বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

ভগদত্ত-প্রক্ষিপ্ত বৈষ্ণব-অস্ত্র


ভগদত্ত-প্রক্ষিপ্ত বৈষ্ণব-অস্ত্র



কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের দ্বাদশ দিবসে, ভগদত্ত-প্রক্ষিপ্ত, বৈষ্ণব-অস্ত্র নিবারণে, অর্জুন, অসমর্থ ছিলেন !
ভগদত্ত, নরক রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র !
বৈষ্ণব-অস্ত্র। বৈষ্ণবাস্ত্র ! বিষ্ণুর শক্তিতে শক্তিমান, অস্ত্রবিশেষ !

কৃষ্ণ স্বয়ং, বিষ্ণুর অবতার হিসাবে, বৈষ্ণবাস্ত্র নিবারণ করেন !
কৃষ্ণ, অস্ত্রটিকে, অর্জুনকে,  আঘাত করতে বারণ করেন, যাতে অস্ত্রটি, অর্জুনের কোন ক্ষতি না করে !

শ্রীকৃষ্ণের কথায়, বৈষ্ণব-অস্ত্রটি, কণ্ঠে তুলসীর মালা চড়িয়ে, বিষ্ণুর, অষ্টাধিক শতনাম জপতে জপতে,  আকাশের শূন্যে ভেগে পড়ে !



*সুবল/৩৮০/১।

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

আচমন


আচমন



পূজা প্রভৃতির আগে, তিনবার জল খেয়ে, এবং, দুইবার  জলে ওষ্ঠাধর ( নীচের ও ওপরের ঠোঁটদু'টি ) পরিষ্কার করে,
মাথাসহ ষড়ঙ্গ বা মাথাসহ অষ্টাঙ্গ স্পর্শ করে, শুদ্ধিজনক প্রক্রিয়াবিশেষ !
ওটাকে স্পর্শ বলবেন, না, উপস্পর্শ বলবেন, তা আপনারাই ঠিক করবেন !

ষড়ঙ্গ। মনুসংহিতা অনুযায়ী, মুখ চোখ কান নাক হৃদয় ও  মাথা। এই ছয় অঙ্গ।

অষ্টাঙ্গ। গড়ুরপুরাণ মতে, ওপরের ঐ ছয় অঙ্গ এবং নাভি ও হাত।এই আট অঙ্গ।

আচমনি জল। আচমনের জন্য জল।

ভোজনের আগে ও পরে জলপান, সেটাও আচমনীয় জলপান !

ভোজনের পরে হাত-মুখ ধোওয়া, সেটাও আচমন। সাদা বাংলায়,  আাঁচান !



*ব.শ.কো./২৪৮।

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

সহস্রার


সহস্রার


সহস্রার !
শিরোমধ্যস্থ সুষুম্না নাড়িতে অবস্থিত !

তান্ত্রিক মতে কল্পনা করা হয়, সহস্রার মধ্যে, সুষুম্না নাড়িতে, অধোমুখ সহস্রদল পদ্ম রয়েছে !

এটাও ধরে নেওয়া হয়, সহস্রার অন্দরে, সুষুম্না নাড়িতে,  পরম শিবের অধিষ্ঠান !

সুষুম্না নাড়িতে, বিশেষত কুণ্ডলিনীতে, কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগরিত করে ও ষটচক্রভেদ করে,  যোগী,   সহস্রারস্থ শিবের সঙ্গে মিলিত হন,  ও, সহস্রারক্ষরিত অমৃতধারা, পান করেন, এবং অনির্বচনীয় পরমানন্দ লাভ করেন !

এখন আমাদের যেমন চাচক্র, তন্ত্রে সেই রকম, ভৈরবচক্র, ভৈরবীচক্র !

ভৈরবীচক্র।
যে চক্রের মধ্যে, অর্থাৎ, তান্ত্রিক সাধকমণ্ডলীর মধ্যে বসে, অংশগ্রহণ করে,  পঞ্চ ম-কার সাধন করা হয় !

মানুষের মূল বৃত্তি






মানুষের মূল বৃত্তি



মানুষের মূল বৃত্তি  পঞ্চাশটি !

এগুলো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে,  দশদিকে, কুড়িটি গতিধারায় প্রবাহিত !

সেই হিসাবে, আসলে, বৃত্তি এক হাজারটি !

মানুষের শরীরের মস্তকের সহস্রার-চক্র দ্বারা, এই একহাজারটি বৃত্তি, সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে, নিয়ন্ত্রিত হয় !

নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, মানব মনের অচেতন স্তরে অবস্থিত !

এই এক সহস্র বৃত্তিমূলক অভিব্যক্তি, স্নায়বিক এবং অতিস্নায়বিক স্তরের স্মৃতির এবং অনুভূতির সঙ্গে, অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্বন্ধিত !



* সূত্র : 'শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির, "আনন্দরচনামৃত"।

ধ্যান


ধ্যান



ছান্দোগ্য উপনিষদের অষ্টম অধ্যায়ে, হৃদয়কমলে, সগুণ ব্রহ্মের ধ্যান করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে !

কঠ মুণ্ডক ইত্যাদি উপনিষদেও, আত্মধ্যানের কথা আছে !

এছাড়া, ধ্যানবিন্দু, গোপালোত্তরতাপনী প্রভৃতি উপনিষদগুলিতেও, বিশেষ ধ্যানের কথা আছে !



* তথ্যসূত্র : 'স্বামী ধ্যানানন্দের  'ধ্যান' গ্রন্থ।

অণুমন


অণুমন



অণুমন এবং স্থূল জাগতিক অস্তিত্ব এবং পরমসত্তার চিত্তধাতু সঞ্জাত, সংকর্ষণে, সম্যকভাবে সংমিশ্রিত হয়ে সৃষ্টি হয়
মানব মন !

মানব মনের দু'ইটি জগৎ ! বাহ্যিক ও অাভ্যন্তরিক !

মানব মন যখন বাহ্যিক জগতের সাথে যুক্ত হয়, তখন মনে তার একটা অভ্যন্তরীণ উৎকর্ষের উদয় হয় !

মানব মন যখন অভ্যন্তরীণ জগতের সাথে সংযুক্ত হয়, তখন ভক্তি-প্রেম-শ্রদ্ধা প্রভৃতি উদীর্ণ হয় !



* ( সংগৃহীত )।

মানস


মানস



আমাদের অস্তিত্ব ত্রিস্তরীয় !
স্থূল শরীর !
সূক্ষ্মশরীর, যার অস্তিত্বের মধ্যে পড়ে, মন-বুদ্ধি !
আর কারণগত অস্তিত্ব, আধ্যাত্মিক !

আধ্যাত্মিক প্রগতির শেষ বিন্দু, দীনবন্ধু !

তিনটি স্তরেই, যোগের মাধ্যমে যোগাযোগ হতে পারে !

আমাদের স্থূলতম অস্তিত্ব, দেহ !

জাগতিক অস্তিত্বগুলির অভ্যন্তরীণ প্রক্ষেপণ হয়ে যায়, মনের মধ্যে ! মন, সুক্ষ্ম শরীরের অংশ ! সুক্ষ্ম শরীরের অংশ হলেও, মন বিরাট ! মন স্বরাট নয়, তবে মনের স্বরাজ্য আছে, সেই স্বরাজ্যও বিরাট ! মনের পরিধিও বিরাট ! আসলে মনের বিরাট ব্যাপ্তি !
মন শুধু দিগন্ত বা পৃথিবী ছাড়িয়ে নয়, মনের ব্যাপ্তি. তার বিস্তৃতি, প্রসার, অন্ত্যরিক্ষ্ ছাড়িয়েও দূরে, বহু দূরে, মনের সাথে জ্ঞানের মিশেল হয়ে, চলে যায় ! চলে যায় !

( সংগৃহীত )।