বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯


   পদার্থবিজ্ঞানে সি ভি রমণের আবিষ্কার
   ফেসবুক থাকে        শেয়ার করেছেন      প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু

🙏🙏🙏 সুপ্রভাত।

শুভ হোক আপনার দিন।

ভারতীয় উপমহাদেশের যে কোনও বিজ্ঞান-শিক্ষার্থীই স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমন বা সি ভি রমনের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
তাঁর আবিষ্কৃত ‘রমন এফেক্ট বা ‘রমন-প্রভাব’ পদার্থবিজ্ঞানের জগতে এক আশ্চর্য মাইলফলক হয়ে আছে ১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে – যে দিন এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল।
রমন-প্রভাব আবিষ্কারের জন্য সি ভি রমন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন ১৯৩০ সালে।
শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, সমগ্র এশিয়ার মধ্যে তিনিই হলেন বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী।
 তাঁর নোবেল-বিজয়ী গবেষণার সবটুকুই সম্পন্ন হয়েছিল কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’-এর ছোট্ট একটা গবেষণাগারে।
এই গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি সংযোজন, সংরক্ষণ ও পরীক্ষণের কাজে তাঁকে যিনি সারাক্ষণ সহায়তা করেছিলেন তাঁর নাম আশুতোষ দে – আশুবাবু নামেই যিনি পরিচিত ছিলেন।
আশ্চর্যের বিষয় হল এই আশুবাবু জীবনে কোনও দিন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাননি।
গবেষণার ক্ষেত্রে রমনও নিজেই নিজের পথ খুঁজে নিয়েছিলেন। আর তাঁর এই পথ খোঁজা শুরু হয়েছিল একেবারে ছোটবেলা থেকেই।
১৯১৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৭ সালে স্যার আশুতোষ মুখার্জি সি ভি রমনকে আহ্বান করলেন বিজ্ঞান কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের ‘পালিত প্রফেসর’’পদে যোগ দেওয়ার জন্য।
১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিয়ে প্রফেসর সি ভি রমনের নতুন জীবন শুরু হল। টানা পনেরো বছর এই পদে ছিলেন তিনি।
১৯২১ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হল ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি কংগ্রেস। স্যার আশুতোষ মুখার্জির বিশেষ অনুরোধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যোগ দিলেন রমন। এটাই রমনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। কয়েক দিনের এই সংক্ষিপ্ত ভ্রমণেই তাঁর সঙ্গে দেখা হল থমসন, রাদারফোর্ড, ব্র্যাগ সহ আরও অনেক বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীর।
জাহাজে করে লন্ডনে যাওয়া আসার পথে বিশাল সমুদ্রের রূপ দেখে মুগ্ধতার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল রমনের মন। গভীর সমুদ্রের রঙ দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল এই ঘন নীল রঙের প্রকৃত রহস্য কী? ইতিপূর্বে লর্ড রেলেই আকাশের নীল রঙের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন অণুর সাথে আলোর কণার বিক্ষেপণের ফলে নীল বর্ণের আলোক তরঙ্গ বেশি দেখা যায় বলেই দিনের বেলায় আকাশের রঙ নীল।
সমুদ্রের নীল রঙ সম্পর্কে লর্ড রেলেইর তত্ত্ব বেশ সরল। তাঁর মতে সমুদ্রের রঙ আসলে সমুদ্রের জলে আকাশের রঙের প্রতিফলন। রমন লর্ড রেলেইর এ তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত করেন জাহাজে বসে করা কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে। একটি পোলারাইজিং প্রিজমের মাধ্যমে সমুদ্রের জলে আকাশের প্রতিফলন আড়াল করার পরেও দেখা গেল সমুদ্রের জলের রঙ ঘন নীল – যেন জলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে নীল রঙ। ফলে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে সমুদ্রের জলের নীল রঙ আকাশের রঙের প্রতিফলন নয়, জলে আলোককণার বিক্ষেপণের ফল। তিনি সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতা থেকে জল সংগ্রহ করে বোতল ভর্তি করে নিয়ে আসেন কলকাতায়। প্রিজম, টেলিস্কোপ ইত্যাদি নিয়ে গভীর সমুদ্রে রঙের খেলা পর্যবেক্ষণ করতে করতে অনেক উপাত্ত সংগ্রহ করেন রমন। কলকাতায় ফিরে এসে তরল পদার্থে এক্স-রে এবং দৃশ্যমান আলোকের বিক্ষেপণ সংক্রান্ত গবেষণায় মেতে ওঠেন তিনি। সেই গবেষণার ধারাবাহিকতাতেই আবিষ্কার হয় রমন এফেক্ট।
রমন এফেক্ট আলোকতরঙ্গের অজানা পথ খুলে দিয়েছে। শক্তির স্তর এবং অণু ও পরমাণুর গঠন বুঝতে অনেক সহায়তা করেছে। পদার্থবিজ্ঞানের অনেক শাখায় রমন এফেক্ট কাজে লাগছে। জীববিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও অনেক শাখায় রমন এফেক্ট কাজে লাগিয়ে অনেক নতুন নতুন গবেষণা হচ্ছে।
১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার সি ভি রমনকে নাইট খেতাব দিলে রমনের নামের আগে ‘স্যার’ যুক্ত হয়। স্যার সি ভি রমন দ্রুত হয়ে ওঠেন ভারতীয় বিজ্ঞানের জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী।
সাধারণত বিজ্ঞানের যে কোনও আবিষ্কারের পর অনেক বছর লেগে যায় তার স্বীকৃতি পেতে। বিশেষ করে নোবেল পুরষ্কারের মতো পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু রমনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটে গেল মাত্র দু’ বছরের মধ্যেই। ১৯৩০ সালেই ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেলেন স্যার সি ভি রমন।
১৯৫৪ সালে রমনকে ভারতরত্ন উপাধি দেওয়া হয়।
১৯৫৭ সালে দেওয়া হয় লেনিন শান্তি পুরষ্কার।
জীবনের শেষ কয়েকটি বছরে তিনি সব ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করে পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
১৯৬৮ সালে রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপ ফিরিয়ে দেন। রয়্যাল সোসাইটির ইতিহাসে এটা ছিল একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা।
১৯৭০ সালের ২১শে নভেম্বর রমনের মৃত্যু হয়।
রমন এফেক্ট আবিষ্কারের দিনটি স্মরণে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ভারতের জাতীয় বিজ্ঞান দিবস ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিনটিতে সারা ভারতের সবগুলো বিজ্ঞান গবেষণাগার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে এ দিনটির ভূমিকা অনেক।

1

সোমবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯

দেশজুড়ে কত বাবরি মসজিদ-এর মতন মসজিদ আছে !


  দেশজুড়ে কত বাবরি মসজিদ-এর মতন মসজিদ আছে !
  ফেসবুক থেকে        শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু
প্রণব কুমার কুণ্ডু



‎A D Sajib‎ এতে 💥ALL BENGAL RSS💥রাস্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ💥


এই ভারতের আনাচে কানাচে কত যে "বাবরি মসজিদ" লুকিয়ে আছে, তার ইয়ত্তা নেই। এমন এক চর্চাহীন মসজিদের সাথে পরিচয় করাব আজ।
হুগলি জেলার এক আধা শহর পান্ডুয়া। পান্ডু বা পান্ডুদাস নামে হিন্দু রাজার নাম থেকে পান্ডুয়ার উৎপত্তি। এই পান্ডুয়ায় জি.টি.রোডের ধারে আছে এক সুপ্রাচীন মিনার ও ভগ্ন মসজিদ। কাগজ কলমে এর পরিচয় "বড়ি মসজিদ" নামে।

রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি ধোয়ী (খ্রিস্টীয় বারো শতক) তাঁর "পবনদূত"-এ সুহ্ম অঞ্চলে (হুগলিতে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল) মুরারি, রঘুকুলগুরু এবং অর্ধনারীশ্বর মন্দিরসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন। আন্দাজ করা হয় যে, এই মন্দিরগুলি ত্রিবেণী-সপ্তগ্রাম-পান্ডুয়ার অন্তর্গত ভূমিতে অবস্থিত ছিল।

১৩০০ খৃষ্টাব্দের কাছাকাছি এক রূপ পরিবর্তন জন্ম দেয় বড়ি মসজিদের।
বড়ি মসজিদটি বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এক আয়তাকার ইমারত। এর যেটুকু অবশিষ্ট আছে, সেটা যদি ভালো করে দেখেন, দেখবেন টুকরো টুকরো হিন্দু স্থাপত্য তার সর্বাঙ্গে। মসজিদের সামনেই ভারতীয় পুরাতত্ব বিভাগের যে বোর্ড আছে, সেখানেও লেখা আছে - মসজিদটির ছাদে ৬৩টি গম্বুজ। এবং সবগুলি দাঁড়িয়ে "হিন্দু নকশা যুক্ত" স্তম্ভের উপর। গম্বুজগুলি ভগ্ন। তবে অনেক স্তম্ভ এখনো দাঁড়িয়ে বা ভূপতিত হয়ে আছে, অঙ্গে তাদের প্রাচীন হিন্দু সভ্যতার চিহ্ন। চোখ মেলে চাইলেই দেখতে পাবেন।
মন্দির ধ্বংস করে যে এই মসজিদ তৈরী হয়েছিল, তা দিনের আলোর মত সত্য।

মসজিদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে এক সুউচ্চ মিনার। ১৩৪০ খৃষ্টাব্দে বর্তমান রূপ পায়। ৩৯ মিটার উঁচু, পাঁচ তলা। এর প্রবেশদ্বারের দুই পাশে রয়েছে দুটি স্তম্ভ, সেখানে জ্বলজ্বল করছে হিন্দু চিহ্ন।

এই হুগলিতেই পান্ডুয়ার কিছুটা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গঙ্গার তীরে ত্রিবেণীতে রয়েছে জাফর খাঁ গাজীর দরগা, যা সন্দেহাতীত ভাবে হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে তৈরী। সেটা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম আগে। আসলে বঙ্গভূমিতে এরকম উদাহরণ অজস্র। নরমপন্থী ঐতিহাসিক তথা বুদ্ধিজীবী বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের উপাদান সংগ্রহ করে বানানো হয়েছে এই মসজিদ। ASI এর সাইনবোর্ডও সেরকম ইঙ্গিত দেয়।
হাঃ হাঃ হাঃ.... একটু পরিবর্তন করলেই যখন মন্দিরকে মসজিদে রূপ দেওয়া যায় তখন কে নতুন মসজিদ তৈরী করতে যাবে! আর যদি সত্যিই ভাঙা মন্দিরের অংশ নিয়ে মসজিদ তৈরী হয়ে থাকে, তাহলে মন্দির ভাঙল কে? মঙ্গল গ্রহের লোক?

ছবিগুলো দেখবেন ভালো করে। মানুষকে জানাবেন এই ইতিহাস।

পথ নির্দেশ : হাওড়া-বর্দ্ধমান (ভায়া-ব্যান্ডেল) শাখায় হাওড়া থেকে ৬০ কি.মি. দূরে পান্ডুয়া স্টেশন। স্টেশনের পূর্ব দিকে আন্দাজ ১ মাইল দূরে জি.টি. রোডের পাশেই বড়ি মসজিদ।

সুপ্রিয় ব্যানার্জী

শেয়ার করেছেন 


প্রণব কুমার কুণ্ডু
শেয়ার করেছেন


 Pranab Kumar Kundu



শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৯

সীমান্ত গান্ধী আব্দুল গাফফর খান



প্রণব কুমার কুণ্ডু








     সীমান্ত গান্ধী      আব্দুল গাফফর খান

     ফেসবুক থেকে          শেয়ার করেছেন           প্রণব কুমার কুণ্ডু

সীমান্ত গান্ধী” আব্দুল গাফফার খান- অহিংসা ছিল যার অস্ত্র।
আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এক অসামান্য ব্যক্তিত্বকে যার চর্চা হয় না কোনো বুদ্ধিজীবীর ড্রয়িং রুমে অথবা কোনো দূরদর্শনের ঘন্টাখানেক এ, কোনো প্রিন্ট মিডিয়া প্রশ্ন তোলে না কেন লোকটির এই অবস্থা হলো। কারণ? ওটা আপনারাই বিবেচনা করবেন।
যারা তাকে চেনেন না তাদের জন্য কিছুটা পরিচিতি দিচ্ছি। এই মানুষটি ছিলেন অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের অবিসংবাদিত নেতা। গান্ধীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত কংগ্রেসের সমর্থক এই মানুষটি বেছে নিয়েছিলেন অহিংস আন্দোলনের রাস্তা। তিনি এবং তার অনুসারীরা ১৯২৯ সালে শুরু করেন অহিংস এক আন্দোলন। মনে রাখবেন ওই অঞ্চলের পাখতুন গোষ্ঠীকে অহিংস পথে চালনা করা আর বাঘ কে নিরামিষ খাওয়ানো একই বস্তু। এই মানুষটি এবং তার অনুসারীরা নিজেদের ‘খুদা-ই- খিদমতগার’ মানে ঈশ্বরের সেবক বলতো। একসময় তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিলেন যে তাকে আখ্যায়িত করা হয় সীমান্ত গান্ধী বলে। আজকের তালিবান আলকায়দা অধ্যুষিত এই প্রদেশে মোল্লা তন্ত্রের আবাদের জায়গায় এই লোকটি পুরো উল্টো দিকে চালনা করেন স্থানীয় মানুষদের।
ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়ের সময়ে জিন্নাহ এবং বাকি প্রাণীদের উস্কানিতে আলাদা মুসলিম ভূখণ্ডের দাবির মাঝে এই মানুষটি অসম লড়াই বেছে নিয়েছিলেন। আজকাল যে মুসলিম উম্মাহ ইত্যাদির কথা যারা বলে তাদের জন্য বলি , এই লোকটি এবং তার নেতৃত্বে বিরোধিতা করেছিলেন ওই কেবল মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি। আফগান এবং পাঠান রক্তের এই মানুষগুলোকে এক ডাকে গণভোট বয়কট করিয়েছিলেন। মনে রাখবেন ৮৩ শতাংশ মানুষ তার ডাকে ভোটদানে বিরত থাকেন। এইখানেই মানুষটি রাজনৈতিক ভুল করে ফেলেন। ওই গণভোট এর দুটো রাস্তা দেওয়া হয়েছিল হয় ভারত অথবা পাকিস্তান এর সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া। তিনি আর তার ভাই খান সাহেব সিদ্ধান্ত নেন তারা পাখতুনস্থান চাইবেন।
তাদের দাবি মানা হয় নি, ব্রিটিশ এবং মোল্লা উদ্যোগ এরপর ক্রমাগত ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে সহি মুসলিম দেশের প্রচার চালিয়ে যায়। সে সময়ের প্রশাসক কানিংহাম এর রিপোর্ট এই কাজের উপর সরকারি নোট এ বলেছে যে ক্রমাগত হিন্দু শাসনের কারণে কি কুফল হতে পারে তার প্রচার চালায় জিন্নাহর দোসররা। একসময়ে সরল পাহাড়ি ওই মানুষদের মাথারা এর প্রভাবে প্রভাবিত হয়। এর উপর অনেকের বিশেষ অনুভূতি জাগলে বলবো, এর সরকারি প্রমানের কথা আছে তৎকালীন উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের গভর্নর জেনারেল লর্ড কানিংহ্যাম (১৯৩৭ থেকে ৪৬, এবং ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন,পাঠক শেষ বছর গুলো খেয়াল করে) স্বীকার করেন সরকারি নথিতে যে তারা সর্বাত্বক চেষ্টা চালায় যাতে ওই খুদা-ই- খিদমতগার এবং বাদশা খান এর প্রভাবকে দূর করা যায় আর ওই অঞ্চলকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা যায় তার জন্য।
অতঃপর ওই কয়েক ভাগ মানুষের রায় নিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হলো। গাফ্ফার খান (সীমান্ত গান্ধী ) নতুন দেশের এসেম্বলিতে এলেন ১৯৪৮ সালে। তার দাবি নিয়ে আবেদন জানালেন জিন্নাহর কাছে। তিনি জিন্নাহ কে আমন্ত্রণ জানালেন পেশোয়ারের খুদা-ই- খিদমতগার এর সদর দফতরে আলোচনার জন্য। ততদিনে বিষ বৃক্ষের ফলন শুরু হয়ে গিয়েছে। তৎকালীন সীমান্ত প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খান আব্দুল কায়ুম খান জিন্নাহকে বুঝায় যে এই মানুষটি জিন্নাহ কে মারার পরিকল্পনা করেছে। এর পরের ঘটনা অতীব দুঃখজনক, জিন্নাহ এই মানুষটিকে কারাগারে পাঠায়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে জেলে বন্দি রাখা হয়। গণতন্ত্রের কি মহান উন্মেষ?
অতঃপর মিলিটারি শক্তির প্রতিভূ ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৫ তে তৎকালীন গণতন্ত্রের গলা ধাক্কা দিয়ে দূর করেন এবং পাকিস্তানকে ইসলামিক রিপাবলিক করে ফেলেন। সেই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে দমিয়ে রাখতে (মনে রাখবেন ভাষা আন্দোলনে জিন্নাহ বুঝে গিয়েছিল তার চালাকি বাঙালি মুসলিম ধরে ফেলেছে ) এবং এর সাথে বাদশা খান পাকিস্থান এর আনুগত্য না মেনে নেওয়ায় তৈরী করেন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ মানে ওয়ান ইউনিট সলিউশন। সীমান্ত গান্ধী রুখে দাঁড়ান এর বিরুদ্ধে ফলে আবার তাকে জেলে পাঠায় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।
ইস্কান্দার মির্জাকে ব্যবহার করে ১৯৫৮-তে আইয়ুব খান এক অদ্ভুত যৌথ শাসক (পার্টনারশিপ বলতে পারেন) গোষ্ঠীর উৎপত্তি করেন। এরপরই অবশ্য মির্জার গলাধাক্কা জোটে এবং পূর্ব সংবিধান আর সেই মুসলিম লীগ এর সমাপ্তি।

নতুন প্রভু আইয়ুব খান চেষ্টা করে এই মানুষটিকে কিনে নিতে। তাকে উৎকোচ দিতে চান মন্ত্রী করে। গাফ্ফার খান তার স্বভাবসিদ্ধ রূপে প্রত্যাখ্যান করেন। অতঃপর আবার তাকে জেলে যেতে হয়। এইভাবে তাকে জেলে রাখে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত। ততদিনে তার শরীর ভেঙে গেছে, স্বাস্থ্যগত কারণে অবশেষে তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয় সামরিক শক্তি। এরপর আর দেশে থাকতে পারেন নি , চিকিৎসা করতে যেতে হয় ব্রিটেনে আর তারপর চলে যান আফগানিস্তানে স্বেচ্ছা নির্বাসনে। ফিরে আসেন ১৯৭২-এ, ততদিনে সামরিক শক্তি বাংলাদেশে উপযুক্ত শিক্ষা পেয়ে সাময়িক ক্ষমতা ছেড়েছে আর অন্য দিকে তার ছেলে আব্দুল ওয়ালী খান ফিরেছেন সীমান্ত প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।

এই সময়ে ওয়ালী খান সীমান্ত প্রদেশ আর বালুচিস্থানের গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতা পেয়েছিলেন (ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি)।
তিনি আবার ভুট্টোর স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির রোষের শিকার হন ১৯৭৩ সালে। আবার তাকে জেলে পাঠায় ভুট্টোর সরকার। ঘৃণায় আর ক্ষোভে তিনি একবার বলেছিলেন, এই তথাকথিত ইসলামিক সরকারের থেকে তো ব্রিটিশ শাসক ভালো ছিল, অন্ততঃ তাদের ব্যবহার এইরকম জন্তুর মতো ছিল না। পাঠক, ৭১-এর পর কিন্তু শিক্ষা নেয়নি এই অপজাতকরা। খেয়াল করুন। তার শেষ আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের প্রস্তাবিত কালা বাঁধ প্রকল্পের উপর। এই বাঁধ সীমান্ত প্রদেশের অজস্র মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনবে এই ছিল তার অভিমত। প্রসঙ্গত আজো ওই বাঁধ করতে পারে নি পাকিস্তানের কোনো সরকার।

আজীবন মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা এই মানুষটিকে আশির দশকে কংগ্রেস সরকার প্রস্তাব দেয় গান্ধীজির আশ্রমের কাছেই তার বাসস্থান করে দেওয়ার, তিনি সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজের এক সময়ের বাড়ি আফগানিস্তানের জালালাবাদে তার কবর হোক ওটাই বলেন। মনে রাখবেন, এই সীমান্ত প্রদেশ কিন্তু কোনোকালেই পাকিস্তানের অংশ হতে চায় নি, আজো চায় না। সে কাহিনী অন্য একদিন বলবো।

অবশেষে ১৯৮৮ সালে পেশোয়ারের লেডি রেডিং হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে তিনি পেশোয়ারে গৃহবন্দী ছিলেন বলাই বাহুল্য! তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার সমাধি হয় আফগানিস্তানের জালালাবাদে।
হে উম্মার সমর্থক, একজন জনগণের প্রকৃত নেতা কতটা ক্ষোভে নিজের শেষ শয্যা দেশের বাইরে চেয়েছে ওটা একটু ভাবুন!
তার মৃত্যুর পর হাজারো জনতা সীমান্তের বাধা মানে নি। সেই অগ্নিগর্ভ সময় যখন সেভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকার আর সৌদির পয়সায় মৌলবাদ জাকিয়ে বসেছে সেই সময়ে ফৌজি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, ইসলামিক জঙ্গির হুমকি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তার অন্তিম যাত্রায়। মনে রাখবেন এই যাত্রাপথে বোমা বিস্ফোরণ হয়, ১৫জন মারা যান তবু ওই পাখতুন মানুষগুলো তাদের যাত্রা বন্ধ করেন নি।

হায় জিন্নাহ তুমি এই সম্মান পাও নি, মারা গিয়েছো একা একটি এম্বুলেন্সে আর জনতার বাদশা, রাজার রাজা মারা যাওয়ার সময় যুদ্ধবিরতি হয় সেভিয়েত অধিকৃত আফগানিস্তান আর পাকিস্তানে।
হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন; ওই মারাত্বক সময়ে এক দিকে জালালাবাদ আর অন্য দিকে পেশোয়ারে একটা যুদ্ধবিরতি করে দুই পক্ষ।
ধর্মের নাম তৈরী সীমান্ত একাকার হয়ে যায় মৃত বাদশা খানের দৌলতে। কি বলবেন একে?
এই বিষবৃক্ষ এতটাই ছড়িয়েছে যে তার নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া ছাত্র ছাত্রী আর শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের উপর জঙ্গি হামলা চালায়। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারিতে। মৃত্যু হয় ২১ জন নিরাপরাধ মানুষের। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়েসী একদল (আট থেকে দশ জনের আত্বঘাতী দল) নির্বিচারে গুলি চালায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে। মগজ ধোলাই এর মহান ফলাফল একদম হাতে হাতে পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য এতে অনেকের আনন্দ হওয়ার কথা, যাক আবার প্রসঙ্গে আসি, পাঠক কি খেয়াল করছেন কত ভঙ্গুর এই পাকিস্তান নামের কল্পিত দেশটি?
আমরা আরো জানি না যে ওই আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি ছিল বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ এর ৭১ পূর্ববর্তী সঙ্গী দল।
 আরো জানি  যে এখনো ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি কে পাখতুনরা সবচেয়ে বেশি ভোট দেয়।
পাখতুনরা এখন আন্দোলন করছে ওই ইসলামী মৌলবাদকে বিদায় করতে। পারছে না কারণ ওই মৌলবাদ না থাকলে যে অনেকের খুব অসুবিধা হবে!
তারা সরাসরি অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানি শাসক আর সৌদি শাসকদের উপর।
তারা বলছে ওই পেট্রো ডলার ব্যবহার করে এই দুই পক্ষ ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে তাদের প্রদেশে ছড়াচ্ছে।
জানি, আমার কথায় অনেকের হয়তো কোনো অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে তবে যুক্তি নিয়ে আসতে অনুরোধ করবো। আমার লেখা কিন্তু আমার নিজের ধারণার উপর না, সূত্র দেবো একদম পাকিস্তানের তথ্যসূত্র দিয়ে।

খেয়াল করুন, শুধু আমাদের দিকের মানুষগুলোই না, ওই দিকের আফগান আর বর্তমান পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ কিন্তু একই ভূখণ্ডের অংশ। ওরা আজো কিন্তু নিজেদের দাবি ছাড়ে নি। বাদশা খানের মৃত্যু হলেও তার দীর্ঘ ছায়া কিন্তু বড় পীড়া দিচ্ছে এই পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীকে।

আমরা এই পাখতুন প্রদেশের লোকগুলোকে এখন জানি তালিবান এর আড্ডা হিসেবে, দাঁড়ান, দাঁড়ান! ছয় ফুটের উপর উচ্চতার সীমান্ত গান্ধীর মৃত্যুর পর কিন্তু হারিয়ে যান নি। পেট্রো ডলার হয়তো তার নাম আমাদের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। তবু তিনি আছেন, আর সেই জন্যই কিন্তু তার নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় (বাচ্চা খান ইউনিভার্সিটি, তাকে প্রদেশের মানুষ আদর করে ওই নামে ডাকতো) এর উপর এদের এতো রাগ। মৃত বাদশা কিন্তু জীবিত মানুষটির থেকেও শক্তিশালী। তার নমুনা আমরা দেখবো, হ্যা আমার দৃঢ় বিশ্বাস নিশ্চয়ই দেখবো। পশু শক্তি কখনোই মানুষের উপর চিরদিন রাজত্ব করতে পারে না।
গত ৫০ বছর পাকিস্তানের এই প্রদেশে গাফ্ফার খান এর দল ক্ষমতাসীন ছিল, একমাত্র ব্যতিক্রম হয় পাকিস্তান পিপলস পার্টি আমেরিকার সৌজন্য একবার ক্ষমতা পাওয়ায়। এই অদ্ভুত এক দেশে কি সেই জাদু যা একটা দলকে এইভাবে ক্ষমতায় রাখে? হ্যা, মানুষের নেতা বাচ্চা খান এর ভাবমূর্তি।

আমি আগেও বলেছিলাম এই অদ্ভুত দেশটি একদিন থাকবে না, আজো বলছি ওটা সময়ের অপেক্ষায় আছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা এই মানুষটিকে মনে রাখিনি। আপোষহীন এক মানুষের নেতাকে আমরা য্থায্থ সম্মান দিই নি। আজ সময় এসেছে, আসুন এই মানুষটিকে একটু স্মরণ করি।

মানুষটি তার হাজার হাজার পাঠান সেনা তৈরী করেন যারা নিরস্ত্র হয়ে সশস্ত্র ব্রিটিশদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। এই রেড শার্ট মানে লাল কুর্তার অকুতভয় সেনানীর শপথ বাক্যগুলো পেলাম তার নামাঙ্কিত একটি ওয়েব সাইটে। আমার সীমিত ক্ষমতায় ওটার বাংলা করলাম। বড় সুন্দর সেই শপথ বাক্যগুলো। যদিও আমি ঈশ্বর বিশ্বাসী না তবু অবাক হয়ে যাচ্ছি কি করে ওই দুর্দম দুঃসাহসী বন্দুক আর তরোয়াল প্রেমী একটি জাতকে এইভাবে চালনা করা যায়? আসুন না, একটু ওই ভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াই, যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে একই ভাবে আবার তার লড়াইটা শুরু করি?

শপথ বাক্যগুলো দিলাম:
“আমি খুদা-ই-খিদমতগার (ঈশ্বরের সেবক) শপথ নিচ্ছি, যেহেতু ঈশ্বরের কোনো সেবা লাগে না, তাই আমি তার সৃষ্টিকে সেবা করার মাধ্যমে তার সেবা করবো নিঃস্বার্থ ভাবে। আমি কখনো হিংসার আশ্রয় নেবো না, আমি আরো শপথ করছি যে আমি প্রত্যাঘাত করবো না বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবো না। কেউ আমাকে শারীরিক বা মানসিক ভাবে নির্যাতন করলে আমি তাকে ক্ষমা করবো। আমি পারিবারিক বা গোষ্ঠী স্বার্থের বাইরে প্রত্যেক পাখতুনকে আমার নিজ ভাই বা সাথী ভাববো। কু-অভ্যেস বা অসৎ পথে যাবো না। আমি সরল জীবন যাপন করবো। কোনো খারাপ কর্ম থেকে নিজেকে দূরে রাখবো। নিজের চরিত্র গঠন করবো। নিজের ভালো অভ্যাস গড়ে তুলবো। অলস জীবন যাপন করবো না। আমার এই কাজের জন্য আমি কোনো পুরস্কার আশা করবো না। ভয়হীন ভাবে জীবন যাপন করবো এবং যে কোন আত্বত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকবো “


এবার খালি ওই অঞ্চলের মানুষগুলোর কথা ভাবুন, তাদের অস্ত্র প্রীতি বা আজকের হিংসা প্রবণতার কথা ভাবুন। তারপর ভাবুন, কোন জাদুবলে এই মানুষটি ওই কাজ করেছিল। একজন না, হাজারে হাজারে পাখতুন তৈরী হয়েছিল। হ্যাঁ, কাজটা আমাদেরই করতে হবে, আমরা সবাই এক একজন সীমান্ত গান্ধী হতে পারি যে যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে।
বাচ্চা খানের এই অসমাপ্ত লড়াইটা এবার এইদিকে করার দিন কিন্তু আগত প্রায় কারণ উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের খেলা কারন আমাদের ঘরের অঙ্গনে অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছি। কোনো কাণ্ডারির উপর ভরসা না করে তাই বলছি, ” সামনে অনেক বড় তুফান আসতে পারে, বন্ধু হুশিয়ার! ”
ছবি এবং তথ্যসূত্র ইন্টারনেট। হালফিলে পড়া একটা বই এর লিংক দিলাম আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সেই লিঙ্ক গুলোতে।
তথ্যসূত্র :
১. বাচ্চা খান ট্রাস্ট
২. উইকিপিডিয়া
৩. দ্যা ডন পত্রিকা
৪. দ্যা গার্ডিয়ান পত্রিকা
৫. এই বইটি পড়তে পারেন, সীমান্ত গান্ধী ছাড়া ও অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাবেনঃ A Brief History of Pakistan
৬. ওয়ার্ল্ড এফেয়ারস

মুসলমান


                   মুসলমান
                   ফেসবুক থেকে          শেয়ার করেছেন       প্রণব কুমার কুণ্ডু




Sanjoy Paul গোষ্ঠীটিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন: 💥ALL BENGAL RSS💥রাস্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ💥

 
Rajib Roy

★মুসলমানদের বিষয়ে গান্ধীজী বলেছিলেন...
" মুসলমানেরা ভারতকে নিজেদের দেশ বলে মনে করে না "(ইয়ং ইন্ডিয়া ২৯-০৪-১৯২৫)
★গুরু গোবিন্দ সিং বলেছিলেন....
"দক্ষিন বাহুতে তেল মেখে তিলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে হাত বার করে আনলে যত তিল লেগে থাকে,, ততও বার যদি কোন মুসলমান প্রতিজ্ঞা করে বলে আমি হিন্দুর শত্রু নই,, তবুও কেউ বিশ্বাস করবে না!
★বিখ্যাত মুসলীম পন্ডিত ও লেখক আনোয়ার শেখ বলেছিলেন....
"মানব জাতির প্রতি ইসলামের ভালোবাসা এক চুড়ান্ত মিথ্যাচার,, ইসলামের অস্তিত্বের মূলে অমুসলমানের প্রতি ঘৃনা"!
[ইসলাম প্রিন্সিপ্যালিটি পাবলিকেশন -পৃ:৩৩০]
★ কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন.....
হতভাগ্য! মুসলমানের দোষ ত্রুটি কথা পর্যন্ত বলার উপায় নেই... স্ংস্কার তো দূরের কথা,, তা সংশোধন করতে চাইলে এরা তার বিকৃত অর্থ করে নিয়ে লেখক কে হয়তো ছুরি মেরে বসবে!
(ভারত আজি - ৭৬ খন্ড)
★শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন....
দেশের স্বাধীনতায় এদের মন নেই...পশ্চিমে মুখ করিয়া ভারতের দিকে পশ্চাদ ঘুরিয়া আছে!
★শ্রী শ্রী মা সারদা,, যিনি সকলের মা বলে পরিচয় দিতেন... সেই সারদা মাতা একেবারে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শয্যাসায়ী হয়ে বলেছিলেন...
" আর আমাকে মুসলমানের ছোঁয়াছুয়ি কিছু খাইয়ো না বাপু "!
(নিমাইসাধন বসু /সকলের মা সারদা/পৃ :২০৮)
.....................
তো আমরা অতীতে মুসলমানের বহু দেশভক্তি দেখেছি,, আজও দেখে চলেছি ! সে সব দেশপ্রেমের কথা ব্যাখ্যা করলে অযথা বিতর্ক বাড়বে!
হিন্দুরা বারবার সম্প্রীতির হাত বড়িয়েছে...কিন্তু মূল্য চোকাতে হয়েছে রক্ত দিয়ে!
বিভ্রান্ত হয়ে,,ইসলাম কে না জেনে,, কোরান না পড়ার মূর্খতার কারনেই ডাহা ঠকা ঠকতে হয়েছে হিন্দুদের!
আমরা সর্বদাই বলে থাকি ....
হিন্দু মুসলমান ভাই ভাই,,
মুসলমানরা ঠিক উল্টোটাই বলে....কাফের তোদের রক্ত চাই!
হিন্দুরা মুসলমানের ভাই হতে চেয়েছে,, কিন্তু মুসলমানরা হতে চায় হিন্দুদের দুলাভাই!
ইসলামের চোখে সর্বপেক্ষা নিকৃষ্ট পৌত্তালিক হিন্দু কাফেরদের সব খারাপ,, শুধু এদের মেয়ে গুলো ভালো!..... থাক সে সব কথা!

যতদিন না প্রকৃত ইসলাম না জেনে হিন্দুরা ওদের দোষ ঢেকে ওদের সন্মোহন সেবায় মগ্ন থাকবে...ততদিন হিন্দুস্থান এবং হিন্দু জাতী ধীরে ধীরে চোরা বালির স্রোতে লুপ্ত হবে !

অর্থাৎ হিন্দুদের অন্ধ বিশ্বাস এবং মুর্খামি উপর নির্ভর করছে হিন্দুস্থান ও হিন্দু জাতীর ভবিষ্যৎ !!