সোমবার, ২ জুলাই, ২০১৮

মোহাম্মদ-এর মৃত্যু


মোহাম্মদ-এর মৃত্যু


শেয়ার করেছেন            প্রণব কুমার কুণ্ডু


Rupok Roy ফেসবুক থেকে.....


মুহম্মদের মৃত্যু যন্ত্রণা এক প্রকৃত পাপীর উচিত শাস্তি :
বা মুসলমানদের মতে- পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, মুহম্মদের এমন যন্ত্রণা দায়ক মৃত্যু কেনো ?

মুসলমানরা ইসলামের যে কয়টি বিষয় খুব যত্ন করে গোপন রেখেছে তার মধ্যে একটি হলো মুহম্মদের মৃত্যুর ঘটনা। এ বিষয়ে তারা যেটুকু জানে বা তাদের যেটুকু জানানো হয় এবং এর ভিত্তিতে তারা যা বলে, তা হলো- খয়বরের যুদ্ধের পর নবী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাতেই তার মৃত্যু হয়। যদিও মুহম্মদের মৃত্যুকে যতটা মহিমান্বিত করে তোলা যায়, মুসলমানরা তা করে তোলে এবং তার মৃত্যুর দিনকে সম্মান জানিয়ে বলে ‘ওফাতদিবস’।

এছাড়াও মুহম্মদের মৃত্যু সম্পর্কে মুসলমানরা বলে, আল্লা নবীকে বলেছে, আল্লার সান্নিধ্য অথবা দুনিয়াকে বেছে নিতে। মুহম্মদ আল্লার সান্নিধ্যকে বেছে নিয়েছেন। আরও বলা হয়, মৃত্যুর দিন জিব্রাইল এসে নবীকে জানায় যে মৃত্যুর ফেরেশতা আযরাইল তার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে আছে এবং ঘরে ঢোকার জন্য আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছে। নবী অনুমতি দিলে আযরাইল ঘরে ঢুকে নবীকে বলে, “আপনি অনুমতি দিলে আপনার আত্মাকে নিয়ে যাবো আর যদি বলেন তো রেখে যাবো।” এমন সময় পাশে থাকা জিব্রাইল বলে উঠে, “হে আহম্মদ, আল্লা আপনার সঙ্গ লাভ করার জন্য খুবই ব্যাকুল হয়ে আছেন।” এই কথা শুনে নবী আযরাইলকে বলে, “আপনার উপর যে আদেশ আছে তা পালন করুন।”

এরপর জিব্রাইল ও আযরাইল নবীকে সালাম দিয়ে বিদায় নেয় এবং নবী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এসবই গাল গল্প, কারণ ফেরেশতা ও নবীর মধ্যে হওয়া এসব কথাবার্তা কেউ শুনে নি।

মুহম্মদের মৃত্যু দিন সম্পর্কেও অধিকাংশ মুসলমান সঠিক তথ্য জানেনা। তারা মনে করে ১২ রবিউল আওয়াল হলো নবীর মৃত্যুর দিন এবং এই দিনই তার জন্মদিন এবং একই দিনে জন্ম ও মৃত্যুকেও তারা মুহম্মদের জীবনের একটা ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে, যেন এটা খুবই অসাধারণ একটা ঘটনা, যা একমাত্র আল্লার প্রিয় বান্দা মুহম্মদের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। কিন্তু এরকম ঘটনা খুঁজলে সারা পৃথিবীতে অন্তত কয়েক হাজার পাওয়া যাবে, যা তাদের প্রকৃত জন্ম ও মৃ্ত্যুদিন, মুহম্মদের জন্মদিনের সাথে মিলিয়ে বানানো মৃত্যু দিন নয়।

এখানে আরও একটা ব্যাপার বোঝার মতো যে, মুহম্মদের জন্ম ও মৃত্যুদিন যদি একও হয়, অর্থাৎ ১২ রবিউল আওয়াল হলেও তা কিন্তু সৌরজগতের হিসেব মতে এক নয়। কারণ, হিজরি সালের হিসেব হয় চন্দ্র মতে, আর চন্দ্রের বছর ৩৬৫ দিনে নয়, ৩৫৪ দিনে। তার মানে হলো পৃথিবী সূর্যের চার পাশে একবার ঘুরে যে বছর পূর্ণ করে, হিজরি সাল তার বছর পূর্ণ করে ১১ দিন আগেই। একারণে হিজরি সালের মাস অনুযায়ী হিসেব করলে ঋতুর কোনো ঠিক ঠিকানা থাকে না, এই হিজরি সালের চক্করে পড়েই মুসলমানদের দুই ঈদসহ যেকোনো ইসলামিক অনুষ্ঠান সারা বছর ঘুরতে থাকে; এতে দেখা যায়, রমযান মাস একবার পড়লো শীতকালে, তো কয়েক বছর পর সেটা গিয়ে আবার পড়লো গ্রীষ্মকালে। মূলত চন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী বছর গোনা মানে চরম মূর্খতার পরিচয় দেওয়া, ইসলামিক প্রোগ্রামগুলো পালন করতে গিয়ে মুসলমানরা এই মূর্খের মতো কাজ করে যাচ্ছে গত ১৪০০ বছর ধরে। অথচ এই তারিখটাকে ইংরেজি বা যেকোনো সৌরবর্ষের সাথে কনভার্ট করে নিলে কিন্তু এই ঝামেলা আর হতো না। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবছর একই ধরণের ইসলামিক প্রোগ্রামগুলো তারা পালন করতে পারতো।

যা হোক, মুহম্মদের জন্মদিন ১২ রবিউল আওয়াল এবং এটা ইংরেজির ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট, রোজ শুক্রবার। মুসলমানরা যে শুক্রবারকে বিশেষ শ্রদ্ধা করে তার এটাও একটা কারণ। আর মুহম্মদের মৃত্যু দিন হলো ১৩ রবিউল আওয়াল, যা ইংরেজি ৮জুন, ৬৩২খ্রিষ্টাব্দ, বেলা ২ থেকে ৩ টার মধ্যে।

আজকের মূল বিষয় মুহম্মদের মৃত্যু, এবার সেই বিষয়ে নজর দেওয়া যাক। মৃত্যুর পূর্বে মুহম্মদ ১৬ দিন অসুস্থ ছিলো এবং ১৭তম দিনে সে মারা যায়। অসুস্থতার প্রথম ৭/৮ দিন মুহম্মদ অসুস্থ শরীরেই সব কাজ দেখা শোনা করতে থাকে, কিন্তু তার পরেই সে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। এর পর মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব দেয় আবু বকরের উপর এবং এই দায়িত্বের বলেই মুহম্মদের মৃত্যুর পর আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হয়। রোগের প্রকোপ বেড়ে চললে মুহম্মদ সব স্ত্রীর থেকে ছুটি নিয়ে আয়েশার ঘরে থাকা শুরু করে; কারণ, মুহম্মদ বুঝতে পারছিলো যে তার দিন শেষ। তাছাড়াও আয়েশা ছিলো মুহম্মদের প্রিয় স্ত্রী, মুহম্মদ নাকি সব স্ত্রীকে সমান চোখে দেখতো, তাহলে একজন আবার প্রিয় হয় কেমনে ?

দিনের পর দিন রোগের প্রকোপ বেড়ে চললে মুহম্মদের এক স্ত্রী উম্মে সালমা বলে, নবীকে একটু ওষুধ খাইয়ে দেখলে হয়। এর পূর্বে, মুহম্মদের আরেক স্ত্রী মাইমুনার সৎ বোন আবিসিনিয়া থাকা কালে সেখানকার ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে একধরণের ওষুধ তৈরি করা শিখেছিলো, যা এই ধরণের অসুখে ব্যবহার হয়। এই আসমা সেখানে উপস্থিত ছিলো এবং সে ঐ ওষুধ বানিয়ে মুহম্মদকে খাইয়ে দেয়। এই সময় পুরোনো কথা মনে হওয়ায় আসমা, উপস্থিত মহিলাদের সাথে আবিসিনিয়ার খ্রিষ্টান এবং সেখানকার গীর্জার গল্প শুরু করে দেয়। মুহম্মদের কানে এসব যাওয়া মাত্র সে বকা দিয়ে বলে,

“এরা সেই সব লোক যারা তাদের কোনো সাধু মারা গেলে তার কবরের সমাধি তৈরি করে পূজা করে।” এরপর ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে অভিশাপ দিয়ে মুহম্মদ বলে, “আল্লা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদেরকে ধ্বংস করুন। যারা মানুষের সমাধিকে পূজা করে তাদের উপর আ্ল্লার ক্রোধ বর্ষিত হোক। হে আ্ল্লা, আমার কবরকে কেউ যেন পূজা না করে। ইসলাম ব্যতীত আর কোনো ধর্ম যেন আরবে না থাকে।” (মুসলিম শরীফ, ৪৩৬৬)

খেয়াল করবেন, মুহম্মদ- ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের উদ্দেশ্য এই অভিশাপ দিচ্ছে এবং আরব থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করার কথা বলছে কিন্তু মৃত্যু শয্যায়। একটা লোক কী পরিমান সম্প্রদায়িক হলে এবং তার মধ্যে কী পরিমান ঘৃণা থাকলে মৃত্যু শয্যায় কেউ এমন কথা বলতে পারে! মদীনা সনদের প্রসঙ্গ টেনে মুসলমানরা আবার এই মুহম্মদকেই বলে অসাম্প্রদায়িক !

যা হোক, মুহম্মদ কবর পূজাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত করলেও সব মুসলিম দেশে এটা চলছে এখন দেদারসে। পীর-ফকির-দরবেশের মাজার আর কিছুই নয়, তাদের সমাধির উপর নির্মিত আস্তানা। মুসলমানরা সেই সব জায়গায় যায় এবং নিজেদের জন্য কল্যাণ কামনা করে; এমনকি কেউ মদীনা গেলেও মুহম্মদের কবর যাকে মুসলমানরা বলে ‘রওজা মুবারক’, তা জিয়ারত করে আসে, এগুলো আর কিছুই নয়, স্রেফ কবর পূজা, যা মুহম্মদ নিষিদ্ধ করে গেছে। কিন্তু মুহম্মদের সকল চিন্তাই ছিলো অবাস্তব, তাই তার এই থিয়োরিও মাঠে মারা গেছে; কারণ, মৃতের উদ্দেশ্য প্রার্থনা বা তার মাধ্যমে নিজেদের কল্যান কামনার জন্য মৃতের কবর একটি মাধ্যম এবং এজন্য কবরের কাছে গিয়ে কবর পূজা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

যা হোক, মৃত্যুর দিন সকালে মুহম্মদ আর হাঁটতেই পারছিলো না। তার চাচাতো দুই ভাই ফজল আর আলীর কাঁধে ভর করে মুহম্মদ কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়। এই সিচুয়েশন এবং অন্য স্ত্রীদের সাথে রাত না কাটানোর জন্য ছুটি নেওয়ার বর্ণনা আছে, বুখারীর ১১ / ৬৩৪ নং হাদিসে, দেখে নিন নিচে-

আয়শা বর্ণিত- "যখন নবী কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হলেন, তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠল তখন তিনি অন্য স্ত্রীদের কাছ থেকে আমার কাছে থাকার অনুমতি প্রার্থনা করলেন যাতে আমি তাকে সেবা করতে পারি সবাই তাকে অনুমতি দিল। তিনি দুইজন লোকের সাহায্যে ঘর থেকে বের হলেন তখন তার পা দুটো মাটিতে ছেঁচড়াচ্ছিল। তিনি আল আব্বাস ও অন্য একজন মানুষের ঘাড়ে ভর রেখে চলছিলেন। উবাইদ উল্লাহ বলল আমি আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম যার কথা আয়শা বলেছিলেন – তুমি কি জান অন্য জন কে ছিল ? আব্বাস বলল- সে ছিল আলি ইবনে তালিব।”

মুহম্মদ প্রায় সারা জীবনই নীরোগই ছিলো। হঠাৎ তার এই অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে সে আয়েশাকে যা বলেছে তার বর্ণনা রয়েছে- সহিহ বুখারীর ৫ / ৫৯ / ৭১৩ নং হাদিসে, দেখে নিন নিচে-

আয়শা বর্ণনা করেছেন- রসূল তার মৃত্যূ শয্যায় বলতেন, “ও আয়শা, আমি খায়বারে গ্রহন করা বিষ মিশানো খাবারজনিত কষ্ট অনুভব করছি এবং আমার মনে হচ্ছে ঘাড়ের শিরা-ধমনী সব ছিড়ে যাচ্ছে।”

কী পরিমান কষ্ট হলে কেউ এই কথা বলে যে, তার ঘাড়ের শিরা ও ধমনী সব ছিড়েঁ যাচ্ছে সেটা একবার কল্পনা করুন। মুহম্মদকে এই বিষ খাওয়ানোর ইতিহাসটা একটু বর্ণনা করা দরকার, তাহলে বুঝতে পারবেন, কে এবং কী কারণে, কোন কৌশলে, তাকে বিষ খাইয়েছিলো ?

মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার তিন বছরের মাথায়, ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে, ছাদের উপর থেকে পাথর ফেলে মুহম্মদকে তারা হত্যা করার চেষ্টা করেছিলো, মুহম্মদের সম্পূর্ণ এই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে, মুহম্মদ নাজির গোত্রের লোকজনকে মদীনা থেকে বিতাড়িত করে। এটা মিথ্যা অভিযোগ এজন্য যে, সেই সময় মুহম্মদের সাথে আরও ৩/৪ জন লোক ছিলো, তারা এই ধরণের ঘটনার কোনো চেষ্টাই দেখে নি।যা হোক, মদীনা থেকে নাজির গো্ত্র বিতাড়িত হয়ে ১৩০ কি.মি দূরে খয়বরে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। এই ঘটনার তিন বছর পর ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুহম্মদ খয়বর আক্রমন করে এবং খয়বরের দলপতি কিনানাকে হত্যা করে তার স্ত্রী সাফিয়াকে দখল করে সেই রাতেই সাফিয়াকে মুহম্মদ ধর্ষণ করে। আমার এই কথার প্রমান পাবেন নিচের এই রেফারেন্স-

“আবু আয়ুব খাইবারের যুদ্ধের পর রাতের বেলা হজরত মহম্মদ আর সোফিয়ার তাবু পাহারা দিয়েছিল ,পরদিন সকালে মহম্মদের সঙ্গে তার দেখা হলে তিনি মহম্মদকে বলেন " রাসুল , আমি আপনার জন্য সারারাত খুব চিন্তায় ছিলাম৷ আপনি সাফিয়ার বাবাকে হত্যা করেছেন , স্বামীকে হত্যা করেছেন , পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছেন , আর আপনি সাফিয়ার সঙ্গে সারারাত এক তাবুতে কাটালেন ?! " Sira 517 , Ibn Ishaq 766 .

মুহম্মদ যখন যে জনপদ দখল করতো, সেখানে সে এবং তার লুটেরা বাহিনী তিন দিন অবস্থান করে বিজয় উৎসব পালন করতো (বুখারি, ৪/৫২/৩০০)। এই বিজয় উৎসব আর কিছুই নয় গনিমতে মাল হিসেবে দখল করা মেয়েদের ধর্ষণ করা আর থাওয়া দাওয়া করা। কোনো কোনো মুসলমান যুক্তি দেখায় গনিমতে মাল ছিলো তৎকালীন আরবে যুদ্ধ জেতার উপহার বিশেষ, যেমন ফুটবল খেলে যে দল জিতে তা্রা একটা কাপ বা কিছু টাকা উপহার পায়, ঠিক সেই রকম। তাদের মুখে শুয়োরের গু ভরে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখার জন্য দিলাম নিচের এই হাদিস-

“ইসলাম প্রবর্তনের আগে লুঠের মাল ভোগ করা বৈধ ছিলো না, কিন্তু আল্লা আমাদের দুর্দশা ও দুর্বলতা দেখে লুটের মাল ভোগ করা বৈধ করেছেন।”- (মুসলিম, ৪২৩৭)

এখানে স্পষ্ট করে বলা হলো ইসলাম প্রবর্তনের আগে আরবের লোকজন এতো অসভ্য ছিলো না যে তারা পরাজিতদের নারী-কন্যাদেরকে ধর্ষণ করবে আর তাদের মাল সম্পদকে দখল করে ভোগ করবে, মুহম্মদই এই প্রথা চালু করেছিলো। মুহম্মদ আবার এই লুঠপাটের মালের কমিশন খেতো ২০% হারে। না, এটা আমার কথা নয়, এর প্রমান আছে কোরানে-

“আর তোমরা জেনে রাখো যে, তোমরা যে গনিমতের মাল লাভ করেছো, তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ, তার রসূল এবং আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম মিসকিন ও পথিক মুসাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট।”- (কোরান, ৮/৪১)

আল্লার নামে গনিমতের মালের ভাগ নিলেও আল্লাতো এসে আর মালের ভা্গ নিতো না, সেটা নিতো মুহম্মদ। এছাড়াও এর আগে মুহম্মদ একাই গনিমতের সব মাল খাওয়ার চেষ্টা করে এবং সে অনুযায়ী সে আয়াতও ডাউনলোড করে, কিন্তু যখন সে দেখলো তার এই থিয়োরিতে কোনো মুসলমান আর যুদ্ধ করতে যাবে না, তখন সে কোরানের ৮/৪১ আয়াত ডাউন লোড করে। কিন্তু তার আগে যে আয়াত সে ডাউন লোড করে, তাহলো-

“এই গনিমতের মাল তো আল্লা এবং তার রসূলের।” - ( কোরান, ৮/১)

গনিমতের মালের নামে পরাজিতদের মেয়েদেরকে ধর্ষণ এবং তাদের সম্পত্তি দখলকরে তা খাওয়ার পূর্ণ পারমিশন মুসলমানদেরকে দেওয়া আছে নিচের এই আয়াতে-

“অতএব তোমরা যা কিছু ধন মাল লাভ করেছো, তা খাও, তা হালাল এবং তা পবিত্র।” - (কোরান,৮/৬৯)

মূলত এই নারীধর্ষণ এবং লুঠপাটের মালই ছিলো ইসলামের ড্রাইভিং ফোর্স, যার আকর্ষণে দলে দলে খুবই নিচু মানসিকতার লোকজন ইসলামে যোগ দিয়ে মুহম্মদের শক্তি বাড়িয়েছিলো। আমার এই কথার প্রমান পাবেন নিচের কোরানের এই আয়াত ও হাদিসে-

ইহুদিরা মুহম্মদকে এই কথা বলেছিলো, পরে মুহম্মদ সেটা আবার আল্লার বাণী হিসেবে ডাউনলোড করে,

"আমাদের দৃষ্টিতে তুমি আমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু্ই নও। আমরা আরো দেখছি যে, আমাদের লোকেদের মধ্যে যারা হীন নীচ, তারাই না ভেবে, না বুঝে তোমার পথ অবলম্বন করছে। আর আমরা এমন কোনো জিনিস দেখতে পাইনা, যাতে তোমরা আমাদের অপেক্ষা বিন্দুমাত্র অগ্রসর বরং আমরা তো তোমাদের মিথ্যুকই মনে করি।”- ( কোরান, ১১/২৭)

এবার দেখুন হাদিস থেকে,

“একবার একজন লোক মুহম্মদের কাছে এসে বললো যে সে জিহাদে যোগ দিয়ে লুটের মালের ভাগ পেতে ইচ্ছুক। মুহম্মদ তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি আল্লা ও তার রাসূলে বিশ্বাস করো ? লোকটি জবাব দিলো, না।মুহম্মদ তখন বললো, আগে ভুল রাস্তা ঠিক করো।”- (মুসলিম, ৪৪৭২)

বিজয় উৎসব আর গনিমতে মাল নিয়ে এত কথা বলার কারণ হলো, মূলত- খয়বর যুদ্ধের পর বিজয় উৎসবের সময় এই গনিমতের মাল খেতে গিয়েই মুহম্মদ তার নিজের মৃত্যুটা ডেকে আনে।

মুসলমানরা যেমন এখনও মনে করে পরাজিত গোত্রের মেয়ে রিহানা ও সাফিয়া স্বেচ্ছায় মুহম্মদের বিছানায় এসে তাদের কাপড় খুলে দিয়েছিলো, মুহম্মদ তাদের যোনী গর্ভে তার বীর্য নিক্ষেপ করে তাদেরকে ধন্য করেছে মাত্র। সেই রকম মুহম্মদ এবং তার ডাকাত বাহিনীরও ধারণা ছিলো পরাজিত গোত্রের জীবিত লোকজন তাদেরকে স্বেচ্ছায় আপ্যায়ণ করে নিজদেরকে ধন্য করছে। না হলে কিছু পূর্বে যাদের স্বজনকে তারা হত্যা করেছে, তাদের পরিবেশিত খাবার তারা খায় ?

যা হোক, খয়বরের যুদ্ধের পর এক ইহুদি মহিলা, যার বাপ-ভাইকে মুহম্মদের কারণে খুন হতে হয়েছে, সে মুহম্মদ এবং তার দলবলকে খাবারের আমন্ত্রণ জানায়। সে কিছু মাংস রান্না করে এবং তার মধ্যে আগে থেকেই বিষ মিশিয়ে রাখে। মুহম্মদ একটু খেয়েই বুঝতে পারে যে তাতে বিষ মিশানো আছে, তাই সে সাথে সাথে সবাইকে তা খেতে নিষেধ করে।

কিন্তু একজন ঘাড় ত্যাড়ামি করে আরও কিছুটা খেলে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। বাকিরা খাওয়া বন্ধ করায় প্রাণে বেঁচে যায়। এরপর মুহম্মদের নির্দেশে সেই মহিলাকে হাজির করা হলে মুহম্মদ তাকে জিজ্ঞেস করে কেনো সে এই কাজ করেছে ? মহিলা বলে, আমি এই কাজ করেছি এজন্য যে, আপনি যদি আল্লার নবী হোন, তাহলে আপনি খাবারের পূর্বেই জেনে যাবেন যে এর মধ্যে বিষ আছে, আর যদি শুধু রাজা হোন তাহলে আপনি বিষ খেয়ে মরে গেলে আমার গোত্রের লোকজন আপনার হাত থেকে রক্ষা পাবে। (বুখারী , ৭/৭১ / ৬৬৯; ৩ /৪৭ / ৭৮৬) পরে ঐ মহিলাকে হত্যা করা হয়।

এই একটি ঘটনা থেকেই পরিষ্কার যে সেই সময় আরবের ইহুদি খ্রিষ্টানরা মুহম্মদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে তার উপর কীরকম বিরক্ত ছিলো। তারপরেও মুসলমানরা বলে নবীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আরবের সব লোক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলো। তাই যদি সত্য হয় তাহলে মুহম্মদকে এই বিষ দিয়ে মারার চেষ্টার ঘটনাটার দরকার কী ছিলো ?

স্বল্প মাত্রায় খাওয়া এই বিষের রিয়্যাকশন শুরু হয় ৪ বছর পর, যে কথা বুখারীর ৫ / ৫৯ / ৭১৩ নং হাদিস অনুযায়ী মুহম্মদ আয়েশাকে বলেছে যে, “ও আয়শা, আমি খায়বারে গ্রহন করা বিষ মিশানো খাবারজনিত কষ্ট অনুভব করছি এবং আমার মনে হচ্ছে ঘাড়ের শিরা-ধমনী সব ছিঁড়ে যাচ্ছে।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আল্লার এমন প্রিয় বান্দা, যে নাকি আল্লার দোস্ত- (সৃষ্টির সাথে সৃষ্টিকর্তার নাকি দোস্তী !)- এই দোস্তের এমন যন্ত্রণা দায়ক মৃত্যু আল্লা দিলো কেনো ও কী জন্য ? আর আল্লা যেহেতু মুহম্মদকে এই অপশান দিয়েছিলো যে, হয় পৃথিবীর জীবন- না হয় তার সান্নিধ্য বেছে নিতে, তাহলে মুহম্মদ কেনো আল্লার সান্নিধ্য বেছে নিলো, যেখানে তার ভোগ ও যৌনাকাঙক্ষা তখনও শেষ হয়নি ? কেননা, মৃত্যুর সময়ও মুহম্মদ আয়েশার সাথে ছিলো, যে আয়েশার তখন মাত্র ১৮ বছর বয়স, যৌ্বনটা কেমন তা একটু কল্পনা করে নিন, সেই আয়েশার সাথে মুহম্মদ রাত কাটাতে চেয়েছে এবং মরার সময়ও মুহম্মদ আয়েশাকে চুমু খেয়ে যাচ্ছিলো, যাতে আয়েশা ও মুহম্মদের মুখের লালা এক হয়ে গিয়েছিলো ( বুখারি, ১৬৫০); তাহলে সেই মুহম্মদের এমন মৃত্যুকে বরণ করার দরকারটা কী ? মুহম্মদ যদি চিরদিন বেঁচে থাকতো, তাহলে তো তাকে দেখেই পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর সকল লোক ইসলাম গ্রহন করে ফেলতো, পৃথিবী বাসীকে ইসলামের পতাকা তলে আনার জন্য মুসলমানদেরকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সস্ত্রাস করতে হতো না, আর চাপাতি দিয়ে কাউকে কোপানোর ও প্রয়োজন হতো না। মুহম্মদ এবং তার আল্লাহ এবং মুসলমানদের প্রাণান্ত চেষ্টার পরেও, এই ১৪০০ বছরে পৃথিবীর মাত্র ২০% লোক মুসলমান। অথচ তার সন্ত্রাসের ভয়ে আরব উপদ্বীপের কিছু গোত্রপতি যখন তার কাছে এসে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করেছিলো তখন মুহম্মদ মনে করলো যে তার কাজ শেষ হয়েছে এবং এই কথা সে ফাতেমাকে বলেও ছিলো যে দুনিয়ায় তার কাজ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যিই কি দুনিয়াতে তার কাজ শেষ হয়ে ছিলো ? পৃথিবীর সকল মানুষ কি ইসলামকে গ্রহণ করেছিলো বা এই ১৪০০ বছর পর এখনও গ্রহন করেছে ? তাহলে মুহম্মদ কেনো পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো ?

নাকি বাস্তব কথা এই যে, পৃথিবী একদিন সবাইকেই ছেড়ে যেতে হয়, আর এটাই হলো মানুষের জীবনের শেষ ঘটনা। আর এই শেষটা যার ভালো, তার সারাজীবনই ভালো ছিলো বলে মনে করা হয়। এজন্যই বলা হয়, সব ভালো যার, শেষ ভালো তার। কিন্তু মুহম্মদের শেষটা ভালো হয় নি, এ থেকে এটা প্রমান হয় যে, মুহম্মদের জীবন যাত্রার ধরণ আসলে ভালো ছিলো না। সত্যিই তো তাই, মুহম্মদের কারণে তার মদীনা জীবনের ১০ বছরে কমপক্ষে ১ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে, অসংখ্য লোক হয়েছে নিজদেশ ও ভিটেমাটি ছাড়া। প্রকৃতি নামের ঈশ্বর কি তার বিচার করবেনা ? মুহম্মদের এই যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু এই কথাও প্রমান করেযে আসলে আল্লা বলে কেউ নেই, যদি আল্লা বলে কেউ থাকতো তাহলে তার প্রিয় বান্দার এমন করুণ মুত্যু হতো না।

জয় হিন্দ।
------------------------------------------------------------------------------
উপরে যে রেফারেন্সগুলো দিয়েছি, সেগুলো দেখতে চাইলে দেখুন নিচে-

মুসলিম শরীফ, ৪৩৬৬ = একমাত্র মুসলমান ছাড়া ইহুদি খ্রিষ্টান সবাইকে আমি আরব ছাড়া করবো।

বুখারী , ৭ /৭১ / ৬৬৯ = তোমরা কি এ বকরীর মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছ। তারা বললঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে ? তারা বললোঃ আমরা চেয়েছি, যদি আপনি (নবুওয়াতের দাবীতে) মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে মুক্তি পেয়ে যাব। আর যদি আপনি (সত্য) নবী হন, তবে এ বিষ আপনার কোন ক্ষতি করবে না।

সহিহ বুখারী, ৩ /৪৭ / ৭৮৬ = আবদুল্লাহ ইব্ন আবদুল ওয়াহাব (রঃ) ......... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী মহিলা নবী (সাঃ) এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এলো। সেখান থেকে কিছু অংশ তিনি খেলেন এবং (বিষক্রিয়া টের পেয়ে) মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যার আদেশ দিবেন না ? তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বলেন নবী (সাঃ) এর (মুখ গহবরের) তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।

বুখারি, ৪/৫২/৩০০ = আবু তালহা হতে বর্ণিত, নবীজী যখন কোনো সম্পদ্রায়কে দখল করতেন, তিনি তাদের শহরে তিন দিন কাটাতেন।

বুখারি, ১৬৫০ = আল্লার রসূল আমার পালার দিন আমার আমার ঘরে আমার বুকে মাথা রেখে মারা গেছেন এবং অন্তিম সময় তার লালা ও আমার লালা মেশামেশি হয়ে গিয়েছিলো।

From: Krishna kumar das
💜 জয় হোক সনাতনের 💜

শেয়ার করেছেন
Pranab Kumar Kundu.



জানুন ( দুই )



     জানু ( দুই )


      শেয়ার করেছেন                       প্রণব কুমার কুণ্ডু


।। প্রতারক ও প্রতারণা ।।


প্রতাড়ক নেহেরু পরিবারই আজ কংগ্রেসের কলঙ্ক । জাতীয় কংগ্রেস আজ ধ্বংসপ্রায় কেবলমাত্র ঠক, প্রবঞ্চক, মিথ্যাচারী ও ক্ষমতালোভী ওই একটিমাত্র পরিবারের জন্য । আজ থেকে প্রায় ১৩২ বৎসর পূর্বের কথা । আফগানিস্তানে বাস করত এক ভয়ঙ্কর পাঠান দস্যু গাজী খান্ এই গাজী খানের চতুর্থ পূর্বসুরী সৈয়দ খান ছিল ভারতের শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের পরমমিত্র । সম্রাটের সাথে বন্ধুত্বের খাতিরেই সৈয়দ খানের মনে ভারত শাসনের বাসনা দানা বেঁধেছিল । সম্রাট তাকে ইন্দোর রাজ্যের রাজ্যভার তথা দায়িত্বভার দেবেন বলে মনস্থও করেছিলেন কিন্তু তা আর হোলো না । তার অল্প কিছু কালের মধ্যেই ইংরেজ উপনিবেশ ঘাঁটি গেড়ে বসল ভারতের বুকে ইষ্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী নামে । তারা সম্রাটের কাছ থেকে দেওয়ানী লাভ করার পর, আরও দৃঢ় হল ইংরেজ আধিপত্যের ভিত্তি। সম্রাটের ক্ষমতাও ক্রমে লুপ্ত হয়ে গেলো,শুরু হলো ইংরেজ শাসন । সুযোগ সন্ধানী সৈয়দ খান তখন সম্রাটকে ছেড়ে ইস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানির তোষামোদ করতে থাকল। এইভাবে চলতে চলতে চার পুরুষ কেটে গেল । ইংরেজ সাম্রাজ্যেরও অন্তিমকাল এসে উপস্থিত হল । সেইসময় ভারতের শেষ ভাইসরয় হয়ে এল লর্ড মাউন্টব্যাটেন । তখন ব্যাটেনের সাথে গাজী খানের দোস্তি ঘনিষ্ঠ হল । গাজী খানকে ব্যাটেন সাহেব তুলে আনলেন ভারতে । এই গাজী খানের তিন পুত্র প্রথম পুত্র হল ফৈজল খান, দ্বিতীয় পুত্র হল সেলিম খান আর তৃতীয় পুত্র হল মৈউন খান । প্রথম পুত্র ফৈজল খান ১৪বছর বয়সে মারা যায় । তৃতীয় পুত্র মৈউন খান মতীলাল নেহেরু নাম নিয়ে হিন্দু সেজে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এর সাথে যুক্ত হয় । ওদিকে দ্বিতীয় পুত্র সেলিম খান কাশ্মীরে সেলিম আবদুল্লা নামে বসবাস করতে থাকে । তার দুই পুত্র, প্রথম পুত্র ফারুক আবদুল্লা এবং দ্বিতীয় পুত্র ওমর আবদুল্লা । মতিলাল নেহেরু ওরফে মৈউন খানের মৃত্যুর পর যখন জওহরলাল নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হল তখন ওদিকে অর্থাৎ কাশ্মীরে কৌশলে ভাই ফারুক আবদুল্লাকে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী করে দিল । এইভাবে ইংরেজ শাসনের পরেও আমরা আরও ৫০বছর পাঠান দস্যু শাসনে কাটালাম প্রতাড়িত হয়ে । তাই হিন্দুগন, আর যাই হোক, আর ওই ছদ্মবেশী পাঠানদস্যু বংশের হাতে ভারত মাতার শাসন তুলে দিও না । জাগো, সজাগ হও, ঐক্যবদ্ধ হও । জয় মা ভবানী, জয় মহাকাল, জয় ভারত ।





দাদুর কোলে নাতি সঙ্গে দিদিমা






1 বছর আগে


Pranab Kumar Kundu একটি ফটো শেয়ার করেছেন৷
দারুণ !

দাদুর কোলে নাতি ! সঙ্গে দিদিমা !

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১৮

রাশিয়ার ইউক্রেনের চেরনোবিল-এর পরমাণু কেন্দ্রের বিস্ফোরণ




     রাশিয়ার ইউক্রেনের চেরনোবিল-এর পরমাণু কেন্দ্রের বিস্ফোরণ



     ফেসবুক থেকে শেয়ার করেছেন                   প্রণব কুমার কুণ্ডু


৩২টা বছর কেটেছে। গ্রামের প্রায় সমস্ত বাড়িগুলিই – দাঁড়িয়ে একরকম। কোথাও বা কোনও একটি বাড়ির সামনের বাগানটাতেই একখানি কাঠের বেঞ্চ, কাঠের টেবিল – তার উপরে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাজানো – হয়তো বা একফালি বাড়িতে বানানো কেক, ডেইজির ডালগুলোয় মরসুমের ফুল এসেছে নতুন। একেকটা উঁচু এ্যাপার্টমেন্ট, ভূতের মতোই যেন দাঁড়িয়ে একলাটিই, বিস্ময়ভরা এক অবাক নীরবতায়। একজনও মানুষ নেই কোথাও। গ্রামের নাম প্রিপইয়াত, জায়গার নাম চেরনোবিল। ৩২টা বছর কেটেছে।
এখানে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কেবল রেডিওএ্যাক্টিভ ট্যুরিজমের নেশায় পাগল কোনও অভিযাত্রী ট্যুরিষ্টদল মধ্যে মধ্যে হানা দিয়ে ফেরে। তাদের পরনে থাকে বিশেষ পোশাক – কোনও কিছুকে স্পর্শ করাও কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ, তাদের জন্যও। তারা দেখে, মেঘমুক্ত নীল আকাশের তলায় – ঝকঝকে সবুজ ঘাস, মাঠ দাপিয়ে ছুটে বেড়ানো বুনো ঘোড়ার দল, নদীতে ঝাঁপানো মাছ – গাছের পাতায় বৃষ্টির জল জমে আছে। এসব তাদের স্পর্শ করা বারণ – কারণ এসবেতেই যে নিঃশব্দে মিশে রয়েছে প্রজন্মের বিষ, বাসা বেঁধে আছে ক্যান্সারের মৃত্যুদূত। এ এক অদ্ভুত শহর, জীবন্মৃত স্মৃতিদেরকেই দুঃখ চেপে হাতড়ে খোঁজার শহর, চেরনোবিল। ৩২টা বছর কেটেছে।
১৯৮৬র এপ্রিলে, রাশিয়ার (বর্তমানে ইউক্রেন) চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রের বিস্ফোরণ – পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিল্প-বিপর্যয়। এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল প্রকাশিত হতে বিস্তর সময় লেগে গিয়েছে। আজ সাংবাদিক-লেখক-ভুক্তভোগীরা প্রমাণ করতে পেরেছেন – সেই চেরনোবিল কেবল একটি সামান্য দুর্ঘটনা নয়, ইয়োরোপের একাধিক দেশের সমাজ-পরিবার-যোগাযোগ-আর্থসামাজিক-নীতি সবটুকুকেই ওলটপালট করে দিতে পেরেছে চেরনোবিল।
২০১৫সালে নোবেল পুরষ্কারজয়ী সাহিত্যিক শ্বেতলানা এ্যালেক্সিভিচ ১৯৯৭সালের একটি লেখায় নির্দ্বিধায় তাই বলতে পেরেছিলেন, “চেরনোবিলের নাম শুনলেই সবাই ইউক্রেনের কথা বলে, তারা ভুলে যায় বেলারুশ বা বেলোরাশিয়ার কথাও – চেরনোবিলকে ঘিরেই গড়ে ওঠা বেলারুশের ইতিহাস তাই আজও লেখা বাকি, কেউ বা হয়তো কোনোদিন তা লিখবে বলেই আশা নিয়ে বেঁচে থাকি।” বেলারুশ অর্থে বেলোরাশিয়া বা ‘হোয়াইট রাশিয়া’ – তথ্যগত ভাবেই চেরনোবিল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।
চেরনোবিলে পরমাণু-বোমা পড়েনি, কেবল পরমাণু-বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একটি কেন্দ্রের মূল রিএ্যাক্টরটি বিক্রিয়া চলাকালীন বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় – ফলস্বরূপ রেডিওএ্যাক্টিভ ফল-আউট ঘটে – অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় কণা বা বিকিরণ পরিবেশে ছড়িয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিলো যে – আকাশের বায়ুমণ্ডলেও সেই বিকিরণ এবং তেজস্ক্রিয় কণা গিয়ে মেশে – এবং, কিছু দিনের ব্যবধানেই, আবহাওয়াগত কারণে তা সারা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়েই বয়ে বেড়ায় – ঠিকই শুনেছেন, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়েই এর বিস্তার ঘটে, বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন ভারতবর্ষ এমনকি আফ্রিকার বায়ুমন্ডলেও চেরনোবিলের ঘটনার কিছু সপ্তাহ পরে পরেই অস্বাভাবিক মাত্রায় তেজস্ক্রিয় কণার অস্তিত্ব মিলতে পেরেছিলো। তবে, বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো প্রতিবেশী দেশগুলিই। উদাহরণ দেবার চেষ্টা করা যাক।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ আগুনে বেলারুশের ৬১৯টি গ্রাম জার্মান সেনার হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিলো, চেরনোবিলের কারণে বেলারুশের ৪৮৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৭০টি গ্রামের মাটি ভয়ানক ভাবে তেজস্ক্রিয়তার লক্ষণ দেখানোয় – তাদেরকে চিরদিনকার মতোই ৪ থেকে ৬ফুট মাটির নীচে বুজিয়ে ফেলা হয়। এটাও ঠিকই শুনেছেন – মানুষ নয়, ৭০টি আস্ত গ্রামকে সে সময়ে মাটির গভীরে বুজিয়ে ফেলা হয়েছিলো যুদ্ধকালীন তৎপরতায়, পৃথিবীর অজান্তেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বেলারুশের জনসংখ্যার প্রতি ৪জনের ১জন নিহত হয়েছিলেন, চেরনোবিলের তেজস্ক্রিয়তায় আজ বেলারুশীয়দের প্রতি ৫জনের ১জনকে তেজস্ক্রিয় অঞ্চলে – তেজস্ক্রিয়তাকে বরণ করে নিয়েই বাঁচতে হয় – প্রতি ৫জনের ১জন অর্থে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ (৭ লক্ষ শিশু সমেত)।
বেলারুশের গোমেল এবং মোগিয়ালভ প্রদেশে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার ২০% বেশী। দেশটির ২৩% জমিই তেজস্ক্রিয়তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত। নদীর জলে বিকিরণ মিশে বেড়ায় – সোনালী মাছেরা অভক্ষণীয় – তাদের শরীরেও মিশেছে বিষ। মস্তকহীন শিশুরা জন্ম নিয়েছে, আতঙ্কের প্রহর গুণতে গুনতেই চিৎকার করে কেঁদে উঠতে চেয়েছেন নতুন মায়েরা সবাই। ক্যান্সার সেখানে রোজকার খবর, ভয় বা বিস্ময়ের অবকাশ নেই কোথাও। চেরনোবিলের আগে , প্রতি ১লক্ষ বেলারুশীয়ের ৮২জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতেন – এখন সংখ্যাটা ৬০০০ ছাড়িয়ে যায় – নীট বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৪গুণ।
সামাজিক অবক্ষয়ের খবর শুনবেন – তৎকালীন সোভিয়েত সরকার খবরটিকে চেপে রাখতে এতটাই তৎপর ছিলেন, যে দুর্ঘটনার ১সপ্তাহেরও কম সময়ের ভিতরেই – দেশের অন্যান্য গ্রাম ও শহর থেকে শিশুদেরকে জুটিয়ে এনে চেরনোবিলে মে দিবসের মিছিলে হাঁটানো হয়। তাদের ক্যান্সার হয়েছিলো। ‘স্বেচ্ছাসেবক’দের ‘উদ্বুদ্ধ’ করে তুলে, সামান্যতম নিরাপত্তা ছাড়াই তাদেরকে চেরনোবিলের দুর্ঘটনাস্থলের নির্বিষকরণের কাজে নামিয়ে দেওয়া হয় – সেখানে মাত্রাতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রভাবে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র বা রোবটই আর কাজ করতে পারছিলো না কোনোভাবেই। বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু বা অসুস্থতার যে সমস্ত বর্ণনা পড়বার সুযোগ পেতে পেরেছি – সেসব এখানে লেখাও আমার পক্ষে কষ্টকর, কুৎসিত বীভৎসার এমনই চরম রূপ দেখেছিলো চেরনোবিল। বিজ্ঞানীদের উপর সোভিয়েত সরকার নজরদারী বসায়, যাতে করে কেউ কোনও বেফাঁস মন্তব্য কোথাও করে না বসেন। সমাজতাত্ত্বিকেরাও তাই সোভিয়েত ভেঙ্গে যাবার কারণগুলির মধ্যেও আজকাল চেরনোবিলের অবদান দেখেন।
৫ইজুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবী জুড়ে আরও নানা ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গেই, পরমাণু-চুল্লি বা পরমাণু বিদ্যুতের বিরোধিতায় একাধিক সংগঠন আওয়াজ তুলতে চাইবে। চেরনোবিলের সঙ্গে সঙ্গেই তারা মনে করিয়ে দিতে চাইবে ২০১১সালের ফুকুশিমা পরমাণু-কেন্দ্রের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথাও। ১৯৮৬র চেরনোবিলে মানুষের ভুলেই পরমাণু কেন্দ্রের চুল্লিতে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিলো, ২০১১র ফুকুশিমায় সেই একই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো সুনামির জলোচ্ছ্বাস। যে কোনও পরমাণু-চুল্লিরই সম্পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার অর্থই হলো তাই ‘মূর্খের স্বর্গে অধিষ্ঠান’। আর সেসমস্ত দুর্ঘটনার ফলশ্রুতির খতিয়ান যে ঠিক কেমনটাই বা হতে পারে তা তো এই গত কয়েকটি অনুচ্ছেদেই বিস্তারিত বলে এলাম।
সরকার আপনাকে জানাবে না কিছুই, কারণ পরমাণু-বিষয়ক সব খবরই যে রাষ্ট্রীয়-নিরাপত্তার লালফিতেতেই বন্দী পড়ে থাকে চিরটাকাল। নিঃশব্দে আপনার চারপাশের সবকিছুই, বিষাক্ত হয়ে পড়বে সকলের অজান্তেই। ফুকুশিমার যে চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটেছিলো – তার কেন্দ্রস্থলে আজ অবধিও কোনও রোবট বা যন্ত্রও পৌঁছিয়ে উঠতে পারেনি। চেরনোবিলের সেই ইতিহাসই যেন এই ৩২টা বছরেই নতুন হয়ে ফিরে আসতে পেরেছে আরেকবার।
সেই মৃত শহরের প্রতিটি ঘাসের বিন্দুতে জেগে থাকা কণাগুলির মতোই, সত্যিটাকে জানাবার প্রয়োজন ছিল – পরমাণু মাথায় থাকুক, আমরা বরং সূর্য বা সৌরশক্তিকেই – ভূতাপশক্তি বা জোয়ার-ভাঁটার শক্তিকেই নিজেদের ভবিষ্যত বলে বেছে নেবার চেষ্টা চালিয়ে যাই। আগামী প্রজন্মকে বাঁচাবার অঙ্গীকারটুকুকে বুকে নিয়েই।
তথ্য সৌজন্যে: অমর্ত্য বন্দোপাধ্যায়


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



     ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


     শেয়ার করেছেন               প্রণব কুমার কুণ্ডু


আজকের দিনে ১লা জুলাই ১৯২১ সালে #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়...
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি পদক লাভ করেছেন।এছাড়াও, এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এশিয়াউইকের পক্ষ থেকে শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেয়।এখানে প্রায় ৩৭,০০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ১,৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছে৷
ইতিহাস
মূল নিবন্ধ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট...
নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তৎকালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন,
বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লর্ড লিটন যাকে বলেছিলেন স্পেল্নডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন। পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে।
১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে ভাইসরয় এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে ছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি আর কুলচার, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি. আচির্বল্ড, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ. এইচ. আর. জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। লর্ড রোনাল্ডসে ১৯১৭ হতে ১৯২২ সাল পর্যন্ত বাংলার গভর্নর থাকা কালে নবাব সৈয়দ শামসুল হুদা কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য ঘোষণা করেন। সৈয়দ শামসুল হুদার সুপারিশে স্যার এ. এফ. রাহমান কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট মনোনীত করা হয়, তিনি ইতিপূর্বে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যরত ছিলেন।পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।
সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। এ ছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ের ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস" হিসেবে পালন করা হয়।
তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।
প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ. ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫ টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৩০-৩৪জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।