বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

মাননীয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ


মাননীয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ



আজ সকালে, ০৭/১২/২০১৭ তারিখে,  'স্মৃতিগুলো'  এসেছিল, কিন্ত, আর এলো না !

আমি আমার কাজ সারতে পারলাম না !

'স্মৃতিগুলো' তো আপনারা,  'বিজ্ঞপ্তি'তেও  দেন নি !

স্মৃতিগুলোর ব্যাপারে, আপনারা মোটেই  'যত্নশীল' নন !

আপনারা দায়িত্বশীলও নন !

প্রণব কুমার কুণ্ডু।

দিব্যদৃষ্টি ( এক ) ( গদ্য )



দিব্যদৃষ্টি ( এক ) ( গদ্য )


শুধু  এক  রূপ  কেন, ভগবানের   শত  শত, সহস্র  সহস্র দিব্য  রূপ  আছে ।
তাঁর  নানান  ধরণের  বর্ণ।
তিনি  নানান   আকৃতি  বিশিষ্ট ।
ঈশ্বরের  কেবল  একঅংশে, অনন্ত  কোটি  ব্রহ্মাণ্ড পরিব্যক্ত  রয়েছে।
আমাদের  দৃশ্যইন্দ্রিয়  দিয়ে, ঈশ্বরকে  দেখা  যায়  না।
তার জন্য    দিব্যদৃষ্টি  দরকার !
ঈশ্বরই  সেই  দিব্যদৃষ্টি দিতে  পারেন।
এবং  এই  ব্যাপারে, কখনো সখনো ঈশ্বর  সমতুল্য  কেউ  কেউ !




*সূত্র  :  ' গীতা-মাধুর্য্য  ',  পৃষ্ঠা  ৬৬, গীতা  প্রেস। 

বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

বৌদ্ধমত ( গদ্য )


বৌদ্ধমত ( গদ্য )




বৌদ্ধমত



বৌদ্ধরা, পরলোক ও জন্মান্তরে বিশ্বাসী।
তাঁদের মতে, বিশ্ব অনাদি হওয়ায় ঈশ্বরবিহীন !
বৌদ্ধমতাবলম্বলিরা আসলে নাস্তিক !
বৌদ্ধদের কাছে জগৎ মিথ্যা !
বুদ্ধদেব প্রবর্তিত নিরীশ্বরবাদী শাস্ত্র, বৌদ্ধশাস্ত্র।
বুদ্ধ নিজেই তত্ত্ব।
বৌদ্ধধর্মের নির্বাণ, পরম তত্ত্ব।
বৌদ্ধদের মতে, বৌদ্ধদর্শনই, সত্যিকারের দর্শন !

যেখানে, বেদ, সম্ভবত, মধ্যএশিয়া  থেকে আগত মানুষজনের ও ভারতবর্ষের স্থানীয় মানুষদের, সম্মিলিত ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও আবেগ সম্বলিত জীবনযাপন  প্রণালী।

দয়া, সদাচরণ, বৌদ্ধ জীবন। এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতি।

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ষড়যন্ত্র ?


ষড়যন্ত্র ?

ফেসবুক থেকে  শেয়ার করেছেন               প্রণব কুমার কুণ্ডু।



🔴🔴#বিশ্ব_বাংলা_রহস্য_ফাঁস (#BY_NIA)  #পশ্চিমবঙ্গকে নাম পরিবর্তন করে  #বাংলা কেন হচ্ছে??  #ম্যাপ_বিকৃতির কী কারণ ?

#BISWABANGLA or #Bishal_Bangla or Brihat Bangla is nothing but a deeper conspiracy of a Greater Islamic Bangla hatched by some Jihadi persons,  with the terror modules of ISI.
Muslim population of 153 millions of both Bengal,  is equal to about TWICE  the Hindu population of both Bengal of 77 millions. ( 90 % Muslim of Bangladesh total population-126 millions and 30 % Muslim of WestBengal total population- 27 millions, and 10 % Hindu of Bangladesh- 14 millions and 70% Hindu of WestBengal- 63 millions) i.e. 77 x2=154 millions. 

The terror outfit is using WestBengal politics as the front office and is a threat to Indian integrity and sovereignty. 

The proposed renaming of WestBengal to Bangla by the ruling party is, probably,  also a part of this terror ploy. 

The realization of Greater Islamic Bangla will again displace the Hindu Bengali population,  who has become minority in their own land. 

This is indeed, a cause of concern !

#Source___NIA




ঢাকা সহ বাংলাদেশের বড় শহর গুলিতে সরকারী সম্পত্তি, ঘরবাড়ি সাজানো হচ্ছে নীল-সাদা রঙে।

খুব প্রচার চলছে বিশ্ব বাংলা ও তার (ব) লোগোর।

প্রচার চলছে পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশ মিলে গিয়ে তৈরি হবে বিশ্ব বাংলা নামক দেশ।

পশ্চিম বাংলাকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতেই যে "বিশ্ব বাংলা" নামের সর্বনাশা পরিকল্পনা রয়েছে, সেটা দিনে দিনে স্পষ্টতর হচ্ছে।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে মুসলিম লীগের পরিকল্পনায় শরৎ বসুরা,  যুক্ত বাংলার স্বপ্ন বিক্রী করে,  সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের অধিকারে তুলে দিতে চেয়েছিল পুরো বাংলা।

সফল হতে পারেনি,  বাঙালি হিন্দুর রক্ষাকর্তা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্য।

সেই ষড়যন্ত্রকারীরা আবার ফিরে এসেছে।

ঝাঁপাচ্ছে !

সংগৃহীত:- #

পশ্চিমবঙ্গের_হিন্দুরা, সাবধান হোন।

ভারতের বাঙালি হিন্দুরা, সাবধান হোন !

শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৭

সত্য



সত্য

শ্রী শ্রী আনন্দ মূর্ত্তিজি-এর লেখাটি শেয়ার করেছেন                 প্রণব কুমার কুণ্ডু।

Sanatan Dharma / সনাতন ধর্ম

বিশুদ্ধ অদ্বৈতবাদ বা মায়াবাদ বা উত্তর মীমাংসা দর্শন মতে,‘ব্রহ্ম সত্য , জগত মিথ্যা’ কতটা গ্রহণযোগ্য ?

‘সত্যম্‌’ শব্দের একটা মানে হল ‘ঋতম্‌’। আরেকটা মানে হল ‘পরহিতার্থং বাঙ্‌মনসো যথার্থত্বং সত্যম্‌’। অন্যের হিত করবার জন্যে,  বাক্যের দ্বারা,  অথবা মনের দ্বারা,  তুমি যে পথে চলছ,  সেই পথটার নাম সত্য। এখন ‘ব্রহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যা’ - জগৎ মিথ্যা, জীব নেই, তাহলে কার হিতটা করবে তুমি ? ‘পরহিতার্থং’ - পর বলে কেউ নেই, সুতরাং সত্য জিনিসটাও তো থাকছে না। তাহলে ‘ব্রহ্ম সত্যম্‌’ কী করে বলছ ?

সত্যের দ্বিতীয় মানে হচ্ছে,  অপরিণামী সত্তা, That undergoes no metamorphosis, যার মধ্যে কোন পরিবর্ত্তন হয় না। কারুর মধ্যে পরিবর্ত্তন হয় না বলে,  যদি কাউকে বিশিষ্ট করতে চাই,  তাহলে পরিবর্ত্তন বলে একটা ভাবনার অস্তিত্ব পৃথিবীতে থাকছে কি না ? আর সেই পরিবর্ত্তন আর অন্যান্যদের হয়, কেবল ওঁরই হয় না, তাহলে অন্যান্যরা তো থাকছেন,  যাদের মধ্যে পরিবর্ত্তন হয়। তবে তো একে আমি বিশিষ্ট করতে পারব,  যে এঁর মধ্যে পরিবর্ত্তন হয় না, আর বাকীদের মধ্যে পরিবর্ত্তন হয়। যাদের মধ্যে পরিবর্ত্তন হয় তাদের থেকে ইনি আলাদা, বাকীরা পরিণামী আর ইনি অপরিণামী। ওঁর পরিবর্ত্তন হয় না। কিন্তু বাকীদের তো স্বীকারই করছি না ! ‘জগন্মিথ্যা’ - জীব মিথ্যা; সুতরাং এর পরিণামিত্বও মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে। ব্রহ্মের অস্তিত্ব বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে,  যদি জীব ও জগতের আপেক্ষিকতা স্বীকার না করা হয়। কী সাংঘাতিক জিনিস! বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে কী দারুণ অপচয় ! একে আমি intellectual extravaganza ছাড়া আর কিছুই বলতে পারি না। A foolish intellectual extravaganza , একটা নির্বোধাত্মক বৌদ্ধিক অপচয় ।

আর তৃতীয় জিনিসটা হচ্ছে কী ? - না, ‘সত্য’ শব্দের অন্য মানে হচ্ছে যা ঋত অর্থাৎ যা বাস্তবিকই ঘটেছে; যে ঘটনা ঘটেছে সেইটাকেই স্বীকৃতি দেওয়া বা তারই বিবৃতি দেওয়া - সেইটাকেই বলা হয় সত্য, ঘটনার যথাযথ পঞ্জীকরণ। এই সত্যের ভিত্তিতে যে শাস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে তাকে বলা হয় ইতিকথা (History) - ইতিহাস নয়, ইতিহাসের অন্য মানে। ঘটনার যথাযথ পঞ্জীকরণ, যা ঘটেছে,  তাই রেকর্ড করছি,  বা তাই বলছি - এ হল সত্য। এ অর্থে যদি দেখি, এক ব্রহ্মই আছেন, আর দ্বিতীয় কেউ নেই,  তাহলে ঘটনাই বা ঘটবে কি করে ? ব্রহ্ম ছাড়া তো কেউ নেই, কোন কিছু নেই -
“অষ্টকূলাচলাঃ সপ্তসমুদ্রাঃ ব্রহ্মপুরন্দর দিনকররুদ্রাঃ।
ন ত্বং নাহং নায়ং লোকঃ ব্যর্থ কিমর্থং ক্রিয়তে শোকঃ।।”
- এই অষ্টকুলাচল, এই সপ্ত সমুদ্র, এই যে বিরাট নিহারিকাপুঞ্জ, এই যে সৃষ্টিকারী ব্রহ্মা, সৃষ্টিকর্তা এই যে পুরন্দর, এই যে দিনকর অর্থাৎ সূর্য, এই যে রুদ্র অর্থাৎ কালাগ্নি - এরা কেউই নেই, তুমিও নেই, আমিও নেই, সুতরাং বৃথা এ বিষয়ে,  ও বিষয়ে চিন্তা করে কী করছ ? একথা বলা হচ্ছে বিশুদ্ধ অদ্বৈতবাদে। এরা কেউই যখন নেই - এদের পারস্পরিক সংঘর্ষে ও সমিতিতেই না ঘটনা ঘটছে । ধরো, এই পাশ বালিশটা ডাইনে থেকে এনে বাঁয়ে রাখা হল। এই পাশবালিশটা আছে, আর একজন লোক রয়েছেন যিনি পাশবালিশটা সরালেন। তবে এই সরাবার ঘটনাটা ঘটল। যখন ব্রহ্ম ছাড়া আর কেউই নেই তখন কোন ঘটনাও ঘটছে না। ঘটনা ঘটতে গেলে আরও মানুষ দরকার, বস্তু দরকার, ক্রিয়ার অন্বয় হওয়া দরকার। সুতরাং কিছুই হচ্ছে না। সুতরাং ঘটনা পঞ্জীকরণের প্রশ্নও উঠছে না। আর ঘটনা পঞ্জীকরণ করবার কোন মানুষও নেই, কোন কাগজ-পত্তরও,  পৃথিবীতে,  বিশ্বে নেই, পেন পেন্সিল কিছুই নেই, ইতিহাস নেই, ইতিহাসবেত্তাও নেই, ঐতিহাসিকও নেই, সুতরাং ঘটনা ঘটছে না,  আর ঘটনা পঞ্জীকরণের নামই যখন সত্য, তখন সত্যও জন্মাচ্ছে না। সুতরাং ‘ব্রহ্ম সত্যম্‌’ হবে কোত্থেকে ? যে সত্যের অস্তিত্বই নেই ব্রহ্মকে সেই সত্য বলব কি করে ? এদিক দিয়েও মহাভুল হল।

-শ্রী শ্রী আনন্দ মূর্ত্তি

Pranab Kumar Kundu



Pranab Kumar Kundu



শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

নারী



নারী




" ত্রিলোকে দেখিতে পাওয়া যায় বিরুদ্ধ ধর্ম্মের আচরণ, চাপল্য এবং ভ্রাতৃভেদ করাই স্ত্রীগণের স্বভাব। তুমি যাহা চাও, নারী তাহার বিপরীতাচরণ করিবেই। বেশী কথা কি? নারী দুঃখ দিয়াই গঠিত! স্বয়ং লক্ষ্মী সীতাদেবী যাঁহার পত্নী, সেই রামচন্দ্রকে যখন আজীবন স্ত্রীর জন্য দুঃখ ভোগ করিতে হইয়াছে, তখন সেই রমণী হইতে মানুষ কি সুখী হইতে পারে? রমণীর হৃদয় সদা কালকূটে পূর্ণ। দূর হইতে একজনকে দেখিলাম, দেখিয়া মনে করিলাম হয়ত এ ব্যক্তি নারী হইতে সুখী। নিকটস্থ হইয়া জানিলাম, এ রমণী হইতে দুঃখভোগ করিতেছে। নারীই নরকদ্বার। নরকদ্বার বলি কেন? নারীই নরক। নারী যে হৃদয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সে যতদিন নরকযন্ত্রণা ভোগ করিবে এবং জীবনান্তে আকল্প নরকে বাস করিবে। ছি ছি নারীতে সুখ নাই।"

সংকলন :  " শ্রীওঙ্কারনাথ--রচনাবলী ( প্রথম খণ্ড ) ",  হইতে।
সংকলক : প্রণব কুমার কুণ্ডু।

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

শ্রাদ্ধ



শ্রাদ্ধ

শেয়ার করেছেন    প্রণব কুমার কুণ্ডু।

Prasanta Kumar Mondal     Binod Saradar এবং অন্যান্য 109 জন এর সঙ্গে আছেন।

শ্রাদ্ধ্যকর্ম হল ব্রাহ্মণ্য ধান্দাবাজিঃ--

মৃত পিতামাতার শ্রাদ্ধে,  ব্রাহ্মণ পুরোহিত,  আপনাকে দিয়ে যে মন্ত্রপাঠ করায়,  সে মন্ত্রের অর্থ জানেন কী ? সমস্ত শাস্ত্রগ্রন্থে এরা মানুষকে জাতের নামে হীন,নীচ প্রতিপন্ন করেছে, শ্রাদ্ধ্যেও তার ব্যাতিক্রম হয় নি।শ্রাদ্ধের মন্ত্রের অর্থ না জেনে,  ব্রাহ্মণ পুরোহিতের কথায়,  বোকা যজমান,  কেমন নিজেকে,  এবং নিজের জন্মদাতা পিতা- মাতাকে গালাগালি করে দেখুন।

“পাপহম পাপকর্মাহম পাপাত্মা পাপসম্ভবা
ত্রাহিমাম কৃপাদেবা স্মরণাগতা বাৎসল্য”।
অর্থ হল--  আমি পাপী, আমি পাপ কর্মের ফল, আমার আত্মা পাপী, আমার দ্বারা পাপই সম্ভব, হে দেব ! কৃপা করে স্মরণাগতকে আশ্রয় দিন।
আপনি কেন পাপী ? কোন পাপ কাজ আপনি করেছেন ? আপনার পিতা-মাতার পাপকর্মের ফলে কী আপনার জন্ম ? তাই কী? আপনি যদি কাল্পনিক আত্মায় বিশ্বাস করেন, সে আত্মা পাপী হল কিভাবে ? আপনার থেকে কী সব পাপই উৎপন্ন হবে ?

শাস্ত্র অনুযায়ী,  দেবদেবী,  ব্রাহ্মণের মুখ দিয়ে খায়, ব্রাহ্মণের মুখ দিয়ে কথা বলে।সাধারণ মানুষ ডাকলেও আসবে না, খাবেও না্, কথাও বলবে না।আবার শ্রাদ্ধ করলে,  মৃত পিতৃপুরুষগণ,  ব্রাহ্মণের কথায় ওঠাবসা করে।ব্রাহ্মণের কথায় তারা আসবে এবং ব্রাহ্মণের কথায় তারা উত্তর পুরষদের প্রচুর দান করবে।মানুষের এমন অন্ধবিশ্বাস এবং এমন নির্লজ্জ পুরোহিত তন্ত্র পৃথিবীর কোনো ধর্মে নেই।

ব্রাহ্মণদের সৃষ্ট দেবদেবীরা,  ব্রাহ্মণের কথায় সাড়া দেয়, কেবল ব্রাহ্মণের সাথে কথা বলে, ব্রাহ্মণ খাদ্য চিবিয়ে দিলে তবে খায় এবং ব্রাহ্মণের কথায় যজমানকে সবকিছু দান করে।বিনিময়ে ব্রাহ্মণ যজমানের দেত্তয়া সামান্য কিছু নিয়ে সন্তুষ্ঠ হয়।এমন মহান হৃদয় ভারতীয় ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের।নিজের জন্য তবু দেবতাদের কাছে এরা কিছুই চায় না।বোকা যজমানদের এমন মিথ্যাবুলি শিখিয়েছে,  ব্রাহ্মণ পুরোহিত।বোকা যজমানরা জানে না,  যে, ব্রাহ্মণের তৈরী জড় পদার্থের পুতুল দেবদেবী,  শুধুই তাদেরকে ঠকানোর জন্য।যজমানরা কি কোনো দিন ব্রাহ্মণ পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করেছেন? যে আপনারা শুধু আমাদের জন্য দেবদেবীর কাছে প্রার্থনা করেন কেন? আর আমাদের দেওয়া অল্প সম্পদে সন্তুষ্ট হন কেন? আপনারা দেবদেবীর কাছে নিজেরা ইচ্ছামত চেয়ে নেন না কেন? দেবদেবীর কাছে চাইলে যদি সব পাওয়া যেত,  তাহলে তো আর আপনাদের অভাব থাকতো না।এমন সরল প্রশ্নটি যজমানরা কেন করেন না?বাবা,মায়ের মৃত্যূর তাঁদের আত্মা-প্রেতাত্মা ও ব্রাহ্মণের কথায় নাকি উঠবোস করেন, এমন দাবি ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের।
দেবদেবীরা যেমন ব্রাহ্মণের উচ্ছিষ্ট খায়,  আত্মা-প্রেতাত্মারাও নাকি ব্রাহ্মণের উচ্ছিষ্ট খেয়ে ধন্য হয়। ভূ-দেবতা সেজে এরা জীবিত মানুষকে উচ্ছিষ্ট খাইয়েছে,  আর মৃত্যূর পর তার প্রেতাত্মাকেও উচ্ছিষ্ট খাওয়ায়। কেন খাবে না ? সমস্ত দেবদেবী যদি ব্রাহ্মণ পুরোহিতের চিবিয়ে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে ধন্য হয়, মানুষ খাবে না কেন ? এমন জঘন্য বিশ্বাস হিন্দুদের।
সারা জীবন বাড়ীতে এসে হাজর-বাজর মন্ত্র আউড়ে,  যে ব্রাহ্মণ দেবদেবীর কাছ থেকে একটা পয়সা আদায় করে দিতে পারেনি, সেই বাড়ীর ছেলে আবার ঐ ব্রাহ্মণ পুরোহিতের কাছে ছুটছে,  মৃত বাবা/মাকে স্বর্গে পাঠানোর জন্য।এর থেকে
হাস্যকর আর কী হতে পারে। বোকা যজমানারা আর কবে বুঝবে, এসব দেবদেবী কাল্পনিক, আর কর্মফল, আত্মা, প্রেতাত্ম, জন্মান্তরবা্দ,স্বর্গ,নরক,  সব ব্রাহ্মণ পুরোহিতের ধানদাবাজি।শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ পুরোহিতের মন্ত্রবলে মৃতের পূর্বপুরষরা দলে দলে আসবে,  আর প্রচুর ধনসম্পদ দান করবে,  মৃতের সন্তানদের।এমন বিশ্বাস কী পৃথিবীর কোন ও সভ্য মানুষ করে?
চার্বাক পন্ডিত মাধবাচার্য বলেছেন--- “স্বর্গ-নরক নেই, পারলৌকিক আত্মা নেই,বর্ণাশ্রমিক ক্রিয়া,  নিষ্ফলা।অগ্নিহোত্র তিনবেদ (ঋক,সাম ও যজু), ত্রিদণ্ড, ছাইভস্ম লেপন, বুদ্ধিহীন ও পৌরুষহীন, নিষ্কর্মা মানুষের জীবিকার উপায় মাত্র”।

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন--- “মৃত্যূর পর মানুষ স্বর্গে যায় এটা কল্পনা মাত্র।সজ্জন ব্যক্তি মৃত্যূর পর স্বর্গে গিয়ে অনন্ত সুখময় জীবন যাপন করে--- এ ধারনা স্বপ্ন মাত্র।স্বর্গ ও নরক এসব আদিম ধারণা”।(বাণী ও রচনা-দশম খন্ড-পৃষ্ঠা ১৫৯)।
তাই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান নয়,শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান করুন।নাপিত,ব্রাহ্মণ নয়,আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে।