বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

রাস


রাস




প্রণব কুমার কুণ্ডু












ফেসবুক থেকে       শেয়ার করেছেন           প্রণব কুমার কুণ্ডু





রানা চক্রবর্তী একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন৷






রানা চক্রবর্তী      Tapash Sarkar এবং অন্যান্য 

রাস উৎসবের ইতিবৃত্ত:
‘রাস’ শব্দটি এসেছে ‘রস’ থেকে। ‘রস’ মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম। ‘লীলা’ অর্থ নৃত্য। রাসলীলা মুলত পুরাণের কৃষ্ণ ও বৈষ্ণব সাহিত্যের অতিজনপ্রিয় চরিত্র শ্রীমতি রাধার অপ্রাকৃত প্রেমলীলার একটি আখ্যান। বৃন্দাবনের গোপীদের নিয়ে রাধা ও কৃষ্ণ এই রাস করেন। নানানজন নানানভাবে রাসলীলার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বৈষ্ণব কবিরা নিজেদের মতো করে রাধা ও কৃষ্ণকে উপস্থাপন করেছেন তাদের রচনায়। তাঁরা বলছেন, পরমাত্মার সাথে আত্মার মহামিলনই রাস। পরমাত্মা কে ? যিনি ইশ্বর তিনিই পরমাত্মা। তিনি শ্রীকৃষ্ণ। আত্মা কে? শ্রীমতি রাধা ও গোপীরা, যারা পূণ্যবলে কৃষ্ণের সান্নিধ্যলাভ করেছে। ভাগবৎ পুরাণে অবশ্য শ্রীমতি রাধার কথা নেই। সেখানে বলা হচ্ছে, বৃন্দাবনের রাসমন্ডলে সেখানকার গোপীদের সান্নিধ্য দিতে কৃষ্ণ রাসলীলা করেন। তাহলে যাদের সাথে এই লীলা হয়েছিল, তাদের অনেকেই লৌকিক দৃষ্টিতে অন্যের বিবাহিতা স্ত্রী, অর্থ্যাৎ বিষয়টা পরকীয়া। কিন্তু ভাগবৎকার রাসলীলা বর্ণনার শুরুতেই বলছেন, নাহ এটা আপ্রাকৃত, মানে অলৌকিক লীলা। ভগবান নিদ্রার দেবী যোগমায়াকে আশ্রয় করে এই লীলা করেন যেখানে গোপীরা উপস্থিত থাকেন আত্মারূপে।

হর্ষচরিতের টীকাকার শঙ্করের মতে, রাস হলো এক ধরণের বৃত্তাকার নাচ যা আট, ষোলো বা বত্ৰিশ জনে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপনা করা যায়।


পদ্মপুরাণে (৫২/১০৩-১০৫) শারদরাস ও বাসন্তীরাসের উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্ৰহ্মবৈবর্তপুরাণে (ব্রহ্মখণ্ড, পঞ্চম অধ্যায়) বাসন্তীরাস এবং শ্ৰীমদ্ভাগবত ও বিষ্ণুপুরাণে (৫/১৩/১৪-৬১) শুধুমাত্র শারদরাসের বর্ণনা আছে। হরিবংশে ও ভাসের বালচরিতে উল্লেখ আছে যে, কৃষ্ণ গোপিনীদের সঙ্গে হল্লীশনৃত্য করেছিলেন। হল্লীশনৃত্য যদি তালযুক্ত ও বিবিধ গতিভেদে বৈচিত্র্যপূর্ণ হয় তবে তাঁকে "রাস" নামে অভিহিত করা হয়। বিষ্ণুপুরাণের মতে, কৃষ্ণ রাস অনুষ্ঠান করেছিলেন গোপরমণীদের সঙ্গে। শ্ৰীধর স্বামী বলেছেন, বহু নৰ্তকীযুক্ত নৃত্য বিশেষের নাম রাস– “রাসো নাম বহু নৰ্ত্তকীযুক্তে নৃত্যবিশেষঃ।” শ্ৰীমদ্ভাগবতের অন্যতম টাকাকার বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, —“নৃত্যগীতচুম্বনালিঙ্গনদীনাং রসানাং সমূহো রাসস্তন্ময়ী যা ক্রীড়া বা রাসক্রীড়া”। শ্ৰীমদ্ভাগবতের মতে, কৃষ্ণ যোগমায়াকে সমীপে গ্রহণ করেই রাস অনুষ্ঠান করেছিলেন। বস্ত্রহরণের দিন গোপিনীদের কাছে কৃষ্ণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি রাসলীলা করবেন-
"যখন করেন হরি বস্ত্ৰহরণ।
গোপীদের কাছে তিনি করিলেন পণ।।
আগামী পূর্ণিমাকালে তাঁহাদের সনে।
করবেন রাসলীলা পুণ্য বৃন্দাবনে।।"
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরা ও বৃন্দাবনে, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়াসহ অন্যান্য জায়গায়, ওড়িশা, আসাম ও মণিপুরে রাসযাত্রার উৎসব বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। এই উৎসবের অংশ হিসেবে গোপিনীবৃন্দ সহযোগে রাধা-কৃষ্ণের আরাধনা এবং অঞ্চলভেদে কথ্থক, ভরতনাট্যম, ওড়িশি, মণিপুরি প্রভৃতি ঘরানার শাস্ত্রীয় ও বিভিন্ন লোকায়ত নৃত্যসুষমায় রাসনৃত্য বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
রাস নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠ উৎসব। শরৎকালে শারদোৎসবের পরেই শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতির বাড়বাড়ন্ত; কার্তিকীপূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হয় নবদ্বীপের শ্ৰেষ্ঠ লোকায়ত উৎসব "রাস"। এখানকার রাসের প্রধান বিশেষত্ব হচ্ছে মূর্তির বিশালতা। অপরূপ মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে নানারূপে শক্তি আরাধনাই নবদ্বীপের রাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি মূর্তিতে কত কারুকার্যময় নির্মাণশৈলী, কত বিচিত্র রূপকল্পনা, কত ব্যাপক ধর্মীয় ব্যঞ্জনা, কত পণ্ডিতের গভীর উপলব্ধির সুস্থিত বহিঃপ্রকাশ, কত শিল্পীর নিখুঁত চিত্রায়ণ—যা সম্মিলিত রূপে অসংখ্য মানুষের মনোরঞ্জনে সহায়তা করে। নবদ্বীপের রাস শুধুমাত্র উৎসব নয়, ধর্মীয় দ্যোতনার এক ব্যঞ্জনাময় অভিব্যক্তি।
রাস মূলতঃ কৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব; কিন্তু নবদ্বীপের রাস প্রধানত শাক্ত রসাশ্রিত। আবহমানকাল থেকে এখানকার ধর্ম-সংস্কৃতিতে তান্ত্রিক বীরাচারের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। মদ-মাংস (পঞ্চমকারের প্রধানবস্তু) এবং আড়ম্বরের জৌলুস ব্যতীত বীরাচারের আরাধনার পূর্ণতা ঘটে না। নবদ্বীপের রাসে অনিবার্যভাবেই ঘটেছে তন্ত্রাচারের পূর্ণ প্রতিফলন। অপরদিকে বৈষ্ণবীয় রাসের সাত্ত্বিক ধারা অনেকটাই কোণঠাসা। মন্দির অভ্যন্তরে রাধাকৃষ্ণের চক্ররাস যে হয় না তা নয়, তবে তা জাঁকজমকপূর্ণ শাক্তরাসের পাশে অনেকটাই ম্রিয়মান। জনশ্রুতি প্রচলিত আছে যে, চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে। একথা যদি সত্যি হয় তাহলে স্বীকার করে নিতে হয় যে, ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভেই রাসের সূচনা হয়েছিল। তবে চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পর নবদ্বীপের বৈষ্ণব আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। গৌরাঙ্গ-পরিজনেরা বাধ্য হয়ে নবদ্বীপ ত্যাগ করে স্থানান্তরে গমন করেন। ফলে বৈষ্ণবীয় উৎসব অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ে নবদ্বীপে যে রাস উৎসবের সূচনা হয় তা অভিনব এবং বাংলার ধর্মীয় ইতিহাসে তা অদ্বিতীয়।
এগুলি পুরাণের কথা। রাসের ব্যাখ্যা পেতে চাইলে আমাদের ফিরে যেতে হবে বাংলার ভাবান্দোলন যার সূত্রপাত হয় মূলত দ্বাদশ শতকের কবি জয়দেব ও তৎপরবর্তী চন্ডীদাস (১৪শ শতক) ও বিদ্যাপতির (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) বৈষ্ণবপদ রচনার মধ্য দিয়ে। বৈষ্ণবরা কৃষ্ণকে দেখেছেন স্রষ্টা আর রাধাকে দেখেছেন সৃষ্টির প্রতিনিধি হিসাবে। স্রস্টার কাছে পৌঁছানোর সহজতম তরিকা হল প্রেম৷ দীর্ঘকাল ধরে সুফি সাধকরা বাংলায় ‘ইশক’ এর মাধ্যমে খোদায় লীন হয়ে যাওয়ার ধারনাটি প্রচার করছিলেন। সুফি-সাধকরা বলতেন, ‘ হক্ এর সঙ্গে জীবের মিলনের একটিই পথ, তা হল প্রেম বা ইশক’৷ নদীয়ার শ্রীচৈতন্যের রাধাভিত্তিক ভাবান্দোলনের সাথে এই দর্শনের গভীর যোগসূত্র পাওয়া যায়৷ চৈতন্যদেব রাধার মতো পরমাত্মায় লীন হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন৷ মুলত শ্রীচৈতন্য জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলনের ধারনাটি লাভ করেছিলেন বাংলার সুফি-সাধকদের কাছ থেকেই।
মণিপুরিদের রাসলীলাটি মুলত একটি নাট্য আঙ্গিক। বলা ভাল ক্লাসিক্যাল নাট্য আঙ্গিক। এমনিতে মণিপুরের সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। ধারণা করা হয় এদের ঐতিহ্যগত লোকনৃত্যই কালক্রমে ধ্রুপদী নৃত্যধারায় পরিণত হয়েছে। মণিপুরিদের রাস ও রাসের থিম ভারতবর্ষে প্রচলিত অন্যান্য রাসের চেয়ে আলাদা। মণিপুরি পুরাণ লেখকরা দাবি করেছেন, মিথলজি অনুসারে মণিপুর রাজ্যই হলো সেই স্থান যেখানে রাধাকৃষ্ণের অনুসরনে শিব পার্বতী রাসলীলা করেন। পুরাণের ভাষ্য অনুযায়ী মণিপুরের কৌব্রু পর্বতকে রাসলীলার উপযুক্ত করে তোলার জন্য শিব সূর্য, চন্দ্র এবং পাঁচটি গ্রহকে আহ্বান করেছিলেন। মণিপুরি ভাষায় এদের নাম হলো নোঙমাইজিঙ (সূর্য), নিঙ্‌থোউকাপা (চন্দ্র), লেইপাক্‌পোকপা (মঙ্গল), য়ুমসাঙকেইসা (বুধ), সাগোলসেন (বৃহস্পতি), ইরাই (শুক্র) এবং থাঙজা (শনি)। সাতদিন সাতরাত শিব-পার্বতীর রাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গীত সহযোগী ছিলেন গন্ধর্ব এবং অন্যান্য দেবতারা। রাত্রিবেলার অনুষ্ঠানের জন্য নাগরাজ অনন্তদেব তাঁর মাথার মণি দান করেন। নাগদেবের মণির নামানুসারে এই স্থানের নাম হয় মণিপুর।
পুরাণকাররা তাদের মতো করে ইতিহাস রচনা করেছেন। বস্তুত এই পুরাণগুলি লেখা হয়েছে দ্বাদশ শতকের দিকে যখন শৈবধর্মের প্রকট প্রভাব ছিল। ১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পামহৈবা মণিপুরের রাজত্ব লাভের পর এই অঞ্চলে শৈবমতাদর্শের লোকেরা একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই সময় রাজা পামহৈবা ভিন্নমতের গ্রন্থাদি ও নিদর্শন ধ্বংস করে দেন। এর ফলে মণিপুরের ইতিহাসও ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু মণিপুরের বৈষ্ণবরাও শিবকে শ্রদ্ধা এবং পূজা করতো ফলে শিব-পার্বতীর লীলাভিত্তিক গীত ও নৃত্য থেকে যায়। তারপর ইতিহাসের এক সময়ে বাঙলার ভাবান্দোলন যখন মণিপুর গিয়ে পৌঁছে তখন বৈষ্ণব পদকর্তাদের রচনাবলী মণিপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এগুলির উপর ভিত্তি করেই রচিত হয় মণিপুরি রাসলীলার আঙ্গিক। ভারতবর্ষের শাস্ত্রীয় নৃত্যকলার সাথে মণিপুরের লোকনৃত্যের ঐক্যতানে গড়ে উঠে এই নব্য ক্লাসিক্যাল শিল্পআঙ্গিক। রাধাকৃষ্ণের দর্শন গিয়েছিল বঙ্গ থেকেই। মণিপুরি রাসের গানগুলিও বাংলা ও ব্রজভাষায়, অধিকাংশই বাঙ্গালি বৈষ্ণব কবি ও পদকর্তাদের লেখা।
তাহলে দেখা যাচ্ছে রাসলীলা যেটি ছিল দ্বাপর যুগের ঘটনা এবং যার সংঘটন স্থান ছিল শ্রীব্রজধাম, সেটাই এই যুগে এসে হয়েছে পূণ্যতিথি রাসপূর্ণিমা। ভারতবর্ষের নানান স্থানের কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবরা নানানভাবে রাস উদযাপন করে থাকেন। শাক্তরা পূর্ণিমার এই দিনে দেবদেবীদের নানান মূর্তি বানিয়ে পুজা দিত। নবদ্বীপের রাস উৎসবে পটুয়াদের দিয়ে বড় বড় পট আঁকিয়ে মঠে-মন্দিরে প্রদর্শন করা হত। তাই রাসপূর্ণিমার আরেক নাম ‘পট পূর্ণিমা’। আর ওপরে গরুর গাড়ির চাকার থেকেও বড় বড় কাঠের চাকা তৈরি করে তার মাঝখানে রাধাকৃষ্ণকে বসিয়ে চারপাশে অষ্টসখীর মূর্তি বসানো হত। আর ধীরে ধীরে সেই চাকার সাথে অষ্টসখীদের ঘোরানো হত। এই ছিল রাস। এখনও অনেক অঞ্চলে তাই আছে।
ভারতবর্ষে নাট্যাভিনয় ও নৃত্যগীতনির্ভর রাস উৎসবের প্রবর্তন করেন মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র সিংহ (১৭৪৮-১৭৯৯)। ভাগ্যচন্দ্র সিংহ রাসনৃত্যকে নাট্যাঙ্গিকে সাজান। তার উদ্যোগে মণিপুর রাজ্যে প্রথম রাসলীলা মঞ্চস্থ হয় ১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দে। সেই রাসে তার কন্যা রাজকন্যা বিম্ববতী রাধার ভূমিকায় অভিনয় করেন, তিনি নিজে মৃদঙ্গবাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। জনশ্রুতি আছে, ভাগ্যচন্দ্র স্বপ্নাদ্রিষ্ট হয়ে রাসলীলা করার তাগিদ পান। রাসের জাঁকজমকপূর্ণ ও শৈল্পিক কারুকার্যখচিত পোষাকগুলোও তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন বলে মণিপুরি লেখকদের বয়ান থেকে জানা যায়। বিষয়টার এরকম ব্যাখ্যা হতে পারে যে, ভাগ্যচন্দ্র একজন বড় মাপের চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং শিল্প-সাহিত্যের অনুরাগী রাজা ছিলেন। রাসনৃত্যকে নাট্যাঙ্গিকে রূপ দিতে তিনি অহর্নিশ পরিশ্রম করেছেন। পঠনপাঠন ধ্যান করতে করতে তিনি মন্দিরেই ঘুমিয়ে পড়তেন। রাসের নাচ, গান, সুর, তাল ও মুদ্রাগুলোকে তিনি একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন যার নাম ‘গোবিন্দ সঙ্গীত লীলাবিলাস’। রাজা ভাগ্যচন্দ্রের পৌত্র চন্দ্রকীর্তি সিংহাসনে বসে ১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর সময়ে রাসনৃত্য আরও সমৃদ্ধতর হয়ে উঠে।
মণিপুরীদের রাসলীলার উৎসবের পোশাক-পরিচ্ছদে, নৃত্যে-গীতে এবং মঞ্চ-অলঙ্করণে যে রাজকীয় গাম্ভীর্য দেখা যায় তাতে অনেক সময় একে রাজদরবারের পরিবেশনা বলেই ভ্রম হয়। অবশ্য রাসের জন্ম হয়েছে রাজদরবারে এই সত্যটি মেনে নিলে এটা নিয়ে কিছু বলার থাকে না। রাসের কষ্টিউমটির নাম ‘পল্লই’। এটি কমপক্ষে ১০টি ভাগে বিভক্ত। যেমন মাথার উপরিভাগে থাকে ‘কোকতোম্বি’। মুখের ওপর পাতলা স্বচ্ছ উড়নাটির নাম ‘মেইখুম্বী’। গায়ে থাকে সোনালি ও রূপালি চুমকির কারুকাজের ঘন সবুজ ভেলভেটের ব্লাউজ যার নাম ফুরিৎ। কোমর পর্যন্ত বক্ষবন্ধরী যার নাম থাব্রেৎ। পল্লইয়ের মুল অংশের নাম ‘কুমিন’। অজস্র চুমকি ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়নার দ্বারা এই অংশটি কারুকাজ করা থাকে, যা সামান্য আলোতেও ঝলমল করে ওঠে। আছে জরির কারুকাজ করা পেশোয়ান, খোল, খাঙ্গই। সাথে মণিপুরি স্বর্নালঙ্কার তো আছেই।
এই রাজসিক বিষয়টাকে অন্তর থেকে গ্রহণ করেছে সাধারণ মণিপুরি জনগণ। ধর্ম-সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব কমই আছে যেখানে রাজদরবারের বস্তু সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। কিন্তু মণিপুরীদের রাসলীলার ক্ষেত্রে এমন ব্যপার ঘটেছে। রাসলীলা এখন আর রাজার সংস্কৃতি হয়ে নেই, তা হয়ে গেছে সাধারণের সংস্কৃতি।
এই কারণে রাসের ঐ ভারী ‘পল্লই’টি মণিপুরি বিবাহের অত্যবশ্যকীয় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। বিবাহের রাতে মণিপুরি মৈতৈ ও মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া কনেকে কারুকার্যখচিত এই পোশাকটি পড়তে হয়। আরো আশ্চর্যজনক যে মণিপুরি পাঙন যারা ধর্মে মুসলিম, তারাও বিবাহের দিনে রাসনৃত্যের এই পোশাকটি পরিধান করে।
কেন সাধারন একটি নাচগানের অনুষ্ঠান, একটি শিল্পআঙ্গিক একটা গোটা জনগোষ্ঠির কৃত্যে পরিণত হলো, তার পেছনে গুঢ় রাজনৈতিক সমাজবৈজ্ঞানিক কার্যকারণ লুকিয়ে আছে।
মণিপুরি রাসের শুরুতে বলা হয়, ‘রাস আরম্ভিলা ভাগ্যচন্দ্র মনোহর’, এটা মুলত মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র যিনি রাস প্রবর্তন করেছিলেন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে করা হয়। এরপর থাকে বৃন্দা নর্তন ও কৃষ্ণ নর্তন৷ ভাগবত পুরাণের রাস-পঞ্চ-অধ্যায় অবলম্বনে কৃষ্ণ অভিসার, রাধা-গোপী অভিসার, মণ্ডলী সজ্জা, গোপীদের রাগালাপ, কৃষ্ণ-রাধা নর্তন, গোপিনীদের নর্তন, ভঙ্গি পারেং, রাধা কৃষ্ণের নৃত্যে কৃষ্ণের পরাজয় ও রাধার বাঁশি লাভ, কৃষ্ণের অন্তর্ধান, রাধা বিরহ, কৃষ্ণের পুণরাগমন ও যুগলমিলন এরকম কয়েকটি পর্বে থাকে মণিপুরি মহারাসে৷ টানা সাত থেকে আট ঘন্টা এই নৃত্যগীত চলে একটু সময়ও না থেমে৷ এখানে রাসের প্রণিক্ষক বা গুরু ছাড়াও সূত্রধারী ও মৃদঙ্গবাদকেরা বড় ভূমিকা রাখেন৷ রাসের ধারাবাহিকতা, এর সাথে সংশ্লিষ্ট কৃত্য এবং ভক্তসাধারনের ভাবভঙ্গি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাষ মণিপুরি রাসলীলা কেবল একটি নৃত্যের অনুষ্ঠান বা নাটক নয়, এটা অন্য কিছু। রাস দেখতে দেখতে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শকেরা রাধা, কৃষ্ণ ও গোপীদের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে, অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ে, রাস দেখতে আসা স্বজনরা একে অন্যেকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে। রাসের কয়েকটি অংশ বিশেষভাবে আবেগময় যেমন বিরহপর্বে কৃষ্ণের অন্তর্ধানের পর রাধার মূর্চ্ছা যাওয়া, গোপীদের বিলাপ ও পদচিহ্ন অনুসরন করে কৃষ্ণকে খুঁজতে যাওয়ার অংশটুকু বেশ মর্মস্পর্শী।
মণিপুরি রাসের মুলভাব ভাগবৎ পুরাণ ও বৈষ্ণব কবিদের কাব্য থেকে নেয়া হলেও এর কেন্দ্রে থাকেন বৃন্দা নামের এক চরিত্র। পুরাণ পাঠে বুঝা যায় বৃন্দা সম্পুর্ণ লোকমানসজাত এক চরিত্র৷ বৃন্দা রাধার একজন দূতী কিন্তু রাস শুরু হয় বৃন্দা নর্তন দিয়েই। বৃন্দা মণিপুরি রাসের ‘চিংপী’ বা সঞ্চালিকা। রাধাকৃষ্ণকে ছাপিয়ে তিনিই মণিপুরি রাসলীলার প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেন। মণিপুরী রাসলীলা মুলত বৃন্দাদেবীরই রাসলীলা। তাকে অনুসরন করেই অন্য গোপিনীরা নৃত্যগীত করেন। নৃত্যগুরুর কড়া নির্দেশ থাকে বৃন্দা ভুল করলে সেই ভুল ভঙ্গিতেই নাচতে হবে অন্যদের।
‘বৃন্দা’ শব্দটি ‘বৃন্দাবন’ থেকে এসেছে নাকি ‘বৃন্দাবন’ নামটিই ‘বৃন্দা’ থেকে এল বলা মুস্কিল। ইম্পেরিয়েল গেজেটিয়ার অফ ইন্ডিয়া (১৯০৯) অবশ্য বলছে সংস্কৃত ভাষায় ‘বৃন্দাবন’ কথাটি এসেছে ‘বৃন্দা’ (তুলসী) ও ‘বন’ (অরণ্য) শব্দদুটি থেকে। বৈষ্ণবরা বলেন বৃন্দাই ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণিত তুলসীদেবী। তুলসী সব ধরনের পূজার্চনাতেই লাগে, তাহলে কি তুলসীবৃক্ষই যমুনাপাড়ের বৃন্দা? বিষ্ণুর পরম ভক্ত বলে বৃন্দার আরেক নাম বিষ্ণুপ্রিয়া৷ যাহোক মণিপুরি রাসের বৃন্দাকে দেখে মনে হয় খুব লৌকিক, যেন পাশের বাড়ির ভজন গাওয়া মেয়েটি যে কেবল কৃষ্ণানুরাগীই নয়, একই সাথে রাধাঅন্তপ্রাণ। যে কৃষ্ণের জন্য কুঞ্জ সাজায়, যে রাধার নিত্যসহচরী হয়ে পাশে পাশে থাকে। যে আকুল কন্ঠে সে গায়, "আমি কৃষ্ণের প্রেমে কাঙ্গালিনী / বৃন্দাবনে বৃন্দা দুর্ভাগিনী / আমি যুগলচরণ সেবা করিব / যুগলরূপ নেহারিব / জীবন সফল করিব…।" তার মানে দুর্ভাগিনী বৃন্দা নিজে কৃষ্ণকে পেতে চান না, যুগলচরণ পেলেই খুশি। এই যে পরমসত্তার প্রতি সমর্পন, এই কি তাহলে ভক্তির মূল কথা?
নিত্যরাস, বসন্তরাস, মহারাস, দিবারাস মণিপুরি রাসের এরকম অনেকগুলো ফর্মের মধ্যে মহারাসের স্থান সর্ব্বোচ্চ যেটি হয় কার্তিক পূর্ণিমায়। যেকেউ চাইলেই মহারাস আয়োজনের সৌভাগ্য অর্জন করে না, এটি পালা করে ন্যস্ত হয় একেকটি পরিবারের কাঁধে। রাস নৃত্যগীতের সাধারন কোন আয়োজন নয়, এটা হয়ে গেছে কৃত্য ও কঠিন সাধনার ব্রত। রাসের এক মাস আগ থেকে এই সাধনা শুরু হয়। মাসব্যাপী চলে রাসের প্রস্তুতি। বিশেষ দিনে নাচের প্রশিক্ষক বা অজাকে আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রন জানানো হয়। তিনি রাজী থাকলে শুভ কোন তিথিতে শুরু হয় নাচের চর্চা, নৃত্যকলা ও শিল্পরস উত্তীর্ন হবার কঠিন শর্ত নিয়ে। রাসের মূদ্রাগুলো শাস্ত্রীয়, নৃত্যভঙ্গি ধ্রুপদী। সঙ্গীতগুলো লেখা বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষায়, কাব্যমানসম্পন্ন। সেগুলি শ্রুতিমধুর কণ্ঠে পরিবেশনের জন্য দুর দুরান্ত থেকে দক্ষ সূত্রধারী নিমন্ত্রণ করে আনা হয়। আনা হয় মৃদঙ্গবাদক। রাসের শিল্পীরা যে পোশাক পরবে তাও পবিত্র পোশাক, দেবতার কাছে রেখে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে তার পূজা দিতে হয়। রাসের আগের দিন ‘বার্তন চালানি’ বা গুরুকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাসে উপস্থিত থাকার নিমন্ত্রন। রাসের মঞ্চটি হতে হয় বাঁশ ও কাগজের তৈরী, তারও নিজস্ব ডিজাইন আছে। মঞ্চ বসাতে হয় মাঝখানে, দর্শকরা যাতে গোল হয়ে বসে দেখতে পারে। রাস শুরুর আগে আগে হয় নটপালা কীর্ত্তন, সেখানে রাসের সাফল্যের জন্য মঙ্গলকামনা করা হয়। এ এক বিশাল কান্ড। কেবল শিল্পের মাপকাঠি দিয়ে মেপে একটি জনপদের এই বিশাল কাণ্ডকে মাপা সম্ভব না । এই প্রযোজনাটির আড়ালে থাকে একটা গোটা জনগোষ্ঠির অস্তিত্ব ও পরিচয় নির্মাণের নিরবিচ্ছিন্ন উদ্যোগ। একটা জাতিসত্তা যারা এককালে নিজেদের ভূখন্ড হারিয়ে এদেশে এসে বাস করছে, সংখ্যাগুরুর চাপে নিজেদের ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে যে আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, রাসলীলা সে লড়াইয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ।
রাসনৃত্যে সাধারণত রাধা ও কৃষ্ণের ভূমিকা দেয়া হয় শিশুদের, যাদের বয়স পাঁচের কম। মনিপুরীদের বিশ্বাস, এই বয়সের পর শিশুদের দৈবশক্তি লোপ পেয়ে যায়। তবে প্রকৃত নাটনৃত্য ও গীত পরিবেশন করে তরুণীরা, যারা রাধার সহচরী হিসাবে মঞ্চে আসে। রাসনৃত্যের কেন্দ্রবিন্দু ভঙ্গি পরেং অর্থাৎ নৃত্যমালিকা। রাসলীলা শুরু হয় নট সঙ্কীর্তন দিয়ে। গোবিন্দজীর মন্দিরের বিশাল মণ্ডপে আরাধ্য দেবতার মূর্তির সামনে শিল্পীরা মৃদঙ্গ ও করতাল সহযোগে সঙ্কীর্তন করে। বিশেষ পোশাকে সাজেন শিল্পীরা। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য বন্দনা দিয়ে শুরু হয়ে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যাপী রাসসঙ্গীত অনুষ্ঠিত হয়।


🌸🌻🌸🌻🌸🌻🌸🌻🌸🌻🌸🌻


রূপক রায়-এর কলাম ( বারো )


রূপক রায়-এর কলাম ( বারো )

ফেসবুক থেকে শেয়ার করা

শেয়ার করেছেন       প্রণব কুমার কুণ্ডু



প্রণব কুমার কুণ্ডু











মুসলমান ও আনন্দবাজার পত্রিকার কাছে নাথুরাম গডসে, ঘাতক; কিন্ত.........

(১৫ নভেম্বর হিন্দু বীর নাথুরাম গডসের বলিদান দিবস। হিন্দু জাতির অভিশাপ পাপাত্মা গান্ধীকে হত্যার জন্য, নেহেরু সরকার, ১৯৪৯ সালের এই দিনে নাথুরাম গডসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এই প্রবন্ধটি নাথুরাম গডসের প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি।)

নেটে সার্চ দিয়ে গডসে সম্পর্কে যতগুলো লেখা পাবেন, সেগুলো যদি মুসলমানদের লেখা হয়, ততগুলোতেই দেখবেন, নাথুরাম গডসের নামের আগে বসানো আছে ঘাতক শব্দটি। কিন্তু এই গডসে মাত্র সেই ১ জনকে খুন করেছে; তাকে খুন করেছে- যার কারণে, মহাভারতের যে আদর্শ- বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সূচাগ্র মেদিনী- সেই আদর্শের দেশ ভারত- দ্বিখন্ডিত হয়েছে; প্রায় ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখ নিহত হয়েছে; প্রায় লক্ষাধিক মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে; নিজ জন্মভূমি-ভিটেমাটি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়েছে কয়েক কোটি মানুষ; সেকারণেই এখনও উদ্বাস্তু হতে হচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে। গডসে খুন করেছে এত সব কারণের মহাখলনায়ক গান্ধীকে।
গান্ধীর কারণে হিন্দুদের এত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে যে, পৃথিবীতে আর কেউ হিন্দুর এত ক্ষতি করে নি আর ভবিষ্যতে কারো পক্ষে এত ক্ষতি করা কখনোই সম্ভব হবে না এবং গান্ধী বেঁচে থাকলে হিন্দুদের আরও ক্ষতি হবে, এই বিবেচনা করেই নাথুরাম গডসে গান্ধীকে খুন করে। কিন্তু মাত্র একজন লোককে খুন করার কারণে মুসলমান ও আনন্দবাজারের মতো- সেক্যুলার মুসলমান পাছার গু চাটা- পত্রিকাগুলোর কাছে নাথুরাম গডসে এক মহা ঘাতক; তাদের কথা বলার ভাব দেখলে মনে হয়, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত একটাই মাত্র খুন হয়েছে, সেটা গান্ধী, আর তাকে খুন করেছে গডসে, পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে আর কোনো খুন, কেউ কোনো দিন করেই নি।

এ সম্পর্কে আগে মুসলমানদের পাছায় বাঁশ দিই, তারপর বাজারি বেশ্যার কাপড় খুলবো।

নাথুরাম গডসে একজন হিন্দু এবং সে খুন করেছে একজন হিন্দুকে। এতে মুসলমানদের এত চুলকানি ও মাথা ব্যথার কারণ কী ? নাথু তো আর জিন্নাকে খুন করে নি।যখনই হিন্দুদের কোনো ব্যাপারে, কোনো মুসলমানের কোনো আগ্রহ দেখবেন, তখনই বুঝে নেবেন, ঐ ব্যাপারে হিন্দুরা বাঁশ খাচ্ছে বা মুসলমানরা, হিন্দুদের বাঁশ দেওয়ার পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যেসব মুসলমানের মাথায় কিছু পরিমাণ মাল আছে, তারা বেশ ভালো করেই জানে যে, গান্ধীর মতো একজন নেতা হিন্দুদের মাথার উপর না থাকলে তারা কিছুতেই পাকিস্তান পেতো না বা পাকিস্তান আদায় করতে পারতো না। গান্ধী, প্রতিটা ক্ষেত্রে মুসলমানদের এতটাই সাপোর্ট করতো যে, একসময় লোকে আড়ালে আবডালে তাকে বলতো মোহাম্মদ গান্ধী। এই গান্ধীর কারণে, কত সহজে, জিন্নাহ যে পাকিস্তান আদায় করতে পেরেছে, তার কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:

ভি.পি মেনন তাঁর ট্রান্সফার অব পাওয়ার গ্রন্থের ১৬২ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "১৯৪৪ সালে জিন্নার সাথে গান্ধীজির বেশ কয়েক বার সাক্ষাৎ হয়। তিনি সেখানে জিন্নাকে 'কায়েদ-এ-আজম' বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু গুজরাটি রীতি অনুযায়ী গান্ধীর, জিন্নাহকে, জিন্না ভাই বলে সম্বোধন করার কথা। জিন্না কিন্তু গান্ধীকে, মি. গান্ধী বলেই সম্বোধন করেছিলেন। ঐ সময় গান্ধী, জিন্নার কাছে করুণা ভিক্ষা করে বলেন, "আমি আপনার বা ইসলামের শত্রু নই। আমি আপনাদের দীন সেবক মাত্র। আমাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।"
এখানে খেয়াল করুন, গান্ধী, জিন্নাকে কায়েদ-এ-আজম বলে সম্বোধন করা শুরু করেছে সেই ১৯৪৪ সাল থেকে। কায়েদ-এ-আজম শব্দের অর্থ "মহান নেতা"। জিন্না কী এমন কাজ করে গান্ধীর কাছে এত মহান হয়ে গেলো ? তার পর গান্ধী বলছে, "আমি আপনার বা ইসলামের শত্রু নই। আমি আপনাদের দীন সেবক মাত্র। আমাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেবেন না।"
এখানে গান্ধী, ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু নয়, সেটা ঠিক আছে; কিন্তু গান্ধী, জিন্নার কাছে কী চাচ্ছে, যে জিন্না তাকে ফিরিয়ে দেবে ? আর জিন্নার কাছে বা কী ছিলো, গান্ধীকে দেওয়ার ? মনিব যদি ভৃত্যের কাছে এমন অসহায়ভাবে আত্মসমর্পন করে, তাহলে ভৃত্য তো মনিবের মাথায় উঠবেই এবং তার সম্পত্তির ভাগ চাইবেই। জিন্নাও তাই করেছে। পাকিস্তান চেয়ে, ধমক দিয়ে তা আদায় করে নিয়েছে।
গান্ধীর এই অসহায় ও অপমানকর আত্মসমর্পনে উৎফুল্ল জিন্না, মুসলিম লীগের কার্যনিবাহী কমিটিকে জানিয়েছিলো, "অবশেষে ভালো এবং সহায়ক অধিকতর প্রগ্রেস হয়েছে। গান্ধী, যেকোনো মূল্যে, তার ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ভারতকে ভাগ করার মূল নীতি গ্রহন করেছে।"- মদন গোপাল রচিত, "স্যার ছোটু রাম" গ্রন্থের ১৩৪ পৃষ্ঠায় জিন্নার এই উৎফুল্ল হওয়ার ঘটনাটির বর্ণনা আছে।
শুধু তাই নয়, লিওনার্ড মোজলি, তার "লাস্ট ডেজ অব ব্রিটিশ রাজ" গ্রন্থের ২৭৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "হাসতে হাসতে পাকিস্তান পেয়ে অবাক জিন্না তার এ.ডি.সি এর কাছে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমি কখনোই আমার জীবনে পাকিস্তান দেখে যেতে পারবো, তা ভাবতে পারি নি।"
বাস্তবে জিন্না যাকে অসম্ভব বলে ভেবেছিলো, সেই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিলো শুধু গান্ধীর কারণে। একারণেই নাথুরাম গডসে তার জবানবন্দীতে বলেছিলো, "গান্ধী, ভারতের নয়, পাকিস্তানের জাতির জনক।"
গান্ধীর অসহায় আত্মসমর্পনের কারণে ভারত ভাগ হলো, ২০ লক্ষ হিন্দু ও শিখ মরলো, প্রায় ১ লক্ষ মেয়েকে মুসলমানরা ধর্ষণ করলো, পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তু হলো কয়েক কোটি মানুষ।
ধরে নিলাম, যা হবার হয়েছে। কিন্ত এর পর গান্ধী কী করলো ?
১৯৪৮ সালে, পাকিস্তান যখন দাবী করে বসলো যে, ভারতের কাছে, যৌথ সম্পত্তির অংশীদার হিসেবে তাদের ৫৫ কোটি রূপী পাওনা আছে। ভারত সরকার সেই দাবী না মানলে, গান্ধী তখন বললো,
"পাকিস্তানকে ঐ টাকা দিতে হবে, না হলে আমি আমরণ অনশন শুরু করবো।"
যেদিন পত্রিকায় গান্ধীর এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হয়, সেদিনই গডসে গান্ধীকে খুন করার পাকা সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার বন্ধু নারায়ণ আপতেকে বলে,
"আর নয়, এবার গান্ধীকে মরতে হবে।"
সেই সময় আরও একটা কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিলো যে, পাকিস্তানের এর পরের দাবী হলো, ভারতের মধ্যে দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য একটা রাস্তা। গান্ধী, এই রাস্তা দিতেও নাকি রাজী ছিলো।
যা হবার হয়েছে, এবার অন্তত ভারত তথা হিন্দুদের ক্ষতি বন্ধ করতে হবে, এই বিবেচনায় করেই, নাথুরাম গান্ধীকে বীরের মতোই খুন করে এবং গুলি করার পর সে এক ধাপও না সরে পুলিশ আসার অপেক্ষায় পিস্তলসহ হাত উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।
যে গান্ধী মুসলমানদের জন্য এত কিছু করলো, তাদেরকে একটি দেশ দিয়ে দিলো, বেঁচে থাকলে নিশ্চয় আরও কিছু দিতো। সেই গান্ধী মরলো কিনা একজন প্রকৃত হিন্দুর গুলিতে! গান্ধীকে মারতে গিয়ে যে কি না নিজেকে বলি ই দিয়ে দিলো !
এরকম হিন্দু যাতে আর কেউ তৈরি না হয়, সেজন্যই মুসলমানদের প্রতিটা লেখায় উল্লেখ থাকে গডসের আগে "ঘাতক" শব্দটি। আসলে এর মাধ্যমে মুসলমানরা একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ করে চলেছে, যাতে আর কোনো প্রকৃত হিন্দু - সেক্যুলার নামধারী মুসলিম তোষকদেরকে খুন করে- মুসলমানদের বাড়া ভাতে যেন আর ছাই না দেয়।
যে বিষয়েই দেখবেন মুসলমানদের আগ্রহ, নিশ্চয় জানবেন, সে বিষয়েই হিন্দুদের কোনো না কোনো ক্ষতি লুকায়িত আছেই আছে।
মুসলমানরা যে ঘাতক ঘাতক বলে চিৎকার করে গডসেকে ঘাতক প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, ওরা জানে ঘাতক কাকে বলে ? আর পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম প্রথম ঘাতক কে ?
একজন বা দুজনকে খুন করার জন্য কাউকে ঘাতক হিসেবে অভিহিত করা যায় না; বড়জোর তাকে খুনী বলা যেতে পারে। কিন্তু যার হাতে বা যার নির্দেশে শত শত বা হাজার হাজার নিরীহ, সাধারণ ও নিরস্ত্র লোক নিহত হয়, তাকে বলে ঘাতক। যুদ্ধ ক্ষেত্রে সবাই থাকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং একে অপরকে মারার জন্যই তারা যুদ্ধ করে, তাই যুদ্ধ ক্ষেত্রে যত লোকই মারা যাক না কেনো, সেই যুদ্ধের নির্দেশ দাতারা ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হয় না। এই সূত্রে ঘাতক কারা, তা নিকটতম অতীত থেকে দূরতম অতীতের ইতিহাস ঘেঁটে তুলে ধরার চেষ্টা করছি :
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার জন্য ঘাতক হিসেবে পরিচিত, ইয়াহিয়া ও ভুট্টো। এরা কিন্তু দুজনই মুসলমান। প্রসঙ্গ যখন এলো ই, তখন বলে রাখি, ৭১ সালে বাংলাদেশে যে ৩০ লক্ষ মানুষকে খুন করা হয়েছে, এর মধ্যে ২৫ লক্ষ হিন্দু এবং যে ২ লক্ষ মা বোনের কথা বলা হয়, আসলে তা সাড়ে চার লক্ষ, এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ মেয়েই হিন্দু।
পাকিস্তানি সেনাদের উপর নির্দেশ ছিলো বেছে বেছে হিন্দুদেরকে খুন করার। দিন শেষে পাকিস্তানি সেনারা যখন ক্যাম্পে ফিরতো, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করতো, আজ কয়টা হিন্দু মারলে ? এছাড়া ৭১ সালে রাস্তাঘাটের একটা পরিচিত দৃশ্য ছিলো, লুঙ্গি খুলে বা কাপড় খুলে লিঙ্গ পরীক্ষা করে কে হিন্দু তা নিশ্চিত করে তাকে খুন করা আর লিঙ্গে খতনা করা থাকলে তাকে ছেড়ে দেওয়া। এরকম একটি ছবি নেটে সার্চ করলে পাওয়া যায়। আর সব ছেড়ে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা কেনো জগন্নাথ হলে হামলা করেছিলো, সেই বিষয়টি একবার ভাবুন আর আমার কথার সত্যতা যাচাই করুন। জগন্নাথ হলে হামলা করার একটাই কারণ, ঐ হলের সব ছাত্র ছিলো হিন্দু।
এবার আরেকটু পেছনে যাই। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে মাসব্যাপী চলা নোয়াখালির হিন্দু নিধন যজ্ঞের মাস্টারমাইন্ড এবং নির্দেশক ছিলো মুসলিম লীগ নেতা গোলাম সারোয়ার। ওই ঘটনায় প্রায় ১ হাজার অসহায় নিরস্ত্র হিন্দু নিহত হয়, ১২ থেকে ৫২ এর প্রায় সকল হিন্দু মেয়ে ধর্ষিতা হয় এবং তখনকার বৃহত্তর নোয়াখালি অর্থাৎ বর্তমানের নোয়াখালি, চাঁদপুর, ফেনী, কুমিল্লা ও ত্রিপুরার কিছু অংশের প্রায় সকল হিন্দুকে জোর পূর্বক মুসলমান হতে বাধ্য করা হয়। সংজ্ঞানুসারে এই গোলাম সারোয়ারও একজন ঘাতক; সে কিন্তু হিন্দু নয়, মুসলিম।
উপরের এই ঘটনার মাত্র ৫৫ দিন আগে, ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট, কোলকাতায় ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে পালন করে মুসলমানরা প্রায় ২০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে। আর এর রেশ ধরে ঢাকা সহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকহাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলো জিন্না এবং এর বাস্তবায়নকারী ছিলো হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এদেরকে কি মুসলমানদের ঘাতক মনে হয় না ? নাকি "যে মুসলমান, অপর মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আখিরাতে আল্লাহও তার দোষ গোপন রাখবে"- এই হাদিসের কথা মনে করে সোহরাওয়ার্দীর কোনো দোষ ই মুসলমানরা মনে আনতে চায় না ? মানুষ হওয়ার জন্য একটা সুস্থ বিবেক আর সমান দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন দুটো চোখ দরকার। মুসলমানদের তো সেটা নেই। সকল ঘটনাকে ওরা সমান চোখে দেখবে কিভাবে ?
আরেক আগস্টের ঘটনা, ১৯২১ সালের। কেরালার এই মোপলা বিদ্রোহে প্রায় ২৩০০ হিন্দুকে মুসলমানরা খুন করে, আহত করে প্রায় ৩/৪ হাজার, ধর্মান্তর অগণিত। এটি ছিলো একটি সংঘবদ্ধ আক্রমন। এই সূত্রে ঐ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকটি মুসলমান একেকজন ঘাতক।
ভারতে যত বিদেশি মুসলমান শাসক আক্রমন করেছে এবং যারা ভারত দখল করে শাসন করেছে, যেমন- মুহম্মদ বিন কাশিম, মুহম্মদ ঘোরী, কুতুবুদ্দিন, আলাউদ্দিন খিলজি, ফিরোজ শাহ, টিপু সুলতান, তৈমুর লং, সুলতান মাহমুদ, বখতিয়ার খিলজি, বাবর, আকবর, ঔরঙ্গজেব এবং অন্যান্যরা, প্রত্যেকেই এক একজন মহা ঘাতক। কারণ এরা প্রত্যেকেই লক্ষ লক্ষ অসহায়, নিরস্ত্র হিন্দুকে হত্যা করেছে।
এবার হাত দিই মুসলমানদের প্রাণ ইসলামে এবং নবীর জীবনীতে। মদীনায় হিজরতের মাত্র ১ বছরের মাথায়, মুহম্মদ, লোক পাঠিয়ে, তিন ইহুদী কবি- কাব, আকাফ এবং আসমাকে গুপ্তভাবে হত্যা করে। ৫ম হিজরিতে খন্দকের যুদ্ধের পরেই মুহম্মদ কুরাইজা গোত্রের ৮০০ জন ইহুদিকে আলী ও জোবায়েরের মাধ্যমে হত্যা করায়। এই হত্যাকাণ্ড চলে ভোর থেকে শুরু হয়ে পরের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত। মুহম্মদ এক জায়গায় বসে বসে এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে এবং হত্যাকাণ্ড শেষ হলে কুরাইজা গোত্রের সুন্দরী মেয়ে রিহানার সাথে রাত্রি যাপন করে মুহম্মদ তার ক্লান্তি দূর করে।
এরপর উকল গোত্রের ৮ জন ইহুদিকে মুহম্মদ নিজের হাতে - প্রথমে গরম লোহার রড দিয়ে চোখ গেলে দিয়ে, পরে একে একে তাদের হাত পা কেটে মরুভূমির তপ্ত বালির মধ্যে ফেলে রেখে এবং কাউকে পানি পর্যন্ত দিতে নিষেধ ক'রে - নৃশংসভাবে হত্যা করে।
মুহম্মদ তার মদীনার জীবনে ১০ বছরে ৮২টি যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, এতে কত লোক তার কারণে খুন হয়েছে ? এমনকি মক্কা দখলের পর, যে মক্কা বিজয়কে মুসলমানরা বর্ণনা করে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয়, সেই বিনা রক্তপাতের মধ্যেও ২৮ জন যুদ্ধে নিহত হয় এবং মুহম্মদ ১০/১২ জনকে খুন করায়। এই মুহম্মদকে মুসলমানদের ঘাতক বলে মনে হয় না ? না কি ৭২ হুর সম্বলিত বেহেশত নামক পতিতালয় প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে, মুসলমানদের চোখে মুহম্মদের হাজার খুন মাফ ?
ইসলামের ইতিহাসে চার খলিফার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাতক হলো আলী। সে সমগ্র জীবনে মোট ৯৮টা যুদ্ধ করে এবং প্রতিটা যুদ্ধেই সে ছিলো প্রধান ঘাতক। কুরাইজা গোত্রের যে ৮০০ জনকে মুহম্মদ খুন করায়, তার মধ্যে আলী হত্যা করে কমপক্ষে ৪০০ জনকে এক দিনে। এছাড়াও ৯৮টা যুদ্ধে সে কতজন অসহায় নিরস্ত্র মানুষকে খুন করেছে, সেই বিষয়টা একবার চিন্তা করুন। এখানে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখবেন, ইসলামের যুদ্ধ মানেই মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের মতো ঘোষণা দিয়ে ১ মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুদ্ধ নয়, ইসলামের যুদ্ধ মানেই ভোর বেলা কোনো অমুসলিম জনবসতির উপর অতর্কিতে হামলা, খুন, লুঠপাট ও ধর্ষণ।
মুসলমানদের হিসাব মতেই, মুহম্মদের শেষ হজ অর্থাৎ বিদায় হজে মোট জনসমাগম হয়েছিলো ২ লক্ষ। এর মানে হলো, তখন সমগ্র আরবের লোকসংখ্যা ছিলো ২ লক্ষ। কেননা, প্রাণের ভয়ে মুহম্মদ অধিকৃত এলাকার সকল লোক ওই বিদায়ের হজের ভাষণে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছিলো। তো যেই সময় সমগ্র আরবে মাত্র ২ লক্ষ মানুষ, সেই সময় মুহম্মদের কারণে মারা গেছে কম করে হলেও ১ হাজার মানুষ। আজ আরবে ২ কোটি মানুষ বাস করে। এই হিসেবে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১ হাজার মানুষ = বর্তমানের ২ লক্ষ মানুষ। এছাড়াও ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে মুসলমানরা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ইহুদি সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি মানুষকে হত্যা করেছে, এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ই হিন্দু। পৃথিবীর ইতিহাসে, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগে, কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশ ও পরিচালনায় এতগুলো নিরস্ত্র ও অসহায় লোক কখনো মারা যায় নি। এই হিসেবে, অন্য কেউ নয়, একমাত্র মুহম্মদ এবং মুহম্মদই পৃথিবীর প্রথম ঘাতক।
তো এই মুসলমানরা, যাদের নবী একজন মহা ঘাতক, খলিফারা ঘাতক, প্রতিটা মুসলমান শাসক একেকজন ঘাতক এবং প্রত্যেকটা মুসলমান ব্যাক্তিগতভাবে মনে প্রাণে একেকজন ঘাতক, সেই ঘাতক মুসলমানরা, মাত্র একজন লোককে খুন করার কারণে নাথুরাম গডসেকে বলে ঘাতক এবং সেটা নিয়ে কুকুরের মতো বছর জুড়ে ঘেউ ঘেউ করতেই থাকে।
প্রকৃতপক্ষে, এটা করে হিন্দুদেরকে তারা মানসিকভাবে দুর্বল ক'রে হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে যেতে চায়; যাতে আর কোনো নাথুরাম গডসের জন্ম না হয় এবং মুসলমানদের আগ্রাসনের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নাথুরাম যে পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছে, সেই পথের পথিক হিসেবে আরো নাথুরামের জন্ম হবে এবং তারা হিন্দুদের উপর মুসলিম আগ্রাসন শুধু রুখবেই না, হিন্দুদের উপর হওয়া হাজার বছরের অত্যাচারের বদলাও নেবে, এটা নিশ্চিত।
এবার নজর দেওয়া যাক, বাজারি বেশ্যার দিকে। এই পত্রিকা বা এই ধরণের পত্রিকাগুলো কেনো হিন্দুদের সাথে এমন করে বা করছে ? হিন্দু স্বার্থের ব্যাপারে এরা কেনো এত উদাসীন ? আর মুসলিম স্বার্থ রক্ষা করতেই বা এরা এত বেপরোয়া ও উদগ্রীব কেনো ? কেনো মুসলমানদের বক্তব্য এবং এইসব বাজারি পত্রিকার বক্তব্য প্রায় হুবহু এক ? কেনো মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেই এরা বারবার হাইলাইটস করতে থাকে ?
দুটো তথ্য জানলে এই পুরো বিষয়টা আপনাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়, আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদক পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে গলফ খেলেছিলো। এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এই পত্রিকাগুলোর সুতো বাঁধা কোথায় ?
কিন্তু এর শেকড় আরো অনেক গভীরে।
সৌদী আরবের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমেদ টোটেনজী ১৭.৯.১৯৮২ তারিখে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরে, জামাত-ই-ইসলাম কর্তৃক আয়োজিত এক জনসভায় বলেছিলো, "ভারতবর্ষের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো নীতিজ্ঞান শুন্য। এই দলগুলির নেতারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পৃথিবীর এমন কোনো হীন কাজ নেই যা তারা করতে না পারে। ভারতীয় নেতা, সংবাদ মাধ্যম এবং মেকী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোকে হিন্দু বিরোধিতা করার জন্য ২৫০ কোটি ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যে এর আশাতীত ফল পাওয়া গেছে। এরা এখন থেকে নিরন্তর হিন্দু সংগঠগুলির সাথে লড়াই চালিয়ে যাবে। যখন ভারতবর্ষে মুসলমানরা ২০ থেকে ২৫ কোটিতে পৌঁছবে, তখন আমরা অতি সহজেই হিন্দু সংগঠনগুলিকে শেষ করে দিয়ে ভারত দখল করতে পারবো।"
মুসলমানদের সাথে তাল মিলিয়ে কেনো মিডিয়াগুলো নাথুরামকে ঘাতক হিসেবে উল্লেখ করে, এবার নিশ্চয় সেটা বুঝতে পেরেছেন ।
এখন টোটেনজীর উপরের ওই বক্তব্যের সাথে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির হুমকির এই বিষয়টি মিলিয়ে দেখুন, "ভারতের সরকার ১৫ মিনিটের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে তুলে নিলে আমরা মুসলমানরা সব হিন্দুকে শেষ করে দিতে পারবো।"
ভারতে বর্তমানে মুসলমান সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। সংবাদ মাধ্যম, সেক্যুলার রাজনৈতিক দল এবং ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে মুসলিম উম্মাহ কিন্তু রেডি হয়ে আছে সব হিন্দুকে খতম করে দিয়ে ভারতে আবার ইসলামিক পতাকা উড়ানোর জন্য।
আমরা কি রেডি, নিজে বাঁচার জন্য ও ভারতকে রক্ষা করার জন্য ?
একটি সুস্থ ও ভালো বুদ্ধির মাথা যেমন সমাজ ও স্বজাতিকে উন্নতির পথে নিয়ে যায়, ঠিক তেমনি একটি পচা মাথাও সমাজ স্বজাতির ধ্বংস ডেকে আনে, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ নেহেরু ও গান্ধী। কিন্তু পচা মাথার বৈশিষ্ট্য হলো, তা কখনোই সুস্থ হয় না এবং অন্য সুস্থ মাথাতেও সংক্রমন ঘটায়। এজন্য সেক্যুলার নামের এইসব পচা মাথার কবল থেকে হিন্দু জাতিকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো, মহাভারতের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসারে সকলকে একেবারে বিনাশ করে দেওয়া।
কাউকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে দেওয়ার পরেও, তার সেই স্বাধীন চিন্তার ফল, যখন তার নিজ সমাজ-ধর্ম ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, সর্বোপরি জাতিকে হীনদুর্বল ও আত্মরক্ষায় অসমর্থ করে দেয়, তখন তার চিন্তা করার ক্ষমতাকেই কেড়ে নেওয়া উচিত ।
তাই যত দ্রুত সম্ভব হিন্দুদের উচিত, সেক্যুলারদের এই চিন্তা করার ও তা প্রকাশ করার ক্ষমতাকে কেড়ে নেওয়া। না হলে মুসলিম উম্মাহর ষড়যন্ত্রে পড়ে, এই সেক্যুলারদের মাধ্যমেই, হিন্দু জাতির সকলের, ধ্বংস হওয়া অনিবার্য।
জয় হিন্দ।
💜 জয় হোক সনাতনের 💜



মন্তব্যগুলি

জাকির নায়েক রবিশঙ্কর ও রূপক রায়


জাকির নায়েক  রবিশঙ্কর  ও রূপক রায়



ফেসবুক থেকে       শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু










জাকির নায়েক ও রবিশঙ্করের তথাকথিত বিতর্কের মূল রহস্যটা আসলে কী ?
জাকির নায়েকের চাপাতি টিভি, চাপাতি টিভি এজন্যই বললাম যে, জাকিরের টিভির নাম তো পিস টিভি, আর পিস মানে শান্তি, কিন্তু মুসলমানরা শান্তি বলতেই তো বোঝে তরোয়াল-চাপাতির মাধ্যমে অর্জিত শান্তি, এজন্যই বললাম চাপাতি টিভি।
এখানে একটা প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলাম মানে যদি শান্তি হয়, তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললে, মুসলমানরা ক্ষেপে যায় কেনো বা চাপাতি দিয়ে কোপাতে চায় কেনো ? কেনো ওরা শান্তি পূর্ণ পদ্ধতিতে আলোচনায় বসে না ? মুসলমানদের রাগ আর সন্ত্রাস কি এটা প্রমান করে যে, ওদের ধর্মের নাম বা ধর্মের বিষয় শান্তি ?
যা হোক, ফিরে যাই মুল আলোচনায়। জাকিরের পিস টিভিতে, রবিশঙ্কর এবং জাকির নায়েকের একটি একটা অনুষ্ঠান খুব ঘটা করে প্রচার করা হতো, যাতে রবিশঙ্কর পরাজিত নয়, বিব্রত হয়। আর এটা নিয়ে মুসলমানরা এটা প্রচার করে বা প্রমান করার চেষ্টা করে যে, যেহেতু রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের কাছে পরাজিত হয়েছে, সেহেতু হিন্দুধর্মের চেয়ে ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং হিন্দুদের উচিত, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলা।
যেসব হিন্দু বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখে নি, তারাও এই সংশয়ে থাকে যে, সত্যিই মনে হয়, ইসলাম, হিন্দুধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, না হলে রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের কাছে পরাজিত হলো কেনো ?
প্রত্যেকটি মুসলমানের আজীবনের একটি লালিত স্বপ্ন হলো- কোনো একজন অমুসলিমকে মুসলমান বানানো, তাহলে তারা নাকি বিনা বিচারে বেহেশতে যেতে পারবে। আর বেহেশতে গিয়ে তাদের একমাত্র কাজ হলো ৭২ হুর নিয়ে যৌনলীলায় মেতে থাকা, যদিও মেয়েদের জন্য এরকম কোনো ব্যবস্থা নেই এবং এই একটি কারণেই মুসলমানরা প্রাণপাত করে ইসলাম পালন করে, বোঝেন ইসলাম কত মহান ধর্ম!
যা হোক, জাকিরের এই পিস টিভি খোলার পেছনে উদ্দেশ্যও ছিলো এই এক, ইসলাম প্রচারের আড়ালে ধর্মান্তর করা; এখন যেহেতু ঘাড়ে তলোয়ার ধরে বলার যুগ নাই যে ইসলাম গ্রহণ কর, না হলে মৃত্যু; তাই মুসলমানরা বেছে নিয়েছে ব্রেইন ওয়াশ থিয়োরি, এতে বছরে যদি একজন করেও অমুসলিম ধোকায় প’ড়ে বিভ্রান্ত হ’য়ে, ইসলাম গ্রহন করে, তবুও তো ইসলামের লাভ।
জাকিরের কাজ যেহেতু ভারতীয় উপমহাদেশে এবং এখানকার বেশিরভাগ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তাই জাকিরের টার্গেট হলো হিন্দুরা এবং হিন্দুদের ব্রেইন ওয়াশের জন্য তার থিয়োরি হলো- কল্কি অবতারই মুহম্মদ, বেদ পুরানে আল্লা মুহম্মদের নাম আছে, রবিশঙ্করের ডিবেট, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।
“কল্কি অবতার ই মুহম্মদ” এবং “বেদ পুরানে আল্লা মুহম্মদ” বিষয়ে আমার আলাদা দুটি পোস্ট আছে, তাই আজকে শুধু রবিশঙ্করের ডিবেট নিয়েই কথা বলবো।
ভারত এবং ভারতের বাইরে শত শত মানুষ জাকিরকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে, তাদের সাথে তর্ক বির্তকে বসার জন্য, জাকির তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে নি। কিন্তু কেনো ? তার ভয় কিসের ?
আমি যদি সত্য হই, পৃথিবীর সকল জায়গাতেই আমি নিজেকে সত্য বলে প্রমান করতে পারবো; তাহলে সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে আমার অসুবিধা কোথায় ? আমি তো আমার অনেক পোস্টে খোলা খুলি এই চ্যালেঞ্জ দিই যে, আমার পোস্টের জবাব কেউ যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে দিতে পারে আমি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবো, কেউ তো আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে না। আমি এই চ্যালেঞ্জ দিতে পারি, কারণ, আমি জানি সত্যটা কী এবং তা কোথায় ? তাহলে জাকির, সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে না কেনো ?
অনেকে আমাকে জাকিরের সাথে ডিবেটে যেতে বলে, কিন্তু মুসলমানরা যেহেতু হিংস্র জাতি এবং যেহেতু তারা ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি বোঝে না বা তা মেনে নিতে পারে না বা শুনতেই চায় না, তাই মুসলমানদের সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব; যদিও বা আপনি কাউকে তর্কে পরাজিত করেন, সে সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে, নবীর নামে কটূক্তি করেছে ব’লে আপনার উপর চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে বা দল বল নিয়ে এসে আপনার বাড়িতে হামলা করবে বা বাড়ি জ্বালিয়ে দেবে বা গ্রাম জ্বালিয়ে দেবে। ফলে শেষ পর্যন্ত জয় হবে মুসলমানদেরই। তাই মুসলমানদের সাথে ফেস টু ফেস বিতর্কে যাওয়া অসম্ভব; কারণ, আপনি যত বড়ই জ্ঞানী বা শক্তিশালী হোন না কেনো, আপনাকে এটা মাথায় রাখতে হবে যে, একজন মূর্খ মুসলমানের একটি চাপাতির কাছে আপনি অসহায়, যেটা আমি সব সময় মাথায় রাখি।
উপরের এই পদ্ধতির জন্য, ইন্টারনেট আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত মুসলমানদের প্রচার ছিলো একতরফা; কারণ, তারা যা বলেছে, তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কোনো উপায় ছিলো না। শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট এবং ফেসবুক, সেই দুঃসহ অবস্থা থেকে পৃথিবীর মানুষকে মুক্তি দিয়েছে। মুসলমানরা মাঝে মাঝেই ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে, যদি ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র থেকেই থাকে, তা হলো এই ইন্টারনেট এবং ফেসবুক আবিষ্কার এবং আমার হিসেবে এটাই হলো ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের সবচেয়ে বড় যড়যন্ত্র; যার মজা এখন মুসলমানরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
আমি এত ইসলামের বিরুদ্ধে লিখি এবং মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ দিই সেগুলোর জবাব দিয়ে আমাকে মুসলমান বানানোর জন্য, কিন্তু এখন পর্যন্ত এক হারামজাদাও আমাকে মুসলমান বানানোর জন্য জবাব দিতে এগিয়ে এলো না, যোগ্য জবাবের পরিবর্তে তারা যা দেয় তা হলো ইনবক্সে বা কমেন্টে গালি গালাজ; যেগুলোকে আমি রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলেই মনে করি এবং যেগুলোকে আমি আমার বাল দিয়েও গুরুত্ব দিই না।
যা হোক, ইউটিউবে একটি ভিডিও পাওয়া যায়, ৫ মিনিটে ২৫ মিথ্যা নামে, এতে জাকির নায়েকের একটি ৫ মিনিটের বক্তব্যে, সে যে ২৫ টি মিথ্যে তত্ত্ব দিয়েছে, সেই পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। এরা জাকির নায়েককে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলো, তাদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, কিন্তু জাকির তা গ্রহণ না করায়, তারা ওর ঐ বক্তব্যের পোস্টমর্টেম করে ইউটিউবে ছাড়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাকিরের এত চ্যালেঞ্জকারী থাকতে সবাইকে বাদ দিয়ে জাকির তার টিভিতে রবিশঙ্করক নিয়ে এলো কেনো ? রবিশঙ্কর যে জাকিরকে কোনো দিন চ্যালেঞ্জ করেছিলো, এমন কি কেউ কোনোদিন শুনেছেন ? শুনেন নি। তাহলে পিসটিভিতে রবিশঙ্কর কেনো ?
বাংলাদেশে অনেক ব্যক্তিমালিকানাধীন টিভি চ্যানেল আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মালিক হচ্ছে, এটিএন বাংলার মালিক মাহফুজুর রহমান। অন্য চ্যানেলগুলোর মালিক কে বা কারা এটা দেশের ৯৫% মানুষ না জানলেও, দেশের ৯৫% মানুষ, যারা নিয়মিত টিভি দেখে, তারা জানে যে, এটিএন বাংলার মালিক মাহফুজুর রহমান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই মাহফুজুর রহমান, তার চ্যানেলে কি এমন কোনো অনুষ্ঠান দেখাবে, যাতে তার ইমেজ খারাপ হয় ? আপনাদের কমনসেন্স কী বলে, দেখাবে ? দেখাবে না ? তাহলে জাকির নায়েক, তার নিজস্ব টিভি চ্যানেলে এমন কোনো প্রোগ্রাম কেনো দেখাবে, যাতে সে কারো কাছ পরাজিত হয় ?
তাছাড়া পিস টিভিতে বিতর্কমূলক কোনো অনুষ্ঠান কিন্তু লাইভ দেখানো হয় না; তার মানে, এডিট করে, কেটে ছেঁটে সে সব অনুষ্ঠানই দেখানো হয়, যাতে জাকির নায়েকের মান বজায় থাকে এবং সে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ই দেখানো হয়, যাতে জাকিরের জবাব যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়। পিস টিভিতে রবিশঙ্করের অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে এজন্যই যে, সেই অনুষ্ঠানে রবিশঙ্কর আপাতদৃষ্টিতে পরাজিত হয়েছে, যদি জাকির নায়েক পরাজিত হতো, তাহলে সেটা কি তারা দেখিয়ে ইসলামের বারোটা বাজাতো ? এই ব্যাপারটি পরিষ্কারভাবে বোঝে না বলেই অনেক হিন্দু রবিশঙ্করের ব্যাপারটি নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং তাদের মনে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, হিন্দুদের মনে যে সন্দেহটি সৃষ্টি করা শুধু জাকির নায়েক কেনো, সব মুসলমানদের মরণপণ জিহাদী উদ্দেশ্য।
তাছাড়া, কে এই রবিশঙ্কর ? সে কি হিন্দুদের মনোনীত কোনো ব্যক্তি, যাকে হিন্দুরা জাকিরের সাথে ডিবেট করতে পাঠিয়েছে ? দেখে নিন উইকিপিডিয়াতে তার সম্পর্কে কী বলা হয়েছে ?
“রবি শঙ্কর, যিনি সাধারণত শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর নামে পরিচিত, হলেন ভারতের একজন আধ্যাত্মিক নেতা যিনি ১৩ মে ১৯৫৬ সালে তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাকে শ্রী শ্রী উপাধিতে বা গুরুদেব বা গুরুজি নামেও ডাকা হয়। ১৯৮১ সালে তিনি আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল লক্ষ্য হল মানুষের ব্যক্তিগত মনোদৈহিক চাপ, সামাজিক সমস্যা এবং সহিংসতা দূর করা।“
এছাড়াও Art of living পৃথিবীর বৃহত্তম একটি "হিউমেনিটারিয়ান & এডুকেশনাল এনজিও" এর প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্কর একজন যোগ বিশেষজ্ঞ এবং পতঞ্জলি যোগসূত্র দ্বারা উদ্বুদ্ধ একজন দার্শনিক নেতা। বজ্রাসন ও সুখাসন এর মাধ্যমে কৃত সূদর্শন ক্রিয়া এর একজন অনন্য পরিচালক তিনি যার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান হানাহানি ও মূল্যবোধের অবক্ষয় এর অবসান ঘটাতে চান। তিনি কখনোই একজন হিন্দুধর্ম বিশারদ নন এবং একজন বেদজ্ঞানী তো নন বটেই!
যার উদ্দেশ্যই হলো পৃথিবীর হানাহানি বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, সে যাবে জাকিরের সাথে তর্ক বিতর্ক করতে! যেখানে তর্ক বিতর্কই হলো সকল অশান্তির মূল ? এছাড়াও এই তথ্যগুলো থেকে কি এটা প্রমান হচ্ছে যে, তিনি হিন্দুদের কোনো ধর্মগুরু ? তাহলে তার জয় বা পরাজয় নিয়ে হিন্দুদের এত মনোব্যথার কী আছে ?
এবার দেখুন, কোন প্রেক্ষাপটে জাকিরের পিস টিভি সেই ভিডিওটি তৈরি করেছিলো ?
রবিশঙ্কর যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলো, সেটা ছিলো "Concept of GOD in Hinduism & Islam" শীর্ষক একটি আলোচনা সভা, এটা মোটেই পূর্ব ঘোষিত কোনো বিতর্ক সভা নয়। রবিশঙ্কর সেখানে গিয়েছিলেন নিজে থেকেই কোনো হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন বা হিন্দুদের পক্ষ থেকে নয়। কিন্তু ধূর্ত জাকির পুর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী সেখানে কাদিয়ানী লেখক মাওলানা আব্দুল্লা হক বিদ্যার্থীর বই থেকে হুবহু তোতা পাখির মতো কিছু মুখস্ত উদ্ধৃতি দেয় যে পবিত্র বেদ এ মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে এবং ভবিষ্য পুরানেও মোহাম্মদ এর কথা বলা আছে। একজন ব্যক্তি যিনি কোনো বিতর্কের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান নি বা তার সেই বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার ইচ্ছা আছে কিনা সেটাও সন্দেহ, তাকে হঠাৎ করে বেদের খুঁটি নাটি বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে বিব্রত হবে না তো কী হবে ?
ধান্ধাবাজ জাকিরের এই ভিডিও নিয়ে মুসলমানরা জোর গলায় বলে,
“জাকির নায়েক তো হিন্দুদের গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এর সাথে বিতর্ক করেছে এবং জয়লাভ করেছে। রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশী জানেন। উনি যখন জাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনি তো আপনারা কে ?”
জাকির নায়েক, রবিশঙ্করের সাথে কী ধরণের তর্ক বিতর্ক করেছে এবং কোন সিচুয়েশনে করেছে, আশা করছি, উপরের বর্ণণায় তা বুঝতে পেরেছেন, তাই এটা নিয়ে আর বলার কিছু নেই।
এরপর মুসলমানদের তথ্য হলো-
“রবিশঙ্কর তো আপনাদের চেয়ে বেশি জানেন।”
রবিশঙ্কর কতটা জানে, সেটা আপনারা সার্টিফিকেট দিচ্ছেন কেনো ? আপনাদের কী মনে হয়, আমি ইসলাম ও হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে কম জানি ? আপনারা আমার কথার জবাব গালিগালাজ ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় দেন না কেনো ? ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে কলম ধরেন।
মুসলমানদের আরো প্রশ্ন হলো, রবিশঙ্কর যখন জাকির নায়েকের ভূল দেখাতে পারেনি তো আপনারা কে ?”
রবিশঙ্কর কি জাকির নায়েকের ভুল ধরে তার সা্থে ঝাগড়া করতে গিয়েছিলো যে রবিশঙ্কর জাকির নায়েকের ভুল ধরবে ? আর ‘আপনারা’ বলে সব হিন্দুকে আপনাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন কেনো ? শুধু Rupok Roy কে সেই হিসেব করেন; Rupok Roy কে এবং কী জিনিস, তা তো এখনই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, অপেক্ষা করেন আরো পেতে থাকবেন।
এছাড়াও মুসলমানদের প্রশ্ন হলো- “জাকির যদি ভুলই হয় তবে হিন্দুধর্মীয় নেতারা তাকে ধরিয়ে দিচ্ছে না কেন ?”
পিস টিভি যখন রবিশঙ্করের এই ভিডিও প্রচার করে, তখন সবাই বুঝতে পারে যে, শান্তিবাদী রবিশঙ্করকে জাকির ফাঁসিয়েছে। এরপর বেদ নিয়ে প্রকৃত বিতর্কের জন্য বিখ্যাত বৈদিক সংগঠন আর্যসমাজ এর পক্ষ থেকে পর পর তিন বার অফিসিয়ালি ইমেইল এর মাধ্যমে IRF এর জাকির নায়েককে বিতর্কের জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু ভীত ও ধূর্ত নায়েক জানেন যে বিখ্যাত বেদ গবেষনা সংগঠন আর্যসমাজের পন্ডিতগন, যাদের বেদ এর প্রতিটি অক্ষর পর্যন্ত মুখস্থ, তাঁদের সামনে বেদ নিয়ে অপপ্রচার চালানো সম্ভব হবে না, তাই সে কোনো সারা দেয় নি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থবার বিতর্কের চ্যলেঞ্জ জানানোর পর IRF এর পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল্লাহ তারিক কে পাঠানো হয় বিতর্কে অংশগ্রহনের জন্য। তখন আর্য সমাজের পন্ডিত মাহেন্দ্র পাল আর্য, যিনি নিজেও ৩০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হন, আব্দুল্লাহ তারিককে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। কিন্তু এই বিতর্কটি কি জাকির তার পিস টিভিতে দেখিয়েছ ?
এছাড়াও কথা হল IRF এর অনুষ্ঠানসমূহে জাকির যখন হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন দাবী করেন তখন সেখানে কোন হিন্দুশাস্ত্রবিশারদদের আমন্ত্রন জানানো হয়না কেন ? ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে মুসলমানরা তো সব সময় ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে অভ্যস্থ, জাকির সেখান থেকে বের হবে কিভাবে ? জাকিরের যদি সেই সৎসাহস থাকতো বা তার ইসলাম নিয়ে এত আত্মবিশ্বাস থাকতো, তাহলে তার, সকলের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মতো সৎ সাহস থাকতো।
জাকিরের আরেকটি ভন্ডামীর কথা জেনে রাখেন, তার অনুষ্ঠানে, যে সব লোক ধর্মান্তরিত হতো, সেগুলো সবই ছিলো সাজানো নাটক। জাকিরের পিস টিভি বন্ধ হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত ড্রাইভারের কাছ থেকে জানা গেছে এই তথ্য।
শেষের দিকে এসে আরেকটি তথ্য আলোচনা না করেই পারছি না- জাকির, রবিশঙ্করকে যে অনুষ্ঠানে হাজির করেছিলো, তার নাম দিয়েছিলো, "Concept of GOD in Hinduism & Islam"। এখানে খেয়াল করবেন, হিন্দুধর্ম বোঝাতে Hinduism শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যে সব হিন্দুর “ism” শব্দের মানে জানা নেই, তারা হয়তো বলবেন যে, কেনো এখানে সমস্যাটা কী ? কিন্তু এর মানে বোঝার পর জানতে পারবেন যে, আসলে এর পেছনের গভীর ষড়যন্ত্রটা কী এবং কোথায় ?
‘ইজম’ মানে হলো ব্যক্তিগত মতবাদ, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো মতবাদ দেয়, সেই মতবাদ বোঝাতে তার নামের শেষে ইজম ব্যবহার করা হয়, যেমন কার্ল মার্ক্স এর মতবাদের নাম মার্ক্সিজম= মার্ক্স+ইজম। কিন্তু হিন্দু ধর্ম কি কোনো একজনের ব্যক্তিগত মতবাদ, যে জাকির হিন্দু শব্দের সাথে ইজম লাগিয়েছে ? আর হিন্দু কি কোনো একজন ব্যক্তির নাম যে, এর সাথে ইজম যুক্ত হবে ? এই হিন্দুইজম শব্দটি শুধু প্রয়োগের দিক থেকেই ভুল নয়, গঠনের দিক থেকেও ভুল। কিন্তু এখানে জাকিরের উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু ধর্মের বিশালত্বকে ইজম শব্দের মাধ্যমে একটি ক্ষুদ্র গণ্ডীর মধ্যে নিয়ে আসা, ষড়যন্ত্রটা এখানেই। হিন্দুধর্ম বোঝাতে হিন্দু শব্দের সাথে কখনো ইজম শব্দ যুক্ত হবে না; কারণ, হিন্দুধর্ম কোনো একজন ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফল নয়, যেমন একজন ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফল হলো- ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সকল ব্যক্তিগত ধর্ম, যদিও এগুলোকে এখন ধর্ম বলে চালানো হচ্ছে, আসলে এগুলো ধর্ম নয়, এগুলো এক একটি ব্যক্তিগত মতবাদ।
প্রকৃতির সৃষ্টি যে কোনো কিছুর ধর্ম থাকে, যেমন- ধর্ম আছে আগুন, জল বা লোহার। মানুষ এগুলোর ধর্ম বানাতেও পারে না আবার তার পরিবর্তনও করতে পারে না। ধর্ম বানানো তাই প্রকৃতি নামক ঈশ্বরের কাজ, কোনো মানুষের কাজ নয়। এই সূত্রে প্রকৃতির বিধিবদ্ধ নিয়মের নির্যাস হিসেবে পৃথিবীর মানুষের জন্য একমাত্র ধর্ম হলো সনাতন মানবধর্ম, আর বাকিগুলো কোনো ধর্ম নয়, ওগুলো ব্যক্তিগত মতবাদ।
যা হোক, জাকির ও রবিশঙ্কর প্রসঙ্গে শেষ কথা হলো- জাকিরের সাথে রবিশঙ্করের বিতর্ক বলে যা প্রচার করা হয়, সেটা যে আসলে বিতর্ক নয়, ধান্ধাবাজ জাকির কোম্পানির কৌশলে তোলা আলোচনা চক্রের একটি ভিডিও মাত্র, যাতে অপ্রস্তুত অবস্থায় রবিশঙ্করকে বেদ থেকে কিছু প্রশ্ন করে বিব্রত করা হয়েছে এবং রবিশঙ্কর হিন্দুদের যে কোনো ধর্মগুরুও নয়, বাবা রামদেব এর মতো একজন যোগসাধক মাত্র, তাই জাকিরের সাথে রবিশঙ্করের তথাকথিত পরাজিত হওয়া, আসলে যা পরাজিত হওয়া নয়- আশা করছি সেই সম্পর্কে আমার বন্ধুদের কাছে প্রকৃত সত্যটা উদঘাটন করতে পেরেছি।
জয় হিন্দ।
💜 জয় হোক সনাতনের 💜

চিত্রে থাকতে পারে: 2 জন ব্যক্তি, ব্যক্তিগণ হাসছেন, দাড়ি এবং পাঠ্য

বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

শক


শক


প্রাচীন কালে, শকরা, গাঁজার ব্যবসা করত !
দাস ব্যবসাও করত !

শকরা ছিল যুদ্ধপ্রিয়।
শকরা ছিল যুদ্ধবাজ আর দারুণ হিংস্রও।
তারা তির-ধনুক ব্যবহার করত। তা ছাড়া তাদের ছিল, তরোয়াল।
এবং,  তারা ঘোড়ায় চড়ত,  আর ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করত।
শক নারীরাও, যুদ্ধ করত।

শকদের ঘোড়া ছিল, মোঙ্গলীয় 'পনি'। ক্ষুদ্রকায় ঘোড়া, তবে দারুণ জোড়ে ছুটত।

শকরা, সম্ভবত, মানব সভ্যতায় প্রথম যুদ্ধাশ্রয়ী অশ্বারোহী।


প্রণব কুমার কুণ্ডু