বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ব্রাহ্মণের প্রকারভেদ


ব্রাহ্মণের প্রকারভেদ



সদাচার পালনকারী, বিদ্বান, বিচক্ষণ,  ব্রাহ্মণ,  প্রকৃত পক্ষে,  ব্রাহ্মণ পদবাচ্য !

যিনি কেবল বেদে বর্ণিত আচার পালনকারী, এবং বেদ অভ্যাসী, তিনি  'বিপ্র' !

যিনি সদাচার, বেদাচার, ও  বিদ্যা, এই তিনটির মধ্যে, মাত্র একটি গুণে, গুণবান, তিনি হলেন  'দ্বিজ' !

যে ব্রাহ্মণ, রাজকুলের সেবক, তিনি  'ক্ষত্রিয়-ব্রাহ্মণ' !

অন্যের দোষ দর্শনকারী এবং অন্যের অনিষ্টকারী ব্রাহ্মণ,  'চণ্ডাল-দ্বিজ' !

যে ব্রাহ্মণ, বাণিজ্যে লিপ্ত, তিনি,  'বৈশ্য-ব্রাহ্মণ' !

যে ব্রাহ্মণ, জমি চাষ করেন, তিনি,  'শূদ্র-ব্রাহ্মণ' !



* সূত্র : সংক্ষিপ্ত শিবপুরাণ', গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ২৬-২৭।

অতিরিক্ত, লেখকের সংযোজন, 'যে ব্রাহ্মণ চাকুরিজীবী, তিনি অ-ব্রাহ্মণ' !

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ব্রাহ্মণ


ব্রাহ্মণ



অতীতে, বাঙালি জাতিতে, একজনও, বৈদিক  ক্রিয়াকলাপে দক্ষ, ব্রাহ্মণ ছিলেন না !

তাই, পাঁচজন 'শিক্ষিত'  ব্রাহ্মণকে, কান্যকুব্জ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, তৎকালীন বাংলার সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা, আদিশূর !

রাঢ়ি ও বারেন্দ্র ব্রাহ্মণরা, এঁদেরই বংশধর !

এখন পর্যন্ত পুরোহিত ব্যাবসা, তাঁদের বংশধরেরা, ভালোই চালাচ্ছেন !

কান্যকুব্জ।
কনৌজ দেশ !
কনৌজ, উত্তর প্রদেশের ফারাক্কাবাদ জেলার, তহসিলবিশেষ ছিল।
কান্যকুব্জ, প্রাচীন আর্যসভ্যতার কেন্দ্রগুলির মধ্যে, অন্যতম ছিল !
অতি প্রাচীনকাল থেকে, খ্রিস্টিয়  ৬ষ্ঠ শতাব্দ পর্যন্ত, কান্যকুব্জ, আর্যগৌরবের সাক্ষ্য বহন করেছিল !
খ্রিস্টাব্দ ১০১৮ অব্দে, দেশটি,  গজনির সুলতান, মহম্মদ মামুদের হাতে বিধ্বস্ত হয়েছিল !



* সূত্র : 'বঙ্গীয় শব্দকোষ',পৃষ্ঠা ২৭৩। অভিধান 'সুবল',  পৃষ্ঠা ৩৩৮।

ষোড়শোপচারে শিবের পূজা


ষোড়শোপচারে শিবের পূজা



ষোড়শ উপচার দিয়ে, ভগবান শিবের পূজা করলে, পূজার ফলের সিদ্ধিলাভের সম্ভাবনা, সহজ হয় !

কাজেই ষোলো উপচার দিয়ে, ভগবান শিবের, পূজা করাই উচিত !

উপচার। পূজার সামগ্রী।

দেবতা ভেদে উপচারে কিছু কিছু পার্থক্য আছে !

যেমন, শিবকে দেওয়া হয়, গাঁজা-ছিলিম এবং আধুনিক যুগে দেশলাই !

শক্তিদেবীকে,  দেওয়া হয়, মদ্য ! আধুনিক যুগে, চোলাই !

পূজায়, দেবতার অভিষেক করলে আত্মশুদ্ধি হয় !

অভিষেক।
পূজার বেদিতে, দেবতার সংস্থাপন। মন্ত্রপূত তীর্থজলে, দেবতাকে স্নান করানো বা মানস-স্নান করানো !

ফুল দিয়ে এবং মন্ত্রপাঠে, পূজা করতে হয় !

অঘ্রাত অক্ষত দিয়ে, নৈবেদ্য প্রস্তুত করতে হয় !

নৈবেদ্য দিলে, আয়ুবৃদ্ধি ও তৃপ্তি হয় !

গন্ধদ্রব্য দিলে,  পুণ্যলাভ হয় !

ধূপ নিবেদন করলে, ধনলাভ হয় !

দীপ দেখালে, জ্ঞানের উদয় হয় !

পান-সুপারি দিলে, ভোগের উপলব্ধি হয় !

পূজার শেষে জপ করা ও প্রণাম করা উচিত !

সকলকে প্রসাদ দেওয়া উচিত !



* সূত্র : 'সংক্ষিপ্ত শিবপুরাণ', গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ৩৫।

সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

ঈশ্বরের ছোঁওয়া


ঈশ্বরের ছোঁওয়া



ঈশ্বরকে ডাকলে, ঈশ্বর কাছে আসেন !

তবে দশ আঙ্গুল দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন !

ঈশ্বরের মহান শক্তি !

Very High Voltage Potential Difference !

ঈশ্বর ছুঁয়ে দিলে, মানুষ, উচ্চ বিভবের তড়িতাহতের মতন, বজ্রাহত হয়ে, নিঃশব্দে,  মুহূর্তে মারা যান ! ভস্মীভূত হয়ে,  বাষ্পীভূত হয়ে যান !

ঈশ্বরলোকে, চলে যান !







* সূত্র : 'সংক্ষিপ্ত শিবপুরাণ', গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ৪২১।

হৃদয়ের প্রাণবায়ু


হৃদয়ের প্রাণবায়ু



আমাদের হৃদয়ের প্রাণবায়ু, সদা-সর্বদা, আমাদের দেহের অভ্যন্তরের অগ্নিকে, মৃদু ভাবে উদ্দীপ্ত করে !

বা্যুতে অক্সিজেন থাকে, অক্সিজেন, অগ্নির মৃদু দহনে সহায়ক হয় !

এই বায়ু, শরীরের ভিতরে এবং শরীরের বাইরে, যাতায়াত করে !

জ্ঞান
বিজ্ঞান
উৎসাহ
এই সবেরই প্রবৃত্তি, এই বায়ু থেকেই হয় !



* সূত্র : 'সংক্ষিপ্ত শিবপুরাণ' গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ৪২১।

জয়-বিজয়


জয়-বিজয়



বিষ্ণুলোক, অর্থাৎ,  বৈকুণ্ঠ-এর  দারোয়ান, জয়-বিজয়,  ব্রাহ্মণ-সনকদের অভিশাপে, হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু নাম ধরে, অসুর হিসাবে, মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন !

দু'জনেই ছিলেন সমর নিপুণ ও বিখ্যাত যোদ্ধা !

হিরণ্যাক্ষকে বধ করার জন্য, ভগবান শ্রীবিষ্ণু বরাহরূপ অবতার ধারণ করেছিলেন !

হিরণ্যকশিপুকে বধ করার জন্য, ভগবান শ্রীবিষ্ণু নৃসিংহরূপ অবতার ধারণ করেছিলেন !

জয়-বিজয়-ই অাবার, মহাবীর ও অমিত বিক্রম, রাবণ ও কুম্ভকর্ণ রূপে, জন্মগ্রহণ করে, দেবতাদেরও পরাজিত করেছিলেন !
তাঁদের বিরত্বের কথা, পৃথিবী শুদ্ধ লোক জানে !

ব্রাহ্মণদের অভিশাপ কি বস্তু,  তা আলোচ্য আখ্যান থেকে, জানা গেল !

সুতরাং, ব্রাহ্মণদের থেকে সাবধান !



* সূত্র : 'শ্রীরামচরিতমানস', গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ১৬৩-১৬৫।


রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

পার্বতী


পার্বতী



দক্ষকন্যা সতী। 

তাঁর পরের জন্ম, হিমাচলের কন্যা, দেবী পার্বতী !

পার্বতীর অন্য নাম, উমা দেবী !

অম্বিকা, ভবানী প্রভৃতি নামেও, পার্বতী খ্যাতা !



* সূত্র : 'শ্রীরামচরিতমানস', পৃষ্ঠা ৯৭।