান্য থাকে !

কারণশরীর সঙ্গে থাকে !

স্বপ্ন অবস্থায়, স্থূল শরীর, সুপ্ত হিসাবে থাকে !

সুপ্ত।
গৌণ অর্থে, অব্যক্ত। প্রচ্ছন্ন।

স্বপ্ন।
ঘুমের মধ্যে প্রত্যক্ষবৎ অনুভূত বিষয় ! ঘুমের মধ্যে কোন বিষয়ের প্রত্যক্ষবৎ অনুভব !



*  সূত্র  'সাধক সঞ্জীবনী',  গীতা প্রেস।

আমাদের জাগ্রত অবস্থা


আমাদের জাগ্রত অবস্থা


আমাদের জাগ্রত অবস্থায়, স্থূল শরীরের প্রাধান্য থাকে !

সূক্ষ্মশরীর এবং কারণশরীরও,  সঙ্গে  থাকে !

জাগ্রত।
জাগ্রৎ। সজাগ। জেগে আছে এমন। জাগরণশীল। বিনিদ্র। ঐশশক্তি প্রদর্শক ! স্ত্রী-জাগ্রতী।

জাগ্রৎ। জীবের শব্দ ইত্যাদি বিষয় জ্ঞানের অবস্থা বিশেষ।

জাগ্রদবস্থা। গুণত্রয়াত্মক বুদ্ধির বৃত্তি বিশেষ !

জাগ্রত।
সতর্ক। সচেতন। অবহিত।