রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭

ব্রহ্মকে নিজের জিম্মায়


ব্রহ্মকে নিজের জিম্মায়



মনকে বৃত্তিশূন্য করে দিতে হবে !

তখন সেই মনেই 'ব্রহ্ম' প্রকাশ পাবেন !

ঐ মন দিয়েই তখন ব্রহ্মকে জুতসই  করে ধরতে হবে !

ব্রহ্মকে ধরে তখন নিজের 'জিম্মায়' রাখতে হবে !

যেন অন্য কেউ তোমার ব্রহ্মকে ফুসলিয়ে বা তপস্যা করে ফাঁসিয়ে নিয়ে চলে না যায় !

'জীবন মুক্তি', 'বিদেহ মুক্তি'


'জীবন মুক্তি',  'বিদেহ মুক্তি'



শরীর থাকা অবস্থায়, মুক্ত অবস্থা লাভের নাম, 'জীবন মুক্তি' !

শরীর ত্যাগের পর, যে 'মুক্তি', তা, 'বিদেহ মুক্তি' !

এই বিদেহ মুক্তি হয়ে গেলে, যথার্থই মুক্ত হয়ে গেলে, এই পৃথিবী, পৃথিবীর কাউকে আর,  দেখতে পাবেন না !

অন্যরাও আপনাকে আর, কোন জন্মেও,  দেখতে পাবে না !

আপনার নিজস্ব  'অস্তিত্বই' হারিয়ে যাবে !

( বিদেহ ) মুক্ত পুরুষের, আর পুনর্জন্ম হয় না !

পুনর্জন্ম না হলে, ঈশ্বরের ভাবনাও আর,  তখন আপনার থাকবে না !

আপনি 'শূন্য' হয়ে যাবেন !

পঞ্চম পুরুষার্থ


পঞ্চম পুরুষার্থ



ধর্ম
অর্থ
কাম
মোক্ষ
এই চারটি
সর্বজনবিদিত
পুরুষার্থ।

ভক্তিশাস্ত্রে, ঈশ্বরের প্রতি আমার প্রেম, আমার অমর প্রেম,
এবং ঈশ্বরের ওপর আমার পূর্ণ নির্ভরতা',
আমার 'পঞ্চম পুরুষার্থ' !

চারটে পুরুষার্থে, হয়তো আমার কিছু, প্রাপ্তিযোগের ইচ্ছা, বা, সম্ভাবনা, থেকে যায়, তবে 'মোক্ষপ্রাপ্তি' তো জীবন থাকতে হয় না ! মোক্ষপ্রাপ্তি, মৃত্যুর পরপারে !

কিন্তু, পঞ্চম পুরুষার্থে, কোন প্রাপ্তিযোগ নেই ! তবে যদি কোন প্রাপ্তিযোগ এসেও যায়, তা কেবল মনের আনন্দ প্রাপ্তি ! সেটা বেঁচে থাকতে থাকতেই হয় !

আনন্দপ্রাপ্তিই, সব প্রাপ্তির সেরা প্রাপ্তি !

শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭

রামরাজ্য

রামরাজ্য


রামরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলে,  জগতে,  ত্রিতাপ, অর্থাৎ আধিদৈবিক আধিভৌতিক আধ্যাত্মিক দুঃখ থাকবে না !

সকল সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে, পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে !

সকলেই বেদ কথিত নীতি-উপদেশ অনুসবণ করে, নিজ নিজ ধর্মপালনে, নিত্যযুক্ত রইবে ! কেউ মূর্খ
থাকবে না !

সবাই শুভলক্ষণযুক্ত হয়ে উঠবে !

সকলের মনের দম্ভ, বিরহিত,হবে !

সকলেই ধর্মপরায়ণ পুণ্যাত্মা হয়ে উঠবে !

সকলেই বুদ্ধিমান, গুণধাম হবে !

সকলেই পণ্ডিত ও জ্ঞানী হয়ে উঠবে !

সত্য
শৌচ
দয়া
দান
এই চতুর্বিধ পথে
সকলেই ধর্মজগতে প্রতিষ্ঠালাভ,করবে !

কোথাও পাপ রইবে না !

নারীপুরুষ,বালকবালিকা,সবাই রামভক্ত হবে !

সবাইকে রামভক্ত হনুমানকে কোলে তুলে নাচানাচি করতে হবে !

মোক্ষপ্রাপ্তির যোগ্যতা, সবাই অর্জন করবে !

অকাল মৃত্যু, বন্ধ হবে !

রোগভোগ, অসুখবিসুখ, থাকবে না !

দারিদ্র, দুঃখ, দীন, হীন,
ভাবের অবসান হবে !

সকলের মধ্যে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার মহৎ গুণ জন্মাবে ! 

ছলচাতুরী অন্তর্ধান করবে !

রামরাজ্যে, জগতে, স্থাবরজঙ্গম, সকলেই
কাল
কর্ম
স্বভাব
গুণ
উদ্ভূত
দুঃখ থেকে,মুক্তিলাভ করবে !

সকল পুরুষই স্বভার্যার সেবনকারী হবেন !

সকল রমণীও, কায়মনোবাক্যে, পতির অনুকূল হবেন !

রামরাজ্যে সকলেই উদারচিত্ত,  পরোপকারী, হবেন !

রামরাজ্যে কিন্তু সকলকেই, বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণদের সেবক হতে হবে !

ব্রাহ্মণদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে হবে !


পারবেন তো ?

রামরাজ্য আনতে গেলে, আপনাকে, তিনটে জিনিস, করতে হবে !

এক।
দান করতে হবে !

দুই।
ব্রা্‌হ্মণদের,গড় হয়ে, প্রণাম করতে হবে !

তিন।
 সব জায়গায় বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনতে হবে !

রামরাজ্যে বিধর্মীরাও, রামের ভক্ত, বনে যাবেন !

সবাই
রুজিরোজগারের সমান সুযোগ পাবেন !



*সূত্র  'শ্রীরামচরিতমানস', পৃষ্ঠা  ১২৫৯, ১২৬১।

কুম্ভকর্ণ [ দুই ]


কুম্ভকর্ণ [ দুই ]



বিশ্রবার ঔরসে কৈকসীর ( যার অন্য নাম নিকষা ) গর্ভে কুম্ভকর্ণের জন্ম।

কুম্ভকর্ণ ছিলেন দীর্ঘকায় ও প্রচণ্ড শক্তিশালী।

কুম্ভকর্ণ আবার তপস্যাও করতেন।
কঠোর তপস্যা করে, কুম্ভকর্ণ,  ব্রহ্মার কাছ থেকে 'বর' আদায় করে নিয়েছিলেন।
সেই বর ছিল, কুম্ভকর্ণের 'ছয়মাস' নিদ্রাসুখ !
তারপর মাত্র একদিনের জন্য জেগে থাকার 'অ-সুখ' !

সেই জেগে থাকার দিনেই শুধু,  কুম্ভকর্ণের খাওয়াদাওয়া ! আচমন !

ছয়মাসে একদিনই শুধু খাওয়া ! আর মুখ ধোওয়া !

তবে কেউ যদি কুম্ভকর্ণের ঘুম অসময়ে ভাঙ্গায়, তবে কুম্ভকর্ণের মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে !
এটাই ছিল ব্রহ্মার কাছ থেকে বর পাওয়ার প্রাথমিক সর্ত !

হয়েছিলও তাই !

রাম-রাবণের যুদ্ধে, জরুরি প্রয়োজনে, কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙ্গানো হয়েছিল !

তাতেই কুম্ভকর্ণের 'মৃত্যু' সন্নিকটে এসেছিল !

শ্রীরামচন্দ্র স্বহস্তে,  তীরধনুক অস্ত্র সমন্বয়ে, কুম্ভকর্ণকে বধ করেছিলেন !

গদ্যরচনা [ দুই ]


গদ্যরচনা [ দুই ]



আমার গদ্যরচনার সর্ব সময়ের ইতিহাস পৃষ্ঠাদর্শন ছ'হাজার ছাড়িয়ে গেছে ! সংখ্যাটি ৬০০৬।

মোট প্রকাশিত পোস্টগুলি ১৯৪।

আনন্দে থাকুন !

প্রণব কুমার কুণ্ডু।

১১।০৩।২০১৭।

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭

কুম্ভকর্ণ


কুম্ভকর্ণ



কুম্ভকর্ণ।
রাক্ষসরাজ রাবণের মধ্যম ভ্রাতা।
তিনি প্রায় ছয় মাস একটানা ঘুমোতেন।
তারপর মাত্র একদিনের জন্য জাগতেন।
ঐ জেগে থাকার দিনে, ছয় মাস অন্তর, মাত্র একদিন খেতেন !
আবার ছয় মাস ঘুমোতেন !

কুম্ভকর্ণ ছিলেন অত্যন্ত নিদ্রাপরায়ণ ব্যক্তি।
ব্রহ্মার বরে,  কুম্ভকর্ণের ছিল, একটানা ছয় মাস নিদ্রা যাওয়ার অসম্ভব শক্তি।
তবে কুম্ভকর্ণের ঘূম, সত্যি সত্যি ঘুম ছিল, না 'তন্দ্রা', তা গবেষণার বিষয় !

যা হোক,  ঐ প্রায় ছয় মাস কুম্ভকর্ণ থাকতেন নিদ্রাতুর।
প্রখর বা অপ্রখর ঘুমে কাতর !