বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

দোকানদার দশ টাকার কয়েন নিচ্ছে না !

দোকানদার দশ টাকার কয়েন নিচ্ছে না !



নৈহাটির ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক, আমাকে , এক হাজার টাকার দশ টাকার কয়েন দিয়েছে।

শ্রী দুর্গা স্টোর্স, যারা, সকল প্রকার মুদিখানা দ্রব্য, স্টেশনারি দ্রব্য বিক্রেতা, জেরক্স করে, তরল দুধের পাউচ প্যাকেট বিক্রি করে, দুধের দাম হিসাবে হিসাবে, আমার কাছ থেকে দশ টাকার কয়েন নিচ্ছে না !

বলেছে, দু হাজার টাকার নোটও নেবে না !

মনে হয়, একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষপুষ্ট হয়ে, কেন্দীয় সরকারের বিরুদ্ধে তারা জেহাদ ঘোষণা করছে ! সাধারণ মানুষকে নাকাল করছে !

দোকানের ঠিকানা, নৈহাটির বরোদা রোডে, কাত্যায়নী গার্লস স্কুলের কাছে, সরকার বাড়ির লাগোয়া। ওদের মোবাইল নম্বর ৯৬৭৪৩৬৩২০৬।

দোকানের যদি বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকে, সেই ট্রেড লাইসেন্স দেয় তো, নৈহাটি পৌরসভা।
কাজেই নৈহাটি পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাঁরা ব্যবস্থা নিন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ব্যবস্থা নিন।

পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি  না। আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কোন সম্মাননা নেই !

ভারত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাঁরা কি ব্যবস্থা নেন, তাও দেখবো।

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

সূর্য থেকে দিব্যাস্ত্র

সূর্য থেকে দিব্যাস্ত্র




সূর্যের সাথে বিয়ে হয়েছিল সংজ্ঞার।

সংজ্ঞা সূর্যের তেজ সহ্য করতে পারত না !

চোখ কুঁচকে থাকত !
শরীর জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যেত !

সেই অসুবিধা দূর করতে, সংজ্ঞার বাবা ত্বষ্টা, সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করলেন !

ফলে, সংজ্ঞা সূর্যের ভীষণ তেজ থেকে, কিছুটা রেহাই পেলেন !

সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করার ফলে, এক এক ভাগে , এক এক আলাদা আলাদা 'আদিত্য'-র উদ্ভব হল !

সূর্যকে বারো ভাগে ভাগ করার জন্য, এক এক বাংলা মাসে, এক এক আদিত্য, সূর্যের জায়গায়,  দিনের বেলায় আকাশে উদিত থাকে !

তার মধ্যে, ফাল্গুন মাসের সূর্যের অংশটার নাম, 'সূর্য'-ই থেকে যায় !

বাকি এগারো মাসের আদিত্যদের জন্য, সব আদিত্য-র ক্ষেত্রেই, আলাদা আলাদা নাম রয়েছে !


কিন্তু এত করেও সংজ্ঞার সমস্যাটা মেটানো গেল না !

সূর্যের তেজ অত্যধিক রয়েই গেল !

তেজের জন্য, সংজ্ঞার পক্ষে,  স্বামী সূর্যের ঘর করা সম্ভব হচ্ছিল না !

তাই সংজ্ঞা, স্বামী সূর্যের ঘর ছেড়ে চলে গেলেন !

প্রথমে পিতৃগৃহে গেলেন।

কিন্তু পিতা ভৎর্সনা করায়, শেষে 'উত্তরকুরু' বলে এক পৌরাণিক জায়গায় চলে গেলেন !


খবর পেয়ে সংজ্ঞার বাবা,  ত্বষ্টা আবার সূর্যকে নিয়ে পড়লেন !

ত্বষ্টা এবার শাণযন্ত্র দিয়ে বারবার প্রচণ্ড রকমে  ঘষে ঘষে সেই 'বারোভাগের একভাগ সূর্য'-কে আরো ক্ষীণ ও মৃদুতেজা করে দিলেন !

বারবার প্রচণ্ড রকম ঘষার ফলে ,  বারবার শাণযন্ত্র ব্যবহার করার ফলে, সূর্যের বেশ কিছু অংশ ছিন্ন হয়ে বেরিয়ে গেল !

ত্বষ্টা, সূর্যের সেই বিচ্ছিন্ন হওয়া অংশগুলো সংগ্রহ করে, সেগুলো দিয়ে দক্ষতার সাথে, বিষ্ণুর চক্র, শিবের ত্রিশূল, এবং অন্য অনেক দেবতাদের অস্ত্র বানিয়ে দিলেন !

বিষ্ণু, 'চক্র' পেয়ে ত্বষ্টাকে 'বর' দিলেন। শিব, ত্রিশূল পেয়ে ত্বষ্টাকে আশীর্বাদ করলেন ! অন্যান্য দেবতারাও, যাঁরা দিব্যাস্ত্র পেলেন, ত্বষ্টাকে শুভেচ্ছা জানালেন !

সূর্যের ছিন্ন অংশগুলি থেকে, এইভাবে, বিষ্ণুর চক্র, শিবের ত্রিশূল, এবং অন্য দেবতাদের  বিভিন্ন দিব্যাস্ত্র তৈরি করা, একটি পৌরাণিক কাহিনী ! পুরাণের গল্প !

সূর্য সংজ্ঞা ছায়া ও ত্বষ্টা'র পৌরাণিক গল্প

                                                                                   সূর্য সংজ্ঞা ছায়া ও ত্বষ্টা'র পৌরাণিক গল্প

সূর্যের সাথে বিয়ে হয়েছিল সংজ্ঞার।

সংজ্ঞা সূর্যের তেজ সহ্য করতে পারত না !

চোখ কুঁচকে থাকত !
শরীর জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যেত !

সেই অসুবিধা দূর করতে, সংজ্ঞার বাবা ত্বষ্টা, সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করলেন !

ফলে, সংজ্ঞা সূর্যের ভীষণ তেজ থেকে, কিছুটা রেহাই পেলেন !

সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করার ফলে, এক এক ভাগে , এক এক আলাদা আলাদা 'আদিত্য'-র উদ্ভব হল !

সূর্যকে বারো ভাগে ভাগ করার জন্য, এক এক বাংলা মাসে, এক এক আদিত্য, সূর্যের জায়গায়,  দিনের বেলায় আকাশে উদিত থাকে !

তার মধ্যে, ফাল্গুন মাসের সূর্যের অংশটার নাম, 'সূর্য'-ই থেকে যায় !

বাকি এগারো মাসের আদিত্যদের জন্য, সব আদিত্য-র ক্ষেত্রেই, আলাদা আলাদা নাম রয়েছে !


কিন্তু এত করেও সংজ্ঞার সমস্যাটা গেল না !

সূর্যের তেজ অত্যধিক রয়েই গেল !

তেজের জন্য, সংজ্ঞার পক্ষে,  স্বামী সূর্যের ঘর করা সম্ভব হচ্ছিল না !

তাই সংজ্ঞা,  স্বামী সূর্যের ঘর ছেড়ে চলে গেলেন !
প্রথমে পিতৃগৃহে গেলেন। পিতা ভৎর্সনা করায়, শেষে 'উত্তরকুরু' বলে এক পৌরাণিক জায়গায় চলে গেলেন !


খবর পেয়ে সংজ্ঞার বাবা,  ত্বষ্টা আবার সূর্যকে নিয়ে পড়লেন ! ত্বষ্টা এবার শাণযন্ত্র দিয়ে ঘষে ঘষে সেই 'বারোভাগের একভাগ সূর্য'-কে আরো ক্ষীণ ও মৃদুতেজা করে দিলেন !

তখন সূর্য নিজেই  উত্তরকুরু গিয়ে,  সংজ্ঞাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলেন !


সূর্যের অবিশ্যি ছায়া নামে আরেকজন স্ত্রী ছিলেন !

সংজ্ঞা ফিরে আসাতে, দুই পত্নী নিয়ে, সূর্য, সুখে ঘর-সংসার করতে লাগলেন !

সংজ্ঞা'র সন্তানেরা,  শ্রাদ্ধদেব ও যম এই দুই পুত্র আর এক কন্যা যমুনা !

ছায়ার সন্তানেরা, দুই পুত্র সাবর্ণি ও শনি এবং এক কন্যা তপতী !

সন্তানদের বাবা অবিশ্যি, বারোভাগে ভাগ হওয়া এবং শাণযন্ত্র দিয়ে  ঘষে ঘষে আরো ক্ষীণ ও মৃদুতেজা হওয়া , 'নতুন' 'সূর্য' !



* সূত্র  'বঙ্গীয় শব্দকো-এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডের বিভিন্ন অংশ।

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

নৈহাটির অঙ্কের মাস্টার মশাই নলিনী বাবু

নৈহাটির অঙ্কের মাস্টার মশাই নলিনী বাবু



শ্রী নলিনী রঞ্জন বিশ্বাস, সুযোগ্য সুপ্রশংসিত অঙ্কের মাস্টার মশাই !

নৈহাটির মহেন্দ্র স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন, ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে।
রিটায়ার  করেন ১৯৯৬ সালের ৩০শে জুলাই।
তখন নলিনীবাবুর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
সুদীর্ঘ একচল্লিশ বছর পর্যন্ত স্কুলে তাঁর শিক্ষকতার জীবন।

ছাত্রদের কাছে, অভিভাবকদের কাছে, তিনি ছিলেন সম্মানীয় নলিনী বাবু।

প্রাইভেট টিউশনও করতেন।
প্রাইভেটে বি.এস.সি লেভেল পর্যন্ত, ছাত্র-ছাত্রীদের অঙ্কশাস্ত্র শিক্ষা দিতেন।
ইনজিনিয়ারিং-এর ছাত্র-ছাত্রীরাও, তাদের প্রথম বর্য চলাকালীন, তাঁর কাছে অঙ্ক শিখতে আসত।

নলিনীবাবুর মতো, অঙ্কশাস্ত্রে শিক্ষা দেওয়ার মতন শিক্ষক, বিরল !

তাঁকে সম্মান জানাচ্ছি !

নলিনীবাবুর জন্ম ১৯৩১ সালের ১লা জুলাই। মৃত্যু ২০১৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর, বড়দিনের দিন।

সূর্যকে নিয়ে পৌরাণিক গল্প




                                                                                      সূর্যকে নিয়ে পৌরাণিক গল্প

সূর্যের সাথে বিয়ে হয়েছিল সংজ্ঞার।

সংজ্ঞা সূর্যের তেজ সহ্য করতে পারত না !

চোখ কুঁচকে থাকত !
শরীর জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যেত !

সেই অসুবিধা দূর করতে, সংজ্ঞার বাবা ত্বষ্টা, সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করলেন !

ফলে, সংজ্ঞা সূর্যের ভীষণ তেজ থেকে, কিছুটা রেহাই পেলেন !

সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করার ফলে, এক এক ভাগে , এক এক আলাদা আলাদা 'আদিত্য'-র উদ্ভয় হল !

সূর্যকে বারো ভাগে ভাগ করার জন্য, এক এক বাংলা মাসে, এক এক আদিত্য, সূর্যের জায়গায়,  দিনের বেলায় আকাশে উদিত থাকে !

তার মধ্যে, ফাল্গুন মাসের সূর্যের অংশটার নাম, 'সূর্য'-ই থেকে যায় !

বাকি এগারো মাসের আদিত্যদের জন্য, সব আদিত্য-র ক্ষেত্রেই, আলাদা আলাদা নাম রয়েছে !

ত্বষ্টা, সুর্যের কেমন তরো শ্বশুর ছিলেন, দেখো !

শ্বশুর ত্বষ্টা কিনা, রেগে টং হয়ে, তাঁর জামাই, সূর্ষকে,  বারো ভাগে ভাগ করে ফেলল !

অমন রাগি শ্বশুর প্রাপ্তি, যদি তোমাদের মধ্যে কারো ভাগ্যে হয়, তবে তো বড়ই ঝামেলায় পড়ে যাবে !

কাজেই, এখন থেকেই সাবধানে থেকো ! ভালোভাবে দেখে শুনে শ্বশুরবাড়ি করো !


* সূত্র 'বঙ্গীয় শব্দকোষ', সাহিত্য অকাদেমি, পৃষ্ঠা ২৭২।
** 'হরিবংশ'। সংস্কৃত। ৯.৫০-৫৪ শ্লোক।
*** 'বিষ্ণুপুরাণ', ১.১৫ ১৩০-১৩২ শ্লোক। 

সূর্ষকে নিয়ে পৌরাণিক গল্প

      সূর্যকে নিয়ে পৌরাণিক গল্প

সূর্যের সাথে বিয়ে হয়েছিল সংজ্ঞার।

সংজ্ঞা সূর্যের তেজ সহ্য করতে পারত না !

চোখ কুঁচকে থাকত !
শরীর জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যেত !

সেই অসুবিধা দূর করতে, সংজ্ঞার বাবা, ত্বষ্টা, সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করে দিলেন !

ফলে, সংজ্ঞা সূর্যের ভীষণ তেজ থেকে, কিছুটা অন্তত রেহাই পেলেন !

সূর্যকে বারো ভাগে বিভক্ত করার ফলে, এক এক ভাগে , এক এক আলাদা আলাদা 'আদিত্য'-র উদ্ভব হল !

সূর্যকে বারো ভাগে ভাগ করার জন্য, এক এক বাংলা মাসে, এক এক আদিত্য, দিনের বেলায়,  আকাশে আধিপত্য করতে থাকল ! 

তার মধ্যে, ফাল্গুন মাসের সূর্যের অংশটার নাম, 'সূর্য'-ই থেকে গেল !

বাকি এগারো মাসের আদিত্যদের জন্য, প্রত্যেক আদিত্যের, আলাদা আলাদা নাম রয়েছে !

ত্বষ্টা, সুর্যের কেমন তরো শ্বশুর ছিলেন , দেখো !

শ্বশুর ত্বষ্টা কিনা,  তার জামাই সূর্ষকে,  বারো ভাগে ভাগ করে ফেলল !

অমন শ্বশুর প্রাপ্তি, যদি তোমাদের মধ্যে কারো ভাগ্যে হয়, তবে তো ঝামেলায় পড়ে যাবে !

কাজেই, এখন থেকেই সাবধানে থেকো ! ভালোভাবে দেখেশুনে শ্বশুরবাড়ি নির্বাচন করো !


* সূত্র 'বঙ্গীয় শব্দকোষ', সাহিত্য অকাদেমি, পৃষ্ঠা ২৭২। ** 'হরিবংশ'। সংস্কৃত। ৯.৫০-৫৪ শ্লোক। *** 'বিষ্ণুপুরাণ', ১.১৫ ১৩০-১৩২ শ্লোক।

শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

গদ্যরচনা

গদ্যরচনা


আমার গদ্যরচনায়, এখন

১। ভারত
২। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
৩। জার্মানি
৪। নেদারল্যাণ্ডস
৫। আয়ারল্যাণ্ড
৬। ডেনমার্ক
৭।  পোল্যান্ড
৮। ফিলিপাইন
৯। ব্রাজিল

এই নয়টি দেশের পাঠক-পাঠিকা রয়েছেন !

পোস্ট-এর সংখ্যা   ৪৪ ( চুয়াল্লিশ )
মোট পৃষ্ঠাদর্শন  ১৪০০-এর বেশি !

প্রণব কুমার কুণ্ডু।