বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬

শ্রীমদ্ভাগবত ( এক )


শ্রীমদ্ভাগবত


শ্রীমদ্ভাগবতে


সর্গ
বিসর্গ
স্থান
পোষণ
কর্মবাসনা
মন্বন্তর
ঈশানুকথা
নিরোধ
মুক্তি
এবং আশ্রয়
এই দশটি বিষয়
লক্ষিত হয়।
আশ্রয়। অর্থাৎ ঈশ্বরে আশ্রয়। ঈশ্বরের কোলে অাশ্রয়। আশ্রয়। শ্রীকৃষ্ণে আশ্রয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণে আশ্রয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কোলে আশ্রয় !


দশম বিষয়
আশ্রয়-এর তত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য
বিশিষ্ট পুরাণকারেরা
অন্য নয়টি বিষয়ের বিষয়কে
কোথাও শ্রুতির প্রমাণের সাহায্যে
কোথাও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে  বৃত্তির সাহায্যে
বা কোথাও
সাক্ষাৎ রূপে
বর্ণনা করেছেন।

* সূত্র : 'শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত', পৃষ্ঠা ৩২। গীতা প্রেস।
* * আকর গ্রন্থ, শ্রীমদ্ভাগবত-মহাপুরাণ, গীতা প্রেস।

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬

কালী উপাসনা / স্বামী বিবেকানন্দের চিঠিতে

স্বামী বিবেকানন্দের চিঠিতে 'কালী উপাসনা'।  কালী উপাসনা-র তথ্যটি পেয়েছি, মিস মেরি হেলকে লেখা স্বামিজির একটি চিঠিতে। চিঠিটি বিবেকানন্দ লিখেছিলেন  ১৭ই জুন, ১৯০০ সালে। আমেরিকার লস এঞ্জেলেস্ থেকে। তখন লস এঞ্জেলেসে স্বামিজির ঠিকানা ছিল, 1921 W 21 Street. 

 বিবেকানন্দের 'কালী উপাসনা' সম্বন্ধে বিবেকানন্দের সেই চিঠিটির অংশবিশেষ আমি উদ্ধৃতি আকারে তুলে দিচ্ছি ! দেখুন, 'কালী উপাসনা' সম্বন্ধে, তিনি কি লিখেছিলেন !

" কালী উপাসনা ধর্মের কোন অপরিহার্য সোপান নয়। "
" ধর্মের যাবতীয় তত্ত্বই উপনিষদ থেকে পাওয়া যায়। "
" কালী-উপাসনা আমার বিশেষ খেয়াল; .. ."
" আমাকে এর প্রচার করতে তুমি কোনদিন শোননি,.. ."
" বা ভারতেও তা প্রচার করেছি বলে পড়োনি। "
" সকল মানবের পক্ষে যা কল্যাণকর, আমি তাই প্রচার করি। "
" যদি কোন অদ্ভুত প্রণালী থাকে, যা শুধু আমার পক্ষেই খাটে, তা আমি গোপন রেখে দিই এবং সেখানেই তার ইতি। "
" কালী-উপাসনা কি বস্তু, সে তোমার কাছে কোনমতেই ব্যাখ্যা ক'রব না, কারণ কখনও কারও কাছে তা করিনি। "

" ...  কালী-উপাসনা আমাকে আমার   'ঐহিক কাজে' সাহায্য করে। "


দেখুন, " কালী উপাসনা ধর্মের কোন অপরিহার্য সোপান নয়। "
" কালী উপাসনা ধর্মের কোন অপরিহার্য সোপান নয়। "
" কালী উপাসনা ধর্মের কোন অপরিহার্য সোপান নয়। "

" কালী-উপাসনা আমার বিশেষ খেয়াল, ... "
" কালী-উপাসনা আমার বিশেষ খেয়াল, ... "
" কালী-উপাসনা আমার বিশেষ খেয়াল, ... "

"... কালী-উপাসনা আমাকে আমার 'ঐহিক কাজে' সাহায্য করে। "
"... কালী উপাসনা আমাকে আমার 'ঐহিক কাজে' সাহায্য করে। "
"... কালী উপাসনা আমাকে আমার 'ঐহিক কাজে' সাহায্য করে। " 

চিঠিটিতে  ঐহিক কাজের কথার উল্লেখ আছে। কিন্তু পারত্রিক কাজের কথার কোন উল্লেখ নেই !


* তথ্যসূত্র : 'স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা', উদ্বোধন, পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪।

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৬

বেলুড় মঠ

স্বামী বিবেকানন্দ ও বর্ষার বেলুড় মঠ


১৯০১ সালে, হাওড়ার  বেলুর মঠের মাঠে, বর্ষার জল দাঁড়াত।
বিবেকানন্দ নিজে, অন্যদের সাথে নিয়ে, বর্ষার জমা মাঠের জল বের করার জন্য, একটা গভীর নর্দমা কাটার কাজে খেটেছিলেন ! তখনকার বেলুড় মঠের কোন কোন জায়গায়, বৃষ্টির জল কয়েক ফুট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যেত।

তখন মঠে একটা সারস ছিল।

ছিল কতকগুলো হংসী সমেত হাঁস।

বর্ষার জল পেয়ে সারস আর হাঁসগুলোর খুব স্ফূর্তি !

মঠে একটা কৃষ্ণসার হরিণ ছিল। মঠের ব্র্‌হ্মচারিত্ব  হরিণটির ভালো লাগছিল না ! সেটা কয়েকদিনের জন্য পালিয়েছিল ! পরে সেটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।

মঠে কয়েকটি রাজহাঁস রাজহংসী ছিল।
রাজহাঁস .'হংসশ্রেষ্ঠ'। হংসগণের রাজা। তার ঠোঁটদুটো লাল। পায়ের নিচের দিকটাও লাল। লম্বা গলা। চোখদুটোও লাল। ধবধবে সাদা রঙের পালক। দেখতে দারুণ সুন্দর !
ব্রহ্মা আর সরস্বতীর বা্হন, এই সুন্দর রাজহাঁস।
একটা রাজহংসীর অসুখ করেছিল। রাজহংসীর গায়ের পালক খসে যাচ্ছিল। কারবলিক অ্যাসিড দেওয়া জলে, রাজহংসীটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজহংসীটি তাতে সেরে উঠেছিল।
তখনকার বেলুড় মঠে কয়েকটি গাইগরু ছিল। দুটো গাই বাচ্চা দিয়েছিল ! 


*  তথ্যসূত্র : সিস্টার নিবেদিতাকে লেখা, বিবেকানন্দের চিঠি। নিবেদিতাকে বিবেকানন্দ,  'কল্যানীয়া নিবেদিতা', বলে সম্বোধন করেছিলেণ। বিবেকানন্দের ঠিকানা ছিল : মঠ, বেলুড়, হাওড়া
তারিখ : ৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯০১
সংকলন পুস্তকের নাম, 'স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা', 'উদ্বোধন কার্যালয়  কলিকাতা-৩ 

আলু-পেঁয়াজ

আলুর দাম   পেঁয়াজের দাম

পেঁয়াজের দাম আলুর দামের থেকে কম ছিল !
এই বিষয়ে কাগজে কা্গজে কাগজে লেখালেখি হল।
টিভি-তে বলাবলি হল।
পেছন থেকে কে বা কারা কলকাঠি নাড়ল।
পিঁয়াজের দাম, লাফিয়ে লাফিয়ে বেশ বেড়ে গেল ! 

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৬

রূপকথার পাখি

রূপকথার পাখি। ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি। রূপকথায় অপরূপ কথায়, মানুষের মতো কথা-বলা পাখি ! স্বপ্নের অলীক পাখি !


পাখি  পাখিনী
পক্ষী  পক্ষিণী
বিহগ  বিহগী
বিহঙ্গ  বিহঙ্গী
বিহঙ্গম  বিহঙ্গমী
কাব্যে  বিহঙ্গিনি।
এরা সব নানান রঙ-এর
নানান জাতের
ছটফটে পাখি।
আকাশেতে ওড়ে।
করে সারাবেলা ডাকাডাকি।
খুঁজে ফেরে
নিজেদের আহার।
বাসা বাঁধে
নীড় গড়ে
ডিম পাড়ে
শাবক গড়ে তোলে
সেই শাবক
ওড়া শেখে
শেখা হলে
আকাশেতে ওড়ে।


ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি। রূপকথার পাখি। রূপকথায় অপরূপ কথায়, মানুষের মতো কথা-বলা পাখি ! স্বপ্নের অলীক পাখি !

রূপকথায়
বিহঙ্গম  বিহঙ্গমী
বেঙ্গমা  বেঙ্গমী
কখনো
বেঙ্গমা  বেঙ্গুমী
আবার
ব্যাঙ্গোমা  ব্যাঙ্গোমী !

রূপকথায়,  'বেঙ্গমা', 'ব্যাঙ্গোমা',  'বিহঙ্গম' শব্দের অপভ্রংশ। তেমনি, 'বেঙ্গমী', 'বেঙ্গুমী', 'ব্যাঙ্গোমী',  'বিহঙ্গমী' শব্দের অপভ্রংশ।

যেহেতু,  বাংলা রূপকথার পাখি, স্বপ্নের অলীক পাখি,  তাই,  তাদের চোখে দেখা যায় না,  তাদের ডাক কানে শোনা যায় না,  তাদের মানুষের মতো কথা বলাও  শুনতে পাওয়া যায় না,   তবে সব কিছু অন্তরে অনুভব হয় !
এই অন্তরে অনুভব হওয়াই, বাংলার অপরূপ রূপকথা ! রূপকথায় অনুভবই সব ! 'অলীক'-এর অলৌকিকতাই সৌন্দর্য !
'রূপকথার পাখি', তাই অন্তরকে দোলা দেয় !

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৬

'প্রণব কুমার কুণ্ডুর গদ্যরচনা'

গদ্যে,  ব্লগ-এ, নতুন অধ্যায় শুরু করেছি। ' প্রণব কুমার কুণ্ডুর গদ্যরচনা '। ' প্রণব কুমার কুণ্ডুর কবিতা ', ২০১০ সাল  থেকে চলছে। 'গুগুল'-এর তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে 'কবিতায়', এবং কবিতাসংক্রান্তবিষয়ে, পনের হাজারেরও  বেশি, 'পৃষ্ঠাদর্শন' হয়ে গেছে ! কবিতা এবং কবিতাসম্বন্ধনীয় পোস্টগুলো  একহাজার ছাড়িয়েছে ! উনত্রিশটি দেশের পাঠক-পাঠিকারা সেই 'পৃষ্ঠাদর্শন' করেন ! তাঁদের তো ধন্যবাদ দেবই, আপনারাও আমার কবিতাগুলো পড়ুন, মন্তব্য করুন, মতামত দিন !
আমার গদ্যরচনা, সবে, কয়েকদিন হল শুরু হয়েছে। গদ্যরচনাও দেখুন। পড়ুন। ফেসবুকে এবং ট্যুইটারে যোগসূত্র
(  লিংক  ) থাকছে।
 গুগুলের তথ্য অনুযায়ী, গদ্যরচনায় পোস্ট আছে, এখন পর্যন্ত মাত্র এগারোটি ;  মোট 'পৃষ্ঠাদর্শন' হয়েছে চারশোর কিছু বেশি। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং আয়ারল্যান্ড, এই চারটি দেশ থেকে এখন 'পৃষ্ঠাদর্শন' হচ্ছে !
 
এখন Google+ এও আমার কিছু কবিতা এবং  কিছু গদ্যরচনা দেখতে পাবেন !  Search করবেন, ইংরেজিতে, 'pranab kumar kundu' হিসাবে। 

ধন্যবাদ !
নমস্কার !

প্রণব কুমার কুণ্ডু।

বাড়ির ঠিকানা :
২২৩ মিত্রপাড়া রোড
নৈহাটি
উত্তর ২৪ পরগনা
পশ্চিমবঙ্গ
ভারত
পিন ৭৪৩১৬৫।


অন্য ঠিকানাগুলি :
গদ্যরচনার জন্য  pranabk2.blogspot,com

কবিতার জন্যে    pranabk.blogspot.com

Twitter             Twitter.com/pkkundu10

Facebook        Facebook.com/pkkundu10

Email               pkkundu10@gmail.com

Phone              91 033 2502 3878

Mobile             91 8017435180                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                         

শরভ

 শরভ
   রভ। শরভ মৃগবিশেষ। একেবারে মহামৃ্গ ! পৌরাণিক মৃগ ! তার আটটি পা ! অষ্টপাদ মৃগ। তার চোখ আবার ওপরের দিকে। আকাশের দিকে ! ঊর্ধ্বনয়ন ! সেই মহামৃগ আবার সিংহের চেয়ে বহুগুণে বলবান ! সেই মৃগ সিংহঘাতী। তবে ঐটি পুরাণ কথিত কাল্পনিক মৃ্গ ! গল্প এইভাবেই এগিয়েছে।
কিন্তু এই শরভ মহামৃগের উল্লেখ আছে, শুক্লযজুর্বেদে, অথর্ববেদে, সংস্কৃত রামায়ণে, মহাভারতে, ঋতুসংহারে, কবিকঙ্কণ-চণ্ডীতে, শ্রীধর্মমঙ্গলে !

শরভ মহামৃগকে আবার 'মহাসিংহ'ও বলা হত !

বেদ, হিন্দুদের প্রাচীনতম অপৌরুষের শাস্ত্রগ্রন্থ ও সাহিত্য। বেদ, ঋক্ সাম যজুঃ ও অথর্ব, এই চার ভাগে বিভক্ত। প্রত্যক্ষ এবং অনুমানের ওপর নির্ভর করে, বেদে, অধিগম্য এবং অনধিগম্য জ্ঞান বিধৃত আছে। চার বেদের মধ্যে, দুই বেদে, শুক্লযজুর্বেদে ও অথর্ববেদে, শরভ-এর কথার উল্লেখ আছে ! শুক্লযজুর্বেদের অন্য নাম, বাজসনেয়িসংহিতা।
রামায়ণ, মহাকবি বাল্মীকি রচিত শ্রীরামচন্দ্রের জীবনবৃতান্তমূলক সংস্কৃত মহাকাব্য। শরভ-এর কথা আছে অন্য আর এক সংস্কৃত রামায়ণে, সেটা কাশীনাথ পাণ্ডুরঙ্গ পরব-এর সংস্কৃত রামায়ণ।

মহাভারত, মহর্ষি বেদব্যাস রচিত কুরুপাণ্ডবদের কাহিনিসংবলিত মহাকাব্য। মহাভারত এক অতি বিস্তৃত কাহিনি ! মহাভারতে গল্পও আছে। যেমন, শরভ-এর গল্প ! তাতে কিন্তু মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় নি !
ঋতুসংহার, মহাকবি কালিদাসের কাব্য। ওখানে ঋতুবর্ণনপরম্পরা আছে ! সেখানেও শরভ !
চণ্ডী, দুর্গার রূপবিশেষ।  কবিকঙ্কণের চণ্ডীতেও, শরভ !
ধর্মমঙ্গল, ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যবর্ণনাপূর্ণ গ্রন্থ। ধর্মঠাকুর, বৌদ্ধযুগের পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণেতর জাতির উপাস্য দেবতা; শূন্যরূপ নিরঞ্জনদেব ! মাণিক গাঙ্গুলি বিরচিত, শ্রীধর্মমঙ্গলেও, শরভ !
ভাবতে আশ্চর্য লাগে. কিভাবে শরভ মহামৃগের গল্পকথা, দুই বেদে, রামায়ণে, মহাভারতে, ঋতুসংহারে, বিশেষ এক চণ্ডীতে, বিশেষ এক শ্রীধর্মমঙ্গলে, বিস্তৃত সময় ধরে,  স্থান করে নিল !
নিশ্চই, শরভ-এর গল্প,  খুব লোকপ্রিয় ছিল !


পুস্তকগুলির প্রাসঙ্গিক তথ্য দিচ্ছি :---
শুক্লযজুর্বেদ  ১৩.৫১
অথর্ববেদ  ৯.৫.৯
রামায়ণ। কাশীনাথ পাণ্ডুরঙ্গ পরব -- সংস্কৃত। শাক ১৮১০।  ২.২৯.৩
মহাভারত  ১২. ১১৭. ১৩
ঋতুসংহার  ১.২৩
কবিকঙ্কণ -- চণ্ডী। বঙ্গবাসী।  ৩৫ ; ৪৯
শ্রীধর্মমঙ্গল। মাণিক গাঙ্গুলি -- বিরচিত। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ। ১৩১২। ১২৪


*  তথ্যসূত্র : বঙ্গীয় শব্দকোষ। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহিত্য অকাদমি।