বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮

কাজি নজরুল


             কাজি নজরুল


Pranab Kumar Kundu আরে নজরুল তো হিন্দুর মেয়ে বিয়ে করেছিলেন ! নজরুলের সন্তানেরা সব মুসলিম হয়েছিলেন ! নজরুল 'কাজি' ছিলেন ! তাঁর ছেলেরাও, নামের আগে কাজি শব্দটি ব্যবহার করতেন ! নজরুলের স্ত্রীকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিন কিনা, আমি বলতে পারব না ! / কাজি মুসলমান বিচারক বা ব্যবস্থাপক ! ওটি মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল ! নজরুল ভারতের নাগরিক ( পশ্চিমবঙ্গের ) ছিলেন। নজরুলের মৃত্যুর আগে, নজরুল, বাংলাদেশে ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার, নজরুলের মরদেহ ভারতে ( পশ্চিমবঙ্গে ) ফেরত পাঠায় নি ! জোর করে বাংলাদেশে আটকে রেখেছিল ! ভারত সরকার মিলিটারি পাঠিয়ে, নজরুলের মরদেহ ভারতে নিয়ে আসতে পারত ! কিন্তু তৎকালীন ভারত সরকার তা করেন নি ! আমার মনে হয়, তাতে ভারত সরকারের সম্ভ্রম নষ্ট হয়ে ছিল ! সেটা ভারতের সার্বভৌম কর্তৃত্বের পরিপন্থী ছিল !, ভারতের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল !

ব্রহ্মগুপ্ত







Facebook     29/4/2018



ব্রহ্মগুপ্ত

শেয়ার করেছেন            Pranab Kumar Kundu.


Facebook © 2018


Bijan Banerjee

মাধ‍্যাকর্ষণ শক্তির কথা ভারতের জ‍্যোতির্বিজ্ঞানি ও গণিতবিদ হাজার বছর আগেই বলে গেছেন।

মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের প্রায় এক হাজার বছর আগে ভারতের রাজস্থানের ভিনমাল নামের এক গ্রামে বসে দ্রাবিড় বংশদ্ভুদ এক গণিতবিদ বলেছিলেন, সকল বস্তুই ভূমিতে পতিত হয় কারন এই গ্রহের বৈশিষ্ঠ্যই এই যে সকল ভারী বস্তুসমুহকে ইহা কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। কি অসম্ভব কথা ! এই অসামান্য গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নাম ছিল ব্রহ্মগুপ্ত। জন্ম ৫৯৮ সালে রাজস্থানের ভিনমাল গ্রামে। ব্রহ্মগুপ্ত হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে আদি ভারতের উজ্জ্বয়িনী নামের এক জায়গায় স্থাপিত এক মানমন্দিরের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই সময়েই তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে লিখে ফেলেন তার চারটি গ্রন্থ যাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল "ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত" বা "Correctly Established Doctrine of Brahma"(রচনাকাল আনুমানিক ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দ)। আল-বিরুণী তার রচিত বই তারিক আল-হিন্দ’এ উল্লেখ করেছেন যে আরব দুনিয়া ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হয় “ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তের” মাধ্যমে। আনুমানিক ৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে কঙ্ক নামে উজ্জ্বয়িনীর এক পণ্ডিত বাগদাদে খালিফা আল-মনসুরের দরবারে "ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত" নিয়ে যান। খালিফার অনুরোধে আল-ফাজারি কঙ্কের সাহায্যে তর্জমা করে আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন বইটিকে এবং নাম দেন “জিজ আল সিন্ধিন্দ” (সিন্ধিন্দ = সিদ্ধান্ত)। পরে আল-খোয়ারিজমি যখন তার “আল-কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জাবর ওয়া আল-মুকাবালা” লিখেন, তখন এই বইটিকেই (জিজ আল সিন্ধিন্দ) ব্যবহার করেছিলেন। হ্যাঁ, ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্তেই উল্লেখ করা হলো শূণ্য নামের এক ধারণা। প্রথম স্বীকৃতি দেয়া হলো শূণ্যকে একটি সংখ্যা হিসেবে। ব্যবিলনিয়ানরা যেই শূণ্যকে শুধুই দেখত অন্য সংখ্যার বিকল্প হিসেবে অথবা রোমানরা যেই শূণ্যকে দেখত কোনো পরিমাপের ঘাটতি বোঝাতে। ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত’র ১৮তম অধ্যায়ে ব্রহ্মগুপ্ত বলছেন, ১৮.৩০ দুটি ধণাত্নক সংখ্যার সমষ্টি ধণাত্নক, দুটি ঋণাত্নক সংখ্যার সমষ্টি ঋণাত্নক; একটি ধণাত্নক ও একটি ঋণাত্নক সংখ্যার সমষ্টি সংখ্যাদুটির বিয়োগফল; যদি সংখ্যাদুটি একই হয় তখন সেটা হবে শূণ্য। ঋণাত্নক সংখ্যা এবং শূণ্যের সমষ্টি ঋণাত্নক এবং ধণাত্নক সংখ্যা এবং শূণ্যের সমষ্টি ধণাত্নক; এবং দুটি শূণ্যের সমষ্টি শূণ্য। এইরকম আরও কথা ! বীজগণিতে ব্রহ্মগুপ্ত সমাধান করেছেন linear equation, quadratic equation’এর দুটি সমমূল্যের সমাধান, পথ দেখিয়েছেন indeterminate equation সমাধানের। চতুর্ভুজের ক্ষেত্রফল, অ্যারিথমাটিক সিরিজ এবং কিছু বিশেষ ধরণের ডায়োফ্যান্টাইন সমীকরণের সমাধানও তিনি করেছেন। পাই (π) এর গুরুত্বপূর্ণ মানের অনেক কাছাকাছি গিয়েছেন। প্রচুর কাজ করেছেন জ্যামিতিক আকার-আকৃতি নিয়ে। ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে পাটি-গণিতা (“mathematics of procedures,” or algorithms) এবং বীজা-গণিতা (“mathematics of seeds,” or equations) এর ভিত্তি তো তার হাত ধরেই। । তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রার নির্ণেয় ও অনির্ণেয় সমীকরণ সমাধানের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। বৃত্তস্থ চতুর্ভূজের নানা ধর্ম সম্বন্ধে তিনি যেসব প্রতিজ্ঞা আবিষ্কার করেছিলেন তা তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ফ্রাস্টামের আয়তন নির্ণয়ের পদ্ধতি শেখানো হয়। পিরামিডের ফ্রাস্টামের আয়তন নির্ণয়ে যে সূত্রটি ব্রহ্মগুপ্ত আবিষ্কার করেছিলেন সেটা হল,

v = 1/3 h (S21 + S22 + S1S2), যেখানে

S1 , S2 = ফ্রাস্টামের বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য এবং h = উচ্চতা। পাটীগণিত ও বীজগণিতেও ব্রহ্মগুপ্ত তাঁর পান্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বীজগণিতের নাম দিয়েছিলেন ‘কুট্টক গণিত’ সংক্ষেপে ‘কুট্টক’। ‘বীজগণিত’ নামটা অবশ্য প্রথম ব্যবহার করেছিলেন পৃথূদকস্বামী (৮৬০ খ্রিস্টাব্দে)।

ব্রহ্মগুপ্ত ‘শূন্য’ কে সংখ্যা হিসেবে গণ্য করতেন। 0 – এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন a – a = 0, আর 0 – এর ধর্ম হিসাবে তিনি বলেন, 0 + 0 = 0, 0 – 0 = 0, a x 0 = 0 এবং 0/0 = 0 । যদিও তাঁর শেষ সিদ্ধান্তটি (0/0 = 0) ভুল ছিল।

জ্যামিতিতে ব্রহ্মগুপ্তের শ্রেষ্ঠ অবদান বৃত্তস্থ চতুর্ভুজের কর্ণের দৈর্ঘ্য নির্ণয়। এই দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে গিয়ে তিনি চতুর্ভূজের বাহু সমূহের দৈর্ঘ্যের যে সম্পর্ক নির্ণয় করেছিলেন তা হল :

বৃত্তস্থ চতুর্ভূজের বাহু চারটি যদি a, b, c, d হয় এবং কর্ণদ্বয়ের দৈর্ঘ্য m ও n হলে, ব্রহ্মগুপ্ত সূত্র অনুযায়ী আমরা পাব,

m2 = (ab+cd) (ac+bd)/ (ad+bc)

এবং n2 = (ac+bd) (ad+bc)/ (ab+cd)

বৃত্তস্থ চতুর্ভূজের ক্ষেত্রফল নির্ণয়েও তিনি একটি সূত্র দেন :

a, b, c, d বৃত্তস্থ চতুর্ভূজের বাহু এবং 2S চতুর্ভূজটির পরিসীমা অর্থাৎ,

(2S = a+b+c+d) হলে, চতুর্ভূজটির ক্ষেত্রফল

= √(S-a) (S-b) (S-c) (S-d) বর্গ একক।

শেষ বয়সে ব্রহ্মগুপ্ত আরও একখানি বই লেখেন। বইটির নাম খন্ডখাদ্যক। এছাড়াও একখানি বইয়ের কথা জানা যায়, নাম বিল্লমালাচার্য।৬৬৫ সালে এই মহান গনিতবিদ ব্রহ্মগুপ্ত পরোলোক গমন করেন।

পাণিনি


      পাণিনি


      শেয়ার করেছেন          প্রণব কুমার কুণ্ডু !


#বেদের ভাষা থেকে পানশালার হাঁকডাকও আছে তাঁর ব্যাকরণে
তিনি পাকিস্তানের তক্ষশীলার বাসিন্দা। কোন সময়ের লোক, তা নিয়ে মতভেদ প্রবল। কিন্তু তাঁর হাত থেকেই জন্ম নিল সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণ। পাণিনি সংস্কার করেছিলেন বলেই তো এ ভাষা সংস্কৃত!
দেশ সলাতুর। নাম পাণিনি। মা দাক্ষী। বাবার অথবা গোত্রের নাম পাণিন। এর বেশি কিছু জানা যায় না সারা পৃথিবীর সর্বকালের অত্যাশ্চর্য ব্যাকরণের রচয়িতা পাণিনির সম্পর্কে, আমেরিকার গঠনতাত্ত্বিক ভাষাতত্ত্বের জনক লিওনার্দ ব্লুমফিল্ডের মতে যিনি ‘মনুমেন্ট অব হিউম্যান ইনটেলিজেন্স’, এবং যাঁর ভাষাদর্শনে গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন আধুনিক গঠনতাত্ত্বিক ভাষাতত্ত্ব আর সেমিয়োটিক্স–এর পথিকৃৎ ফার্দিনান্দ দ্য সাস্যুর ।
কে এই পাণিনি আর কেমন-ই বা তাঁর সেই ‘অত্যাশ্চর্য’ ব্যাকরণ, যা নিয়ে এত মাতামাতি এই একবিংশতি শতকেও? এ বিষয়ে আলোচনা একটু গোড়া থেকে শুরু করা ভালো।
প্রাচীন ভারতের প্রায় সমস্ত শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যের রচনাকাল নিয়েই বিতর্কের যেমন শেষ নেই, পাণিনির ‘অষ্টাধ্যায়ী’ও তার ব্যতিক্রম নয়। খ্রিস্টজন্মের মোটামুটি চারশো বছর আগে পাণিনির জন্ম হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এ-মতের বিপক্ষেও অবশ্য কিছু কম যুক্তি নেই, আর সেগুলির মধ্যে কয়েকটি আবার নেহাত ফেলনাও নয়, সেগুলি গ্রহণ করলে আরও পিছিয়ে যাবে পাণিনির কাল।
বেদের যুগের শেষ স্তরে পাণিনির আবির্ভাব; তাঁর অন্তত দেড় হাজার বছর আগে থেকে যে বৈদিক সাহিত্য সঙ্কলিত হতে শুরু করে, তার ভাষা পাণিনির সময়ে আমজনতার কাছে ক্রমশ অতিপ্রাচীন এবং দুর্বোধ্য হয়ে উঠতে থাকে— যেমনটা হাজার বছরের পুরনো চর্যাপদের ভাষা আধুনিক বাংলাভাষীর কাছে হয়েছে। বেদের ভাষার ব্যাপারটা অবশ্য অনেক গুরুতর ছিল কারণ সুবিপুল বৈদিক সাহিত্য ছিল সম্পূর্ণই শ্রুতিনির্ভর, অর্থাৎ শুধুমাত্র শুনে শুনে তা মনে রাখতে হত। বৈদিক সাহিত্য হল আর্যসংস্কৃতির ভিত্তিস্তম্ভ, তাই তাকে অতি যত্নে রক্ষা করাটা ধর্ম বলে মনে করা হত। কোনও ভাবে বেদের একটুও বিকৃতি ঘটতে দেওয়া যাবে না, তার একটি বর্ণ, মাত্রা বা অক্ষরও হারিয়ে গেলে চলবে না। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে জন্ম নিল বেদাঙ্গ সাহিত্য। বৈদিক সাহিত্য যে কত বিশাল, তা এটুকু বললেই পরিষ্কার হবে যে চার বেদের মধ্যে শুধু ঋগ্বেদ-সংহিতার মন্ত্রসংখ্যাই হল প্রায় সাড়ে দশ হাজার, এর পরে আছে তার ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ, সবই আবার একাধিক শাখায়। এ হেন বেদকে সম্পূর্ণ অলিখিত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে হলে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পূর্ণ বিকাশ আমরা বেদাঙ্গগুলির মধ্যে দেখি। অঙ্গ বা অবয়ব যেমন অঙ্গী বা প্রাণধারীকে বাঁচিয়ে রাখে আর রক্ষা করে, সে রকম এই বেদাঙ্গগুলিও বেদের রক্ষাকবচের কাজ করেছে।
ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়, শিক্ষা, কল্প, নিরুক্ত, ছন্দ, ব্যাকরণ আর জ্যোতিষ— এই ছয়টি বেদাঙ্গ কী অসাধারণ কৌশলে ধরে রেখেছে বেদের ত্রিমূর্তি— শব্দ, অর্থ, উচ্চারণ। এ ছাড়াও, বেদের প্রধান উপযোগ যে যজ্ঞকর্মে, তাকেও পুঙ্খানুপুঙ্খ ধরে রেখেছে কল্প নামে বেদাঙ্গটি। বেদের মতো বেদাঙ্গগুলিও কিন্তু লিখিত হত না, তাদেরকেও ধারণ করতে হত স্মৃতিতেই। বিশালাকৃতির বেদ মুখস্থ করার পর বেদাঙ্গগুলির জন্য মস্তিষ্কে আর বেশি স্থান রাখা মুশকিল, বোধহয় এই রকম একটা ধারণা থেকেই বেদাঙ্গগুলিকে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে রচনা করার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছিল; যার ফলে গদ্য ও পদ্য, সাহিত্যরচনার এই দুই প্রচলিত মাধ্যমের অতিরিক্ত এক নতুন ধারার উদ্ভব ঘটে— যার নাম সূত্রসাহিত্য।
সব বেদাঙ্গসূত্রের মধ্যে সেরা সূত্র হল পাণিনির ব্যাকরণ ‘অষ্টাধ্যায়ীসূত্র’। কত বড় বই এই অষ্টাধ্যায়ী তা দেখা যাক: এর আটটি অধ্যায়ে চারটি করে পরিচ্ছেদ বা পাদ, প্রতি পাদে রয়েছে শতাধিক সূত্র, এ ভাবে সব মিলিয়ে মোট ৩৯৯৫টি সূত্র। পর পর লিখলে একটা এক ফর্মার লিটল ম্যাগাজিনে ধরে যাবে গোটা অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণ! কিন্তু সে বই আজও বিশ্বের পণ্ডিতদের বিস্ময়। এতে রয়েছে বেদের সেই প্রাচীন ভাষার ব্যাকরণ, অর্থাৎ সে ভাষার শব্দগুলির বিভিন্ন ধ্বনির উচ্চারণ, সন্ধির ফলে তাদের নানান বিকার ও পরিবর্তন (ধ্বনিতত্ত্ব), শব্দের গঠনপদ্ধতি-বিশ্লেষণ (রূপতত্ত্ব), যার মধ্যে আছে শব্দরূপ, ধাতুরূপ, প্রত্যয়, সমাস প্রভৃতির আলোচনা, এবং বাক্যে পদগুলির পরস্পরের মধ্যে সম্বন্ধ নির্ণয়, যাকে আমরা ‘কারক’ বলে জানি— ইত্যাদি বিষয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
মজার কথা এই যে, পাণিনির ব্যাকরণ বেদের অঙ্গ হলেও সেটি কিন্তু তাঁর সময়ে প্রচলিত লৌকিক ভাষারও ব্যাকরণ। এক কথায়, পাণিনি একই সঙ্গে দুটি ভাষার জন্যে ব্যাকরণ রচনা করেছেন, তারা হল যথাক্রমে ‘ছন্দস্‌’ অর্থাৎ বৈদিক সংস্কৃত এবং ‘ভাষা’, যেটি ছিল তাঁর সময়ে প্রচলিত লোকব্যবহারের ভাষা অর্থাৎ লৌকিক সংস্কৃত। প্রাচীন ভারতের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি, আইন-কানুন, মামলা-মোকদ্দমা, ধর্ম-কর্ম ইত্যাদি সব কিছুর প্রধান মাধ্যম ছিল এই সংস্কৃত। অবশ্য ভাষা হিসেবে সংস্কৃত নামটির প্রচলন হয় পাণিনির অনেক পরে। প্রাচীন স্তরে বৈদিক ও পরবর্তীতে লৌকিক বলে পরিচিত এই ভাষার ব্যাকরণ পাণিনি এমন নির্দিষ্ট করে বেঁধে দিয়েছিলেন যে প্রায় আড়াই হাজার বছরেও সে ভাষার মৌলিক কোনও পরিবর্তন হয়নি।
পাণিনি এক আশ্চর্য কৌশলে গেঁথেছেন সূত্রগুলিকে, যার ফলে সব চেয়ে কম শব্দে বোঝানো গিয়েছে ভাষা-বিষয়ক সর্বাধিক নিয়ম, এই কৌশলে প্রধান হাতিয়ার তাঁর এক বিশেষ সাংকেতিক ভাষা, আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিকরা যাকে বলছেন পাণিনির অধিভাষা বা মেটাল্যাংগোয়েজ। যেমন ধরুন একটি সূত্রে ব্যবহৃত একটি শব্দ পর পর বেশ কয়েকটি সূত্রেই প্রয়োগ করতে হবে, কিন্তু প্রতি বার তার পুনরাবৃত্তি না করে ধরে নেওয়া হয় যে সেটি আগের সূত্রটি থেকেই পরের সূত্রগুলিতে চলে আসছে, এ ব্যবস্থার নাম হল অনুবৃত্তি। পাণিনির ব্যাকরণ দাঁড়িয়ে আছে বর্ণবোধক চোদ্দোটি প্রত্যাহার সূত্রের ওপরে, যেগুলি ‘শিবসূত্র’ নামে প্রসিদ্ধ। এগুলি পাণিনির নিজের রচনা বলেই অনুমান, যদিও প্রাচীন কিংবদন্তি বলে যে এগুলির উৎপত্তি নাকি শিবের ঢক্কানিনাদ থেকে। এগুলি আসলে সংস্কৃতের যাবতীয় স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনি, এমন সুকৌশলে সাজানো যে বীজগণিতের (a+b)2 ফর্মুলার মতো অতি সংক্ষেপে জুগিয়ে দেয় অনেক বড় তথ্য। যেমন, ‘অচ্‌’ বললে বোঝায় যাবতীয় স্বরবর্ণকে, ‘হল্‌’ হল সমস্ত ব্যঞ্জন, আর ‘অল্‌’ মানে সব স্বর ও ব্যঞ্জন বর্ণ একত্রে। এই অধিভাষার জোরে ‘ইকো যণচি’— এইটুকু পাণিনিসূত্রের মানে দাঁড়ায় “ই, উ, ঋ, ৯ – এই চারটি বর্ণের পরে যদি এরা নিজেরা ছাড়া অন্য কোনও স্বরবর্ণ থাকে তবে তারা যথাক্রমে য্‌, ব্‌, র্‌, ল্‌ হয়ে যায়”; এরই ফল হিসেবে আমরা পাই অতি+অন্ত = অত্যন্ত, ইতি+আদি = ইত্যাদি জাতীয় সন্ধি।
আজকের যুগের ভাষাতাত্ত্বিকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে পাণিনির ব্যাকরণের নির্মাণকৌশল। দেখা গিয়েছে কম্পিউটার যে-কোনও ভাষা শেখার জন্যেই সব থেকে বেশি গ্রহণীয় মনে করছে পাণিনির কৌশলকে, তাঁর ভাষা-বিশ্লেষণের পদ্ধতিকে। প্রাচীন ভারতে পাণিনির ব্যাকরণ ভাষাচর্চার একটা ধারা তৈরি করেছিল, যার ফলে পরবর্তী কালে তৃতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দে কাত্যায়ন পাণিনির ‘অষ্টাধ্যায়ী’ ব্যাকরণকে আরও সম্পূর্ণতা দিতে রচনা করলেন ‘বার্ত্তিক’, এবং তাঁরও প্রায় দেড়শো বছর পরে পতঞ্জলি লিখলেন ‘মহাভাষ্য’। এই তিন বৈয়াকরণের গ্রন্থ সম্মিলিতভাবে ‘ত্রিমুনি ব্যাকরণ’ নামে পরিচিত।
তক্ষশিলার অধিবাসী ছিলেন পাণিনি, এমনটাই প্রচলিত মত। আর কে না জানে, অধুনা পাকিস্তানের সেই জায়গাটিতে ছিল প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। সপ্তম শতকে ঝুয়ান ঝাং তাঁর বিবরণে উল্লেখ করেছেন, তিনি নাকি লাহুরে (লাহৌর) পাণিনির মূর্তি দেখেছেন। আশ্চর্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা পাণিনির, তাঁর কান এড়িয়ে যায়নি হাটে আসা মানুষদের কথা, পানশালার খদ্দেরদের হাঁক অথবা বিপাশা নদীর উত্তরের আর দক্ষিণের বুলির মধ্যে আঞ্চলিক টানের তফাত। পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীতে তাই তখনকার ভাষাই শুধু নয়, ধরা পড়েছে সেই যুগের সমাজ, সাধারণ মানুষ আর তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ছবিও।
শেষ কালে বলতে চাই সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘বৈয়াকরণ’ নামে একটি অসাধারণ গল্পের কথা, যেখানে একটি মেয়ে-স্কুলের সংস্কৃতের বৈয়াকরণ পণ্ডিত এক বৃদ্ধ মৈথিলি ব্রাহ্মণ গভীর আত্মসংকটে পড়ে তাঁর আজীবনের সঙ্গী পাণিনির ব্যাকরণ দিয়েই করেন নিজের মনঃসমীক্ষণ, এবং শিউরে ওঠেন সদাচারের আড়ালে ঢাকা নিজের কামাতুর পুরুষমুখটি দেখে। পাণিনির ব্যাকরণের এমন প্রয়োগ কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল?
#collected*


রবিবার, ২০ মে, ২০১৮







Pranab Kumar Kundu একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন৷
বিশ্বজিৎ রায় MINUSTAH Log Base, Port au Prince - Haiti রয়েছেন।

 মহাভারতের বর্ণনায় আছে ।
আবার বৈদিক শাস্ত্র ঘাটলে দেখা যাবে আমাদের
খাদ্য কিন্তু নিরামিষ । কোন মাছ ও মাংস নয় । তা
আমরা বেদেও দেখি সেখানেও মাছ ও মাংস
খাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

" পাষণ্ড তারা যারা প্রাণী-মাংসভোজন করে।
তারা যেন প্রকারান্তরে বিষপান করে। ইশ্বর তাদের
যেন উপযুক্ত শাস্তি প্রদানকরেন।" (ঋগ্বেদ
১০.৮৭.১৬-১৯)

"মানুষ তখনই কলুষিত হয়, যখন সে মাংস ভক্ষণ,
সুরাপান ও জুয়া খেলায় লিপ্ত হয়।" (অথর্ববেদ ১.৬০.৭)

তাছাড়া অন্যান্য শাস্ত্রেও মাছ ও মাংসকে
নিষিদ্ধ করেছে ।
এখন কথা হচ্ছে আমরা যদি আর্য
হয়ে থাকি, আমাদের কোন বর্ণে যদি মাছ মাংস
খাওয়া নিষেধ থাকে, তাহলে এই মাছ ও মাংস
খাওয়া প্রচলন কোথা থেকে শুরু হয়?

এজন্যে আমাদের ইতিহাস ঘাটতে হবে ।

আসলে আমাদের যে চারটি বর্ণ ছিল,  ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য ও শূদ্র,  তারা কেউ আগে এই মাছ ও মাংস খেত
না । আর তাঁর স্বীকৃতি বেদেও দেওয়া আছে । কিন্তু
দ্বাপরে শেষে কৃষ্ণ যখন এই ধরাধাম থেকে চলে যায়
তখন থেকেই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হয় । এই বর্ণসঙ্করের
কথা গীতায় অর্জুন কৃষ্ণকে বলেছিলেন ।

এই বর্ণসঙ্কর কি?
গীতায় ৪/১৩ নং শ্লোকে বলেছে গুণ ও কর্ম অনুসারে
চারটি বর্ণ আর চারটি আশ্রম আছে । এই চারটি
আশ্রম হচ্ছে ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাসী
আর চারটি বর্ন হচ্ছে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র

 শাস্ত্রের নিয়মানুসারে ব্রাহ্মনের সাথে
ব্রাহ্মনের বিয়ে হবে, ক্ষত্রিয়ের সাথে ক্ষত্রিয়,
বৈশ্যের সাথে বৈশ্য আর শূদ্রের সাথে শূদ্র ।

তবে ব্রাহ্মণের অনুমতি সাপক্ষে,  ক্ষত্রিয়ের সাথে
ব্রাহ্মণের বা ব্রাহ্মণের সাথে ক্ষত্রিয়ের মিলন
হতে পারে ।

কিন্তু যখন শুদ্রের সাথে অন্যান্য বর্ণের
মিলন হবে বা বৈশ্যের সাথে অন্যান্য বর্ণের মিলন
হবে তখনই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হবে ।

আর তখনই এই বৈদিক সমাজের অধপতন শুরু হবে। 

এই বর্ণসঙ্করের কারণে যে সন্তান উৎপাদন হবে 
তা ব্যাভিচারের কারণ হয়ে দাঁড়াবে । 
আর সেটা আমরা দেখি
কলিযুগের শুরুতেই বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হয়েছে । তবে
যে কলিযুগ থেকে শুরু হয়েছে তা নয় সেটা দ্বাপরের
শেষে থেকে শুরু হয়েছে কিন্তু তখন সেটা খুবই কম
ছিল ।

এখন আমরা দেখব এই বর্ণসঙ্করের ফলে কোন কোন
জাতি সৃষ্টি হয়েছে আর তাদের নাম কি ছিল ।

শূদ্র + ব্রাহ্মণ = চণ্ডালের জন্ম হয়।
শূদ্র + ক্ষত্রিয় = নিষাদের জন্ম হয়।
শূদ্র + বৈশ্য = সূত্রধরের জন্ম হয়।

বৈশ্য + ব্রাহ্মণ = বৈদেহকের জন্ম হয়।

আবার এই চণ্ডাল, নিষাদ, সূত্রধর ও বৈদেহকের সাথে
আবার মিলনের ফলে অনেক নিম্নমানের জাতির
সৃষ্টি হয় ।
যেমন –
বৈশ্য + ক্ষত্রিয় = সৈরন্ধ্র (মগধ দেশীয়)
সূত্রধর + সৈরন্ধ্র = আয়োগব (এরা ফাঁদ পেতে পশুপাখি শিকার করে)
বৈদেহক + সৈরন্ধ্র = মৈরেয়ক (এরা মাংস ভক্ষণ ও মদ্যপান করে)
নিষাদ + সৈরন্ধ্র = মদ্গুর (এরা নৌকা চালিয়ে মাছ ধরে)
চণ্ডাল + সৈরন্ধ্র = শ্বপাক (এরা কুকুরের মাংস খায়)
আয়োগব + সৈরন্ধ্র = কর্মকার (এরা মাংস বিক্রি করে)
মৈরেয়ক + সৈরন্ধ্র = স্বাদুকর
মদ্গুর + সৈরন্ধ্রী = ক্ষৌদ্র (এরা মাংস রান্না করে)
শ্বপাক + সৈরন্ধ্র = সৌগন্ধ
বৈদেহক + আয়োগবী = মায়াজীবী (এরা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ক্রুর স্বভাব, কাঁচা মাংস রক্ত খায়)
নিষাদ + আয়োগবী = মদ্রনাভ
চণ্ডাল + আয়োগবী = পুক্কশ (পশুদের খাটায়, পশুমাংস ভক্ষণ করে)
বৈদেহক + নিষাদ = চৌক্ষুদ্র
কর্মকার + নিষাদ = কারাবর
চণ্ডাল + বৈদেহী = সৌপাক
নিষাদ + বৈদেহী = আহিতুণ্ডিক (এরা বন্য পশু হত্যা করে তাদের মাংস খায়)
সৌপাক + নিষাদ = অন্তেবসায়ী (এরা এমন নিম্নজাতি যে, চণ্ডালেরাও এদের পরিত্যাগ করে।)

এভাবে চণ্ডাল ও নিষাদ শ্রেণী থেকে অসংখ্য
বর্ণসঙ্করের সৃষ্টি হলো।
এদের থেকেই মাছ ও মাংস খাওয়া প্রচলন শুরু হলো। 
এবং অবৈদিক সমস্ত কার্যাকলাপগুলো শুরু হলো ।

আমরা মনে করি শূদ্ররা হলো নিচু জাতি কিন্তু
শূদ্রেদের থেকেও নিচু জাতি আছে তাদের কথা
শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা করা হয়েছে –
ভাগবতের ২/৪/১৮ নং শ্লোকে এই নিম্ন জাতির কথা
তুলে ধরেছে –
কিরাত – এই জাতিরা ভারতে থাকে । আধুনিক বিহার ও ছোটনাগপুরের সাঁওতাল পরগনায় ।
হূণ – জার্মানি এবং রাশিয়ার অধিবাসীদের হূন বলা হয় ।
আন্ধ্র – দক্ষিণ ভারতের একটি প্রদেশের অধিবাসী
পুলিন্দ – গ্রীকদের পুলিন্দ বলা হয়। আর তারাই মাছ খাওয়া শেখায়,  তাই তাদের ম্লেচ্ছ বলা হয়।
আভীর – এটা সিন্ধু প্রদেশের অপর প্রান্তে, এই জাতি বর্তমান বিশ্বে মধ্য প্রদেশ, বিশেষ করে আরবের দেশগুলোতে । তারাও পুরো বিশ্বকে মাছ খাওয়া শেখায় । তাই তাদেরকেও ম্লেচ্ছ বলা হয় ।

শুম্ভ বা কঙ্ক – প্রাচীন ভারতের একটি প্রদেশের অধিবাসী ।
যবন – বর্তমান তুরুস্কের অধিবাসীদের যবন বলা হয়। তারা মাছ ও মাংস খাওয়া দুটোই শেখায় ।
খস – এই জাতির মানুষদের গোঁফের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যেমন, তারা হচ্ছে চীন, মঙ্গোলীয়া, কোরিয়া, জাপান আরো অনেক দেশের ।

উপরোক্ত যে সমস্ত জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং তারা সমস্ত অবৈদিক পন্থায় চলত। তারা তাদের প্রচলিত কিছু ধর্ম, মত পথকে বিশ্বাস করে ।
আর তাদের করুণায়,  এই মহান ভারতবর্ষে আমরাঅবৈদিক কালচার শুরু করেছি তাদের থেকে আমরা এই মাছ ও মাংস খাওয়া শিখি ।
যদিও এই মাছ ও মাংস খাওয়া হচ্ছে যক্ষ, রাক্ষস,ভূত, পিশাচ শ্রেণীর লোকের খাবার আর সেটা আমরা আমাদের প্রধান খাবার হিসেবে গ্রহন করে, ববৈদিক সংস্কৃতিকে নষ্ট করছি । শুধু তাই নয়, এরা হিন্দুদের আরো অনেক অবৈদিক জিনিস শিখিয়ে দিয়ে গেছে । 
চা খাওয়া সেটা চীনেরা শিখিয়েছে আর ব্রিটিশরা তো আছেই, প্যান্ট শার্ট
পরা, লুঙ্গি পরা ইত্যাদি। এখনতো মেয়েরা এমন সব ড্রেস পরে যা কিনা পাশ্চাত্যে দেশের নকল ।
বিভিন্ন ধরনের আরো খাবার যেমন ফাষ্টফুড, চায়নিজ খাবার ইত্যাদি । এমনকি তাদের শিখিয়ে
দেওয়া কিছু নাস্তিক থি্ওরি, কিছু নিম্নমানের দর্শন ইত্যাদি যা বলে শেষ করা যাবে না । যার কারণে আমরা বৈদিক রীতিনীতি ছেড়েছি আর যা আমাদের দুঃখ দেয় তা গ্রহণ করছি । যার ফলে আমাদের হিন্দুদের অবস্থা পুরা এলোমেলো হয়ে গেছে ।
তবে ইসকন প্রতিষ্ঠা আচার্য সেই বৈদিক সমাজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন, তাকে লণ্ডনের সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞাসা করল,
আপনি আমাদের দেশে কেন আসলেন, শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, “তোমরা ভারত শাসন করে
অনেক হীরা, সোনা, মানিক্য এবং অনেক সম্পদ নিয়ে এসেছ কিন্তু আসল জিনিসটা আনতে ভুলে গেছআর সেটাই আমি তোমাদের দিতে এসেছি আর তা হলো গীতার জ্ঞান ।”

তিনি পুরা বিশ্বের মানুষকে এই বৈদিক কালচার শিখিয়েছেন, ছেলেদের প্যান্ট সার্ট খুলিয়ে ধুতি, তিলক, গলায় তুলসীর মালা আর মেয়েদের শাড়ি পরানো, সবাইকে মাছ, মাংস ইত্যাদি নোংরা খাবারগুলো ছাড়িয়ে কিভাবে নিরামিষ খেতে হয় বা রান্না করতে হয় তা শিখিয়েছেন ।
কিভাবে পূজা করতে হয়, কিভাবে বৈদিক শাস্ত্রগুলো পড়তে হয়, সংস্কৃতি শিক্ষা, বাংলা শিক্ষা আর হিন্দি শিক্ষা তিনি শিখিয়েছেন । সমস্ত বৈদিক কালচারগুলো শিখিয়েছেন । 
আর বর্তমানে আমরা সে বর্ণসঙ্করের উৎপাদিত অবৈদিক কালচার গুলো
শিখছি,  যার কারণে,  পুরো ভারত পারমার্থিক পথের উলটো রাস্তায় হাটছে ।

৯/১০/১৯৬৬ সালে আমেরিকান সাংবাদিক প্রশ্নে
শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আমি এসেছি পুরা বিশ্বকে হিন্দুস্থানে পরিণত করতে ।

তাই সবাই একটু সূক্ষ্ম ভাবে চিন্তা করুন।।

মেনু কার্ড

     মেনু কার্ড

     শেয়ার করেছেন            প্রণব কুমার কুণ্ডু।





Prasenjit Bose এতে মলাট

আসুন দেখুন নিজেরা। কেমন আমাদের বাংলা ভাষা। নতুনত্ব কেউ খুঁজে পেলে খুশি হব।






🙏


অতিরিক্ত সংযোজন :-বেগুন ভাজা --- ভর্জিত ভন্টাকীছ্যাঁচড়া --- আরম্ভিক কুটিত ভর্জি( ফেসবুক ) ।

সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

পার্বতী সীতা আর রাধা ( গদ্য রচনা )







পার্বতী সীতা আর রাধা ( গদ্য রচনা )





প্রজাপতি দক্ষের, ষাট কন্যার, এক কন্যা স্বধা !



স্বধার বিবাহ হয়েছিল, পিতৃগণের সাথে !



তাঁদের তিন কন্যা !



মেনকা, ধন্যা ও কলাবতী !



বড় বোন মেনকা ! মেজো বোন ধন্যা ! ছোট বোন কলাবতী !



এঁরা সকলেই যোগিনী ! যোগসাধনকারিণী !



মেনকার পতি হিমালয় গিরি ! কন্যা পার্বতী !



ধন্যার পতি বিদেহরাজ জনক ! কন্যা সীতা !



কলাবতীর পতি বৃষভানু বৈশ্য ! কন্যা রাধা !



পার্বতীর স্বামী শিব !

সীতার স্বামী শ্রীরামচন্দ্র !



রাধা গুপ্ত এবং দিব্যপ্রেমে শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা !



পার্বতী, সীতা আর রাধা, এঁরা পরস্পর পরস্পরের, মাসতুতো বোন !



শিব, শ্রীরামচন্দ্র, এঁরা, একে অন্যের শ্যালীপতি ভায়রাভাই !



শ্রীকৃষ্ণ, ভায়রাসম !



তবে রাধার সাথে, শ্রীকৃষ্ণের, আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়নি, কক্ষনো !







* সূত্র : 'সংক্ষিপ্ত শিবপুরাণ', গীতা প্রেস, পৃষ্ঠা ১৬৩ !




বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

অশোকস্তম্ভ





অশোকস্তম্ভ



অশোকস্তম্ভ, সম্রাট অশোক কর্তৃক নির্মিত প্রস্তরস্তম্ভ !

অশোকস্তম্ভের শীর্ষে রয়েছে তিনটি সিংহমূর্তি !

তিনটি সিংহমূর্তির মাঝখানে রয়েছে তিনটি চক্র !

স্তম্ভটি স্বাধীন ভারতের সরকারি প্রতীক চিহ্ন !

অশোকচক্র, স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকায়, স্থান পেয়েছে !

অনেকে বলেন, তাতে,  ভারতের জাতীয় পতাকার,  সৌন্দর্য বেড়েছে !

সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের তৃতীয় রাজা !


স্বাধীন ভারতের, সরকারি প্রতীক চিহ্ন, এবং, স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকায় স্থান পাওয়া,  দুইটি বিষয়ই,  সম্রাট অশোক এবং বুদ্ধদেব পেয়েছেন !

ভারতে এখনও, বৌদ্ধধর্মের জয়জয়কার !
বৌদ্ধধর্মের জয়জয়ন্তী !

হিন্দুরা, এখন কেবল, লবডঙ্কা চুষছেন !

ভারত স্বাধীন হ্ওয়ার সময়, যাঁরা ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে ছিলেন, তাঁরা, হিন্দুদের ঠকিয়েছেন !