সোমবার, ১৮ জুন, ২০১৮

খতনা






খতনা
Rupok Roy        ফেসবুক             প্রণব কুমার কুণ্ডু
 

খতনা ও কুরবানির প্রকৃত ইতিহাস:

নবী ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী সারা মিশর ভ্রমণকালে, মিশরের রাজা তাদেরকে হাজেরা নামের এক দাসী উপহার দেয়। উপহার হিসেবে দাসী ! চিন্তা করুন। নবী মুহম্মদ যে দাসীদের ভোগ করতে বলেছে এবং সে নিজে তার উপহারপ্রাপ্ত দাসী মারিয়ার পেটে ইব্রাহিম নামের এক পুত্রের জন্ম দিয়েছিলো- সেটা কিন্তু এমনি এমনি না; এটা এক সুদীর্ঘ উত্তরাধিকার। যা হোক দাসী হাজেরার প্রতি ইব্রাহিমের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখে, সারা, হাজেরার সাথে ইব্রাহিমের বিয়েই দিয়ে দেয় অথবা ইসমাইল নিজেই হাজেরাকে বিয়ে করে ফেলে, যেটা সারাকে মেনে নিতে হয়। কিন্তু স্বামীকে ভাগ করার কিছুদিনের মধ্যেই সারার মধ্যে হাজেরার প্রতি ঈর্ষা জেগে উঠে, হাজেরার সন্তান হওয়ার পর এই ঈর্ষা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠে এবং সারা, ইব্রাহিমকে বাধ্য করে, হাজেরা ও তার পুত্র ইসমাইলকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম, ইসমাইল ও হাজেরাকে অল্প কিছু খাদ্য-পানীয় দিয়ে মরুভূমির মধ্যে রেখে আসে এবং সারাকে কথা দেয় সে কোনোদিন ইসমাইল ও হাজেরাকে দেখতে পর্যন্ত যাবে না।
কাহিনী দেখে বোঝা যাচ্ছে, ইব্রাহিমের উপর সারার যথেষ্ট প্রভাব ছিলো এবং ইব্রাহিম ছিলো সারার বশীভূত। না হলে কী কারণে সদ্যজাত শিশুপুত্রসহ যুবতী স্ত্রীকে কেউ মরুভূমির মধ্যে রেখে আসবে ? কিন্তু যুবতী স্ত্রী ও শিশু পুত্রের চিন্তায় ইব্রাহিমের আর ঘুম হয় না। গোপনে সে তাদের দেখতে যায়, এই খবর সারার কাছে পৌঁছলে সারা ইব্রাহিমের উপর চাপ সৃষ্টি করে। তখন ইব্রাহিম বলে, '‌আমি যদি হাজেরা ও ইসমাইলকে দেখতে গিয়ে থাকি এবং সেটা যদি তুমি প্রমাণ করতে পারো - বর্তমানে আমরা যেমন এই রকম অবস্থায় বলি, কান কেটে ফেলবো; ঠিক তেমনি ইব্রাহিম বলেছিলো -আমার লিঙ্গ কেটে ফেলবো'। সারাও দমবার পাত্রী নয়, অনুচরের মাধ্যমে সে ঠিকই প্রমাণ করে যে, ইব্রাহিম, হাজেরা ও ইসমাইলকে দেখতে মরুভূমিতে গিয়েছিলো। এরকম চাক্ষুষ প্রমাণে অপমানিত হয়ে ইব্রাহিম নিজের হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে নিজের লিঙ্গ কেটে ফেলতে উদ্যত হয়, তখন সারা কিছুটা কনসিডার করে বলে, ঠিক আছে, পুরোটা কাটতে হবে না, কিন্তু তুমি যে আমার সাথে মিথ্যা বলে প্রতারণা করেছো, তার সাক্ষ্য স্বরূপ তোমাকে ওটার কিছু অংশ কাটতে হবে। তার পর ইব্রাহিম নিজের লিঙ্গের অগ্রচর্ম কেটে ফেলে ও পরে যখন ইসমাইলকে বাড়িতে আনতে সমর্থ হয় তখন ইসমাইলেরও লিঙ্গঅগ্রচর্ম কেটে পরবর্তী বংশধরদের সবার এরূপ করার নির্দেশ দেয়। এক লেজকাটা শেয়ালের অন্য সবার লেজাকাটার চেষ্টা আর কি।এই কারণেই ইব্রাহিম পরবর্তী মুসা ও ঈসার অনুসারীরা খতনা করে যাচ্ছে। আসলে এটা এক স্ত্রীর সাথে তার স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন।
যা হোক, লিঙ্গ কাটতে বাধ্য হওয়ার পর স্ত্রী ও পুত্রের চিন্তায় ইব্রাহিম আরো ছটফট করতে থাকে এবং ঘুমের মাঝে উল্টা পাল্টা স্বপ্ন দেখতে থাকে, যেটা খুবই স্বাভাবিক। আগে থেকেই নবী হিসেবে ইব্রাহিমের কিছু পরিচিতি ছিলো এবং সে যে আল্লার নাম ভাঙিয়ে কিছু বললে, লোকে সেটা বিশ্বাস করবে, তাও সে বুঝতে পেরেছিলো। তাই এই স্বপ্নকে হাতিয়ার করেই ইব্রাহিম, সারাকে বোকা বানিয়ে ইসমাইল ও হাজেরাকে বাড়িতে নিয়ে আসার ফন্দি আঁটে। ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ হঠাৎ বলতে থাকে, আল্লা আমাকে আমার প্রিয় জিনিস কুরবানি করতে বলেছে। এরপর একের পর এক উট, দুম্বাসহ নানা কিছু কুরবানি করা হয়, কিন্তু ইব্রাহিমের স্বপ্ন দেখা আর থামে না। আল্লাও বলে না ইব্রাহিমের প্রিয় জিনিসের নাম আর ইব্রাহিমও তা বুঝতে পারে না। আসলে এসবের মাধ্যমে ফাইনাল কথা প্রকাশ করার আগে ইব্রাহিম একটু পরিবেশ তৈরি করছিলো আর কি। শেষে ইব্রাহিম সারাকে বলে আমার পুত্র ইসমাইল ই আমার সবচেয়ে প্রিয়, তাকেই কুরবানি করবো। সারা চিন্তা করে দেখে, এতে তো ভালোই হবে; ইসমাইল মরলে তার তো কোনো ক্ষতি হবে না, উল্টো তার সতীন হাজেরা কষ্ট পাবে। তাই সারা তাতে সম্মতি দেয় এবং ইব্রাহিম গিয়ে ইসমাইল ও হাজেরাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে। বাড়িতে আনার আগেই হাজেরা ও ইসমাইলকে ইব্রাহিম সব প্ল্যান খুলে বলে। এর ফলে কুরবানির প্রসঙ্গ উঠতেই ইসমাইল এক বাক্যে রাজি হয়ে যায় এবং তাকে তাড়াতাড়ি কুরবানি করতে বলে, আর হাজেরাও চুপ থাকে।
এখানে একটি বিষয় চিন্তা করুন; সদ্যজাত শিশু সন্তানসহ যে হাজেরাকে তার স্বামী মরুভুমির মধ্যে নির্বাসন দিয়েছিলো, সেই স্বামী এখন তার সন্তানকে খুন করতে নিয়ে যাচ্ছে, আর হাজেরা কিছু বলছে না, আগে থেকে সব পরিকল্পনার কথা জানা না থাকলে কোন মেয়ে বা মায়ের পক্ষে এই সময় চুপ থাকা সম্ভব ? এরপর ইব্রাহিম, ইসমাইলকে কুরবানি করতে নিয়ে যায়, চোখ বেঁধে তার গলায় তলোয়ার চালায়, কিন্তু গলা কাটে না, রাগে সেই তলোয়ার ছুঁড়ে ফেলে দিলে পাথর টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এমন গাঁজাখুরি ঘটনা বাস্তবে কেউ কোনোদিন শুনেছেন ? এমন কাহিনী শুধু মিথ্যার ভাণ্ডার ইসলামেই সম্ভব। শেষ পর্যন্ত আল্লা ইব্রাহিমের কুরবানি কবুল করে এবং ইসমাইলের জায়গায় ইব্রাহিমের ই একটা দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। ঐ সময় ঐ দুম্বা কোথা থেকে আসবে ? আসলে আগে থেকেই এক চাকরের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করে রেখে পরিকল্পনা মতো বাড়ি থেকে দূরে একটা মাঠের মধ্যে এই নাটক মঞ্চস্থ করার ব্যবস্থা করেছিলো ইব্রাহিম। এমনও তথ্য পাওয়া যায়, কিছু লোক ইব্রাহিমের চালাকির ঘটনাটা বুঝে যায়, তাদের মুখ বন্ধ করার জন্যই ঐ দুম্বার তিন ভাগের দুই ভাগ মাংস তাদের ঘুষ দেওয়া হয় এবং এক ভাগ ইব্রাহিম নিজের ভাগে রাখে।এজন্যই কুরবানির মাংস এখনও তিনভাগে ভাগ হয় এবং দুই ভাগ বিলিয়ে দেওয়া হয়।
শেষে মুসার একটা গল্প। মুসা আল্লার প্রিয় নবী নয়, তারপরও ¬মুসার সাথে কথা বলার জন্য আল্লা পৃথিবীতে কোনো এক পাহাড়ের উপর নাকি নেমে আসতো। আর মুহম্মদ আল্লার প্রিয় নবী হওয়া সত্ত্বেও মুহম্মদকে আল্লার দেখা পাওয়ার জন্য বোরাক নামক এক কাল্পনিক প্রাণীতে চড়ে সাত আসমান ডিঙিয়ে আল্লার কাছে যেতে হয়েছিলো। যা হোক,এই মুসার কাছে আল্লা নাকি একবার দুটো চোখ চেয়েছিলো। মুসা কারো কাছ থেকে সেই চোখ সংগ্রহ করতে না পেরে আল্লার কাছে ফিরে গিয়ে বলেছিলো, কোথাও তো চোখ পেলাম না। উত্তরে আল্লা বলেছিলো, তোমার নিজের কাছেই তো দুটো চোখ আছে, তুমি অন্য কোথাও খুঁজতে গেলে কেনো ?
এই গল্প এজন্যই বললাম যে, প্রিয় জিনিস বলতে ইব্রাহিমের কাছে তার পুত্রের প্রাণের কথাই কেনো মনে হলো ? মানুষের কাছে কোনটা বেশি প্রিয় ? নিজের প্রাণ না পুত্রের প্রাণ ?
জয় হিন্দ।
From: Krishna kumar das


💜 জয় হোক সনাতনের 💜


তথ্য


তথ্য

তথ্য শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


সেনগুপ্ত বাসুদেব রায়চৌধুরী       এতে ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য


#বিশেষ_তথ্য...

তথ‍্য: ইন্টারনেট থেকে পাওয়া...

#আজকের_দিনে_১৮ই_জুন_১৯৩১_সালে_আলিপুর_সেন্ট্রাল_জেল_থেকে_শ্রদ্ধেয়_দীনেশ_গুপ্ত_তাঁর_বৌদিকে_চিঠিতে_লিখেছিলেন

‘ভারতবাসী আমরা নাকি বড় ধর্মপ্রবণ। ধর্মের নামে ভক্তিতে আমাদের পণ্ডিতদের টিকি খাড়া হইয়া উঠে। তবে আমাদের মরণের এত ভয় কেন? বলি, ধর্ম কি আছে আমাদের দেশে? যে দেশে দশ বছরের মেয়েকে পঞ্চাশ বৎসরের বৃদ্ধ ধর্মের নামে বিবাহ করিতে পারে, সে দেশে ধর্ম কোথায়? সে দেশের ধর্মের মুখে আগুন। যে দেশে মানুষকে স্পর্শ করিলে মানুষের ধর্ম নষ্ট হয়, যে দেশের ধর্ম আজই গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়া নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত। সবার চাইতে বড় ধর্ম মানুষের বিবেক। সেই বিবেককে উপেক্ষা করিয়া আমরা ধর্মের নামে অধর্মের স্রোতে গা ভাসাইয়া দিয়াছি। একটা তুচ্ছ গোরুর জন্য, না হয় একটু ঢাকের বাদ্য শুনিয়া আমরা ভাই ভাই খুনোখুনি করিয়া মরিতেছি। এতে কি ভগবান আমাদের জন্য বৈকুণ্ঠের দ্বার খুলিয়া রাখিবেন, না খোদা বেহস্তে আমাদিগকে স্থান দিবেন?’     

চাঁদ দুটুকরো

    Pranab Kumar Kundu   রূপক রায়ের ফেসবুকের একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন৷



    মুহম্মদ কর্তৃক আঙ্গুলের ইশারায় চন্দ্র দ্বিখণ্ডন : ইসলামের এক মহা মিথ্যা
    কোরানের সূরা কমর এর ১ নং আয়াতে স্পষ্ট করে লিখা আছে, "চাঁদ দ্বি-খণ্ডিত হয়েছে", এবং হাদিস থেকে জানা যায় মুহম্মদের আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে এবং তার আঙ্গুলের ইশারাতেই চাঁদ আবার জোড়া লেগেছে। চিন্তা করুন, এতবড় একটা ঘটনার প্রমান শুধু কোরান ! যে কোরানের পাতায় পাতায় ভুল আর মিথ্যা ?
    ইসলামের বর্ণনা মতে, এটা মাত্র ১৪০০ বছর আগের ঘটনা, অথচ পৃথিবীর আর কেউ সেই ঘটনা দেখলো না ? কোনো দেশ থেকে সেই ঘটনা আর দেখাই গেলো না ? কেনো চাঁদ কি শুধু মুহম্মদের ঘর থেকেই দেথা যেতো, না চাঁদ মুহম্মদের ঘরের নিজস্ব সম্পদ, যে চাঁদের কিছু হলে অন্য কেউ তা লাইভ দেখতে বা জানতে পারবে না ?
    কথায় বলে, আকাশে উঠিলে চাঁদ দেখে সবাই। তার মানে আকাশের চাঁদকে একসাথে কোটি কোটি মানুষ দেখতে পায়, এই চাঁদ নিয়ে যদি কোনো ঘটনা ঘটে সেটা এক সাথে বহু মানুষ দেখবে এটাই স্বাভাবিক। তাহলে মুহম্মদের এই চন্দ্র দ্বিখণ্ডন, মুহম্মদ এবং তার কয়েকজন সাহাবী ছাড়া কেউ দেখলো না কেনো ? এ্রই রকম অলৌকিক ঘটনা যদি মুহম্মদের থাকতো, তাহলে তাকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আর তরবারি নিয়ে ঘুরতে হতো না, আর ইসলামের দাওয়াত দিয়ে বেড়াতে হতো না, ইসলাম প্রতিষ্ঠা বা জিহাদের নামে মানুষ হত্যা করতে হতো না, তার এই ক্ষমতা দেখেই মুহম্মদের জীবদ্দশাতেই শুধু আরব নয়, সারা পৃথিবীর লোক ইসলাম গ্রহন করে ফেলতো।
    মুহম্মদের এই চাঁদ দ্বিখণ্ডণকে ভিত্তি করে মুসলিম সমাজ কর্তৃক বহুলভাবে প্রচারিত একটি মিথ্যা গল্প হলো, আমেরিকার নীল আর্মস্ট্রং তার চন্দ্র অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে এসে ইসলাম গ্রহন। এর কারণ হিসেবে তারা বলে, নবী আঙ্গুলের ইশারায় যে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলো, যে কথা কোরানে লেখা আছে, নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে চাঁদের সেই জোড়া দেখতে পেয়েছিলো এবং সে চাঁদে আজানও শুনতে পেয়েছিলো, এজন্যই সে পৃথিবীতে এসে ইসলামকেই একমাত্র সত্য ধর্ম বলে মনে করে মুসলমান হয়ে যায়।
    কিন্তু এই গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে আছে গল্পটিকে মিথ্যা প্রমান করার অস্ত্র এবং সেটা হলো চাঁদে তো কোনো বাতাস নেই, তাহলে আর্মস্ট্রং বাতাস ছাড়া আজান শুনলো কিভাবে ? এই তথ্যটিই প্রমান করে যে, আর্মস্ট্রং এর আজান শোনার গল্পটি পুরো মিথ্যা এবং তার ইসলাম গ্রহনের ঘটনাটিও মিথ্যা। তারপরও মুসলমানরা যেহেতু মিথ্যার জাহাজ এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী ব্যাপকভাবে প্রচার শুরু করে নীল আর্মস্ট্রং এর তথাকথিত ইসলাম গ্রহনের ঘটনা, সেহেতু নাসা থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয় যে, চন্দ্র অভিযানের সময় চাঁদে আজান শোনার মতো কোনো ঘটনা ঘটে নি এবং নীল আর্মস্ট্রং এর ইসলাম গ্রহনের ঘটনাও সত্য নয়।
    এছাড়াও মহাকাশে ভাসমান গ্রহ নক্ষত্র উপগ্রহের চরিত্র সম্পর্কে যাদের সামান্য ধারণা আছে, তারা এটা কমন সেন্স থেকেই বুঝবে যে চাঁদকে পরিচালনা করা পৃথিবীর কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, চাঁদকে কোনোভাবে যদি দ্বিখণ্ডিত করা যায়, তাহলে তা তার কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়বে এবং পৃথিবীর সাথে তার ভাঙ্গা অংশের ধাক্কাসহ নানা ঘটনা ঘটিয়ে মহাকাশে ধ্বংস হয়ে যাবে।
    আশা করছি, মুহম্মদ কর্তৃক চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করার যে মিথ্যা গল্প, তার অসারতা সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।
    জয় হিন্দ।
    From: Krishna kumar das
    💜 জয় হোক সনাতনের 💜

অযোধ্যার রামমন্দিরের ইতিহাস



     অযোধ্যার রামমন্দিরের ইতিহাস


Rupok Roy     ফেসবুক         শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


অযোধ্যার রাম মন্দিরের রক্তাক্ত ইতিহাস:
রাম মন্দির নির্মিত হয় একাদশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১ হাজার থেকে ১১শ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। এটা আমার মত নয়, প্রত্নতত্ত্ববিদদের মত।
১৫২৬ সালে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে ইবরাহিম লোদীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর, দিল্লি দখল করে। এরপর মুসলমান শাসকদের যে চিরাচরিত প্রথা, ক্ষমতা দখল করেই ইসলামের ঝাণ্ডা উড়ানো এবং অমুসলিমদের উপাসনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে মসজিদ বানানো বা তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা, বাবর সেদিকে নজর দেয়। এজন্য বাবরের নির্দেশে তার সেনাপতি মীর বাকি খাঁ, ১৫২৭/২৮ সালে অযোধ্যা আক্রমন ক'রে প্রথমে কিছু হিন্দুকে হত্যা করে এবং বাকিদের বন্দী করে। এরপর ভারতের প্রধান রাম মন্দির, যা রামের জন্মভূমি অযোধ্যাতেই অবস্থিত, সেটার উপরের অংশ ভেঙ্গে ফেলে এবং মন্দিরের মূল ভিত্তির উপরেই মসজিদ তৈরি করে, যেটা বাবরি মসজিদ নামে পরিচিত। এই মসজিদ তৈরি করার সময়, যেসব হিন্দুদেরকে বন্দী করে রাখা হয়েছিলো, তাদের গলা কেটে প্রথমে একটি পাত্রে সেই রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং তারপর জলের পরিরর্তে চুন-সুড়কির সাথে সেই রক্ত মিশিয়ে মন্দিরের মূল ভিতের উপরই ইটের পর ইট গেঁথে মসজিদ নির্মান করা হয়। তাই ইসলামি প্রথাসম্মত মসজিদ এটা নয়, ইসলামের বিজয় অভিযানে হিন্দুদের মনোবল ভাঙতে যত্রতত্র অসংখ্য মন্দির ভেঙ্গে যেমন বিজয় স্মারক নির্মিত হয়েছিলো, বাবরি মসজিদও তেমনি বাবরের একটা বিজয় স্মারক। একইভাবে বাবর সম্ভল ও চান্দেরীর মন্দির ভেঙ্গে তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করে এবং গোয়ালিয়রের নিকটবর্তী জৈন মন্দির ও বিগ্রহ ধ্বংস করে।
বাবর যে রাম মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ বানিয়েছে, এর ঐতিহাসিক প্রমান হলো, বাবরের আমলেই হিন্দুরা ২১ বার লড়াই করেছিলো মন্দির উদ্ধারের জন্য। বাবর যদি মন্দির না ভেঙ্গে পৃথক একটি জায়গায় মসজিদ নির্মান করতো, তাহলে কি হিন্দুরা সম্রাট নির্মিত মসজিদকে ভেঙ্গে দিয়ে সেখানে মন্দির স্থাপন করার জন্য ২১ বার লড়াই করার মতো দুঃসাহস দেখাতো ? আর এরকম দুঃসাহস দেখালে বাবর কি হিন্দুদের অস্তিত্ব তার সাম্রাজ্যে রাখতো ? এরপর হুমায়ূনের রাজত্বকালে ১০ বার এবং আকবরের রাজত্বকালে ২০ বার হিন্দুরা রামজন্মভূমিতে মন্দির উদ্ধারের জন্য লড়াই করে। শেষে আকবর একটি আপোষ নিষ্পত্তি করে মসজিদের পাশেই রাম মন্দির নির্মানের অনুমতি দেয় এবং ছোট একটি মন্দির নির্মিত হয়। এসব উল্লেখ আছে, আকবরের শাসন কালের ইতিহাস "দেওয়ান-ই-আকবরি" তে। ওখানে মন্দির যদি না ই থাকতো তাহলে, হিন্দুরা এতবার লড়াই কেনো করলো, কেনো এইসব লড়াই এর ইতিহাস মুঘল ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হলো আর কেনোই বা আকবর একটি আপোষ মীমাংসা করে মন্দির নির্মানে অনুমতি দিলো ?
যা হোক, আকবর মন্দির নির্মানে অনুমতি দেওয়ায় এবং মসজিদের পাশে একটি মন্দির নির্মিত হওয়ায় জাহাঙ্গীর এবং শাজাহানের আমলে এ নিয়ে কোনো লড়াই সংগ্রাম হয় নি। কিন্তু ঔরঙ্গজেবের সেটা সহ্য হলো না। সে একটি বাহিনী পাঠায় ঐ মন্দির ধ্বংস করার জন্য। ১০ হাজার লোক নিয়ে বৈষ্ণব দাস মহারাজ নামে এক সাধু, ঔরঙ্গজেবের এই বাহিনীকে প্রতিরোধ করে, ফলে সেবার মন্দির রক্ষা পায়। এরপর আরো কয়েক বার ঔরঙ্গজেব মন্দির ধ্বংসের জন্য তার বাহিনী পাঠায়, কিন্তু প্রতিবারই হিন্দু এবং শিখগুরু গোবিন্দ সিংহের নেতৃত্বে শিখরা মিলে মন্দিরকে রক্ষা করে বা দখলকৃত মন্দিরকে আবার উদ্ধার করে। কিন্তু ঔরঙ্গজেব দমবার পাত্র ছিলো না। মুঘল সৈন্যরা এক রমজান মাসের সপ্তম দিনে হঠাৎ আক্রমন করে আকবরের সময়ে মসজিদের পাশে নির্মিত হওয়া ঐ রাম মন্দিরকে ভেঙ্গে ফেলে এবং হিন্দুরা বাধা দিতে এলে প্রায় ১০ হাজার হিন্দুকে হত্যা করে। মুঘলদের আরেক ইতিহাসের বই আলমগীর নামায় এই ঘটনার উল্লেখ আছে।
এরপর ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় হনুমান গড়ির মোহন্ত উদ্ভব দাস, অস্ত্র হাতে নিয়ে রামজন্মভূমিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। সেই সময় অযোধ্যার নবাব ফরমান আলীর মুসলিম সৈন্যদের সাথে হিন্দুদের যুদ্ধ হয়। শেষে নবাব একটি ফরমান জারি ক'রে একটি প্রাচীর ঘেরা জায়গায় মন্দির নির্মান ও পূজা উপাসনার অনুমতি দিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটায় এবং হিন্দু ও মুসলমান সৈন্যরা মিলিতভাবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহে অংশ নেয়। মূলত নবাব এই আপোষ করতে বাধ্য হয়েছিলো সিপাহী বিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলিম সৈন্যের একত্রিত করার স্বার্থে| কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে এইসব কিছুই জলে যায়। ইংরেজরা ঐ রাম জন্মভূমিরই একটি তেঁতুল গাছে অনেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারে এবং নবাবের ফরমান ইংরেজরা বাতিল করে দেয়; ফলে আবারও হিন্দুরা ঐ স্থানে পূজা-প্রার্থনার অধিকার হারায়। শুধু তাই নয়, ইংরেজরা ঐ তেঁতুল গাছটিকেও সমূলে উপড়ে ফেলে।
এরপর ১৯১২ সালে হিন্দুরা নির্মোহী আখড়ার সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে বহু প্রাণের বিনিময়ে জন্মভূমির একাংশ উদ্ধার করে এবং বাকি অংশ উদ্ধারের জন্য লড়াই হয় ১৯৩৪ সালে। এরপরই ইংরেজরা অযোধ্যার ঐ স্থানে হিন্দু মুসলমান সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। সেই থেকেই বাবরি মসজিদে কেউ নামাজ পড়ে নি। ফৈজাবাদ কালেক্টরির রেকর্ডে লিপিবদ্ধ আছে এসব ইতিহাস। ভাঙার সময় বাবরি মসজিদ ছিলো যে একটি পরিত্যক্ত মসজিদ, তা জঙ্গল ও গাছপালায় ভরা এবং ক্ষয়ে যাওয়া মসজিদের দেয়ালের ছবি দেখে তা সহজেই বোঝা যায়।
১৫২৭ সাল থেকে হিন্দুরা রাম মন্দির উদ্ধারের জন্য লড়াই করেছে বা চেষ্টা করেছে, ছোট বড় মিলিয়ে মোটামুটি ৭৬ বার। ৭৭ তম বারের প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালে, বিজেপির নেতৃত্বে হিন্দুরা- দখল, রূপান্তর ও অসহিষ্ণুতার প্রতীক বাবরি মসজিদকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়। কিন্তু এই শেষ বারের প্রচেষ্টাও ছিলো প্রায় সোয়া ২ বছরের। বিজেপির সমর্থনে হিন্দুরা প্রথম ২০ সেপ্টম্বর, ১৯৯০ সালে জনসংকল্প দিবস পালন করে। এরপর বহু জেল জরিমানা হুমকি ধামকিকে অগ্রাহ্য করে কিছু প্রাণের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলে বাবরি মসজিদ। তাই এই ৬ ডিসেম্বর হিন্দুদের কাছে "শৌর্য দিবস" হিসেবে বিবেচিত ও পরিচিত ।
কিন্তু মন্দির এখনও নির্মান হয় নি। তাই লড়াই এখনও শেষ হয় নি। এ লড়াই ততদিন চলবে, যতদিন না রামের জন্মভূমিতে রাম মন্দিরের চূড়া কমপক্ষে তিন মাইল দূর থেকে দেখা না যায় এবং মুসলিম দুঃশাসনের আমলে, ভারতে, মন্দিরের উপর নির্মিত সমস্ত মসজিদ, ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া না যায়।
জয় হিন্দ।
জয় শ্রী রাম। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
From: Krishna kumar das


💜 জয় হোক সনাতনের 💜

রূপক রায়-এর কলাম



রূপক রায়-এর কলাম


ঈদ মানে আনন্দ, না ঈদ মানে গান ?
সারা বছরের কথা না হয় বাদ ই দিলাম, ঈদের মধ্যে মুসলমানদের গান প্রীতি দেখলে তো মনে হয় ঈদ মানে গান, সেটাও আবার হিন্দু গান। হিন্দু গান বললাম একারণে যে, হিন্দুদের যে ভাষা সেটাই তো হিন্দি, তাই হিন্দি গান মানেই হচ্ছে হিন্দুদের গান। এছাড়াও কিছু বাংলা গান হয়তো কিছু লোকে শুনে বা বাজায়; কিন্তু বাঙ্গালি মুসলমানরা যেসব গান বানায়, ২/১টি ছাড়া সেসব তো অখাদ্য; তাই বাংলা গান বলতেও তো বোঝায় কোলকাতার বাঙ্গালি মানে বাঙ্গালি হিন্দুদের গান; যেসব গান লাউড স্পিকারে উচ্চস্বরে বাজিয়ে, নেচে-কুন্দে মুসলমানরা ঈদ উযদযাপন করে। কিন্তু গান তো ইসলামে নিষিদ্ধ, এছাড়াও গান হলো হিন্দু সংস্কৃতির অংশ, তাহলে ঈদ উদযাপনের জন্য মুসলমানরা গান বাজায় কেনো ? গানের মাধ্যমে ঈদ তো হিন্দুয়ানিতে ভরে যায় বা হিন্দু কালচার দ্বারা ঈদ প্লাবিত হয়ে ভেসে যায়।
এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলাম- যারা বাংলাদেশে কোনো হিন্দুয়ানি কালচার দেখতে চায় না, চায় না কোনো মূর্তি রাখতে বা হতে দিতে চায় না পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা- তাদের বক্তব্য কী ?
ইসলাম একটি কালেক্টেড বা জোড়া-তালি দেওয়া ধর্ম, অর্থাৎ পৃথিবীতে আগে থেকে প্রচলিত ধর্মগুলো থেকে এটা ওটা নিয়ে ইসলামকে বানানো হয়েছে, তারপরও বাস্তবতাকে অস্বীকার করায় এবং বাস্তব উপাদানগুলো ইসলামে অন্তর্ভুক্ত না করায়, এটি একটি অবাস্তব মতবাদে পরিণত হয়েছে।
এই অবস্থায় ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যতই দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হোক না কেনো, সেই চেষ্টা বৃথা; কারণ, সমাজ চলে বাস্তবতার ভিত্তিতে, আর সেই বাস্তবতা বলে যেকোনো আনন্দ উৎসবের জন্য গান-বাজনা প্রয়োজন; আর সেই গান-বাজনা, যা হিন্দু কালচারের অংশ, সেই হিন্দু কালচারকে অবলম্বন করে মুসলমানদেরকে তাই তাদের আনন্দ পূর্ণ করতে হচ্ছে, তাহলে ঘটনাটা কী দাঁড়ালো বা ইসলাম থাকলো কোথায় ?
সারারাত হোটেলে গিয়ে পতিতাবৃত্তি করে সকালে বোরকা হিজাব পড়ে মুখ ঢেকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেই যেমন সতী সাধ্বী হওয়া যায় না; তেমনি সারা বছর, অডিও ভিডিও গান দেখে ও শুনে, নেচে-কুন্দে আনন্দ উপভোগ ক’রে, ঈদের দিন সকালে পাঞ্জাবি টুপি প’ড়ে মুসলমান সেজে ঈদের নামাজ পড়লেই মুসলমান হওয়া যায় না। এরপর আবার সেই ঈদের দিন যদি গান বাজনা বাজিয়ে আনন্দ ফুর্তি করা হয়, তাহলে কী আর মুসলমানিত্ব থাকে ?
মুসলমানগণ, জবাব আছে ?
শুধু গান নয়, ইসলামে যে সকল প্রকার শিল্পচর্চা নিষিদ্ধ সেসব বিষয় জানতে হলে পড়ুন নিচের এই প্রবন্ধটি-
মুসলমানদের সনাতন ধর্ম চর্চা বনামহিন্দু ধর্মের পূর্ণাঙ্গতা :
গান-বাজনা, সনাতন তথা হিন্দু ধর্মের অঙ্গ, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু মুসলমানরা অবাধে গান বাজনার চর্চা করছে, শুনছে। বর্তমানে গান-বাজনা ছাড়া মুসলমানদের যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান এবং ঈদের আনন্দ মাটি। তাহলে ইসলামে যে গান বাজনা হারাম, তার বাস্তবতা কোথায় ? এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস দেখে নিন :
"বানর আর শুকর মানেই যারা পূর্বে বাদ্যযন্ত্র বাজাতো।" (বোখারি-৭/৬৯/৪৯৪)
“গান মানুষের অন্তুরে মুনাফেকির জন্ম দেয় যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে।”- (মিশকাত শরীফ, ৪১১)
“আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।” – (সহীহ বুখারী, ৫৫৯০)
এই কথাটা একবার ভাবুন তো, আপনি যদি গান করেন, তাহলে কার কী ক্ষতি করছেন, যে তাকে নিষিদ্ধ করতে হবে ?
নাচও সনাতন তথা হিন্দু ধর্মের একটা অঙ্গ। কিন্তু অনেক মুসলমান এখন নাচের চর্চা করছে। তাছাড়া নাচ দেখে না বা দেখতে পছন্দ করে না, এমন মুসলমান বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাহলে ইসলামে নাচ নিষিদ্ধের বাস্তবতা কোথায় ? নাকি ইসলামই সম্পূর্ণ একটি অবাস্তব ধর্ম ?
দেখে নিন নাচ সম্পর্কিত দুটি হাদিস :
“একদিন হযরত আয়েশা (রা.) এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার, তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবেনা। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি (নূপুর) থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।”- (সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ হাদীস : ৫২৩৭)
সহীহ মুসলিমের ২১১৪ নং হাদিসে বলা আছে, “ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হল শয়তানের বাদ্যযন্ত্র।”
কবিতা লিখা, ছবি আঁকা, ছবি তোলা, ভাস্কর্য তথা মূর্তি নির্মান হিন্দু ধর্মের একটা প্রধান বিষয়, যা মুসলমানদের জন্য মহাপাপ। কিন্তু বর্তমানের মুসলমানরা ছবি আঁকছে না ? ছবি তুলছে না ? সিনেমা টিভিতে অভিনয় করছে না ? সিনেমা বানাচ্ছে না ? টিভি চ্যানেল খুলে ব্যবসা করছে না, ধর্ম প্রচার করছে না ? নাকি ছবি তোলা ইসলামে হারামে হালাল হলেও ছবির বাক্স টিভির মাধ্যমে ধর্ম প্রচার করা হালাল ? এছাড়াওসংখ্যায় অল্প হলেও মুসলমানদের কেউ কেউ ভাস্কর্য শিল্পের সাথে জড়িত নয় ?
ইসলামের সোল এজেন্ট সৌদি আরব, পাসপোর্টে ছবি ছাড়া, হাজীদেরকে আরবে ঢুকতে দেবে ? ইসলাম বিরোধী- ছবি তোলা চর্চা করে ও তাকে প্রশ্রয় দিয়ে সৌদি আরব ইসলামের চর্চা করছে না হজের নামে ব্যবসা করছে ? বর্তমানে মুসলমানরা কি পাসপোর্টের জন্য ছবি না তুলে পার্থিব বেহেশত- ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায়, বৈধভাবে ঢুকতে পারবে ? ইসলামে ছবি তোলা নিষিদ্ধ হওয়ায়, এই প্রশ্ন কি তোলা যায় না যে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ধর্ম ?
উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো সবই সনাতন তথা হিন্দু ধর্মের চর্চার বিষয়। অথচ মুসলমানরা অবাধে এসব চর্চা করে চলেছে, আর নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছে মুসলমান হিসেবে! ভণ্ডামী আর কাকে বলে ? যাদের কাছে মনে হচ্ছে আমি এসব অযথা ই বলছি, কোরান হাদিস থেকেতাদের জন্য কয়েটি রেফারেন্স:
"আর কবিদের কথা ! তাদের পেছনে চলে বিভ্রান্ত লোকেরা। তোমরা কি দেখো না যে, প্রতিটি প্রান্তরে তারা বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে মরে, এবং এমন সব কথা বার্তা বলে, যা তারা নিজেরা করে না"। (কোরান-২৬/২৩,২৪,২৫)
"মাথা ভর্তি কবিতার চেয়ে পেট ভর্তি পুঁজ উত্তম।" (বোখারি, ৮/৭৩/১৭৫)
"যে ঘরে কুকুর ও ছবি আছে, সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।"
"নিশ্চয় জানিও আল্লার নিকটে তথা আখেরাতে সর্বাধিক কঠিন আজাব হবে ছবি তৈরি কারকদের।"
"যদি কেহ জীবজন্তুর ছবি অংকন করা হারাম জানা সত্ত্বেও উহা অংকন করে তবে সে কাফের হইয়া যায়।"
উপরের বলা কথাটি আবারও বলতে হচ্ছে, ছবি তুলে বা ছবি এঁকে, আপনি কার পাকা ধানে মই দিচ্ছেন যে, তাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে ?
জন্মসূত্রেই প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো বিষয়ের প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। সুযোগ ও পরিবেশের অভাবে কেউ তার সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে, কেউপারে না। কিন্তু প্রতিটি মানুষ তার প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভার আলোকে কিছুটা আলোকিত হবেই এবং তা হয় ই। কিন্তু যখন কোনো মুসলমান, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং ইসলামি জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে জানতে পারে যে, এই সবসুকুমার বৃত্তির শিল্পচর্চা ইসলামে হারাম, তখন সে দ্ধিধাদ্বন্দ্বে পড়ে এবং পাপবোধে বা অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে ভুগতে কেউ কেউ ঐ সব শিল্পের চর্চা তথা কবিতা লিখা, ছবি তোলা, ছবি আঁকা, ভাস্কর্য নির্মান, গান-বাজনা, নাচ ইত্যাদি ছেড়ে দেয়; আর কেউ ইসলামের এই সব নিষেধাজ্ঞাকে ফালতু মনে করে ঐ ব শিল্পের চর্চা চালিয়ে যায়। কিন্তু কোরান হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে, ঐসব শিল্পচর্চা শিরকি, অর্থাৎ জেনে বুঝে কোনো মুসলমান ঐ সব কাজ করলে, সে আর মুসলমান থাকবে না, সে হবে জাহান্নামী। তাই যেসব মুসলমান ইসলামি নাম ধারণ করে ঐসব শিল্পের চর্চা করে, তারা একটা পাপবোধ বা অপরাধবোধে ভুগবেই। এজন্য আমি বলি কি, মনে পাপবোধ নিয়ে এসব করার কী দরকার ? নাম চেঞ্জ করে বা না করে সনাতন হিন্দু ধর্ম পালন করে এসব করলে মনেও শান্তি পাবেন, আর এসব শিল্পচর্চায় আকাশচুম্বী সাফল্যও পাবেন। মনে দ্বিধা নিয়ে কোনো কাজে কি চুড়ান্ত সাফল্য পাওয়া যায় ?
অনেক হুর লোভী বান্দা, আমার পোস্টে কমেন্ট করে ইসলামের পক্ষে সাফাই গায়, তাদেরকে বলছি- ইসলামের পক্ষে সওয়াল করতে হলে আগে প্রকৃত মুসলিম হয়ে আমার সাথে তর্ক করতে আসবি। শুধু ইসলামি নাম বহন করলেই মুসলমান হওয়া যায় না। আমার পোস্টে কমেন্ট করার আগে, গান শোনা ছাড়বি, গান গাওয়া ছাড়বি, ছবি আঁকা ছাড়বি, ছবি তোলা ছাড়বি, সিনেমা-টিভি দেখা ছাড়বি, নাচবি না, নাচ দেখা ছাড়বি, প্যান্ট-শার্ট-কোর্ট-টাই-বেল্ট পড়বি না; কারণ, ওটা ইহুদি-নাসারাদের কালচার, কোনোদিন দাড়ি কাটবি না, কোনোদিন হস্তমৈথুন করবি না, প্রস্রাব করার পর ইটের টুকরা বা পাথর দিয়ে লিঙ্গের আগা মুছতে মুছতে যাকে বলে কুলুপ করা, তা করতে করতে চল্লিশ কদম হাঁটবি আর কাশি দিবি, পায়খানা করার পর আগে কাপড় দিয়ে পাছা মুছে নিয়ে তারপর পা্নি ইউজ করবি, বাড়ির মেয়েদের কোনোদিন স্কুল কলেজে পাঠাবি না, ঘরের বাইরে তাদেরকে একা ছাড়বি না, বাইরে গেলে পাহারাদার হয়ে তাদের সাথে যাবি, কখনো কোনো খেলাধুলা করবি না; কারণ, ইসলামে বিছানায় মেয়েদের সাথে খেলা ছাড়া সকল প্রকার খেলাধুলা হারাম, বিশেষ করে দাবা তো খেলবি ই না। ২৫ বছর বয়সে প্রথমে ৪০ বছরের বিধবা ২/৩ সন্তানের মাকে বিয়ে করবি, তার পর ৫০ বছর বয়সে ৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে করবি, পুত্রবধূকে বিয়ে করে নবীর সুন্নাত পূর্ণ করার জন্য একটা দত্তক পুত্র নিবি, তারপর সেই পুত্রকে নিজেরে ফুফাতো বোনের সাথে বিয়ে দিয়ে, তাদের আবার তালাক ঘটিয়ে সেই পুত্রবধূকে বিয়ে করবি, আর নিজের বউকেও তালাক দিয়ে বাপের সাথে বিয়ে দিতে পারিস; জিহাদের নামে অকারণে অমুসিলমদের সম্পদ লুঠ করার জন্য তাদেরকে খুন করতে ও তাদের মেয়েদেরকে ধর্ষণ করার পরামর্শ অবশ্য দেবো না; কারণ, তাহলে তোকে সোজা জেলে যেতে হবে, নবীর অন্যান্য সুন্নত পালন করার তখন আর চান্স পাবি না।
আরো অনেক আছে, আপাতত এই কয়টাই বললাম, এগুলো পালন করে যদি প্রকৃত মুসলমান হতে পারিস, তাহলেতর্ক করার জন্য আমার পোস্টে এসে কমেন্ট করবি। আর যদি এগুলো পালন করতে না পারিস তাহলে তুই হিন্দু, আর নিজে হিন্দু হয়ে আরেক হিন্দুর সাথে তর্ক বিতর্ক কেনো করতে আসবি ? রাত দিন ২৪ ঘন্টা হিন্দু কালচার পালন করবি, আর নিজেকে মুসলিম ভাববি, এই ভণ্ডামী এখন ছাড়
উপরে যেগুলোর কথা উল্লেখ করলাম সেগুলো পালন করতে না পেরে, হিন্দু কালচারগুলো, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ তার চর্চা মুসলমানরা করতে বাধ্য হয়ে তারা নিজেরাই এটা প্রমান করছে যে, ইসলাম সম্পূর্ণ একটি অবাস্তব ধর্ম। মুখে মুসলমানরা যতই বলুক যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান; বাস্তবে হিন্দুদের কাছ থেকে এই বিষয়গুলি ধার না করে সমাজে তাদের চলবার উপায় নেই।
"পক্ষান্তরে হিন্দু সমাজে এবং হিন্দু ধর্মে- এমন কোনো বিষয় নেই যে, তা ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম থেকে ধার করা।তাই ইসলাম নয়, হিন্দুধর্মই মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।"
আমার এই কোট করা কথাটি গভীরভাবে ভেবে দেখবেন, হিন্দু ধর্ম নিয়ে যদি আপনার কোনো হীনম্মন্যতা থাকে, তাহলে তা দূর হয়ে যাবে।
তাই এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, অন্য কোনো ধর্ম নয়, হিন্দু তথা সনাতন ধর্মই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ধর্ম এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এজন্যই স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
"গর্বের সাথে বলো আমি হিন্দু।"
জয় হিন্দ।
জয় শ্রীরাম। জয় শ্রীকৃষ্ণ।

From: Krishna kumar das

💜 জয় হোক সনাতনের 💜



শেষকৃত্য



  শেষকৃত্য


 রূপক রায়   ফেসবুক          শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


মানুষ মারা গেলে হিন্দুরা লাশ পোড়ায় কেনো ? এ কেমন নৃশংসতা ? হিন্দুধর্ম কেমন ধর্ম ?
(Necessary post for Sujit Kumar Das)
দাহ নিয়ে মুসলমানদের মুখে এমন টিটকারী শুনেন নি, এমন হিন্দু সম্ভবত একজনও নেই। কারণ, ধর্ম নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব। এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন করে আপনাকে ক্ষতবিক্ষত করবে, আপনি যদি ঠিকঠাক জবাব দিতে না পারেন, মুসলমানদের কাছে আপনি হেয় হবেন এবং এই সুযোগে বস্তাপচা ইসলামকে তারা শ্রেষ্ঠধর্ম হিসেবে তুলে ধরবে।
মুসলমানদের অনেকগুলো প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো- মারা যাওয়ার পর হিন্দুরা কেনো মৃতদেহ আগুনে পোড়ায় ? এ সম্পর্কে মুসলমানদের প্রশ্নবান থেকে আপনাদের রক্ষা করার জন্য, এই পোস্টে দিলাম, এই প্রশ্নের জবাব:
হিন্দুরা মৃতদেহ কেনো আগুনে পোড়ায়, এ নিয়ে মুসলমানদের ছিঃ, ছিক্কারের অভাব নেই। ওদের কথা শুনলে মনে হয়, পৃথিবীতে এর চেয়ে নৃশংস আর কোনো কাজই নেই; এটা করে হিন্দুরা মৃতদেহের সাথে এক মহা অপরাধ করে বা করে চলেছে। এর বিপরীতে, ওরা শোনাবে, আমরা মুসলমানরা, মৃতদেহকে আতর-সুগন্ধি মাখিয়ে, কত আদর যত্নে কবর দিই। এসবের জবাব একটাই হতে পারে, আর তা হলো, মৃতদেহকে যখন এতই আদর যত্ন করেন, তখন তা কবর না দিয়ে ঘরে রেখে দিলেই তো পারেন; তারপর দেখবেন, ২৪ ঘণ্টা পর, আপনার আতর-সুগন্ধি মাখানো, আদর যত্নের লাশের কী অবস্থা হয় ?
এসব তর্কের কথা, কিন্তু মৃতদেহ পোড়ানোর উপযোগিতা ও উপকারিতার ব্যাপার বুঝতে হলে আপনাকে এর গভীরে ঢুকতে হবে এবং সেজন্য পড়তে হবে আমার এই পুরো লেখাটি।
আপাতদৃষ্টিতে মৃতদেহকে পোড়ানো নৃশংস মনে হওয়ায় এবং মুসলমানদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত না থাকায় এবং সর্বোপরি এ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবের কারণে হিন্দুরা এর কোনো সদুত্তর দিতে পারে না এবং সেকারণে মুসলমানদের কাছে ছোট হতে বাধ্য হয়।
বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে বলে রাখি, বৃহৎ হিন্দু সমাজের মধ্যের একটি ক্ষুদ্র অংশ, চৈতন্যদেবের অনুসারী বৈষ্ণব সমাজ, মৃতদেহকে পোড়ায় না, তারা কবর দেয় বা সমাহিত করে, কিন্তু এটি মুসলমানদের মতো শায়িত অবস্থায় কবর নয়, বসে থেকে পূর্ব মুখী হয়ে ধ্যান করছে, এমন অবস্থায় সম্পূর্ণ সন্ন্যাসী বেশে তাদেরকে সমাহিত করা হয়।
হিন্দু ধর্ম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ধর্ম। এর কোনো কিছু অন্য কোনো ধর্ম থেকে ধার করা নয়। বরং অন্য সকল ধর্মের অনেক কিছু হিন্দু ধর্ম থেকে ধার করা। মুসলমানরা যতই বলুক, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, কিন্তু বাস্তবে ইসলাম একটি কালেক্টিভ ধর্ম, এতে নতুন কিছুই নেই; এর সব কিছুই ইহুদি, খ্রিষ্টান ও হিন্দু ধর্ম থেকে ধার করা।
কিন্তু দীর্ঘদিন মুসলিম শাসনে থাকার ফলে দু একটি বিষয় ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে অনুপ্রবেশ করেছে, এর একটি হলো বৈষ্ণব সমাজের এই সমাধি ব্যবস্থা। বাংলার রাজা গণেশ, চতুর্দশ শতাব্দীতে, মুসলমানদের হাত থেকে বাংলার সিংহাসন উদ্ধার করে; কিন্তু চারেদিকে মুসলিম রাজশক্তির প্রভাবে গণেশের পক্ষে তার রাজ্য রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায়; গণেশ, নিজে তার পুত্র যদুকে মুসলমান হতে দিয়ে তাকে সিংহাসনে বসিয়ে যায়। এভাবে বাংলা আবার মুসলিম শাসনে চলে যায় এবং ছলে বলে নানা কৌশলে মুসলমান শাসকরা হিন্দুদেরকে মুসলমান বানাতে থাকে। এই সময় আবির্ভাব হয় চৈতন্যদেবের। তিনি হিন্দুদেরকে মুসলমান হওয়া থেকে ঠেকাতে ইসলামের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য রেখে হিন্দু ধর্মকে কিছুটা অদল-বদল করে বৈষ্ণব ধর্ম চালু করেন। এর ফলেই মুসলমানদের মতো, হিন্দু বৈষ্ণব সমাজে চালু হয় কবর ব্যবস্থা, কিন্তু তা কিছুটা পরিবর্তিত রূপে, যার উল্লেখ উপরেই করেছি।
মূলতঃ হিন্দু সমাজের যে প্রধান চারটি ভাগ- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র; বৈষ্ণবরা এর বাইরে আলাদা একটি সমাজ। আমি নিজেও বৈষ্ণব সমাজের একজন সদস্য। আমি দেখেছি, অনেক বৈষ্ণব, তাদেরকে মরার পর পোড়ানো হয় না বলে গর্ববোধ করে এবং শবদাহকে, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ব’লে, অন্য হিন্দুদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এর প্রভাবে, বৈষ্ণবদের বাইরেও অনেক হিন্দু, মরার পর, তাদেরকে না পোড়ানোর জন্য বলে যান এবং কেউ কেউ জ্বালানী খড়ির অভাবে, মুখে জাস্ট আগুন ছুঁইয়ে বৈষ্ণবদের মতোই সমাহিত করে।
মধ্যযুগে মুসলমান হওয়ার স্রোত ঠেকাতে, চৈতন্য দেব- জৈন ও শিখ ধর্মের মতো বৈষ্ণব ধর্ম চালু করেন, এতে হিন্দু সমাজ যে অনেকটা রক্ষা পেয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং চৈতন্যদেব সেই সময় যা করেছেন, তা ঠিক ছিলো এবং তা প্রশংসার যোগ্য। দুর্যোগ বা বন্যার সময় প্রাণ বাঁচাতে শিয়াল-কুকুরও এক জায়গায় থাকতে বাধ্য হয়, কিন্তু সেটা সব সময়ের জন্য নয়, আপদকালীন ব্যবস্থা। বৈষ্ণব সমাজের এই কবর ব্যবস্থাও হওয়া উচিত ছিলো আপদকালীন। শুনেছি, অনেক সাধু-সন্ন্যাসীকেও নাকি মরার পর, দাহ করা হয় না। এর মাধ্যমে মূলত তারা সমাজকে এই বার্তা দিচ্ছে যে, দাহ ব্যবস্থার চেয়ে কবর ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু দাহ ব্যবস্থা ই যে সর্বোত্তম অন্তিম সংস্কার ব্যবস্থা, আমার এই লেখা পড়া শেষ হওয়ার পর তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
মুসলমানরা মৃতদেহকে যতই আদর যত্ন করুক, আর যতই আতর-সুগন্ধি লাগাক, বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবে, ২৪ ঘণ্টার বেশি তারা সেই লাশ রাখতে পারবে না, এরপর কবরস্থ তাকে করতেই হবে। কিন্তু দাফন করার পরই মৃতদেহের কী অবস্থা হয়, আমার এই বর্ণনাটি পড়ুন আর সেই সাথে, সেই অদেখা দৃশ্যটি কল্পনা করুন।
স্বাভাবিক ভাবে ২৪ ঘন্টার পর থেকেই মৃতদেহ পচতে শুরু করে। আলু, বেগুন পচে গেলে, বিবর্তনের নিয়মে, তার মধ্যে যেমন পোকা তৈরি হয়; ঠিক তেমনি মানুষের দেহ পচে গেলেও দেহের ভেতর নানা রকম পোকার জন্ম হয়। এই পোকাগুলো জন্মের পর থেকেই দেহের মাংস রক্ত খেয়ে পুষ্ট হয় এবং প্রথমেই বের হয় আমাদের দেহের যেসব ছিদ্র আছে, যেমন- নাক, মুখ, কান, পায়ু এবং মেয়েদের যোনী, সেসব ছিদ্রের ভেতর দিয়ে। দেহের মধ্যেই এই পোকাগুলো খুব দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে এবং একসময় বুক, পেটের চামড়া ছিদ্র করে হাজারে হাজারে কিলবিল করে বের হয়ে আসতে থাকে। মানুষের মৃতদেহেই এই পোকাগুলোর জন্ম, দেহ খেয়েই এদের পুষ্টি ও বংশবৃদ্ধি, তারপর খাবার শেষ হয়ে গেলে এই পোকাগুলো এমনিতেই মরে যায়। পড়ে থাকে শুধু মানুষের হাড়-গোড় অর্থাৎ কংকাল। এছাড়াও মাটির ভেতর কিছু পোকা থাকে, তারাও শুরুতেই আক্রমন করে দেহকে এবং দেহের নাক, কান, মুখ, পায়ুপথের মতো ছিদ্রগুলো দিয়ে দেহের মধ্যে ঢুকতে থাকে। একবার কল্পনা করুন, আপনার প্রিয় মানুষের মৃতদেহের মধ্যে হাজারে হাজারে পোকা ঢুকছে আর বেরুচ্ছে, আর সেই মৃত মানুষটাকে খাচ্ছে। বহুযত্নে কবর দেওয়া মুসলমানদের লাশের ঠিক এই অবস্থা শুরু হয় কবর দেওয়ার পর থেকেই এবং চলতে থাকে কয়েক সপ্তাহ এবং এই একই অবস্থার মধ্যে পড়ে বৈষ্ণব হিন্দুদের মৃতদেহগুলোও। এক কথায় যারাই লাশ মাটিতে কবর দেবে, তাদের কারোরই প্রকৃতির এই পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা নেই। এছাড়াও এই পোকামাকড়গুলোর কিছু কিছু, মাটির বাইরে বেরিয়ে এসে যে প্রকৃতিকে দূষণ করে বা করতে পারে, এটা বোঝার জন্য কারো আইনস্টাইনের মতো বুদ্ধিমান হওয়ার দরকার পড়ে না। কবর দেওয়ার ফলে বসবাসের বা চাষের জমির যে অপচয় হয়, সেটা তো ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চাও বোঝে।
কোথাও কোথাও মৃতদেহকে জলে ভাসানো হয় বা ভয়াবহ বন্যার সময় যখন দাহ করা বা কবর দেওয়া সম্ভব হয় না, তখনও আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এতে জলজ প্রাণীরা মৃতদেহকে খেয়ে ফেলে ঠিকই, কিন্তু কিছুটা হলেও তা জলদূষণ করে প্রকৃতির ক্ষতি করে।
কিছু কিছু মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যেমন- প্লেগ, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, সার্চ, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদির ফলে- মারা যাওয়া মানুষ ও পশুপাখিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়, এটা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত পদ্ধতি। কিন্তু কেনো ? মাটিতে পুঁতে ফেলার পর, লাশ বা মৃত জীবজন্তু থেকে সৃষ্ট রোগ-ব্যাধির কবল থেকে যদি মুক্তিই পাওয়া যেতো, তাহলে তো আর পোড়ানোর দরকার পড়তো না।
আরবের মরুভুমিতে অনাবাদী জমির কোনো অভাব নেই এবং সেখানে তেমন বেশি কোনো গাছপালাও নেই, তাই আরবের মানুষের কাছে, মৃতদেহ কবর দেওয়াকে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। কবর দেওয়ার পর লাশের কী অবস্থা হচ্ছে, সেটা তো মানুষ আর দেখতে পাচ্ছে না বা দেখছে না, তাই ওটা নিয়ে তাদের খুব একটা মাথা ব্যথাও ছিলো না। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশ, গাছপালায় সমৃদ্ধ উর্বর ভূমির এলাকা। এখানে জমির যেমন প্রচুর মূল্য, তেমনি জ্বালানী কাঠও সহজলভ্য। তাই কবর দেওয়ার চেয়ে পোড়ানোই এখানে পরিবেশ সম্মত এবং বেশি উপকারী। ইদানিং পোড়ানোতে এসেছে বৈদ্যুতিক চুল্লী। ফলে গাছ তো কাটতে হচ্ছেই না, উল্টো খোলা অবস্থায় পোড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধের হাত থেকেও মিলেছে মুক্তি; যা দাহ ব্যবস্থাকে করে তুলেছে আরো গ্রহনযোগ্য।
গীতার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের মৃতদেহের কোনো দাম নেই; তাই ওটা নিয়ে শোক করারও কিছু নেই। হিন্দু শাস্ত্র মতে, আগুন হলো দেবতা এবং আগুনের স্পর্শেই সবকিছু পুড়ে খাঁটি হয়। এজন্য রবি ঠাকুর বলেছেন, আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে। বাস্তবেও সকল শুভ কাজের শুরু হয় আগুন দিয়ে; একারণেই ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেই আগুন দিয়ে ধূপকাঠি বা আগরবাতি জ্বালিয়ে দিন শুরু করে; এখানে হিন্দু মুসলমানের আচরণে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা যত খাবার খাই, তার প্রায় ৯৫% আগুনের সাহায্যে তৈরি। এজন্য খুব সহজেই এটা ধরে নেওয়া যায় যে, আগুনের সাহায্যেই আমরা বেঁচে আছি। ধর্মকে সরিয়ে রাখলেও, বিজ্ঞান মতে, সূর্য থেকেই পৃথিবীর সৃষ্টি আর সূর্যের আলোর জন্যই পৃথিবীর উপরে বসবাসরত সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের সৃষ্টি। এই সূর্য হিন্দুদের একটি দেবতা এবং তা একটি অগ্নিপিণ্ড। সুতরাং সৃষ্টির শুরু যেমন আগুন দিয়ে, তেমনি মানুষের নশ্বর দেহের সমাপ্তিও ঘটছে সেই চিতার আগুনে। আবার মাটির দেহ, পোড়ানোর ফলে তা ছাইয়ে পরিণত হয়ে আবার মাটিতেই মিশে যাচ্ছে, যা শক্তির নিত্যতার সূত্রের মধ্যে পড়ে; ফলে মৃতদেহ পোড়ানোয়- মাঝখানে আপনাকে - পোকামাকড়ের খাদ্য হতে হচ্ছে না বা কিছু পোকা-মাকড় সৃষ্টির কারণ হয়ে প্রকৃতিরও ক্ষতি করতে হচ্ছে না।
এসব কারণে আমাদের মুনি-ঋষিরা, অন্তিম সংস্কারের সকল পদ্ধতির চুল-চেরা বিশ্লেষণ করে মৃতদেহ পোড়ানোকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে করেছেন এবং হিন্দু সমাজের জন্য বিধান হিসেবে তা দিয়ে গেছেন; কারণ, দাহ এক প্রকার যজ্ঞ এবং দাহের ফলে প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রায় সবকিছু শুদ্ধ হয়ে যায় । এই দাহের ফলেই ভারতে বেঁচে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর ভূমি, যা কৃষিজ উৎপাদন ও বসবাসের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে মুসলমানরা এবং মুসলিম দেশগুলো, কবরখানার জন্য লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা এক কথায় চরম অপচয়।
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলা শহরে এক বা একাধিক সরকারী কবরখানা আছে, সেখান থেকে নির্ধারিত মূল্যে জমি কিনে কাউকে কবরস্থ করতে হয়। এছাড়াও অনেক পরিবারের ব্যক্তিগত কবরখানা আছে। জনসংখ্যার আধিক্যে যেখানে জীবিত মানুষেরই থাকার জায়গা হচ্ছে না, সেখানে মৃতদের জন্য জমি ফেলে রাখা, এক চুড়ান্ত মূর্খতার পরিচয়।
ব্যক্তিগত কবরখানায় হোক বা সরকারী কবরখানায়, মুসলমানদের একটি লাশ দাফন করা প্রচুর খরচের ব্যাপার, অনেকের পক্ষেই এই খরচ জোগাড় করা সম্ভব হয় না, তাই বাংলাদেশের পথে ঘাটে মাঝে মাঝেই দেখা যায়, লাশ দাফন করার জন্য লাশ নিয়েই ভিক্ষা করা হচ্ছে।
খরচাপাতি করে হয়তো লাশ দাফন করা হলো, কিন্তু তারপর সেই লাশগুলো নিয়ে করা হয়, এবার সেই ব্যাপারটা দেখা যাক। এই বিষয়ের উপর একটি ডকুমেন্টারি, বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেল তালাশ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করেছিলো, সেখানে যা দেখেছি, তা হচ্ছে: দাফন করার পর, মৃত ব্যক্তির সামাজিক প্রভাব অনুযায়ী, তার লাশ- কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস কবরে থাকে, তারপর সেই লাশ উধাও হয়ে যায়। যারা কবরখানার দেখা শুনা করে তারা কবর থেকে সেই আধাপচা মৃতদেহগুলো বা হাড়গোড়গুলো তুলে অন্য বড় একটি গর্তে ফেলে রাখে; এই দৃশ্য দেখলে আপনার মনে হবে, এটা যেন একটা বধ্যভূমি। অতঃপর ঐ একই কবর আরেক জনের কাছে বিক্রি করে। এভাবে একই কবর কতজনের কাছে, কতবার যে বিক্রি হয়, তার কোনো হিসেব নেই। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদেরকে কংকাল সরবরাহ করার জন্য লাশ চুরি তো কবরখানার একটি সাধারণ ঘটনা। এছাড়াও পাকিস্তানের একটি কবরখানায় ২০১৫ সালেই এক অসাধারণ ঘটনা ঘটেছে, এক মুসলমান, সদ্যকবর দেওয়া মহিলাদের লাশ তুলে তাকে ধর্ষণ করতো, সে যখন ধরা পড়লো, তখন তার কাছ থেকে জানা গেলো অনেক আগে থেকেই সে এই কাজ করছে। মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেললে লাশ নিয়ে এসব ব্যবসা বা অরুচিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ যে নেই, সেটা কিন্তু নিশ্চিত।
তাছাড়াও সরকারী কবরখানাগুলোর একটি নিয়ম আছে, যখন কবরখানায় আর কোনো জায়গা থাকে না, তখন মোটামুটি ২০/৩০ বছর পর পর সাধারণ লোকের সব কবর বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়ে নতুন করে আবার কবরের জায়গা বের করা হয়। লাশ নিয়ে মুসলমানদের এত আবেগ, তখন কোথায় থাকে বা যায় কোথায় ?
এত আদর যত্নে দাফন করা লাশের এমন পরিণতির কথা মুসলমানরা কি জানে, না এসব খবর তারা রাখে ?
এ প্রসঙ্গে ইতিহাসের একটি ঘটনা বলি। ৭১১ খিষ্টাব্দে, মুহম্মদ বিন কাশিমের কাছে সিন্ধুর হিন্দু রাজা দাহির পরাজিত হলে, রাজপরিবারের মেয়েরা সম্মান বাঁচাতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন সময় তাদের এক মন্ত্রী রাণীকে জানায়, মুসলিম সৈন্যরা খুবই নৃশংস এবং অমানবিক হয়, এমনকি তারা মৃত মেয়েদেরকেও ধর্ষণ করতে ছাড়ে না। এই কথা শুনে মৃত্যুর পর দেহের পবিত্রতা রক্ষার্থে রাণী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্তঃপুরের সব মেয়েরা ঐভাবেই আত্মাহুতি দেয়। সেই সিন্ধু এখন পাকিস্তানের অন্তর্গত, আর সেই পাকিস্তানের মুসলমানরা যে লাশকে ধর্ষণ করবে, এতে আর আশ্চর্য কি ? ডিএনএর মাধ্যমে ধর্ষণের জিন তো মুসলমানরা বয়ে নিয়ে আসছে সেই ১৪০০ বছর ধরে, মাঝে মাঝে তার প্রকাশ কি ঘটবে না ?
হিন্দু সমাজের যেসব হিন্দু শবদাহের সাথে জড়িত, তারা কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে, কিন্তু তারা এর পেছনের বিজ্ঞানটাকে জানে না বলে নানা ধরণের কুসংস্কারের শিকার। যেমন তারা মনে করে শবদাহের একপর্যায়ে মৃত জীবিত হয়ে উঠে বসে, তখন তারা আবার তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে চিতায় শুইয়ে দেয়। আবার কোথাও কোথাও এই ধারণা প্রচলিত আছে, যে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা যদি ফাটিয়ে দেওয়া না হয়, তাহলে ঐ মৃতের আত্মা তার শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যায় না, এতে তার আত্মা পৃথিবী থেকে মুক্তি পায় না। এর সবই আসলে শাস্ত্র বহির্ভূত এবং অবৈজ্ঞানিক। ডা্ক্তারি পরীক্ষায় যদি প্রমানিত হয় যে কেউ মারা গেছে, তাহলেই এটা নিশ্চিত যে তার আত্মা দেহ ছেড়ে চলে গেছে। সেই আত্মার আবার তার দেহে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং এজন্য পৃথিবী থেকে সেই আত্মার মুক্তি না পাওয়ারও কোনো প্রশ্নই নেই, অবশ্য মোক্ষ বলতে যে মুক্তি বোঝায়, এখানে সেই মুক্তির কথা বলা হচ্ছে না, মোক্ষ নামের সেই মুক্তি কেউ পাবে কি পাবে না, তা শুধু পরম ঈশ্বর জানেন।
যা হোক, আর চিতায় মৃতের উঠে বসার বা নড়ে চড়ে উঠার কারণ হলো, মানুষের দেহে যেসব শিরা ও ধমনী আছ, যাদেরকে আমরা সাধারণভাবে বলি রগ, দেহ যখন আগুনে পুড়তে থাকে তখন সেই রগগুলো সংকুচিত হয়, এককথায় টান লাগে আর এই টানে দেহ নড়েচড়ে উঠে বা অনেক সময় টান সোজা হলে মৃতদেহ সটান চিতার উপর উঠে বসে, যেন কোনো জীবিত লোক শোয়া থেকে উঠে বসলো। এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ ডা্ক্তারি পরীক্ষায় কেউ মৃত বলে প্রমানিত হলে কারো পক্ষেই আর জীবিত হয়ে উঠা সম্ভব নয়। সেজন্য মৃতদেহকে আবার চিতায় শোয়ানোর জন্য লাঠি দিয়ে আঘাত করার কোনো দরকার নেই এবং তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ারও দরকার নেই। আপনারা যারা এই বিষয়টি জানলেন, আমার অনুরোধ নিজ নিজ এলাকায় এই বিষয়টি প্রচার করবেন, যাতে সবাই প্রকৃত সত্যটা জানতে পারে এবং শবদাহের সময় এইসব ঘটনা ঘটিয়ে মৃতদেহের উপর যাতে অনাচার না করে।
একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন, মুসলমানদের আশে পাশে আমাদের বাস। আর মুসলমানরা সব সময় চেষ্টায় আছে, হিন্দু সমাজের খুঁত ও ভুল ত্রুটি বের করে হিন্দু সমাজকে ধ্বংস করার জন্য। এজন্য আপাতদৃষ্টিতে হিন্দু সমাজের যে বিষয়গুলোকে খারাপ বলে মনে হয়, মুসলমানরা সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সরলমনা হিন্দু ছেলে মেয়েদেরকে নানা প্রশ্ন করে এবং সেই বিষয়গুলো তাদের সামনে তুলে ধরে তাদের ব্রেইনওয়াশ ক’রে তাদেরকে মুসলমান বানানোর চেষ্টা করে। এজন্য এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদেরকে সাবধানে এগোতে হবে, প্রতিটি ছেলে মেয়েকে হিন্দুধর্মের মূল বিষয়গুলো যুক্তিগ্রাহ্য ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা মুসলমানদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কোনভাবেই হেয় না হয়। যেমন আমি এই শব দাহ নিয়েই দুটো ঘটনা জানি, যেখানে মুসলমানরা দাবী করে যে, বাবার মৃতদেহ পোড়ানোর দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে একজন ছেলে ও একজন মেয়ে মুসলমানন হয়েছে। সত্য মিথ্যা জানি না, কিন্তু এর সুযোগ যে মুসলমানরা নিচ্ছে এবং নেবে, এটা তো নিশ্চিত। সেই সুযোগ তাদেরকে আমরা দেবো কেনো ? তাই কারো মৃতদেহ দাহ করার আগে ছোট ছেলে মেয়েদেরকে চিতার কাছে নিয়ে গিয়ে দাহ করার দৃশ্য দেখতে দেবেন না বা সেই ধরণের পুরুষকেও চিতার আশে পাশে থাকতে দেবেন না, যারা এই বিষয়টির বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা জানে না বা যাদেরকে জানানো হয় নি।
সুতরাং উপরের এই আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মৃত্যুর পর মৃতদেহের কোনো দাম না থাকলেও, লাশের পবিত্রতা রক্ষার্থে, পোকামাকড়ের কবল থেকে লাশ রক্ষা করতে এবং লাশের অপব্যবহার রুখতে লাশ পুড়িয়ে ফেলা ই সর্বোত্তম পদ্ধতি। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, অগ্নি দেবতার কাছে নিজেকে সমর্পনের যেমন এতে সুযোগ আছে, তেমনি এই পদ্ধতি পরিবেশ সম্মত এবং যুগ-উপযোগী। বৈষ্ণব সমাজের সদস্য হিসেবে আমার শব দাহ করা হবে না। কিন্তু আমি চাই আমার শবকে দাহ করা হোক এবং সেই নির্দেশ আমি অন্যদেরকে দিয়ে যাবো। কারণ, হিন্দুধর্মের সকল প্রধান পুরুষের শবকে দাহ করা হয়েছে। তাই আমিও চাই, আমার শব, তাদের মতোই গতি লাভ করুক।
শেষ কথা বলছি, জাকির নায়েক মার্কা মুসলমানদের জোর দাবী যে অগ্নিতে আহুতি দেয়ার চেয়ে দাফন ই উত্তম ব্যবস্থা, কেননা এতে নাকি খরচ কম এবং পরিবেশ এর দূষণ কম!
এ বিষয়ে উপরে যা বলেছি, তা আমার কথা; কিন্তু এ বিষয়ে পৃথিবীর শীর্ষ জরিপকারী সংস্থা ও এই বিষয়ক গবেষনাগুলো কী বলছে দেখে নিন নিচে, যেগুলোর মধ্যে কিছু আলোচনা প্রসঙ্গক্রমে উপরেও করেছি :
১) দাফন এর ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহনসহ কফিন ও বিভিন্ন আনুসঙ্গিকতার কারনে এর সর্বোপরি খরচ অগ্নদাহ থেকে অনেক বেশী। (তথ্যসূত্র-Sublette&flag,funeral customs,pg no 53)
২) দাফন এর ক্ষেত্রে মৃতদেহটি সংক্রামন এর মারাত্মক উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইনফেকশাস ডিসিসে মৃত্যুবরণকারীর ক্ষেত্রে দাফন খুব মারাত্মক মহামারী ডেকে আনতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি পানি,বাতাস ও মাটির দূষণকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে (তথ্যসূত্র-Spongoberg,Alison L Becks,inorganic water,air and soil contamination,pg no. 117)
৩) জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ওই সব দেশের সরকার দাফনকে বাদ দিয়ে অগ্নিদাহকে উৎসাহিত করছে; কেননা, দাফনে জমির প্রচুর অপচয় হয়। (তথ্যসূত্র-Furse Raymond,An invitation in japan,pg.73)
৪) জার্মানিতে বর্তমানে দাফন করলেও সেই জায়গার মাটিটুকু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের জন্য লিজ দেয়া হয় এবং দেহ ডিকম্পোসড হয়ে যাওয়ার পর দেহাবশেষ তাদেরকে হস্তান্তর করে তা আবার নিয়ে নেয়া হয় কেননা এত জমি অপচয় করা সম্ভব নয়! (তথ্যসূত্র-Wikipedia)
৫) ফিউনেরাল সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা জানিয়েছে যে উপর্যুক্ত বিষয়সমূহের কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ এখন ঝুঁকছে অগ্নিদাহের দিকে!
৬) আরো আশ্চর্য বিষয় এই যে National Botanical Research institute of India জানিয়েছে যে মৃতদেহ অগ্নিতে আহুতি দেয়ার সময় যে হবন সামগ্রী ব্যবহৃত হয় তা দিয়ে মৃতদেহ পোড়ালে উৎপন্ন মারকারির পরিমান নূন্যতম হয় ফলে পরিবেশের প্রায় কোন ক্ষতিই হয়না বরং এতে অধিকাংশ ইনফেকশাস ব্যক্টেরিয়া মারা যায়!
৭) বর্তমানে অনেকক্ষেত্রেই মৃতদেহ দাহ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে Crematorium যার ফলে বায়ুতে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমান শুন্য।
৮) আমেরিকান গবেষক Sarah Steafenson জানিয়েছেন যে আজকাল দাফনের আগে মৃতদেহ সবাইকে দেখানোর জন্য তাজা রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফরমালডিহাইড সহ আরো কয়েকটি রাসায়নিক দ্রব্য যে প্রক্রিয়াকে বলা হয় Enbalming.দাফন এর পর এই রাসায়নিক দ্রব্যসমূহ নির্গত হয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ করে এবং ফসল এর মাধ্যমে এই দূষন সাধারন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাহলে বুঝতেই পারছেন, বৈজ্ঞানিকভাবে কোনটা ভালো, বৈদিক অগ্নি আহুতি নাকি আব্রাহামিক দাফন ?
জয় হিন্দ।
জয় শ্রী রাম। জয় শ্রী কৃষ্ণ।

From: Krishna kumar das

💜 জয় হোক সনাতনের 💜




Pranab Kumar Kundu
Pranab Kumar Kundu ভালো লিখেছেন !

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

RSS-এর পতাকা


          RSS-এর পতাকা


          শেয়ার করেছেন            ফেসবুক থেকে                   প্রণব কুমার কুণ্ডু

          Shyam Roy এতে 💥ALL BENGAL RSS💥রাস্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ💥
·
      RSS-এর পতাকায়
      অমন খানিকটা অংশ
      কাটা কেন ?

      দেশ ভাগ হয়ে গিয়েছে
      গেরুয়া পতাকাটা
      তাই দেখাচ্ছে ?


     -- প্রণব কুমার কুণ্ডু ।