শুক্রবার, ২৭ জুলাই, ২০১৮

কঠিন হিসেব-নিকেশ


  কঠিন হিসেব-নিকেশ


   ফেসবুক থেকে           শেয়ার করেছেন           প্রণব কুমার কুণ্ডু



নিজের ধর্মকে নিজে চিনুন অন্যদের কথায় নাচবেন না..........
সনাতন সময়ের হিসেব দেখুন....।
.
সত্যযুগ=১৭,২৮,০০০ বছর
ত্রেতাযুগ= ১২,৯৬,০০০ বছর
দ্বাপরযুগ= ৮,৬৪,০০০ বছর
কলিযুগ= ৪,৩২,০০০ বছর
চারযুগ মিলে এক চতুর্যুগ= ৪.৩২ মিলিয়ন বছর
১০০০ চতুর্যুগ= এক “কল্প”= ব্রহ্মার একদিন= ব্রহ্মার একরাত= ৪.৩২ বিলিয়ন বছর
১০০ বছর হল ব্রহ্মার আয়ু= আমাদের এই ব্রহ্মান্ডের আয়ু= ৩১১.০৪ ট্রিলিয়ন বছর।
আবার এক “কল্প” সময়ের মধেয় ১৪ জন মনু আসেন। প্রথম মনুকে বলা হয় স্বায়ম্ভুব মনু এবং তাঁর স্ত্রী হলেন স্বতরুপা (এই ব্রহ্মান্ডের প্রথম নারী ও পুরুষ)। প্রত্যেক মনুর সময়কালকে বলা হয় মন্বন্তর।
.
১ মন্বন্তর= ৭১ চতুর্যুগ= ৩০৬.৭২ মিলিয়ন বছর
ছয়জন মনু গত হয়েছেন, মানে ৬টি মন্বন্তর চলে গিয়েছে। আমরা আছি সপ্তম মনুর অধীনে যাঁর নাম “বিবস্বত মনু”। তার মানে, এই মনুর পরে আরও ৭ জন মনু আসবেন, আরও ৭ টি মন্বন্তর অতিবাহিত হবে। তারপর পূর্ণ হবে ব্রহ্মার একদিন!! তারপর হবে রাতের শুরু!!
.
এখন গীতা কি বলে দেখি:-
“মনুষ্যমানের সহস্র চতুর্যুগে ব্রহ্মার একদিন হয় এবং সহস্র চতুর্যুগে তাঁর এক রাত হয়।…………। ব্রহ্মার দিনের সমাগমে সমস্ত জীব অব্যক্ত থেকে অভিব্যক্ত হয় এবং ব্রহ্মার রাত্রির সমাগমে সমস্ত জীব আবার অব্যক্তে লয়প্রাপ্ত হয়।”গীতা-৮/১৭-১৮

“…কল্পের শেষে সমস্ত জড় সৃষ্টি আমারই প্রকৃতিতে প্রবেশ করে এবং পুনরায় কল্পের শুরুতে প্রকৃতির দ্বারা আমি তাদের সৃষ্টি করি।”গীতা-৯/৭
“……আমার অধ্যক্ষতার দ্বারা (পরিচালনায়) জড়া প্রকৃতি এই চরাচর বিশ্ব সৃষ্টি করে। প্রকৃতির নিয়মে এই জগৎ পুনঃ পুনঃ সৃষ্টি হয় এবং ধ্বংস হয়।”
.
বিঃ দ্রঃ হিন্দুদের প্রচার বিমুখতার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো আজও শুধু ধর্মগ্রন্থের পাতায় সীমাবদ্ধ! অন্যের প্রশ্নের সামনে আমরা নুয়ে পড়ি, না জানার লজ্জায়, অথচ কতো সমৃদ্ধ আমাদের ইতিহাস। সারা জীবন আমরা অন্যের উপহাসের পাত্রই রয়ে গেলাম, শুধু নিজেদের সম্বন্ধে না জানার জন্য। তাই সত্যকে জানুন, জানিয়ে দিন সবাইকে।
.
সনাতন ধর্মের ইতিহাস:-
অনেকেই বলে সনাতন ধর্মের ইতিহাস নেই, আবার অনেকেই নানা রকম যুক্তি দিয়ে আসল জিনিসটা এড়িয়ে যায় না জানার কারণে, সনাতন ধর্মের ইতিহাস আছে কিনা, তা আজ দ্বিতীয়বারের মত আমি তুলে ধরার চেষ্টা করব আপনাদের সামনে।
পুরাণ পড়ুন ও ডাউনলোড করুন - বাংলায়
আমরা জেনেছি, আমাদের এই ব্রহ্মান্ডের জীব সৃষ্টির দায়িত্বে নিয়োজিত দেবতা প্রজাপতি ব্রহ্মার (চতুর্মুখ ব্রহ্মার) আয়ু তথা এই ব্রহ্মান্ডের আয়ু হল ১০০ বছর (মহাভারত অনুযায়ী এক বছর= ৩৬০ দিন) মানে আমাদের সময় অনুযায়ী ৩১১.০৪ ট্রিলিয়ন বছর। ব্রহ্মার আয়ু তথা ১০০ বছর শেষ হলে ঘটবে মহাপ্রলয় বা প্রাকৃতিক প্রলয়, এই পুরা ব্রহ্মান্ড (স্থাবর জঙ্গম যা কিছু আছে) ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
.
ব্রহ্মার ১ মাস= ৩০ দিন, এই ৩০ দিনে ৩০ টি কল্প গত হয়, কল্প বলতে প্রধানত কেবল দিবাভাগকে ফোকাস করা হয়, রাত নয়। ৩০ টি কল্পের ৩০ টি নাম আছে। প্রথম কল্পের নাম শ্বেত-বরাহ কল্প বা অনেক জায়গায় আছে শ্বেত কল্প।
এই কল্পের ১৪ জন মনুর নাম হলঃ স্বায়ম্ভুব, স্বরোচিষ, উত্তম, তামস, রৈবত, চাক্ষুস, বৈবস্বত বা সত্যব্রত, সাবর্ণি, দক্ষসাবর্ণি, ব্রহ্মসাবর্ণি, ধর্মসাবর্ণি, রুদ্রসাবর্ণি, দেবতাসাবর্ণি ও ইন্দ্রসাবর্ণি। কল্প হল ব্রহ্মার দিন বা দিবাভাগ, আরও জানুন, ২ কল্পের সমান সময়= ব্রহ্মার ১ দিন + ১ রাত; কিন্তু কল্প বলতে কেবল দিবাভাগকেই ফোকাস করা হয়। এখানে মনে রাখা দরকার, প্রত্যেক মন্বন্তর শেষে একটি করে খন্ড প্রলয় ঘটে, এই সময়ে পৃথিবী এবং জীবসমুহ অব্যক্ত বা লয়প্রাপ্ত হয়। আর ব্রহ্মার দিন বা কল্পের শেষে ঘটে নৈমিত্তিক প্রলয়। এক্ষেত্রে গীতা বলে “…কল্পের শেষে সমস্ত জড় সৃষ্টি আমারই প্রকৃতিতে প্রবেশ করে এবং পুনরায় কল্পের শুরুতে প্রকৃতির দ্বারা আমি তাদের সৃষ্টি করি।”গীতা-৯/৭
তাহলে ব্রহ্মার এক বছরে আসেন ৫০৪০ জন মনু, এবং ব্রহ্মার আয়ুষ্কাল তথা এই ব্রহ্মান্ডের আয়ুষ্কাল জুড়ে মোট ৫০৪,০০০ জন মনু আসেন এবং তাঁরা আসেন ভিন্ন ভিন্ন নামে। একেকজন মনুর আয়ুষ্কাল হল ৩০৬.৭২ মিলিয়ন বছর এবং এই সময় হল মহাবিষ্ণুর এক নিঃশ্বাস নিতে যেটুকু সময় লাগে সেইটুকু!!! মহাবিষ্ণুর প্রত্যেকটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সাথে একজন করে মনু আসে আর যায় তথা একটি করে মন্বন্তর শেষ হয়।
.
আমি বলেছিলাম, এটা সপ্তম মন্বন্তর চলছে আর আমরা সপ্তম মনু “বৈবস্বত মনু” এর অধীনে আছি। তাঁর আরেক নাম সত্যব্রত। তিনি সূর্যদেব বিবস্বানের পুত্র। এ প্রসঙ্গে আমরা গীতার জ্ঞানযোগ নামক ৪র্থ অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকে দেখতে পাই,
“……আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেছিলাম। তিনি তা মানবজাতির জনক বৈবস্বত মনুকে বলেছিলেন। মনু আবার তা নিজ সন্তান ইক্ষাকুকে বলেছিলেন।”
.
অর্থাৎ অবতার হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের আগেও সর্বশেষ প্রায় ১২০.৫৩ মিলিয়ন বছর আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সূর্যদেব বিবস্বানকে গীতাজ্ঞান দান করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রবাহে তা ধীরে ধীরে নষ্ট বা বিলুপ্ত হয়, মানুষ ভুলে যায়, তাই ৫০০০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করে আবার অর্জুনকে তিনি এই জ্ঞান দান করেন, এবং ঋষি ব্যাসদেব তা লিপিবদ্ধ করায় একই সাথে সারা পৃথিবীর মানবজাতিও আবার এই পবিত্র গীতা জ্ঞানের সান্নিধ্য লাভ করে....।।।

অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন প্লীজ.....
"জয় সনাতন"

(সংগৃহীত)



বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮

অনির্বাণের 'পত্রং পুষ্পম্' থেকে




অনির্বাণের 'পত্রং পুষ্পম্' থেকে   


 অমৃতকথা      অনির্বাণের 'পত্রং পুষ্পম্' থেকে               ফেসবুক থেকে      শেয়ার করেছেন   প্রণব কুমার কুণ্ডু


 কুণ্ডলিনী-শক্তি

তুমি অনুভূতির কথা যা লিখেছ, তাতে বুঝতে পারছি, কাজ ঠিক মতই হচ্ছে। ঐ নরম তুলোর মত অনুভবটির কথা খুব ভাল লাগল। ওটি Psysic-এর স্বাস্থ্যকর অনুভূতি, যোগীরা যাকে কুণ্ডলিনী-শক্তি বলেন। ওর নানা রূপ আছে। তোমার বেলায় ওটিকে ‘কিশোরী-চেতনা’ নাম দিতে পারি। এক সময় আমি ওকে বলতাম চম্পাবতী। ওর আত্মোন্মীলনের ছন্দটি বড় সুন্দর। ঠিক ফুল ফোটার মত। ওর মাধুরীতে সমস্ত সত্তাকে ও ঐ আইপোমিয়ার রেশম-চিক্কণ আভায় গলিয়ে দিতে পারে। একটু নীচে নেমে এলে এই চেতনাই আবার অপ্সরা-চেতনায় রূপান্তরিত হয়। নারী তখন মোহিনী হয়। কিন্তু মহাশূন্যের পানে ওকে যদি মেলে রাখা যায়, তাহলে নারী হয় গোপী।
সঙ্গীতের বৈদিক আর লৌকিক ভেদ নিয়ে পণ্ডিতদের আলোচনা বহিরঙ্গ আলোচনা মাত্র। বৈদিক সঙ্গীতের অর্থাৎ সাম-সঙ্গীতের মূলভাবটা হচ্ছে পৌরুষের বা রাগের। মহাব্রত-যাগে মেয়েদের গাইবার বিধান ছিল, তা সামগান নয়। আমার বিশ্বাস, তাতে রাগিণীর বিকাশ হতো। ঐ ধারাই দেশী সঙ্গীতের ধারা। সঙ্গীতেও পুরুষ-প্রকৃতির সংমিশ্রণ হয়েছে। সঙ্গীতের মূল কথাটা হল স্বরের বিন্যাসে ভাবের জাগরণ। আমাদের সাধারণ কথা ও সুর আছে, তাই দিয়ে বাচ্যার্থকে ছাপিয়ে সূক্ষ্ম ব্যঞ্জনাকে প্রকাশ করি। যে সুরে দৃঢ় সঙ্কল্প প্রকাশ পায়, সে সুরে তো আদর-সোহাগ প্রকাশ পায় না। ভাব অনুভাবে (expression) অভিব্যক্ত হয়, অর্থাৎ সুর রূপ নেয়। যে গায় বা বাজায় প্রথম রূপ নেয় তার মাঝে। তারপর তা শ্রোতাতে সংক্রামিত হয়। দুয়ের যোগাযোগে সুর ভাবলোকে মূর্তিমান হয়। তখন তাকে প্রত্যক্ষ হতে দেখা যায়। আধুনিক ওস্তাদী গানে আমি দেখি শুধু নানা কসরত; অনুভাবের পরিচয় হতাশাজনক রূপে কম। সুর যদি আসরের আবহে মূর্তি না নিতে পারল, তাহলে সবই বৃথা। কীর্তনে তবুও অনুভাব কতকটা ফোটে, কিন্তু অন্যত্র বলতে গেলে কিছুই না। artist এবং শ্রোতা দুই-ই সেসব জায়গায় বর্বর। রবীন্দ্রনাথের ‘গাহিছে কাশীনাথ’ কবিতাটি মনে করো। সেখানে আবহ-সৃষ্টির ইঙ্গিত আছে। এই আবহ-সৃষ্টি না করতে পারলে স্বর হতে রূপের সৃষ্টি হয় না।
পতঞ্জলি চিত্তকে পঞ্চভূমিকে বলেছেন— তিনটা ভূমি প্রাকৃত গুণময়, দুটা ভূমি অপ্রাকৃত। পাঁচ ভূমিতে পাঁচরকম ভালবাসা ফোটে। মূঢ়ভূমির ভালবাসা অন্ধ জৈব আকর্ষণ— যা সর্বজীবসাধারণ। ক্ষিপ্তভূমির প্রেম রজোগুণময়, তাতে চাঞ্চল্য আছে লালসা আছে, যার ছবি চারিদিকে ছড়ানো। বিক্ষিপ্তভূমির প্রেম সাত্ত্বিক। সেখানে প্রেম idealised— রবীন্দ্রনাথের মহুয়াতে তার অনেক নিদর্শন ছড়ানো। এই প্রেমই সুস্থ সমাজ গড়তে পারে। তার পরের ভূমি হল একাগ্র এবং নিরুদ্ধ। এই একাগ্রভূমির প্রেমই গোপীর প্রেম। এটা মনের ওপারে বিজ্ঞানভূমির কথা। কিশোরীচেতনায় এটি খুব সহজেই আসে। তারও উজানে আকাশের শূন্য নিস্পন্দ চেতনায় জাগে আত্মারামের ভালবাসা— চিত্তের নিরুদ্ধভূমিতে। এই হলো পুরুষোত্তমের প্রেম। সে প্রেম প্রসন্ন উদার স্নিগ্ধতায় জগতের পানে চেয়ে আছে, আর মহাপ্রকৃতি বিবশ হয়ে তার বুকে ঢলে পড়ছে। বৈষ্ণব পদাবলীতে প্রকৃতির প্রেমকে সুন্দর করে আঁকা হয়েছে; কিন্তু ঐ পুরুষের প্রেমের ছবি কোথাও ফুটতে দেখিনি। আমার কতকগুলি কবিতায় তাকে রূপ দিতে চেষ্টা করেছিলাম।
কিশোরীর ভালবাসা জৈব আকর্ষণে জড়ের দিকে নেমে যাবার সময় ঐ অপ্সরা-চেতনার সৃষ্টি হয়। এইখানকার ছবিটাই বৈষ্ণব কবি একটু বেশী ফলাও করে বর্ণনা করেছেন, যেটা আমি বৈষ্ণব কবিতার ত্রুটি বলে মনে করি। জৈব আকর্ষণটা হ’ল প্রকৃতির একটা কৌশল। বহু জীব সৃষ্টি করে তার থেকে বাছাই করে-করে একদিন হয়তো সে চিরকিশোর আর চিরকিশোরীকে পেয়ে যাবে ঐ Natural Selection-এর তাগিদে, তাই কিশোরীকে নামিয়ে আনে নীচে। এটা তার সকরুণ sacrifice বলতে পার। কি করা? Matter থেকে spirit কে evolved হতে হলে এই ভুলের মাশুলটুকু দিতে হবে যে!
অনির্বাণের ‘পত্রং পুষ্পম্‌’ থেকে

সূত্র : 'বর্তমান', ১০/৭/২০১৮।

মতি নন্দী


    মতি নন্দী


    ফেসবুক থেকে              শেয়ার করেছেন                 প্রণব কুমার কুণ্ডু



কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক
মতি নন্দী (জন্মঃ-১০ জুলাই, ১৯৩১ - মৃত্যুঃ- ৩ জানুয়ারি, ২০১০)

জাতীয় পুরস্কার পাওয়া ‘কোনি’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপটা - ‘ফাইট কোনি, ফাইট’, ক্রীড়াবিদ আর কোচদের কাছে চিরকালের প্রেরণা হয়ে আছে। মতি নন্দী তাঁর উপন্যাসের মধ্য দিয়ে খেলাধুলার জগতকে নতুন ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করেছেন। পেশায় ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়া জগতকে অবলম্বন করে একাধিক অসামান্য উপন্যাস রচনা করেন তিনি।

উত্তর কোলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে আনন্দবাজার পত্রিকার ক্রীড়া বিভাগের সাংবাদিক হিসেবে তিনি বহুদিন কাজ করেন। লস এঞ্জেলেস, মস্কো অলেম্পিকসহ এশিয়ান গেমস প্রভৃতি টুর্নামেন্টে তিনি সাংবাদিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতার সাথে সাথে সাহিত্যচর্চাও করতে থাকেন। তাঁর উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি বেশ কিছু ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের চরিত্র অঙ্কন করেছেন এবং তাঁদের সংগ্রামী জীবন ও তা থেকে উত্তরণের কথা লিখে তাঁর পাঠকদেরকে অনুপ্রাণিত ও ঋদ্ধ করেছেন।

তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘কোনি’ এক সাঁতারু মেয়ের কাহিনি, যেটি পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রায়িতও হয়েছে । তিনি ‘স্টপার’, ‘স্ট্রাইকার’ প্রভৃতি ক্রীড়াবিষয়ক উপন্যাস যেমন লিখেছেন, তেমনই ‘সাদা খাম’, ‘গোলাপ বাগান’, ‘ বিজলিবালার মুক্তি’ প্রভৃতি ধ্রুপদী উপন্যাসের মধ্য দিয়ে সুনিপুণ ভাবে সামাজিক অসঙ্গতি ও উত্তরণের ছবিও চিত্রিত করেছেন। ‘দ্বাদশ ব্যক্তি’, ‘বারান্দা’, ‘ছায়া’, ‘দ্বিতীয় ইনিংসের পর’, ‘ভাল ছেলে’, ‘মালবিকা’ প্রভৃতি তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। শিশুকিশোর-উপযোগী গল্প ও উপন্যাস রচনাতেও মতি নন্দী দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন। সাহিত্যসমালোচক সন্তোষ কুমার ঘোষ তাঁকে ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সার্থক উত্তরসূরি’ বলে ভূষিত করেন। অনেক সমালোচক মতি নন্দীর সাহিত্যকে সাংবাদিকের রিপোর্ট বলে কটাক্ষ করলেও তিনি নিজে কখনই এসব নিন্দায় কান দেননি। নিজের কথায় তিনি বলেছেন- “নিজের সম্পর্কে এটুকু বলতে পারি অযত্নের লেখা কখনও ছাপতে দিইনি।” জীবনের অভিজ্ঞতাকে সম্বল করেই তিনি তাঁর কলম চালিয়েছেন । তাই একদিকে যেমন তাঁর সাংবাদিকতা-জীবনের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ একাধিক ক্রীড়াচরিত্র তিনি তৈরি করেছেন, তেমনই সমাজআশ্রয়ী উপন্যাসে প্রেম, যৌনতা, মানসিক টানাপড়েন সবই এসেছে স্বাভাবিক নিয়মে। সৃষ্টিশীলতার সম্মানস্বরূপ তিনি ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ এবং বাংলা আকাদেমি পুরস্কারে’ সম্মানিত হন।


...................


সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮

মুসলমানদের খতনা ও কুরবানি


   মুসলমানদের খতনা ও কুরবানি


   ফেসবুক থেকে     শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু



খতনা ও কুরবানির প্রকৃত ইতিহাস:

নবী ইব্রাহিম ও তারস্ত্রী সারা মিশর ভ্রমণকালে, মিশরের রাজা তাদেরকে হাজেরা নামের এক দাসীউপহার দেয়। উপহার হিসেবে দাসী ! চিন্তা করুন। নবী মুহম্মদ যে দাসীদের ভোগকরতে বলেছে এবং সে নিজে তার উপহারপ্রাপ্ত দাসী মারিয়ার পেটে ইব্রাহিম নামেরএক পুত্রের জন্ম দিয়েছিলো- সেটা কিন্তু এমনি এমনি না; এটা এক সুদীর্ঘউত্তরাধিকার। যা হোক দাসী হাজেরার প্রতি ইব্রাহিমের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখে, সারা, হাজেরার সাথে ইব্রাহিমের বিয়েই দিয়ে দেয়। কিন্তু স্বামীকে ভাগ করারকিছুদিনের মধ্যেই সারার মধ্যে হাজেরার প্রতি ঈর্ষা জেগে উঠে, হাজেরারসন্তান হওয়ার পর এই ঈর্ষা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠে এবং সারা, ইব্রাহিমকে বাধ্যকরে, হাজেরা ও তার পুত্র ইসমাইলকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে। শেষ পর্যন্তইব্রাহিম, ইসমাইল ও হাজেরাকে অল্প কিছু খাদ্য-পানীয় দিয়ে মরুভূমির মধ্যেরেখে আসে এবং সারাকে কথা দেয় সে কোনোদিন ইসমাইল ও হাজেরাকে দেখতে পর্যন্তযাবে না।
কাহিনী দেখে বোঝা যাচ্ছে, ইব্রাহিমের উপর সারার যথেষ্ট প্রভাবছিলো এবং ইব্রাহিম ছিলো সারার বশীভূত। না হলে কী কারণে সদ্যজাতশিশুপুত্রসহ যুবতী স্ত্রীকে কেউ মরুভূমির মধ্যে রেখে আসবে ? কিন্তু যুবতীস্ত্রী ও শিশু পুত্রের চিন্তায় ইব্রাহিমের আর ঘুম হয় না। গোপনে সে তাদেরদেখতে যায়, এই খবর সারার কাছে পৌঁছলে সারা ইব্রাহিমের উপর চাপ সৃষ্টি করে।তখন ইব্রাহিম বলে, 'আমি যদি হাজেরা ও ইসমাইলকে দেখতে গিয়ে থাকি এবং সেটাযদি তুমি প্রমাণ করতে পারো - বর্তমানে আমরা যেমন এই রকম অবস্থায় বলি, কানকেটে ফেলবো; ঠিক তেমনি ইব্রাহিম বলেছিলো -আমার লিঙ্গ কেটে ফেলবো'। সারাওদমবার পাত্রী নয়, অনুচরের মাধ্যমে সে ঠিকই প্রমাণ করে যে, ইব্রাহিম, হাজেরাও ইসমাইলকে দেখতে মরুভূমিতে গিয়েছিলো। এরকম চাক্ষুষ প্রমাণে অপমানিত হয়েইব্রাহিম নিজের হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে নিজের লিঙ্গ কেটে ফেলতে উদ্যত হয়, তখনসারা কিছুটা কনসিডার করে বলে, ঠিক আছে, পুরোটা কাটতে হবে না, কিন্তু তুমিযে আমার সাথে মিথ্যা বলে প্রতারণা করেছো, তার সাক্ষ্য স্বরূপ তোমাকে ওটারকিছু অংশ কাটতে হবে। তার পর ইব্রাহিম নিজের লিঙ্গের অগ্রচর্ম কেটে ফেলে ওপরে যখন ইসমাইলকে বাড়িতে আনতে সমর্থ হয় তখন ইসমাইলেরও লিঙ্গঅগ্রজর্ম কেটেপরবর্তী বংশধরদের সবার এরূপ করার নির্দেশ দেয়। এক লেজকাটা শেয়ালের অন্যসবার লেজাকাটার চেষ্টা আর কি।এই কারণেই ইব্রাহিম পরবর্তী মুসা ও ঈসারঅনুসারীরা খতনা করে যাচ্ছে। আসলে এটা এক স্ত্রীর সাথে তার স্বামীরবিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন।
যা হোক, লিঙ্গ কাটতে বাধ্য হওয়ার পর স্ত্রী ওপুত্রের চিন্তায় ইব্রাহিম আরো ছঠফট করতে থাকে এবং ঘুমের মাঝে উল্টা পাল্টাস্বপ্ন দেখতে থাকে, যেটা খুবই স্বাভাবিক। আগে থেকেই নবী হিসেবে ইব্রাহিমেরকিছু পরিচিতি ছিলো এবং সে যে আল্লার নাম ভাঙিয়ে কিছু বললে, লোকে সেটাবিশ্বাস করবে, তাও সে বুঝতে পেরেছিলো। তাই এই স্বপ্নকে হাতিয়ার করেইইব্রাহিম, সারাকে বোকা বানিয়ে ইসমাইল ও হাজেরাকে বাড়িতে নিয়ে আসার ফন্দিআঁটে। ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ হঠাৎ বলতে থাকে, আল্লা আমাকে আমার প্রিয় জিনিসকুরবানি করতে বলেছে। এরপর একের পর এক উট, দুম্বাসহ নানা কিছু কুরবানি করাহলো, কিন্তু ইব্রাহিমের স্বপ্ন দেখা আর থামে না। আল্লাও বলে না ইব্রাহিমেরপ্রিয় জিনিসের নাম আর ইব্রাহিমও তা বুঝতে পারে না। আসলে এসবের মাধ্যমেফাইনাল কথা প্রকাশ করার আগে ইব্রাহিম একটু পরিবেশ তৈরি করছিলো আর কি। শেষেইব্রাহিম সারাকে বলে আমার পুত্র ইসমাইল ই আমার সবচেয়ে প্রিয়, তাকেই কুরবানিকরবো। সারা চিন্তা করে দেখলো, এতে তো ভালোই হবে; ইসমাইল মরলে তার তো কোনোক্ষতি হবে না, উল্টো তার সতীন হাজেরা কষ্ট পাবে। তাই সারা তাতে সম্মতি দেয়এবং ইব্রাহিম গিয়ে ইসমাইল ও হাজেরাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে। বাড়িতে আনার আগেইহাজেরা ও ইসমাইলকে ইব্রাহিম সব প্ল্যান খুলে বলে। এর ফলে কুরবানির প্রসঙ্গউঠতেই ইসমাইল এক বাক্যে রাজি হয়ে যায় এবং তাকে তাড়াতাড়ি কুরবানি করতে বলে, আর হাজেরাও চুপ থাকে।
এখানে একটি বিষয় চিন্তা করুন; সদ্যজাত শিশুসন্তানসহ যে হাজেরাকে তার স্বামী মরুভুমির মধ্যে নির্বাসন দিয়েছিলো, সেইস্বামী এখন তার সন্তানকে খুন করতে নিয়ে যাচ্ছে, আর হাজেরা কিছু বলছে না, আগে থেকে সব পরিকল্পনার কথা জানা না থাকলে কোন মেয়ে বা মায়ের পক্ষে এই সময়চুপ থাকা সম্ভব ? এরপর ইব্রাহিম, ইসমাইলকে কুরবানি করতে নিয়ে যায়, চোখবেঁধে তার গলায় তলোয়ার চালায়, কিন্তু গলা কাটে না, রাগে সেই তলোয়ার ছুঁড়েফেলে দিলে পাথর টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এমন গাঁজাখুরি ঘটনা বাস্তবে কেউকোনোদিন শুনেছেন ? এমন কাহিনী শুধু মিথ্যার ভাণ্ডার ইসলামেই সম্ভব। শেষপর্যন্ত আল্লা ইব্রাহিমের কুরবানি কবুল করে এবং ইসমাইলের জায়গায় ইব্রাহিমেরই একটা দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। ঐ সময় ঐ দুম্বা কোথা থেকে আসবে ? আসলে আগেথেকেই এক চাকরের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করে রেখে পরিকল্পনা মতো বাড়ি থেকেদূরে একটা মাঠের মধ্যে এই নাটক মঞ্চস্থ করার ব্যবস্থা করেছিলো ইব্রাহিম।এমনও তথ্য পাওয়া যায়, কিছু লোক ইব্রাহিমের চালাকির ঘটনাটাটা বুঝে যায়, তাদের মুখ বন্ধ করার জন্যই ঐ দুম্বার তিন ভাগের দুই ভাগ মাংস তাদের ঘুষদেওয়া হয় এবং এক ভাগ ইব্রাহিম নিজের ভাগে রাখে।এজন্যই কুরবানির মাংস এখনওতিনভাগে ভাগ হয় এবং দুই ভাগ বিলিয়ে দেওয়া হয়।
শেষে মুসার একটা গল্প।মুসা আল্লার প্রিয় নবী নয়, তারপরও ¬মুসার সাথে কথা বলার জন্য আল্লাপৃথিবীতে কোনো এক পাহাড়ের উপর নাকি নেমে আসতো। আর মুহম্মদ আল্লার প্রিয় নবীহওয়া সত্ত্বেও মুহম্মদকে আল্লার দেখা পাওয়ার জন্য বোরাক নামক এক কাল্পনিকপ্রাণীতে চড়ে সাত আসমান ডিঙিয়ে আল্লার কাছে যেতে হয়েছিলো। যা হোক,এই মুসারকাছে আল্লা নাকি একবার দুটো চোখ চেয়েছিলো। মুসা কারো কাছ থেকে সেই চোখসংগ্রহ করতে না পেরে আল্লার কাছে ফিরে গিয়ে বলেছিলো, কোথাও তো চোখ পেলামনা। উত্তরে আল্লা বলেছিলো, তোমার নিজের কাছেই তো দুটো চোখ আছে, তুমি অন্যকোথাও খুঁজতে গেলে কেনো ?
এই গল্প এজন্যই বললাম যে, প্রিয় জিনিস বলতেইব্রাহিমের কাছে তার পুত্রের প্রাণের কথাই কেনো মনে হলো ? মানুষের কাছেকোনটা বেশি প্রিয় ? নিজের প্রাণ না পুত্রের প্রাণ ?
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ
From: Krishna kumar das


💜 জয় হোক সনাতনের 💜

অতুলপ্রসাদ সেন


     অতুলপ্রসাদ সেন


      ফেসবুক থেকে       শেয়ার করেছেন      প্রণব কুমার কুণ্ডু



অতুলপ্রসাদ সেন-- দুঃখের ফল্গুধারায় বহমান এক জীবন
---------------------------------------------------------------------------------
" মনোদুখ চাপি মনে হেসে নে সবার সনে,
যখন ব্যথার ব্যথীর পাবি দেখা
জানাস প্রাণের বেদন।"

হাসিখুশি, আড্ডাবাজ,মজলিশী মানুষদের অন্তরেই থাকে বোধহয় এক রাশ কান্না। এঁদের হাসি খুশি চেহারা দেখে বোঝার উপায় থাকে না মনের গভীরে এদের কতখানি ব্যথা। লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যরিষ্টার, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী অতুলপ্রসাদকে যে জীবনের ভার বইতে হয়েছিল তা যেমন অকল্পনীয় -তেমনি অভাবিত। নাটকের মতই হৃদয়গ্রাহী, মর্মস্পর্শী।
দুটি ঘটনা অতুলপ্রসাদের জীবনকে তোলপাড় করে দিয়েছিল। একটি হল তাঁর মায়ের বিয়ে। আরেকটি তাঁর নিজের বিয়ে।
অতুলপ্রসাদ তখন কিশোর। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে তাঁর মা হেমন্তশশী সহ বোনেদের নিয়ে মামাবাড়ীর ছত্রছায়ায় বাস করছেন। হঠাৎ একদিন দেখলেন মামাবড়ী যেন থমথম করছে। মাসীরা কাঁদছে, বোনেরা কাঁদছে, কাঁদছেন দিদিমা। অতুলপ্রসাদ কথাবার্তায় বুঝলেন, তাঁর মা হেমন্তশশী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন এবং যাঁকে বিয়ে করেছেন তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জ্যাঠামশাই দুর্গামোহন দাশ।
সন্তান সবকিছু সইতে পারে কিন্তু মায়ের বিয়ে? অসম্ভব। এভাবে মায়ের পর হয়ে যাওয়া সইবে কেমন করে? তীব্র অভিমানে অব্যক্ত যন্ত্রনায় বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল, চোখের জলে ঝাপসা হয়ে গেল বুঝি তার ভবিষ্যৎ! বাবাকে হারিয়ে এতদিন মা ছিল তাঁর সবকিছু, সেই মা কিনা..।
অশান্ত মন নিয়ে অভিমানী ছেলে পদ্মা নদীর দেশ ছাড়লেন। বোন হিরণ -কিরণ-প্রভাকে কলকাতায় দুর্গামোহন দাসের বাড়ীতে মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন। মায়ের সাথে দেখা করলেন না। চলে গেলেন পানি মামার বাড়ী। সেখান থেকে বড় মামার কাছেে। ভর্তিহলেন প্রসিডেন্সী কলেজে।
মামারাও বোনের এই ঘটনায় বিব্রত। অতুলের প্রতি সমবেদনায়, তাঁর ক্ষতবিক্ষত মনকে শান্ত করতে দুর দেশে পাঠিয়ে দিলেন।অতুলপ্রসাদ ব্যারিষ্টার হওয়ার লক্ষ্যে লন্ডনে এলেন। ভর্তি হলেন মিডল টেম্পলে। প্রবাসী বাঙ্গালীদের মত দীর্ঘদিন ঘরছাড়া অতুলপ্রসাদও অনুভব করেন সুজলা সুফলা বাংলা মায়ের টান। মা হেমন্তশীর জন্য মন কেঁদে উঠল। বিয়ের পর আত্মীয় স্বজনেরাও তাঁর মাকে পরিত্যাগ করেছিল । মনের এই রকম অবস্থায় বড়মামা সপরিবারে কোন কাজে বিলতে আসেন।
বন্ধ জানালা খুলে এক ঝলক খুশির বাতাস বয়ে আনল অতুলপ্রসাদের জন্য। বিদেশ বিভুঁইয়ে, কাছে পেলেন বড়মামাকে, মামীকে। আর পেলেন মামাতো বোন হেমকুসুমকে। সুন্দরী, ব্যক্তিত্বপূর্ণা, সপ্রতিভা সাহসিকতার ছটায় উজ্জ্বল হেমকুসুমকে নিয়ে আনন্দের জোয়ারে ভেসে গেলেন অতুলপ্রসাদ। হেমকুসুমের অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠতা অতুলপ্রসাদের হৃদয়ে এক অজানা শিহরণ, অচেনা আকর্ষণ। পরস্পর মুগ্ধ দুটি হৃদয়।
মুগ্ধতার রেশ জারি ছিল কলকাতাতেও। অতুলপ্রসাদ ব্যারিষ্টারি পাশ করে কলকাতা ফিরে সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা বিয়ে করবেন। অশান্তির আগুন জ্বলে উঠল দুটি পরিবারে। ঝড় উঠল আত্মীয় সমাজেও। কিন্তু অতুলকে দমানো গেল না। ওদিকে প্রচন্ড জেদী হেমকুসুম তাঁর মাকে জানিয়ে দেয় অতুলকে না পেলে সে আত্মহত্যা করবে।
সামাজিক বিধি ব্যবস্থায় ভাইবোনের বিয়ে কোনমতে গ্রহণযোগ্য নয়, আইনসিদ্ধও নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিং এর পরামর্শে বিলেত গিয়ে কোন এক গির্জায় দুজনে বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হলেন। আত্মীয়-স্বজন সবাই ওদের পরিত্যাগ করায় ওরা বিলেতেই থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। অতুলপ্রসাদ ওখানেই প্র্যাকটিশ শুরু করলেন।
হেমকুসুমের কোলজুড়ে এল ফুটফুটে যমজ সন্তান। দিলীপ কুমার ও নিলীপ কুমার । কিন্তু অতুল প্রসাদের মনে সুখ নেই। পসার জমছে না। এদিকে টাকা পয়সাও প্রায় শেষ। হেমকুসুম তাঁর গয়নাগাটি একটি একটি করে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। অতুলপ্রসাদ আত্মীয় বন্ধুদের চিঠি লিখেছিলেন। কোন উত্তর আসেনি। মা বোনেদেরও সাড়া মেলেনি।
একে তীব্র অর্থাভাব তার উপর আত্মীয় -স্বজন তথা স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অতুল প্রসাদ মানসিক যন্ত্রনায় অস্থির। হেম সাহস দেন। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না। শেষ রক্ষা হল না। তীব্র ঠান্ডায় শীতবস্ত্রের অভাব ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পথ্য যোগাড় করতে না পারায় নিলীপ কুমারের মৃত্যু হল। হতাশায় ভেঙ্গে পড়লেন দুজনেই।
নিরুপায়, নিঃসঙ্গ একান্তভাবে অবসন্ন উভয়েই। কোথাও এতটুকু হাত ধরার কেউ নেই। নেই আশ্বাস। শেষ পর্যন্ত একজন ভারতীয় বন্ধু মমতাজ হোসেনের পরামর্শে দেশে ফিরে এলেন। লক্ষ্ণৌতে এসে প্র্যাকটিশ শুরু করলেন। ধীরে ধীরে পসার জমে উঠল। হেমকুসুম স্নিগ্ধ আন্তরিকতা দিয়ে সযতনে গড়ে তুললেন তাঁর সংসার। কিন্তু অশান্তি শুরু হল তখনই যখন তাঁর শ্বাশুড়ি বিধবা হেমন্তশশী বাড়িতে থাকতে এলেন।
মা হেমন্তশশী আজ একা। অতুলপ্রসাদ আজ অর্থ, যশ আর জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ চুড়ায়। তাঁর মায়ের জন্য মন কাঁদে। কিন্তু হেমকুসুমের মন তাতে বিদ্রোহ করে। হেমকুসুম ভুলতে পারেন না তাদের যাঁরা তাঁদের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি-তাদের সাথে কোন সম্পর্ক নয়, নয় কোন আত্মীয়তা। তাছাড়া বড় বড় ছেলে মেয়ে থাকা সত্বেও শ্বাশুড়ির দ্বিতীয়বার বিয়ে হেমেকুসুমের কাছে বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। এমন শ্বাশুড়িকে সে মেনে নিতে পারে না।
শুরু হল শ্বাশুড়ি-বৌমার সেই অনিবার্য সংঘাত। আমাদের দেশে চিরাচরিত প্রথামত প্রণয় ঘটিত অঘটনে মেয়েদেরই দায়ী করা হয়। হেমন্তশশীও এই বিয়ের ব্যাপারে হেমকুসুমকে দায়ী করে বার বার অসন্তোষে ঝলসে উঠেছেন। অপরদিকে হেমকুসুম বিদেশে নিঃস্ব অবস্থায় স্বামী সন্তানদের নিয়ে সেই দুঃখের দিনগুলি ভুলতে পরেন নি, ভুলতে পারেন নি অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় সন্তানের মৃত্যু ও তার নিদারুণ শোক। ভুলতে পারেননি শ্বাশুড়ী -ননদদের উদাসীন, ক্ষমাহীন ব্যবহার।
যে সংসারে শ্বাশুড়ী বৌমা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ-সেই সংসারে অশান্তির আবহে পড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বোধহয় শিশুরা। একদিকে মা -বাবর মধ্যে অশান্তি অন্যদিকে ঠাকুমার সাথে মন কষাকষি -এর মধ্যে পড়ে দিলীপকুমারও পড়াশোনায় মন বসাতে পারেনি।বার বার নিষেধ করা সত্বেও মাকে নিয়ে এসেছেন স্বামী। তাই হেমকুসুমের যত রাগ গিয়ে পড়ত স্বামীর উপর। একদিকে মা এবং অন্যদিকে স্ত্রী -এই দুয়ের মাঝখানে পড়ে অতুল প্রসাদ হলেন ক্ষুব্ধ, নিরাশ। তাঁর হৃদয় হল ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত।
হেমন্তশশী বুঝলেন তাঁকে নিয়েই সংসারে অশান্তি। ছেলের নির্বাক,শুকনো মুখ তিনি সহ্য করতে পারলেন না। চলে গেলেন বাড়ী ছেড়ে। হেমের কারণেই মাকে চলে যেতে হল। এই ভাবনায় ধনী, মানী, যশস্বী অতুলপ্রসাদ দুঃখের আগুনে পুড়তে থাকলেন। অশান্তি তার ঘরের বাতাসকে দুষিত, উত্ত্প্ত করে তুলেছে। মা চলে যাবার পরে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমেই নিরানন্দ,তিক্ত, অসহ হয়ে উঠল। দুজনের সম্পর্কের মাঝে একটা দেয়াল খাড়া হয়ে উঠল।
অশান্তি যখন চরমে তখন একদিন হেমকুসুম রাগের বশে অতুলপ্রসাদের ব্যরিষ্টারীর সমস্ত পোষাক ঘরের বাইরে কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। হেমকুসুমের হৃদয়হীন আচরণ ও নিষ্ঠুর ব্যবহারে ক্ষুব্ধ অতুল প্রসাদ পরের দিন হেমকে না জানিয়ে লক্ষ্ণৌ ছেড়ে কলকাতায় চলে গেলেন। যাবার আগে পারিবারিক বন্ধু মহেশ চট্টোপাধ্যায়ের উপর স্ত্রী পুত্রের ভার দিয়ে গেলেন। কলকাতা হাই কোর্টে যোগ দিয়ে প্র্যাকটিশ শুরু করলেন।
কলকাতা থেকে অতুলপ্রসাদ গেলেন শান্তিনিকেতনে শান্তির খোজে গুরুদেবের কাছে।ফিরে এসে গেলেন দার্জিলিং। মনোরম পরিবেশে মানসিক সুস্থতার আশায়। তারপর গেলেন ঢাকায় প্রিয় জন্মভূমিতে। ফিরে এসে গেলেন সারদা মায়ের কাছে। সমস্ত বেদনা, যন্ত্রণা কান্না হয়ে ঝরে পড়ল মায়ের পায়ে। মনের দুঃখ ভুলতে আবার পাড়ি দিলেন সুন্দর বনের উদার প্রকৃতির মধ্যে।
ওদিকে লক্ষ্ণৌর বাড়ীতে একা হেমকুসুম। কিছুতেই ভুলতে পারছেন না প্রিয় অতুলের নিষ্ঠুর ব্যবহার। মনে জাগে নানা প্রশ্ন। সর্বস্ব পণ করে যাঁরা পরস্পরকে ভালোবেসে ছিল বিধাতার নিষ্ঠুর পরিহাসে কেন সেই মধুর সম্পর্ক পুড়ে ছাই হল? কেন অতুল বুঝতে চাইছে না তাঁর হেমকে? অসহনীয়-অভাবনীয়-অবর্ণনীয়-অসহায়তা কেন হেমকুসুমের হৃদয় জুড়ে? সবটা কি তারই দোষে?
অতুলপ্রসাদের গতিবিধির খবর রাখতেন হেমকুসুম। দার্জিলিং এ আছেন খবর পেয়ে অনুতাপে জর্জরিত হেমকুসুম পুত্র দিলীকুমারকে সঙ্গে নিয়ে দার্জিলিঙে গেলেন। কিন্তু পাহাড়প্রমান অভিমান দুজনকে মিলতে দিল না। পাশাপাশি দুটি হোটেলে থাকলেন। ফিরে এলেন কলকাতায়। বাড়ী ভাড়া করে থাকতে লাগলেন। সঙ্গে পুত্রের শিক্ষক হিসেবে মহেশ চট্টোপাধ্যায়।
সারাদিনের কাজের শেষে অতুলপ্রসাদ ক্লান্ত। বিধ্বস্ত। একটা বিষাদ ছেয়ে থাকত মন জুড়ে। কেন এমন বদলে গেল হেম? আগে নিষ্ঠুরতা দেখালেও আবার দরদী মন নিয়ে প্রয়োজনে অতুলপ্রসাদের পাশেে এসে দাঁড়াত। আর এখন? একই জায়গায থেকেও দুজনের মুখ দেখাদেখি নেই। ছেলেকেও বাবার কাছে আসতে দেয় না। যা বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দৃষ্টিকটু।
এখান থেকে চলে যাওয়াই স্থির করলেন। হেমের থেকে দুরে। আবার এলেন লক্ষ্ণৌ। হেমকুসুমের দুর্ব্যবহার, অশোভন আচরণ এখানে আর রইল না। অতুলপ্রসাদ নিজকে ছড়িয়েে দিলেন গানে,মজলিশে সাহিত্যে, সেবার কাজে। তিনি হলেন সারা লক্ষ্ণৌবাসীর প্রিয় 'সেন সাহেব'।
অতুলপ্রসাদের নীরব উপেক্ষায় হেমকুসুম শরীরে মনে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। দিশেহারা অসহায় পুত্র দিলীপকুমার বাবাকে সেই বার্তা দেওয়ার পর বাবারই নির্দেশেই মাকে নিয়ে লক্ষ্ণৌতে এলেন। অন্তবিহীন পথ পেরিয়ে আবার মিলন ঘটল দুটি প্রাণের। দুজনেই উৎফুল্ল, অনুরাগ-রঞ্জিত। আবার হারানো সবকিছু ফিরে পেলেন হেমকুসুম।
কিন্তু সে আনন্দ স্থায়ী হল না। কিছুদিনের মধ্যেই হাজির হলেন মা হেন্তশশী,বোন হিরণ -কিরণ ও প্রভা। অতুলভবনে নেমে এল অশান্তির কালো ছায়া। একদিকে শ্বাশুড়ী ননদ অন্যদিকে হেমকুসুম। মাঝে অসহায় বিব্রত অতুলপ্রসাদ। তেতে উঠলেন হেমকুসুম। পুত্র দিলীপকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ী ছেড়ে চলে গেলেন। চলে গেলেন দেরাদুন।
প্রচন্ড জেদ, অভিমান এবং রাগ মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে -তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইলেন হেমকুসুম। অথচ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার অভাব ছিল না। শুধুমাত্র শ্বাশুড়ী -ননদদের মানতে না পেরে, স্বাধিকার প্রতিষ্টার একক সংগ্রাম করে ক্ষোভের আগুনে দগ্ধ হয়ে কক্ষচ্যুত তারকার মত নিজেকে শেষ করতে লাগলেন। অতুলপ্রসাদেরর নূতন বাড়ী 'হেমন্ত নিবাস' এর উদ্বোধন হল।হেমকুসুম আসেন নি। শ্বাশুড়ীর মৃত্যুর শ্রাদ্ধের সময়ও আসেন নি।
চলৎশক্তি হীন, ক্লান্ত, বিধ্বস্ত অবসন্ন হেমকুসুম অবশ্য দেরাদুন থেকে শেষবারের মত অনেক আশা নিয়ে এসেছিলেন অতুলপ্রসাদের কাছে থাকব বলে। মাস তিনেক ছিলেন। তারপর আবার সেই আত্মীযদের সঙ্গে পুরানো অসন্তোষ ধুমায়িত হয়ে ওঠে। আবার বাড়ী ছেড়ে লক্ষ্ণৌতেই ভাড়ার বাড়ীতে গিয়ে ওঠেন। অতুলপ্রসাদের জীবিত অবস্থায় আর তিনি আসেন নি। একজন ধনী, মানী, যশস্বী মানুষের জীবনের এমন পরিনতি অকল্পনীয়!
তবে সংসার সমুদ্র -মন্থনে শুধু হলাহলই নয়, উঠেছিল অবাক পারিজাত বৃক্ষটি যার কুসুম- সুবাসে আমোদিত হয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও। মাত্র ২০৮ টি গান তিনি রচনা করে তিনি গানের জগতে অমরতা লাভ করেছেন -যা এক বিস্ময়! কিন্তু তার চেয়ে বড় বিস্ময় যে কি কারণে অতুলপসাদী গান রবীন্দ্রসঙ্গীতের সর্বব্যাপী প্রভাবও ও জনপ্রিয়তার পাশে জনমনে এমন প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হল!
অনেক গানে তাঁর জীবনকে দেখা যায়। তাঁর বিখ্যাত গানগুলি হল, "ওগো নিঠুর দরদী"; "বঁধু নিদ নাহি আঁখি পাতে" ; "আজ আমার শূন্য ঘরে আসিলে সুন্দর"; "কে আবার বাজায় বাঁশী"; "বঁধু ধর, ধর মালা পর গলে ; "তুমি মধুর অঙ্গে"; "একা মোর গানের তরী "; "পাগলা মনটারে তুই বাঁধ"; "যাব না যাব না ঘরে" ;এত হাসি আছে জগতে তোমার, বঞ্চিলে শুধু মোরে"- ইত্যাদি গান মানুষকে উদ্বেল করে, আবেগাপ্লুত করে।
এ ছাড়াও "ডাকে কোয়েলা বারে বারে"; "আর কতকাল থাকব বসে " ; "মেঘেরা দল বঁধে যায় কোন দেশে"-তাঁর বিখ্যাত গান। স্বদেশ সঙ্গীতগুলির মধ্যে হল, "ওঠ গো ভারতলক্ষ্মী"; "হও ধরমেতে ধীর হও করমেতে বীর"; "শতবীণা বেনু রবে"; "খাঁচার গান গাইব না আর"; " মোদের গরব মোদের আশা" -প্রত্যেকটি কল্পনায়, প্রেরণায়, ভাবে, গুনে অনবদ্য। তাঁর একটি মাত্র গ্রন্থ "গীতিগুঞ্জ" গানের জগতে তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে।
অতুলপ্রসাদের বিশ্রামের অবকাশ নেই। লক্ষ্ণৌ শহরের পাঁচ জনের একজন তিনি। সেন সাহেবকে ছাড়া কোন কাজই যে সম্ভব নয়। অতিথি অভ্যাগতের বিরাম নেই। দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা অতুলপ্রসাদের অতিথি হয়ে তাঁকে সনম্মানিত করেছেন । একে একে এসেছেন মহাত্মা গান্ধী, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ সরোজিনী নাইডু চিত্তরঞ্জন দাস। এসেছেন রবীন্দ্রনাথ এবং আরও অনেকে।
সব ছেলেই স্বপ্ন দেখে যে স্ত্রী একদিন তার পরিবারকে মেনে নেবে তারপর দুজনে মিলে এক স্বপ্নের নীড় রচনা করবে। অতুলপ্রসাদও সেই স্বপ্ন দেখেছিলেন।কিন্তু তা সফল হয়নি।
অতুলপ্রসাদ সবাইকে আপন করেছেন কিন্তু আপন হলনা সবার চেয়ে যিনি আপন। সবই আছে তবুও সব শূন্য। ধন-সম্পদ-ঘর ঐশ্বর্য, কিন্তু নেই মাধূর্য, নেই পার্বতী। অতুলপ্রসাদ ভেবেছিলেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে একদিন না একদিন হেম তার কাছে ফিরে আসবেই। কিন্তু তা হয়নি।
অতুল প্রসাদ অসুস্থ। খবর ছড়িয়ে গেল সর্বত্র। তাদের প্রিয় 'সেন সাহেব' কে দেখার জন্য লক্ষ্ণৌ শহর ভেঙ্গে পড়ল। ডাক্তার এল, নার্স এল। সব সম্প্রদায়ের জনস্রোত ছুটল হেমন্তনিবাসের দিকে -সকলেই একটিবার দেখতে চান। তাঁর সহকর্মীবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা, লক্ষ্ণৌয়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত- অনুপস্থিত কেবল হেমকুসুম।
সকলকে উৎকন্ঠায় রেখে রাত একটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে এই মহৎপ্রাণ মরজগৎ ছেড়ে সুর লোকে চলে গেলেন।খবর পেয়ে রাত দুটোয় এলেন হেমকুসুম। তাঁকে বলা হল 'আপনি অসুস্থ মানুষ গাড়ী থেকে নেমে আর কি করবেন, সবইতো শেষ। ফিরে যান।' মর্মর মূর্তির মত নিষ্পন্দ, নিথর হেমকুসুম রাতের অন্ধকারে ফিরে চললেন। কোথাও আলো নেই, হাওয়া নেই, প্রাণ নেই। কোথা থেকে যেন ভেসে এল অতুলপ্রসাদের গান--

"কেন এলে মোর ঘরে আগে নাহি বলিয়া।
এসেছ কি হেথা তুমি পথ তব ভুলিয়া?....
* * * * * * * * * * * * * * * *

বই:--অতুলন অতুলপ্রসাদ - শ্রী সুনীলময় ঘোষ।
অতুলপ্রসাদ-- মানসী মুখোপাধ্যায়।
অতুলপ্রসাদ সেন-- সুরেশ চক্রবর্তী।
কাকলি --অতুলপ্রসাদ সেন।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮